পেট্রোলিয়ামওপ্রাকৃতিকগ্যাসমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলি সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য

প্রকাশিত: 21 MAR 2026 4:40PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ২১ মার্চ ২০২৬

 

পশ্চিম এশিয়ায় বর্তমান ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকারের প্রস্তুতি ও গৃহীত পদক্ষেপসমূহ নীচে তুলে ধরা হল। এর আওতাভুক্ত প্রধান ক্ষেত্রগুলির মধ্যে রয়েছে – জ্বালানি সরবরাহ, সামুদ্রিক ব্যবস্থা এবং ওই অঞ্চলে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তা প্রদান।

 

 

 

শক্তি সরবরাহ ও জ্বালানির প্রাপ্যতা

 

হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে, সারা দেশে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য ও এলপিজি-র স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিম্নরূপ:

 

অশোধিত তেল/শোধনগারসমূহ

 

 সব শোধনগার পূর্ণ সক্ষমতায় চালু রয়েছে এবং সেখানে পর্যাপ্ত অশোধিত তেল মজুত রয়েছে। এছাড়া, দেশে পেট্রোল এবং ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুতও বজায় রাখা হচ্ছে।

 

 শোধনগারগুলিতে বাড়ির জন্য এলপিজি-র উৎপাদন বৃদ্ধি করা হয়েছে।

 

খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রসমূহ

 

 তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে কোনও খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার বা 'ড্রাই-আউট'-এর কোনও ঘটনার রিপোর্ট করা হয়নি। সরকার জনসাধারণের কাছে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার আবেদন জানিয়েছে, কারণ পেট্রোল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং নিয়মিত সরবরাহ বজায় রাখা হচ্ছে।

 

 

 

প্রাকৃতিক গ্যাস

 

 অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলিতে গ্যাস সরবরাহ সুরক্ষিত রাখা হয়েছে; এর মধ্যে ডি-পিএনজি এবং সিএনজি-চালিত গাড়ির ক্ষেত্রে ১০০% সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। গ্রিডের সাথে যুক্ত শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে গ্যাস সরবরাহ তাদের গড় ব্যবহারের ৮০% হারে বজায় রাখা হয়েছে।

 

 বাণিজ্যিক এলপিজি-এর সহজলভ্যতা নিয়ে উদ্বেগ কাটাতে ভারত সরকার সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে যে, তারা যেন তাদের আওতাধীন সমস্ত এলাকায় রেস্তোরাঁ, হোটেল এবং ক্যান্টিনের মতো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে পিএনজি সংযোগ প্রদানের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেয়।

 

 IGL, MGL, GAIL Gas এবং BPCL-এর মতো সিজিডি কোম্পানিগুলো গৃহস্থ ও বাণিজ্যিক পিএনজি সংযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছে।

 

 সিজিডি সংস্থাগুলিকে 

পিএনজিআরবি নির্দেশ দিয়েছে যে, তারা যেন গ্যাসের আবেদন পেশ ও গ্রাহকের বাড়িতে গ্যাস সরবরাহের সময়সীমা কমিয়ে আনে।

 

 ভারত সরকার ১৬.০৩.২০২৬ তারিখে এক চিঠির মাধ্যমে রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে সিজিডি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় আবেদনপত্রগুলির অনুমোদন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

 

 ভারত সরকার ১৮.০৩.২০২৬ তারিখে এক চিঠির মাধ্যমে সমস্ত রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে বাণিজ্যিক এলপিজি-র অতিরিক্ত ১০% বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে তারা এলপিজি থেকে পিএনজি-তে দীর্ঘমেয়াদী রূপান্তরে সহায়তা করতে পারে। 

 

 এছাড়াও, ভারত সরকার ১৯.০৩.২০২৬ তারিখে এক চিঠির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সমস্ত কেন্দ্রীয় সরকারি মন্ত্রকগুলিকে অনুরোধ করেছে-

 

Ø সিজিডি পরিকাঠামো সংক্রান্ত সমস্ত বকেয়া ও নতুন অনুমোদনের মতো বিষয়গুলির অবিলম্বে দ্রুততার সঙ্গে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগ/সংস্থাসমূহকে প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলী প্রদান।

 

Ø ভবিষ্যতে সিজিডি সংক্রান্ত অনুমোদনের আবেদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য একটি সুবিন্যস্ত ও সময়সীমাভিত্তিক কার্যপদ্ধতিও চালু করা যেতে পারে।

 

Ø কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত প্রতিষ্ঠান/আবাসিক কলোনি/কার্যালয়/ক্যান্টিনগুলিকে বলা হয়েছে, যেসব স্থানে পিএনজি সহজলভ্য, সেখানে পিএনজি-তে পরিবর্তন করা যেতে পারে।

 

 ভারত সরকার ২০.০৩.২০২৬ তারিখে এক চিঠির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের সকল মন্ত্রককে অনুরোধ জানিয়েছে, তারা যেন ভারত সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রক/বিভাগের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানসমূহে পিএনজি সংযোগের সম্ভাব্য চাহিদার বিস্তারিত পর্যালোচনা করে; এবং এই কাজে সমন্বয়ের লক্ষ্যে প্রতিটি মন্ত্রক/বিভাগ থেকে যেন একজন করে 'নোডাল অফিসার' নিয়োগ করে।

 

 ভারত সরকারের উপরোক্ত চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে, 'পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভ সেফটি অর্গানাইজেশন' (PESO) তাদের সমস্ত কার্যালয়কে নির্দেশ দিয়েছে যে, তারা যেন সিজিডি সংক্রান্ত আবেদনগুলি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে, অর্থাৎ, আবেদন প্রাপ্তির ১০ দিনের মধ্যেই যেন নিষ্পত্তি করে।

 

