নয়াদিল্লী, ১৫ জুলাই ২০২৬: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘বিকশিত ভারত@২০৪৭’ এবং ‘নেশামুক্ত ভারত’ গড়ার স্বপ্নকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রক, মাই ভারত-এর মাধ্যমে আগামী ১৬ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট, ২০২৬ পর্যন্ত দেশজুড়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ‘বিকশিত ভারত যুবা কানেক্ট প্রোগ্রাম' আয়োজন করবে। ‘নেশামুক্ত যুব, বিকশিত ভারত’—এই বিশেষ ভাবনাকে কেন্দ্র করেই মাসব্যাপী এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

এক মাসব্যাপী এই দেশব্যাপী উদ্যোগের লক্ষ্য হল তরুণ প্রজন্মকে ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত করা এবং একই সঙ্গে মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে তাদের সচেতন করে তোলা। নাগরিক অংশগ্রহণ ও মাদকবিরোধী সচেতনতাকে একসঙ্গে যুক্ত করে এই কর্মসূচির মাধ্যমে যুবসমাজকে একটি সুস্থ, দায়িত্বশীল ও নেশামুক্ত ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এই কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন, উপস্থাপনা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং মাই ভারত প্ল্যাটফর্মে ডিজিটাল অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হবে। পাশাপাশি, তরুণদের বোঝানো হবে যে ‘বিকশিত ভারত@২০৪৭’-এর লক্ষ্য পূরণে একটি নেশামুক্ত সমাজ গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে যুবসমাজকে রাষ্ট্র গঠনের কাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করা হবে।
এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে 'বিকশিত ভারত ইয়ং লিডার্স ডায়ালগ'-এর রাজ্যস্তরের বিজয়ী, বিকশিত ভারত যুব পার্লামেন্ট-এর বিজয়ী, ন্যাশনাল সার্ভিস স্কিম (এনএসএস) পুরস্কারপ্রাপ্ত, জাতীয় যুব পুরস্কারপ্রাপ্ত এবং অন্যান্য বিশিষ্ট যুবনেতাসহ একাধিক যুব আইকন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। তাঁরা ভারতের উন্নয়নের যাত্রাপথ সম্পর্কে আলোকপাত করবেন এবং মাদকাসক্তি কীভাবে ব্যক্তিগত স্বপ্ন, সামাজিক কল্যাণ ও দেশের অগ্রগতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তা তুলে ধরবেন।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা মাদকাসক্তির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে নির্মিত একটি বিশেষ সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র দেখবেন। এরপর তাঁরা ‘নেশামুক্ত ভারত’ শপথ গ্রহণ করে সুস্থ জীবনযাপন এবং দেশের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার করবেন। যেখানে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও আধ্যাত্মিক সংগঠনের সহযোগিতায় রিকভারি ওয়ারিয়রদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হবে, যাতে প্রচারাভিযানের প্রভাব আরও বাড়ে।
যুবসমাজের বৃহত্তর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কর্মসূচির প্রতিটি জায়গায় মাই ভারত ফেসিলিটেশন ডেস্ক, স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা তাৎক্ষণিকভাবে মাই ভারত পোর্টাল-এ নিবন্ধন করতে পারবেন এবং মাই ভারত-এর বিভিন্ন যুব উন্নয়নমূলক উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে পারবেন। এছাড়াও ব্যানার, স্ট্যান্ডি এবং ডিজিটাল প্রচারের মাধ্যমে দেশজুড়ে এই সচেতনতামূলক অভিযানকে আরও বিস্তৃত করা হবে।
এই কর্মসূচিতে মূলত ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সি গ্রামীণ, শহর ও জনজাতি সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহনে যুক্ত করা হবে। অংশগ্রহণকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি পরবর্তীতে মাই ভারত চাপ্টাত গঠন করতে পারবে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে যুবসম্পৃক্ততা বজায় থাকে এবং ভবিষ্যতের মআই ভারত কর্মসূচিগুলি বাস্তবায়ন সহজ হয়। সমস্ত নিবন্ধন এবং কর্মসূচি-সংক্রান্ত কার্যক্রম মাই ভারত পোর্টাল-এর মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
‘বিকশিত ভারত যুবা কানেক্ট প্রোগ্রাম’ মাই ভারত-এর সেই অঙ্গীকারকেই আরও শক্তিশালী করে, যার লক্ষ্য সচেতন, দায়িত্বশীল ও সমাজমনস্ক যুবসমাজ গড়ে তোলা। এই তরুণরাই ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের অভিযাত্রায় নেতৃত্ব দেবে এবং একই সঙ্গে নেশামুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
*****
PS/SG/AGT