প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
ইউপিএসসি-র শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ
প্রকাশিত:
01 OCT 2026 1:51PM by PIB Kolkata
দিল্লি, ১ অক্টোবর ২০২৬
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার আমার সহকর্মীবৃন্দ, ড. জিতেন্দ্র সিংজি, পি. কে. মিশ্রজি, টি. ভি. সোমনাথনজি, অজয় কুমারজি, ইউপিএসসি-র সকল মাননীয় সদস্য, বিভিন্ন রাজ্য থেকে আগত রাজ্য লোকসেবা কমিশনের চেয়ারপার্সনগণ, অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ, ভদ্রমহোদয়া ও ভদ্রমহোদয়গণ,
আজকের আলোচনায় যাওয়ার আগে, গতকাল ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করতে চাই। ভারতের ক্যাপ্টেন স্মিত যেভাবে ধৈর্য, বিচক্ষণতা ও সাহসের পরিচয় দিয়েছেন এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী আজ যেভাবে বলেছেন যে, এই ভারতীয় আরেকটি ৯/১১-এর ঘটনা ঘটতে দেননি—স্মিতের এই বীরত্বপূর্ণ কাজ দেশের প্রতিটি নাগরিককে গর্বিত করেছে। আজ আমি তাঁর বাবা ভূপেন্দ্র ভাই, মা গীতা বেন এবং স্ত্রী সোনালের সঙ্গেও কথা বলেছি। তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং আজ সমগ্র বিশ্ব তাঁকে নিয়ে গর্বিত। আমি দেশের মানুষের কাছে আবেদন জানাই, আমরা সকলে যেন স্মিতের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রার্থনা করি এবং আমাদের ভাই স্মিতকে কুর্নিশ জানাই। তিনি ভারতের গৌরব আরও বৃদ্ধি করেছেন।
বন্ধুগণ,
আজ শুধু ইউপিএসসি-র ১০০ বছর পূর্তি উদযাপনের দিন নয়, এটি একটি ঐতিহ্যেরও উদযাপন। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণী যে স্বপ্ন লালন করেন এবং তা পূরণের জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালান, এটি সেই আকাঙ্ক্ষারও উদযাপন। প্রতিটি ভারতীয় এই প্রতিষ্ঠানের ওপর যে আস্থা রাখেন, এটি সেই আস্থারও উদযাপন।
এক শতাব্দীর এই যাত্রাপথে প্রজন্ম বদলেছে, সরকার বদলেছে, প্রযুক্তির পরিবর্তন ঘটেছে, পাঠ্যক্রম পরিবর্তিত হয়েছে; কিন্তু ইউপিএসসির প্রতি মানুষের আস্থা আজও একইভাবে অটুট রয়েছে। আর এটিই আপনাদের অন্যতম বৃহত্তম সম্পদ।
এই ১০০ বছরের যাত্রাকে স্মরণীয় করে রাখতে কিছুক্ষণ আগেই একটি স্মারক ডাকটিকিট ও মুদ্রা প্রকাশ করা হয়েছে। ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায়ের সংকলনও প্রকাশিত হয়েছে। এই শতবর্ষের যাত্রার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের প্রতি আমি শ্রদ্ধা জানাই। আপনাদের সকলকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
কিছুক্ষণ আগে আমি এখানে স্থাপিত গ্যালারিটি ঘুরে দেখছিলাম। আপনারাও ১০-১৫ মিনিট সময় নিয়ে গ্যালারিটি ঘুরে দেখুন—আমি আপনাদের সকলকে সেই অনুরোধ জানাব। সেখানে ইউপিএসসির ৭৫তম বার্ষিকী উদযাপনের একটি ছবি আমার নজরে পড়ে, যেখানে লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুরেন্দ্র নাথকে দেখা যাচ্ছে। আজ ৯০ বছর বয়সেও তিনি আমাদের মধ্যে উপস্থিত রয়েছেন।
বন্ধুগণ,
অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি এই যাত্রাপথকে আস্থার এক ঐতিহ্যে পরিণত করেছেন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নানা পরিবর্তন এনেছেন এবং এই প্রতিষ্ঠানকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকেই প্রশংসা ও স্বীকৃতির দাবিদার। গ্যালারিটি ঘুরে দেখার সময় আমি লক্ষ্য করলাম, সেখানে ১৯২০ সালে সুভাষচন্দ্র বসুর এই একই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে। যে বিষয়টি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে তা হল, সেই সময় ভারত ব্রিটিশ শাসনের অধীনে থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষায় সংস্কৃতের একটি পত্র ছিল এবং সুভাষবাবু সংস্কৃত ভাষায় সেই পরীক্ষা দিয়েছিলেন।
