জলশক্তি মন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

গুয়াহাটিতে ব্রহ্মপুত্র পর্ষদের চতুর্দশ এইচপিআরবি বৈঠকে পৌরোহিত্য করলেন কেন্দ্রীয় জল শক্তি মন্ত্রী

প্রকাশিত: 19 MAY 2026 4:06PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ১৯ মে, ২০২৬

 

 

কেন্দ্রীয়  জল শক্তি মন্ত্রী সি. আর. পাটিলের পৌরোহিত্যে ১৯ মে ২০২৬ তারিখে গুয়াহাটিতে ব্রহ্মপুত্র পর্ষদের অধীন উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পর্যালোচনা পর্ষদের চতুর্দশ  সভা অনুষ্ঠিত হয়। নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনা উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং ব্রহ্মপুত্র পর্ষদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার কৌশলগত দিশানির্দেশ স্থির করতে এই সভায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল; জল শক্তি মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী রাজভূষণ চৌধুরীসহ অন্যান্য মন্ত্রী, কেন্দ্রীয় সরকার ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির পদস্থ আধিকারিক, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এই উপলক্ষে, কেন্দ্রীয় জল শক্তি মন্ত্রী রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে জল শাসনব্যবস্থার সংস্কারকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে জাতীয়স্তরের এক যুগান্তকারী উদ্যোগ ‘রাজ্য জল সংস্কার কাঠামো’-রও উদ্বোধন করেন।

কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী বলেন, জল সুরক্ষা ভারতের উন্নয়ন যাত্রার কেন্দ্রবিন্দু এবং ‘বিকশিত ভারত @২০৪৭’-এর স্বপ্ন বাস্তবায়নের একটি প্রধান স্তম্ভ। সুস্থিত জল ব্যবস্থাপনার জন্য কেবল পরিকাঠামো নির্মাণই নয়, শক্তিশালী শাসন ব্যবস্থা, সুচিন্তিত নীতি, মজবুত প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং জনসাধারণের অংশগ্রহণও প্রয়োজন।

এইচপিআরবি-র বৈঠকে নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনা, মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও সর্বশেষ তথ্য নথিভুক্তি, বন্যা ও ভাঙন ব্যবস্থাপনা, ঝর্ণা অববাহিকার পুনরুজ্জীবন, ডিজিটাল রূপান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ক্ষেত্রে ব্রহ্মপুত্র পর্ষদের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এইচপিআরবি গত দুই বছরে উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে সমন্বিত নদী অববাহিকা পরিকল্পনা এবং কারিগরি সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রশংসা করেছে।

সভায় জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, লাইডার এবং হাইড্রোলজিক্যাল মডেলিং-এর মতো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে নদী অববাহিকা মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও সর্বশেষ তথ্য নথিভুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পর্ষদ জানায়, ব্রহ্মপুত্র ও বরাক অববাহিকা জুড়ে এপর্যন্ত মোট ৭৬টি নদী অববাহিকা ও উপ-অববাহিকা চিহ্নিত করা হয়েছে।

এইচপিআরবি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে বন্যা ব্যবস্থাপনা, ক্ষয়রোধমূলক কাজ, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, ঝর্ণা অববাহিকা ব্যবস্থাপনা এবং জল সংরক্ষণ উদ্যোগ সম্পর্কিত বিভিন্ন চলতি ও প্রস্তাবিত প্রকল্পও পর্যালোচনা করে। সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম, মণিপুর, নাগাল্যান্ড এবং ত্রিপুরায় পর্ষদ যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তার উপর আলোকপাত করা হয়।

বৈঠকে ব্রহ্মপুত্র পর্ষদকে একটি আধুনিক, প্রযুক্তি-চালিত এবং জ্ঞান-ভিত্তিক নদী অববাহিকা সংস্থায় রূপান্তরিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এই প্রসঙ্গে দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং সমন্বয় উন্নত করার জন্য সাংগঠনিক পুনর্গঠন, বিশেষায়িত কারিগরি ইউনিট, ডিজিটাল গভর্নেন্স উদ্যোগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বিষয়ে নীতি ও কৌশলগত দিশা নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই অঞ্চলে গবেষণা, জলবিদ্যুৎ সমীক্ষা, কারিগরি পরামর্শ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি কার্যক্রমকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এইচপিআরবি উত্তর-পূর্ব জলবিদ্যুৎ ও সহযোগী গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর প্রস্তাবিত পুনরুজ্জীবন পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করেছে। গুয়াহাটির বশিষ্ঠে অবস্থিত ব্রহ্মপুত্র পর্ষদ অফিস চত্ত্বরকে ভবিষ্যতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি আধুনিক প্রাতিষ্ঠানিক ক্যাম্পাসে পুনর্নির্মাণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে, উত্তর-পূর্ব ভারতের ঐতিহ্যবাহী জল ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির উপর নিম্নলিখিত বই এবং তথ্যচিত্রগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়:

