জাহাজচলাচলমন্ত্রক
২০২৫–২৬ অর্থবছরে প্রধান বন্দরগুলোতে ৯১৫ মিলিয়ন টন পণ্য পরিবহন রেকর্ড, ৭.০৬% প্রবৃদ্ধিসহ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম
প্রকাশিত:
05 APR 2026 2:27PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ৫ এপ্রিল ২০২৬
নয়াদিল্লি, ০৫ এপ্রিল ২০২৬: ভারতের সামুদ্রিক ক্ষেত্রের জন্য এক উল্লেখযোগ্য সাফল্যে, বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রকের অধীনস্থ প্রধান বন্দরগুলো ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সম্মিলিতভাবে ৯১৫.১৭ মিলিয়ন টন(এমটি) পণ্যসামগ্রী (কার্গো) আমদানি- রপ্তানি করেছে, যা ৯০৪ মিলিয়ন টনের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এটি গত বছরের তুলনায় ৭.০৬% প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে এবং এই ক্ষেত্রের শক্তিশালী পুনরুদ্ধার, বর্ধিত দক্ষতা ও সুস্থায়ী প্রবৃদ্ধির ধারাকে পুনরায় নিশ্চিত করে। এই মাইলফলকটি ভারত সরকার কর্তৃক বন্দর পরিকাঠামোর আধুনিকায়ন, লজিস্টিকস বা পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ‘মেরিটাইম অমৃত কাল ভিশন ২০৪৭’-এর আওতায় একটি শীর্ষস্থানীয় সামুদ্রিক জাতি হিসেবে ভারতের অবস্থান সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে গৃহীত রূপান্তরমূলক সংস্কার ও কৌশলগত বিনিয়োগের প্রভাবকেই তুলে ধরে।
কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রী শ্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বলেছেন, “আমাদের প্রধান বন্দরগুলোর মাধ্যমে ৯১৫ মিলিয়ন টনেরও বেশি পণ্যসামগ্রী পরিচালনার এই রেকর্ডটি ভারতের সামুদ্রিক ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সরকারের অবিচল প্রতিশ্রুতিরই এক উজ্জ্বল প্রমাণ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদৃষ্টি দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে, আমরা বিশ্বমানের বন্দর পরিকাঠামো গড়ে তুলছি, দক্ষতা বৃদ্ধি করছি এবং ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির সহায়ক হিসেবে একটি নির্বিঘ্ন পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করছি। এই সাফল্য ‘মেরিটাইম অমৃত কাল ভিশন ২০৪৭’-এর আওতায় ভারতকে একটি বৈশ্বিক সামুদ্রিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার বিষয়ে আমাদের সংকল্পকে আরও সুদৃঢ় করে।”
এই কর্মদক্ষতার চিত্রটি প্রধান বন্দরগুলোর সার্বিক ও ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধিকে প্রতিফলিত করে; যেখানে ১৬০.১১ মেট্রিক টন(এমটি) পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে 'দীনদয়াল পোর্ট অথরিটি' শীর্ষস্থান অধিকার করেছে। এর ঠিক পরেই ১৫৬.৪৫ মেট্রিক টন পণ্য পরিবহনের রেকর্ড নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে 'পারা দ্বীপ পোর্ট অথরিটি' এবং ১০২.০১ মেট্রিক টন নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে 'জওহরলাল নেহরু পোর্ট অথরিটি' (জেএনপিএ)। বিশাখাপত্তনম পোর্ট অথরিটি, মুম্বাই পোর্ট অথরিটি, চেন্নাই পোর্ট অথরিটি এবং নিউ ম্যাঙ্গালোর পোর্ট অথরিটি-সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোও অত্যন্ত শক্তিশালী কর্মদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে এবং সামগ্রিক পণ্য পরিবহনে(কার্গো থ্রোপুট) উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। প্রবৃদ্ধির হারের বিচারে, 'মর্মুগাও পোর্ট অথরিটি' ১৫.৯১% বৃদ্ধির হার নিয়ে শীর্ষস্থানে রয়েছে; এরপর ১৪.২৮% প্রবৃদ্ধি নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে 'কলকাতা ডক সিস্টেম' এবং ১০.৭৪% প্রবৃদ্ধি নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে জেএনপিএ —যা বন্দরগুলোর উন্নত কর্মদক্ষতা এবং ক্রমবর্ধমান পণ্য পরিবহনের পরিমাণকেই নির্দেশ করে।
পণ্য পরিবহনে এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে বন্দরের পরিকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন; শক্তিশালী বহুমুখী সংযোগ ব্যবস্থা(মাল্টিমডেল কানেক্টিভিটি) এবং অভ্যন্তরীণ অঞ্চলের(হিন্টারল্যান্ড) সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা; ডিজিটাল ও স্মার্ট বন্দর বিষয়ক বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ; কয়লা, অপরিশোধিত তেল, কন্টেইনার, সার এবং পিওএল-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যসামগ্রী পরিবহনের পরিমাণ বৃদ্ধি; এবং সর্বোপরি বন্দরগুলোতে জাহাজের 'টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম' বা অপেক্ষার সময় হ্রাস ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশের(ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস) উন্নতি সাধন। 'বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রক' বর্তমানে একটি সুসংহত সামুদ্রিক কৌশল বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে, যার মূল লক্ষ্য হলো বন্দর-কেন্দ্রিক উন্নয়ন, লজিস্টিক ব্যবস্থার সমন্বয় সাধন এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে অর্জিত এই রেকর্ড-সংখ্যক সাফল্য দেশের বাণিজ্য মহলে ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতিফলন এবং বন্দরের পরিচালন দক্ষতা ও সক্ষমতার পূর্ণ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপের কার্যকারিতাকেই প্রমাণ করে। নীতিগত পদক্ষেপগুলোর ধারাবাহিক গতিশীলতা এবং অবকাঠামোগত বিনিয়োগের সুবাদে, ভারতের প্রধান বন্দরগুলো ভবিষ্যতে আরও নতুন নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিশ্ব বাণিজ্যে ভারতের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

SC/SB/NS
(রিলিজ আইডি: 2249179)
ভিজিটরের কাউন্টার : 10