বন্ধুগণ,
এই ঐতিহাসিক উপলক্ষে আমি সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের প্রতিও শ্রদ্ধা জানাতে চাই। স্বাধীনতার পর তাঁর সামনে শুধু দেশকে স্বাধীন রাখার চ্যালেঞ্জই ছিল না; একইসঙ্গে একটি দেশকে পরিচালনা করা এবং গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জও ছিল। দেশ পুনর্গঠনের জন্য যে ‘স্টিল ফ্রেম’-এর প্রয়োজন ছিল, তা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল প্রদান করেছিলেন। তিনি এই প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীন ভারতের অন্যতম প্রধান স্তম্ভে পরিণত করেন এবং তাকে আরও শক্তিশালী করে তোলেন।
বন্ধুগণ,
১৯২৬ সালে যখন এই প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল, তখনকার অগ্রাধিকার ছিল ভিন্ন। সেই সময় ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য এবং তার অঙ্গীকার—উভয়ই ব্রিটিশ রাজের স্বার্থের দিকে কেন্দ্রীভূত ছিল। স্বাধীনতা লাভের পর স্বাধীন দেশের স্বপ্ন এবং তার প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তাই হয়ে ওঠে এর মূল লক্ষ্য। গত কয়েক দশক ধরে ইউপিএসসি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করে এসেছে। এই মঞ্চ থেকে ইতিমধ্যেই এর সাফল্য ও অবদানের কথা অনেক বলা হয়েছে। তাই আমি সেগুলির পুনরাবৃত্তি করতে চাই না এবং সেগুলি নিয়ে বিশদেও যেতে চাই না।
ইতিহাসের গণ্ডি পেরিয়ে এখন আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে ভারতের ভবিষ্যৎ। একবিংশ শতাব্দীর এক-চতুর্থাংশ ইতিমধ্যেই অতিক্রান্ত । আগামী ২০ থেকে ২৫ বছর ভারত, ভারতের প্রতিটি নাগরিক এবং ভারতের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। তাই আজকের আলোচনায় আমি সেই দিকেই বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে চাই।
বন্ধুগণ,
একটি বিকশিত ভারতের জন্য দেশের যে ধরনের প্রশাসন এখন প্রয়োজন, তা অনেকাংশেই নির্ভর করে ইউপিএসসি এবং রাজ্য লোকসেবা কমিশনগুলির উপর। আপনারা আজ যে তরুণ-তরুণীদের নিয়োগ করছেন, তাঁরাই বিকশিত ভারত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন এবং তাঁরাই হবেন বিকশিত ভারতের অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী। এই বিষয়টি মাথায় রেখে আমাদের সর্বদা দুটি মানদণ্ডের কথা মনে রাখতে হবে। প্রথম মানদণ্ড হল—‘দেশ সর্বাগ্রে’। দ্বিতীয় মানদণ্ড হল—‘নাগরিক সর্বাগ্রে’। প্রতিটি নিয়োগকে এই দুটি মানদণ্ডের নিরিখেই বিচার করতে হবে। প্রার্থীদের যখন এই ভাবধারায় মূল্যায়ন করা হবে এবং এই ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ ব্যক্তিদের নির্বাচন করা হবে, তখন জাতীয় লক্ষ্য অর্জন অনেক বেশি স্বাভাবিক এবং সহজ হয়ে উঠবে।
বন্ধুগণ,
২০৪৭ সালের ভারত আজকের ভারতের তুলনায় অনেকটাই আলাদা হবে। আজকের তুলনায় ভারতে আরও বেশি নগর থাকবে। গ্রাম ও শহরের মধ্যে ব্যবধান আরও কমে যাবে। নাগরিকদের, বিশেষ করে যুবসমাজের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে। এই রূপান্তরের লক্ষণ ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাই আজকের প্রশ্ন শুধু পরিষেবা প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রশ্ন হল, তাৎক্ষণিক পরিষেবা প্রদানের এই যুগে জনপরিষেবাগুলি আজকের বিশ্বের দ্রুত গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে কি না। তারা কি সেই গতিতে এগিয়ে যেতে সক্ষম?
