স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

ভগবান বিরসা মুন্ডার ১৫০-তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে নতুন দিল্লিতে আয়োজিত ‘জনজাতি সাংস্কৃতিক সমাগম’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ

প্রকাশিত: 24 MAY 2026 9:49PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ২৪  মে  ২০২৬

 

ভগবান বিরসা মুন্ডার ১৫০-তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে নতুন দিল্লিতে আজ আয়োজিত ‘জনজাতি সাংস্কৃতিক সমাগম’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ।


ভাষণে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ বলেন, এই সম্মেলনকে বহু বছর ধরে মনে রাখা হবে জনজাতি সম্প্রদায়ের মহাকুম্ভ হিসেবে। তিনি বলেন, ভগবান বিরসা মুন্ডার পর এই প্রথম জনজাতি আন্দোলন যা সমগ্র দেশকে এক করেছে। তিনি বলেন, এই বছরটি ভগবান বিরসা মুন্ডার ১৫০-তম জন্মবার্ষিকী। তিনি উল্লেখ করেন যে, উলগুলান আন্দোলন ব্রিটিশদের নমনীয় হতে বাধ্য করেছিল এবং সেই সময় যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতা সত্বেও ভগবান বিরসা মুন্ডা ঝাড়খণ্ড থেকে গুজরাট এবং ভারত জুড়ে সেই বার্তা ছড়াতে সফল হয়েছিলেন যে আমাদের বিশ্বাস প্রকৃত বিশ্বাস এবং কেউ আমাদের অরণ্যকে গ্রাস করতে পারবে না। তিনি বলেন, জল, অরণ্য এবং পাহাড় আমাদের জনজাতি ভাই-বোনদের বিশ্বাসের কেন্দ্র এবং জীবন জীবিকার উৎস এবং একটি দুর্ভেদ্য দুর্গ যা তাদের পরিচিতি এবং সংস্কৃতিকে রক্ষা করে। তিনি আরও বলেন যে, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সুস্থায়িত্বের মডেল হল সেইটা যা জনজাতি সম্প্রদায় তৈরি করেছে।

শ্রী অমিত শাহ বলেন যে, সকল জনজাতি সম্প্রদায় বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য এবং ঐক্যের মধ্যে বৈচিত্র্যের নীতির উদাহরণস্বরূপ। তিনি বলেন, আমাদের সংবিধানের রচয়িতারা প্রত্যেক ব্যক্তিকে মর্যাদার সঙ্গে নিজ ধর্ম বিশ্বাসকে আঁকড়ে বাঁচার অধিকার দিয়েছে। কেউ কাউকে জোর করতে বা লোভ দেখিয়ে ধর্ম পরিবর্তন করাতে পারে না। তিনি বলেন যে, যদি জনজাতি সম্প্রদায় আজ সংকল্প নেয় তাদের ধর্ম বিশ্বাসকে রক্ষা করার, সেই সংকল্প আমাদের নিজেদের সংস্কৃতি এবং দেশের সঙ্গে সংযুক্ত করে রাখবে। শ্রী শাহ আরও বলেন যারা আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, তারা বুঝতে পারে না যে হাজার হাজার বছর আগে ভগবান রাম শবরীর দেওয়া ফল খেয়েছিলেন এবং শিখিয়েছিলেন যে আমরা সকলে এক। তিনি বলেন যে, আজকের এই সম্মেলন এবং লক্ষ লক্ষ জনজাতি মানুষের উপস্থিতি তাদের কাছে একটা জোরালো বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে যারা সমাজে বিভেদ তৈরি করতে চায়। 

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ বলেন, একটা গুজব ছড়ানোর চক্রান্ত চলছে যে ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) জনজাতি সম্প্রদায়কে তাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং তাদের প্রথা অনুযায়ী জীবনযাপনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে। তিনি বলেন যে, নরেন্দ্র মোদী সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে তিনি স্পষ্ট জানাতে চান যে ইউসিসি-র কোনও ধারা জনজাতি সম্প্রদায়ের ওপর চাপবে না এবং তাদের কোনও অধিকার ভঙ্গ করবে না। তিনি বলেন যে মোদী সরকার গুজরাট এবং উত্তরাখণ্ডে ইউসিসি লাগু করেছে সকল জনজাতি সম্প্রদায়কে এর আওতা থেকে পৃথক রাখার বিশেষ সংস্থান রেখে। শ্রী শাহ আরও বলেন যে, যারা বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, তিনি তাদের বলতে চান যে ইউসিসি কোনও জনজাতি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যে হস্তক্ষেপ করবে না। 

