স্বাস্থ্যওপরিবারকল্যাণমন্ত্রক
চায়ে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণে এফএসএসএআই-এর প্রস্তাব
প্রকাশিত:
17 OCT 2026 3:26PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
চায়ে অ্যাসিটামিপ্রিড ও ইমিডাক্লোপ্রিডের সর্বোচ্চ অবশিষ্টাংশের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে ভারতের খাদ্য সুরক্ষা ও মান কর্তৃপক্ষ (এফএসএসএআই)। এই দুই কীটনাশকের জন্য যথাক্রমে প্রতি কেজিতে ২০ মিলিগ্রাম (২০ পিপিএম) ও ৫০ মিলিগ্রাম (৫০ পিপিএম) সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব-সহ খসড়া সংশোধনী ১৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ভারতের সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে।
খসড়ায় প্রস্তাবিত সীমাগুলি চূড়ান্তভাবে গৃহীত হলে চায়ে এই দুই কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ নিয়ন্ত্রণ, খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট বিধি কার্যকর করার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড পাওয়া যাবে। তবে চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি জারির আগে এই সীমাগুলি কার্যকর হবে না।
প্রস্তাবিত সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। চায়ে অ্যাসিটামিপ্রিডের জন্য প্রস্তাবিত ২০ পিপিএম সীমা জাপানের ৩০ পিপিএম এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ পিপিএম সীমার তুলনায় কম। ইমিডাক্লোপ্রিডের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কোডেক্স মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতির পাশাপাশি ভারতের খাদ্য সুরক্ষার অগ্রাধিকার এবং দেশীয় কৃষির প্রয়োজনীয়তাও এই প্রস্তাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
কীটনাশকের অবশিষ্টাংশের মানদণ্ড পর্যালোচনা ও সংশোধন এফএসএসএআই-এর ধারাবাহিক নিয়ামক উদ্যোগের অংশ। ২০২৪ সালের খাদ্য সুরক্ষা ও মান (দূষক, বিষাক্ত পদার্থ ও অবশিষ্টাংশ) সংশোধনী প্রবিধানেও বৈজ্ঞানিক তথ্য ও আন্তর্জাতিক পদ্ধতির ভিত্তিতে এই মানদণ্ড পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর আগে অধিক বিষাক্ত হিসেবে চিহ্নিত ১৩টি কীটনাশক তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়। খাদ্য সুরক্ষা জোরদার করা এবং উপভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করাই এই উদ্যোগগুলির মূল উদ্দেশ্য।
খাদ্যপণ্যে কীটনাশকের সর্বোচ্চ আইনসম্মত অবশিষ্টাংশের পরিমাণকেই সর্বোচ্চ অবশিষ্টাংশের সীমা বলা হয়। বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের সময় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ সংক্রান্ত তথ্য, খাদ্যের মাধ্যমে মানবদেহে ওই পদার্থ প্রবেশের সম্ভাব্য পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট সুরক্ষার বিষয়গুলি বিবেচনা করা হয়। এই মানদণ্ডের ভিত্তিতে খাদ্যপণ্যে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পরীক্ষা, নজরদারি এবং নির্ধারিত বিধি মেনে চলা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
কৃষি উৎপাদনে কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও এই প্রস্তাবে বিবেচনা করা হয়েছে। নির্ধারিত পদ্ধতি মেনে কীটনাশক ব্যবহার করলে ফসলকে কীটপতঙ্গের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা, ফসলের ক্ষতি কমানো এবং উৎপাদনশীলতা বজায় রাখা সম্ভব। তাই ফসল সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে উপভোক্তাদের নিরাপত্তার ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভারতে কীটনাশক ব্যবহারের গড় পরিমাণ আন্তর্জাতিক গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ভারতে প্রতি হেক্টর জমিতে গড়ে ০.৫ কেজিরও কম কীটনাশক ব্যবহৃত হয়। সেখানে বিশ্বে গড় ব্যবহারের পরিমাণ প্রতি হেক্টরে প্রায় ২.৩৮ কেজি। কলম্বিয়া, ব্রাজিল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো কয়েকটি দেশের তুলনায়ও ভারতে কীটনাশকের ব্যবহার কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, চিন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলি নিজ নিজ ফসল, জলবায়ু ও কৃষির প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন কীটনাশকের ব্যবহার অনুমোদন করে। ভারতও দেশীয় কৃষির প্রয়োজনীয়তা বিবেচনার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে অবশিষ্টাংশের সীমা নির্ধারণের মাধ্যমে খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
চা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত চাষি, প্রক্রিয়াকরণকারী সংস্থা, খাদ্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, পরীক্ষাগার এবং নিয়ামক কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবিত মানগুলি বিধি মেনে চলার বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে কীটনাশকের দায়িত্বশীল ব্যবহার, নমুনা পরীক্ষা এবং নিয়মিত নজরদারি আরও সুশৃঙ্খল হবে। পাশাপাশি, ভারতীয় চায়ের গুণমান ও সুরক্ষার বিষয়ে উপভোক্তাদের আস্থা বজায় রাখতেও এই উদ্যোগ সহায়ক হবে।
বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির মতামতের ভিত্তিতে খাদ্য সুরক্ষা ও কৃষি উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এই খসড়া সংশোধনীর লক্ষ্য। এর মাধ্যমে স্বচ্ছ, বিজ্ঞানভিত্তিক ও কার্যকর খাদ্য সুরক্ষা নিয়ামক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এফএসএসএআই-এর উদ্যোগ আরও এগিয়ে যাবে।
*সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তি:*
https://egazette.gov.in/(S(i0tkolhyj5o3synuv0wkdfgn))/ViewPDF.aspx
SC/PM/NS
(রিলিজ আইডি: 2324692)
ভিজিটরের কাউন্টার : 5