আজকের নাগরিকরা কোনও পরিষেবার জন্য কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস অপেক্ষা করতে চান না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যখন মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার নথি প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে এবং সরকার যখন রিয়েল-টাইম তথ্যের সুবিধা পায়, তখন নাগরিকরাও দ্রুত সমাধান প্রত্যাশা করেন। এই পরিবর্তিত মানসিকতা আমাদের সিভিল সার্ভিসগুলির কাছ থেকেও নতুন পরিবর্তন দাবি করে। তাই ভবিষ্যতের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের নির্বাচন ও নিয়োগের মানদণ্ড এবং প্রক্রিয়াগুলিকে গড়ে তুলতে হবে।
আমাদের এমন তরুণদের জনপরিষেবায় নিয়ে আসতে হবে, যাঁরা সরকারি পদে মোহাবিষ্ট নন, বরং জনসেবায় আগ্রহী। তাই নিয়োগ পরীক্ষায় একজন প্রার্থী কতটা জানেন, সেটা যাচাই করাই যথেষ্ট নয়। সেই তরুণ কেন সিভিল সার্ভিসে যোগ দিতে চান, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ প্রেরণা সঠিক হলে জনসাধারণের পরিবর্তিত প্রত্যাশার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা এবং সেই অনুযায়ী নিজেদের মানিয়ে নেওয়া—উভয়ই সহজ হয়ে ওঠে।
বন্ধুগণ,
আপনাদের অনেকেই জানেন, প্রশিক্ষণরত আধিকারিকদের সঙ্গে যখনই আমার সাক্ষাৎ হয়, আমি তাঁদের প্রশিক্ষণের একেবারে শুরুতেই নিজের হাতে লিখে দিতে বলি—কেন তাঁরা সিভিল সার্ভিসে যোগ দিয়েছেন। এর কারণ হল, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ব বাড়ে এবং নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে আসে। সেই সময় তাঁদের হাতে লেখা সেই ছোট্ট নোটটি তাঁদের মূল উদ্দেশ্যের কথা মনে করিয়ে দেয়। একই সঙ্গে এটি তাঁদের আত্মমূল্যায়নের একটি উপায়ও হয়ে ওঠে। ইউপিএসসি এবং রাজ্য লোকসেবা কমিশনগুলিও এই ধরনের কোনও ব্যবস্থা চালু করার কথা বিবেচনা করতে পারে।
বন্ধুগণ,
অতীতে আমরা এমন একটি সময় দেখেছি, যখন মনে করা হত সরকারই সর্বোচ্চ অভিভাবক এবং পরিষেবা প্রদানকারী। কিন্তু আজ আমাদের মন্ত্র হল—‘নাগরিক দেবো ভব’। অর্থাৎ, আমাদের কাছে দেশের নাগরিক দেবতার চেয়ে কোনও অংশে কম নন। নাগরিকের সেবা করাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
অতএব, বন্ধুগণ,
একবিংশ শতাব্দীর ভারত এক নতুন কর্মসংস্কৃতির মাধ্যমে এগিয়ে চলেছে। এর মূলমন্ত্র হল—জনমুখী, সক্রিয় এবং সুশাসন!
