प्रविष्टि तिथि:
10 JUL 2026 10:07AM by PIB Agartala
নতুন দিল্লি, ১০ জুলাই, ২০২৬
ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে ক্রীড়া এক শক্তিশালী সেতুবন্ধ, যা বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সমন্বয় এবং সহযোগিতার নতুন পথ উন্মোচন করে। ক্রীড়া ক্ষেত্রে সহযোগিতায় ২০২৩ সালে স্বাক্ষরিত সমঝোতাপত্রের ওপর ভিত্তি করে ভারত-অস্ট্রেলিয়া রোডম্যাপ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভকে আরও শক্তিশালী করতে বাস্তবসম্মত ও দূরদর্শী অগ্রাধিকারের ক্ষেত্র নির্ধারণ করে। আগামী দশকের সুযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০৩০ সালে আহমেদাবাদে কমনওয়েলথ গেমস, ২০৩২ সালে ব্রিসবেনে অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক গেমস। এর পাশাপাশি ভবিষ্যতে অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক গেমস আয়োজনে ভারতের উৎসাহ ও সদিচ্ছা এই রোডম্যাপে ধরা। যা দু'দেশের যৌথ অগ্রাধিকার, সক্ষমতা ও সম্পদের সামঞ্জস্যপূর্ণ সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে চিহ্নিত করে। অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে ক্রীড়া পরিচালনা ব্যবস্থা এবং ক্রীড়া পরিমণ্ডলের বিকাশে অবস্থানগত পার্থক্যকে সম্মান জানায় এই রোডম্যাপ। এতে উচ্চ ও তৃণমূল পর্যায়ের ক্রীড়া প্রসারে ক্রীড়া সংস্থা, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান,রাজ্য সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় ও কমিউনিটি বা সামাজিক গোষ্ঠীগুলোর নেতৃত্বের ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিয়ে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতামূলক কর্মপদ্ধতির প্রসারে তা সহযোগিতাক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর লক্ষ্য সমস্ত স্তরে শক্তিশালী ক্রীড়া অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা, যা উভয় দেশের পক্ষে লাভজনক । এর লক্ষ্য হবে বস্তুনিষ্ঠ বাস্তবসম্মত, ফলাফল-কেন্দ্রিক। লব্ধ সম্পদ এবং বড় ধরনের ক্রীড়ানুষ্ঠানের সময়সূচির সাথে সামঞ্জস্য বজায় রেখে কার্যক্রমের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সহযোগিতা পরিচালিত হবে। সংবেদনশীল ও চাহিদাকেন্দ্রিক ব্যবস্থার সহায়তা নেওয়া হবে, যেখানে কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের জোগান বা দায়িত্বের বিন্যাস প্রতিটি ক্ষেত্রে আলাদাভাবে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। এই পদ্ধতিটি বাস্তবসম্মত, টেকসই এবং পারস্পরিক লাভজনক ফলাফল নিশ্চিত সম্ভব। এই প্রেক্ষাপটে, রোডম্যাপের আওতায় সহযোগিতার জন্য অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি হল : প্রথমত সক্ষমতা বৃদ্ধি, যার অন্তর্ভুক্ত, অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্রীড়াক্ষেত্রে ভারতে হাই-পারফরম্যান্স স্পোর্টস সেন্টার প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার বিষয়ে সর্বোৎকৃষ্ট সর্বোত্তম কর্মপদ্ধতির লক্ষ্যে সহযোগিতা করা। প্যারা-স্পোর্ট বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াকে সহযোগিতার একটি প্রধান অগ্রাধিকার ও সুযোগ হিসেবে চিহ্নিত করা। এর আওতায় প্যারা-স্পোর্টস শ্রেণিবিন্যাস, প্রশিক্ষণ এবং পারফরম্যান্স সহায়তার ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার দক্ষতার ব্যবহার এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সম্ভাব্য সংযোগ স্থাপনের বিষয়টিও এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে। অস্ট্রেলিয়ার কোচ উন্নয়ন মডেলগুলোর আলোকে দ্বিমুখী আদান-প্রদান বা বিনিময় কার্যক্রম সহজতর করা, যার মাধ্যমে ভারতীয় কোচ ও প্রশিক্ষকদের অস্ট্রেলিয়ায় এবং অস্ট্রেলীয় কোচ ও প্রশিক্ষকদের ভারতে নিয়ে আসা হবে; এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে ট্রেইন দ্য ট্রেইনার অর্থাৎ প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। এছাড়াও পারস্পরিক শিক্ষা, সর্বোৎকৃষ্ট কর্মপদ্ধতি বিনিময় এবং স্কুল-ভিত্তিক ক্রীড়া, ক্রীড়া বিজ্ঞান ও শারীরিক শিক্ষায় কমিউনিটির অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলোতে সহযোগিতার লক্ষ্যে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে শারীরিক শিক্ষা বিষয়ক কর্মসূচি বিনিময় চালু করা যেতে পারে। এর পাশাপাশি যোগব্যায়াম এবং ভারতে অবস্থিত যোগাসন ক্রীড়া ফেডারেশন,ওয়ার্ল্ড যোগাসনে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যগত সুফলগুলোকে স্বীকৃতি দিয়ে, অস্ট্রেলিয়ায় যোগব্যায়াম বিষয়ক জ্ঞান আদান-প্রদান, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং এতে অংশগ্রহণে উৎসাহ প্রদানের ক্ষেত্রগুলিকে চিহ্নিত করা। ভারত-অস্ট্রেলিয়া হাই-পারফরম্যান্স কোচ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-এর অংশ হিসেবে নির্বাচিত ভারতীয় কোচদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ান স্পোর্টস কমিশনের সাথে যৌথভাবে কাজ করা। ভারত সরকারের অর্থায়নে প্রদত্ত ছাত্রবৃত্তির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার হাই-পারফরম্যান্স প্রোগ্রামে প্রতিভাবান তরুণ ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের সহায়তা করার লক্ষ্যে