উত্তর-পূর্ব ভারতের ঐতিহ্যবাহী জল ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি – তথ্যসূত্র গ্রন্থ

* উত্তর-পূর্ব ভারতের ঐতিহ্যবাহী জল ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি – সচিত্র বই

* ধান ও মৎস্য চাষ (অরুণাচল প্রদেশ) – তথ্যচিত্র

* ডং পদ্ধতি (আসাম) – তথ্যচিত্র

* বাঁশের ড্রিপ সেচ (মেঘালয়) – তথ্যচিত্র

বৃষ্টির জল সংগ্রহ (মিজোরাম) – তথ্যচিত্র

এইচপিআরবি এই অঞ্চলের দেশীয় ও সুস্থিত জল ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি নথিভুক্ত করার জন্য ব্রহ্মপুত্র পর্ষদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছে এবং আধুনিক নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানকে সমন্বিত করার গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছে।

রাজ্য জল সংস্কার কাঠামো সম্পর্কে

রাজ্য জল সংস্কার কাঠামো হলো জল শক্তি মন্ত্রকের এমন এক সংস্কার-ভিত্তিক শাসন কাঠামো, যা রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে জল ক্ষেত্রের সংস্কারকে উৎসাহিত করতে এবং তার মানদণ্ড নির্ধারণ করতে কাজ করে। সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয়তার চেতনাকে ধারণ করে, এই কাঠামোটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সঙ্গে পরামর্শ করে তৈরি করা হয়েছে। জলকে একটি যৌথ জাতীয় সম্পদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। 

এই কাঠামোটিতে নীতি ও বিধিনিয়ম, প্রকল্প পর্যবেক্ষণ, ডিজিটাইজেশন এবং গবেষণা ও উন্নয়ন, পরিকাঠামো এবং গোষ্ঠী অংশগ্রহণ সহ পাঁচটি মাত্রা জুড়ে ৭৫টি সূচক রয়েছে। এটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে একে অপরের থেকে শিখতে, নিজেদের কর্মক্ষমতা পরিমাপ করতে এবং জল প্রশাসনে উৎকর্ষ অর্জনের প্রয়াস চালাতে উদ্বুদ্ধ করে। রাজ্যগুলির মধ্যে এই সুস্থ প্রতিযোগিতা সংস্কারকে ত্বরান্বিত করবে, উদ্ভাবনকে চালিত করবে এবং দেশজুড়ে জল ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক মান উন্নত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই পরিকাঠামোর লক্ষ্য হলো রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে ভূগর্ভস্থ জল নিয়ন্ত্রণ, প্লাবনভূমি চিহ্নিত করা, বর্জ্য জলের পুনঃব্যবহার, বাঁধ সুরক্ষা, অংশগ্রহণমূলক সেচ ব্যবস্থাপনা, নদী অববাহিকা পরিকল্পনা, তথ্য সংযুক্তিকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে পরিমাপযোগ্য ও যাচাইযোগ্য সংস্কার গ্রহণে উৎসাহিত করা। 

এই পরিকাঠামো চালুর ফলে রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি মূল সংস্কারগুলো সম্পন্ন করার জন্য এবং ৩১ জানুয়ারী ২০২৭-এর মধ্যে সূচকগুলির উপর প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সাত মাসের অগ্রিম সময় পেয়েছে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং পশ্চিমবঙ্গের জন্য আন্তঃরাজ্য সমন্বয়কে আরও শক্তিশালী করে তোলা, সুস্থিত নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদী জলসম্পদ পরিকল্পনার লক্ষ্যে সম্মিলিত অঙ্গীকার গ্রহণের মধ্য দিয়ে বৈঠকটি শেষ হয়।

 

SC/SD/SKD...


(রিলিজ আইডি: 2263146) ভিজিটরের কাউন্টার : 15
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: Khasi , English , Urdu , हिन्दी , Assamese , Punjabi , Gujarati , Tamil , Kannada