জনমুখী অর্থ হল সরকারের সুবিধা অনুযায়ী কাজ না করে, সবকিছুর ঊর্ধ্বে নাগরিকের স্বার্থকে স্থান দেওয়া। সমস্যা দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে, আগাম সমস্যার সম্ভাবনা উপলব্ধি করে তার সমাধানের প্রস্তুতি নেওয়া। আর সুশাসনের অর্থ হল—সরকারের অনুপস্থিতি যেমন থাকবে না, তেমনই সরকারের অযাচিত চাপ বা অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপও থাকবে না।
জাতীয় ও রাজ্য—উভয় স্তরেই আমাদের এই ভাবনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নিয়োগের প্রক্রিয়াগুলিকে গড়ে তুলতে হবে। আমাদের এমন পেশাদার দেশকে উপহার দিতে হবে, যাঁদের মধ্যে দরিদ্র মানুষের দুর্দশা উপলব্ধি করার সংবেদনশীলতা থাকবে; যাঁরা তারুণ্যের শক্তি নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসবেন; কঠিন চ্যালেঞ্জের উদ্ভাবনী সমাধান খুঁজে বের করবেন; দেশের প্রয়োজনকে বুঝবেন; আইন মেনে চলা নিশ্চিত করবেন; পাশাপাশি কোনও আইন মানুষের জীবনকে সহজ করে তুলছে, নাকি তা মানুষের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে—সেই বিচার করার ক্ষমতাও রাখবেন।
বন্ধুগণ,
সময়ের পরিবর্তন এবং প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ যে গতিতে ঘটছে, তা আমরা সকলেই প্রত্যক্ষ করছি। আগামী দিনগুলিতে সমাজকে নতুন ধরনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কে ঘিরে বিশ্বজুড়ে যে আলোচনা চলছে, সে সম্পর্কে আমরা সকলেই অবগত। এই পরিস্থিতিতে আমাদের সিভিল সার্ভেন্টদেরও সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে কাজ করতে হবে। তথ্যযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি, ডিপফেকের চ্যালেঞ্জ, অ্যালগরিদমে পক্ষপাতিত্বের আশঙ্কা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের মতো জটিল বিষয় তাঁদের সামনে আসবে।
তাই আমাদের নিয়োগের প্রক্রিয়ায় জটিল সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি যাচাইয়ের ওপরও অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং সেই লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
বন্ধুগণ,
আমরা সকলেই জানি, আজ আমাদের দেশ সংস্কারের এক্সপ্রেসওয়েতে দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এই সময়ে পরীক্ষার আয়োজনকারী সংস্থাগুলিকেও সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সংস্কারের পথে এগিয়ে যেতে হবে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল পরীক্ষা সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে। পরীক্ষাকে শুধুমাত্র একটি অনুষ্ঠান হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি কেবল একটি পরীক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, এর সঙ্গে তরুণদের ভবিষ্যৎ এবং জীবনও জড়িত। পরীক্ষায় কয়েক মাসের বিলম্বও তাঁদের সামনে গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে। কোচিংয়ের ফি, বাড়িভাড়া, যাতায়াতের খরচ—এই সমস্ত কিছু পরিবারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেয়।
তাই আমাদের পরীক্ষাব্যবস্থায় সময়ানুবর্তিতার নীতি গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানের সঙ্গে আপস না করে কীভাবে পরীক্ষা প্রক্রিয়ার সময় কমানো যায়, তা UPSC এবং দেশের সমস্ত নিয়োগ কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে।