ক্রীড়া সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সংশ্লিষ্ট বেসরকারি অংশীজনদের সাথে নিয়ে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা খতিয়ে দেখা। দ্বিতীয়টি হলো ক্রীড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যৌথ গবেষণা। এর অন্তভুক্ত ক্রীড়াবিদদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ, আঘাত প্রতিরোধ, ক্রীড়া-পুষ্টি, পরিধানযোগ্য পারফরম্যান্স প্রযুক্তি, পুনরুদ্ধার বা রিকভারি কৌশল এবং প্যারা-স্পোর্টস এসব বিষয়ে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পকে উৎসাহিত করা। সেইসঙ্গে ক্রীড়া বিষয়ক পাঠ্যক্রম যৌথভাবে প্রণয়নের লক্ষ্যে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে উৎসাহদান। স্পোর্ট ইন্টিগ্রিটি অস্ট্রেলিয়া এবং ভারতের ন্যাশনাল অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সি, উভয় সংস্থাই ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সির এশিয়া/ওশেনিয়া কার্যালয়ের সাথে সম্পৃক্ততা এবং ইউনেস্কোর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন অ্যাগেইনস্ট ডোপিং ইন স্পোর্টের বিভিন্ন গ্রুপে প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে ডব্লুএডিএ পরিচালিত সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্মসূচিতে সহায়তার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ডোপিং-বিরোধী প্রচেষ্টায় স্থায়ী ভূমিকা পালন করবে। সেই সঙ্গে রয়েছে, বড় ধরনের ক্রীড়া আয়োজন। যার অর্থ বড় ধরনের ক্রীড়া আয়োজনের ক্ষেত্রে সর্বোৎকৃষ্ট কর্মপদ্ধতি আদান-প্রদানের লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজ্য ও অঞ্চল এবং জাতীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোর সাথে সহযোগিতার বিন্যাস। পারস্পরিক পছন্দের খেলা যেমন, অস্ট্রেলিয়ায় ভারতের কাবাডি ও খো-খো এবং ভারতে অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল লিগ ও বাস্কেটবল প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে উভয় দেশেই প্রদর্শনী ম্যাচ ও যুব ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ খতিয়ে দেখা। অলিম্পিক, প্যারালিম্পিক এবং কমনওয়েলথ গেমসের মতো বড় ক্রীড়া আয়োজনগুলোর প্রস্তুতিকালীন সময়কে কাজে লাগিয়ে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়া সংস্থাগুলোর মধ্যে আনুষ্ঠানিক ও পারস্পরিক সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা; যার মাধ্যমে যৌথ সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার, প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং প্রস্তুতিকালীন ও মূল ইভেন্ট চলাকালীন সহায়তা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
২০২৬ সালের ডিসেম্বরে চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিগ ব্যাশ লিগের উদ্বোধনী ম্যাচটিকে স্বাগত জানিয়ে, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এবং বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়াকে ভারতে প্রতি বছর বিবিএল ম্যাচ আয়োজনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করতে উৎসাহিত করা।
চতুর্থ হল ক্রীড়া শিল্প ও বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম। যার মধ্যে রয়েছে,ক্রীড়া সরঞ্জাম উৎপাদন, ক্রীড়া বিষয়ক গণমাধ্যম ও সম্প্রচার, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এবং ক্রীড়া-ভিত্তিক স্টার্ট-আপের ক্ষেত্রে ভারতীয় ও অস্ট্রেলীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে মুম্বাইতে অস্ট্রেলিয়ার অর্থায়নে স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রি সামিটের উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়া।
সেইসঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান ও আলোচনার সেশনের মাধ্যমে ভারতীয় ক্রীড়া বাজারে অস্ট্রেলীয় ক্রীড়া খাতের ব্যবসাগুলোর প্রবেশ ও কার্যক্রম সহজতর করা এবং একইভাবে অস্ট্রেলীয় বাজারে ভারতীয় ব্যবসার সুযোগ তৈরি করা।
অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চমানের ও প্রতিযোগিতামূলক মূল্যের ক্রীড়া সামগ্রী ভারতের রপ্তানি কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা।
উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন ক্রীড়া বা হাই-পারফরম্যান্স স্পোর্টস সংক্রান্ত অস্ট্রেলীয় দক্ষতার রপ্তানি বৃদ্ধি করা—যার মধ্যে রয়েছে কোচিং, কোচ উন্নয়ন, শারীরিক সক্ষমতা ও কন্ডিশনিং এর মাধ্যমে ক্রীড়াবিদদের সুস্থতা, পুষ্টি এবং ক্রীড়া মনোবিজ্ঞান।
এছাড়াও রয়েছে ক্রীড়া ক্ষেত্রে নারী বিষয়ক অংশীদারিত্ব। এর অন্তর্ভুক্ত
নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, নেতৃত্ব, সুস্বাস্থ্য ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে খেলাধুলার গুরুত্বকে স্বীকৃতির মাধ্যমে নারীদের নেতৃত্ব, স্বাস্থ্য, উচ্চ-পর্যায়ের ক্রীড়া নৈপুণ্য ও অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা। এর আওতায় অস্ট্রেলিয়ান স্পোর্টস কমিশনের প্রধান কর্মসূচিগুলোর আদলে নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য দ্বিপাক্ষিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের মতো কার্যক্রম এর অন্তর্ভুক্ত হবে।
*****
PS/Agt