শ্রী অমিত শাহ বলেন যে, মোদী সরকার ৫ দশকের পুরনো নকশালবাদের সমস্যা দূর করেছে। যাদের হিংসার কারণে ৪০,০০০-এর বেশি জনজাতি মানুষের জীবন গেছে এবং আজ দেশ সম্পূর্ণ নকশাল সমস্যা মুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন যে, যারা জনজাতি সম্প্রদায় এবং বনবাসীদের উন্নয়নে বাধা দিয়েছে তারা সম্পূর্ণ অপসারিত হয়ে গেছে। শ্রী শাহ বলেন যে, এক সময় যেখানে নকশালদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে নিরাপত্তা বাহিনীর শিবির বসতো, মোদী সরকার সে রকম ৭০টি শিবিরকে শহীদ বীর গুন্ডাধর সেবা গেরা জনপরিষেবা কেন্দ্রে রূপান্তরিত করেছে। তিনি আরও বলেন যে, সময় এসে গেছে উন্নয়নকে জনজাতি অঞ্চলের পাহাড়ে, অরণ্যে পৌঁছে দেওয়ার। তিনি বলেন যে, তাঁর দল সবসময় জনজাতির কল্যাণে অগ্রাধিকার দিয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী জনজাতি বিষয়ক মন্ত্রক গড়ে জনজাতি সম্প্রদায়ের উন্নয়নের সূচনা করেছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদী সেই কাজকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তিনি বলেন যে, সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে জনজাতি সংরক্ষিত ১৬টি আসনের সবকটিতেই তাঁর দল জিতেছে।

শ্রী শাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী জনজাতির কল্যাণকে এগিয়ে নিয়ে যেতে লাগাতার কাজ করছে। পূর্বতন কেন্দ্রীয় সরকারের আমলে জনজাতির কল্যাণে মোট বাজেটের পরিমাণ ছিল ২৮,০০০ কোটি টাকা যা প্রধানমন্ত্রী মোদী বাড়িয়ে করেছেন ১.৫ লক্ষ কোটি টাকা। তিনি আরও জানান যে, মোদী সরকার জনজাতি সম্প্রদায়ের কল্যাণে সম্পূর্ণ নিবেদিত প্রাণ।

শ্রী অমিত শাহ বলেন যে, শ্রী নরেন্দ্র মোদী দরিদ্র সাঁওতাল পরিবার থেকে আসা শ্রীমতী দ্রৌপদী মুর্মুকে ভারতের রাষ্ট্রপতি পদে উন্নীত করেছেন, যার মাধ্যমে সমগ্র জনজাতি সমাজের কল্যাণে কাজ করছেন। তিনি বলেন যে অটল বিহারী বাজপেয়ী জির সময়ে ঝাড়খণ্ড এবং ছত্তিশগড় জনজাতিগরিষ্ঠ রাজ্য হয়েছে এবং বর্তমানে ওড়িশা এবং ছত্তিশগড়ে জনজাতি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। তিনি বলেন যে, পিইএসএ আইন রূপায়নের জন্য ভারত সরকার পিইএসএ সেল স্থাপন করেছে। ১ লক্ষের বেশি প্রশিক্ষককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং পিইএসএ বিধিগুলিকে অনূদিত করেছে সাঁওতালি, গোন্ডি, ভিলি এবং মুন্ডারির মতো একাধিক জনজাতি ভাষায়। তিনি আরও বলেন যে, সরকার পিইএসএ গ্রাম পঞ্চায়েত ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান পোর্টাল তৈরি করেছে তাৎক্ষণিক তত্বাবধানের জন্য। শ্রী শাহ বলেন যে, মধ্যপ্রদেশের পিইএসএ আইনের মডেল একটি আদর্শ মডেল এবং তাঁর দলের নেতৃত্বে সব সরকার এটিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে কাজ করছে। 

শ্রী অমিত শাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ৭২২টি একলব্য মডেল স্কুল সহ একাধিক বড় বড় উন্নয়ন কর্মসূচি রূপায়ন করেছে এবং প্রতিটি জনজাতি পরিবারের জন্য আবাসন, বিদ্যুৎ, কলের জল, ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিমা এবং মাসে মাসে রেশনে খাদ্য সাহায্য নিশ্চিত করেছে। শ্রী শাহ বলেন যে জনজাতি সম্প্রদায়ের এই আন্দোলন শুধুমাত্র আমাদের ভবিষ্যতে সংরক্ষণ করবে তাই নয়, দেশের সঙ্গে, সংস্কৃতির সঙ্গে, বিশ্বাসের সঙ্গে সবসময় সংযুক্ত রাখবে। তিনি আরও বলেন যে, এই আন্দোলন সমগ্র দেশকে শক্তিশালী করার ভিত্তি স্থাপন করছে। তিনি বলেন, ‘তু অউর ম্যায় এক রক্ত হ্যায়’ এই মন্ত্র নিয়ে বনবাসী কল্যাণ আশ্রম একটি সেবার অবিরাম ব্রত নিয়ে জনজাতি সম্প্রদায়ের জন্য নীরব কর্মী হিসেবে কাজ করেছে। তিনি আরও বলেন, এই মহাকুম্ভ আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের দেশ এবং আমাদের বিশ্বাসকে রক্ষা করতে প্রধান ভূমিকা নেবে। তিনি সকলের কাছে আবেদন জানান ভুল ধারনা থেকে দূরে থাকতে, যারা বিভেদ সৃষ্টি করতে চায় তাদের চিহ্নিত করতে এবং ২০৪৭-র মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ ভারত গড়ার লক্ষ্যে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে। 

 


SC/AP/NS….


(রিলিজ আইডি: 2264922) ভিজিটরের কাউন্টার : 5
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , हिन्दी , Marathi , Assamese , Gujarati