আসলে, আমি যখন গ্যালারির দিকে তাকাচ্ছিলাম, তখন লক্ষ্য করলাম যে ইতিমধ্যেই প্রায় একশো দিন সময় কমানো হয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি প্রশংসনীয় সাফল্য। এর জন্য আমি আপনাদের সকলকে অভিনন্দন জানাই।
কিন্তু বন্ধুগণ,
এটি শুধুমাত্র প্রশাসনিক সংস্কার নয়। এটি এমন একটি সংস্কার, যা সমতার প্রসার ঘটায়।
বন্ধুগণ,
আপনারা সকলেই মুখ্যসচিবদের সম্মেলন এবং পুলিশ মহাপরিচালকদের সম্মেলন সম্পর্কে অবগত। গত দশ বছরে এই সম্মেলনগুলি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। এই মঞ্চে দেশের সমস্ত মুখ্যসচিব তিন দিনের জন্য একত্রিত হন এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় করেন। একইভাবে, পুলিশের মহাপরিচালকদের সম্মেলনে দেশের সমস্ত পুলিশবাহিনীর মহাপরিচালকরা তিন দিনের জন্য একত্রিত হয়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং তাঁদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।
এই সম্মেলনগুলির অন্যতম উদ্দেশ্য হল, একটি রাজ্য যাতে অন্য রাজ্যের সর্বোত্তম কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে জানতে, তা বুঝতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রহণ করতে পারে, সেই সুযোগ তৈরি করা।
আমি জানতে পেরেছি যে, UPSC প্রতি বছর রাজ্য লোকসেবা কমিশনগুলির সঙ্গে যৌথভাবে একটি জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন করে। এই সম্মেলনকে আরও ব্যাপক, ফলপ্রসূ এবং নতুন চিন্তাভাবনায় সমৃদ্ধ করে তুলতে আপনারা নিশ্চয়ই নিয়মিতভাবে এটিকে নতুন রূপ ও নতুন মাত্রা দেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছেন।
এই ধরনের উদ্যোগের ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরস্পরের সর্বোত্তম কর্মপদ্ধতি ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পায়। একইসঙ্গে, এই সম্মেলনে আন্তর্জাতিক স্তরে অনুসৃত সর্বোত্তম কর্মপদ্ধতিগুলিও পর্যালোচনা করা উচিত। প্রযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে আমাদের কাজের প্রক্রিয়া ও পদ্ধতির দক্ষতা আরও বাড়ানো যায়, তা নিয়েও সুনির্দিষ্ট আলোচনা হওয়া উচিত।
পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের এই ধরনের উদ্যোগ UPSC-এর পাশাপাশি দেশের প্রতিটি রাজ্য লোকসেবা কমিশনকে উপকৃত করবে। আমাদের প্রক্রিয়াগত নিয়ম ও কর্মপদ্ধতিগুলির অভিন্নকরণের বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে। এর ফলে দেশের তরুণদের জন্য বিশেষ সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হবে।
বন্ধুগণ,
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল UPSC এবং রাজ্য লোকসেবা কমিশনগুলির অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি। এই উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যেতে হবে। মিশন কর্মযোগীর অধীনে গড়ে ওঠা iGOT প্ল্যাটফর্ম আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাতেও ব্যবহার করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে আমাদের দলগুলির ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের সাহায্যে প্রতিষ্ঠানগুলির দক্ষতা আরও বাড়ানো সম্ভব।
বন্ধুগণ,
আপনাদের সবসময় মনে রাখতে হবে যে, আপনাদের কাজ সরাসরি ভারতের তরুণদের ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত। অন্যভাবে বললে, তারুণ্যের শক্তিকে জাতীয় শক্তিতে রূপান্তরিত করার যে লক্ষ্য, আপনারা তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।
বছরের পর বছর ধরে এই লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আপনারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। UPSC প্রতিষ্ঠার সময় দেশের বড় শহর, আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবার এবং নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির তরুণ-তরুণীদের জন্য সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। কিন্তু আজ গ্রাম ও ছোট শহরের তরুণ-তরুণীরাও সরকারি পরিষেবায় প্রবেশ করছেন। আমাদের কন্যাদের অংশগ্রহণও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
১৯৫২ সালে সিভিল সার্ভিসে প্রার্থীদের মধ্যে মহিলাদের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। আজ সেই সংখ্যা বেড়ে ৩০ শতাংশেরও বেশি হয়েছে।
UPSC-এর সমগ্র ইতিহাসে মহিলা চেয়ারপার্সন হয়েছেন চারজন। এখন হাততালি দেওয়ার সময় এসেছে। UPSC-এর ইতিহাসে ওই চারজন মহিলা চেয়ারপার্সনের মধ্যে তিনজনই ২০১৪ সালের পর নিযুক্ত হয়েছেন।
এই পরিবর্তনগুলি শুধুমাত্র পরিসংখ্যান নয়; এগুলি প্রমাণ করে যে আমাদের দেশে সুযোগের পরিধি কতটা বিস্তৃত হয়েছে।
বন্ধুগণ,
১৯৭৬ সালে UPSC প্রতিষ্ঠার পঞ্চাশ বছর পূর্ণ করার সময় পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীর সংখ্যা আজকের তুলনায় অনেক কম ছিল। সেই সময়ের তুলনায় বর্তমানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৫ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ, আজ আমাদের সামনে প্রতিভার এক বিশাল সম্ভার রয়েছে। এটি দেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের দায়িত্বও বহুগুণ বেড়েছে।
আমাদের সামনে যখন বিশ্বের ঈর্ষার কারণ হয়ে ওঠার মতো এত বিশাল প্রতিভার সম্ভার রয়েছে, তখন আপনারা শুধু একজন প্রার্থীকে বেছে নিচ্ছেন না। আপনারা এমন একজন ব্যক্তিকে বেছে নিচ্ছেন, যিনি পরবর্তীকালে সরকারের একজন প্রতিনিধি হয়ে উঠবেন। তৃণমূল স্তরে মানুষ সেই ব্যক্তিকেই সরকার হিসেবে দেখবেন। তাই সঠিক ব্যক্তিকে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনাদের প্রত্যেকের ওপর অত্যন্ত বড় দায়িত্ব রয়েছে।
বন্ধুগণ,
UPSC তার প্রথম শতবর্ষে ক্রমাগত নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও শক্তিশালী করেছে এবং দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। এখন এই প্রতিষ্ঠান যখন তার দ্বিতীয় শতাব্দীতে প্রবেশ করছে, তখন নতুন সম্ভাবনা ও নতুন চ্যালেঞ্জের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেই বিশ্বাসযোগ্যতাকে আরও সমৃদ্ধ ও সুদৃঢ় করতে হবে।
এতদিন ধরে যে মূল্যবোধগুলি আমাদের শক্তির উৎস হয়ে উঠেছে, সেগুলিকে অক্ষুণ্ণ রেখেই ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণে নিজেদের আরও উন্নত করে তুলতে হবে। UPSC-এর স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা, মেধার প্রতি অঙ্গীকার, গোপনীয়তা এবং ন্যায্য প্রক্রিয়া—এই বৈশিষ্ট্যগুলিই তার স্বাতন্ত্র্যপূর্ণ পরিচয়। এই মূল্যবোধগুলিকে সর্বদা সংরক্ষণ করতে হবে।
এই আবেদন জানিয়ে আমি আপনাদের সকলকে আবারও আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই।
আপনাদের সকলকে অনেক ধন্যবাদ।
( এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রদত্ত ভাষণের কাছাকাছি বাংলা অনুবাদ।প্রধানমন্ত্রীর মূল ভাষণটি ছিল হিন্দিতে)
SC....
(রিলিজ আইডি: 2318428)
ভিজিটরের কাউন্টার : 5