 প্রধান প্রধান শহর ও শহরাঞ্চলগুলিতে বাণিজ্যিক এলপিজি গ্রাহকদের পিএনজি সংযোগ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 

 

 

এলপিজি

 

 বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এলপিজি সরবরাহ এখনও উদ্বেগের বিষয়।

 

 

গার্হস্থ্য এলপিজি সরবরাহ:

 

 এলপিজি পরিবেশক কেন্দ্রগুলিতে মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার কোনও খবর পাওয়া যায়নি।

 

 অধিকাংশ সরবরাহ 'ডেলিভারি অথেন্টিকেশন কোড' (DAC)-এর মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে।

 

 আতঙ্কিত হয়ে বুকিংয়ের প্রবণতা কমেছে।

 

 বাড়ি বাড়ি এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।

 

 

বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ:

 

 সরকার ইতিমধ্যেই গ্রাহকদের জন্য বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহের আংশিকভাবে (২০%) পুনরায় চালু করেছে। এছাড়া, ভারত সরকার ১৮.০৩.২০২৬ তারিখে এক চিঠির মাধ্যমে রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে অতিরিক্ত ১০% বাণিজ্যিক এলপিজি বরাদ্দ করার প্রস্তাব দিয়েছে; এই বরাদ্দটি দেওয়া হবে মূলত পিএনজি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে 'সহজে ব্যবসার করার' সংস্কারমূলক পদক্ষেপের ওপর ভিত্তি করে।

 

 ভারত সরকার ২১.০৩.২০২৬ তারিখে অন্য একটি চিঠির মাধ্যমে রাজ্যগুলির জন্য আরও ২০% বাণিজ্যিক এলপিজি বরাদ্দের অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে মোট বরাদ্দের পরিমাণ বেড়ে ৫০%-এ দাঁড়াবে (যার মধ্যে পিএনজি সম্প্রসারণের সংস্কারমূলক পদক্ষেপের ভিত্তিতে প্রদত্ত ১০% বরাদ্দও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে)। এই অতিরিক্ত ২০% বরাদ্দ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে প্রদান করা হবে।যেমন: রেস্তোরাঁ, ধাবা, হোটেল, শিল্প-কারখানার ক্যান্টিন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ/ডেয়ারি শিল্প, রাজ্য সরকার বা স্থানীয় সংস্থা পরিচালিত ভর্তুকিযুক্ত ক্যান্টিন/খাদ্য বিক্রয়কেন্দ্র, কমিউনিটি কিচেন (গোষ্ঠী রান্নাঘর) এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ৫ কেজি ওজনের এফটিএল (Free Trade LPG) সিলিন্ডার।

 

 ২০টি রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ভারত সরকারের জারি করা নির্দেশিকা মেনে 'গার্হস্থ্য-বহির্ভূত' এলপিজি বরাদ্দের নির্দেশ দিয়েছে। অবশিষ্ট রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির ক্ষেত্রে, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করছে। গত এক সপ্তাহে রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে প্রায় ১৩,৪৭৯ মেট্রিক টন এলপিজি গ্রহণ করা হয়েছে।

 

 শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতালগুলোকে অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা হয়েছে; মোট বাণিজ্যিক এলপিজি বরাদ্দের প্রায় ৫০ শতাংশই এই ক্ষেত্রগুলিতে সরবরাহ করা হচ্ছে।

 

 

কেরোসিন

 

 নিয়মিত বরাদ্দের অতিরিক্ত হিসেবে, সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য ৪৮,০০০ কিলোলিটার কেরোসিন বরাদ্দ করা হয়েছে।

 

 রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে কেরোসিন সরবরাহের উদ্দেশ্যে প্রতিটি জেলার উপযুক্ত স্থানগুলি চিহ্নিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 

 ১৫টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল কেরোসিন বরাদ্দের নির্দেশ জারি করেছে। এছাড়া, হিমাচল প্রদেশ ও লাদাখ জানিয়েছে যে, তাদের রাজ্যে বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কেরোসিনের কোনও প্রয়োজন নেই। বর্তমান তারিখ পর্যন্ত, ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এখনও পর্যন্ত কেরোসিন বরাদ্দের কোনও নির্দেশ জারি করেনি।

 

 

রাজ্য সরকারগুলির আয়োজিত বৈঠক

 

 ১৯৫৫ সালের অত্যাবশ্যক পণ্য আইন এবং ২০০০ সালের এলপিজি নিয়ন্ত্রণ আদেশের অধীনে, রাজ্য সরকারগুলির যে কোনো মজুতদারি ও কালোবাজারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা রয়েছে। পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজি-সহ অত্যাবশ্যকীয় পণ্যগুলোর সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সরকারকে প্রধান ভূমিকা পালন করতে হয়।

 

 ভারত সরকার ১৩.০৩.২০২৬ এবং ১৮.০৩.২০২৬ তারিখে চিঠির মাধ্যমে সমস্ত রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে নিম্নোক্ত অনুরোধ জানিয়েছে—

 

Ø মজুতদারি, কালোবাজারি, গার্হস্থ্য এলপিজি-র অবৈধ পাচার এবং অন্যান্য অনিয়ম রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা।

 

Ø ১৯৫৫ সালের অত্যাবশ্যক পণ্য আইন, ১৯৩৪ সালের পেট্রোলিয়াম আইন, ২০০২ সালের পেট্রোলিয়াম নিয়মবিধি, ২০০৫ সালের মোটর স্পিরিট ও এইচএসডি (HSD) আদেশ এবং অন্যান্য প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী, আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

 

Ø স্থানীয় অগ্রাধিকার ও চাহিদার কথা বিবেচনা করে বাণিজ্যিক এলপিজি-র জন্য উপযুক্ত বিতরণ পদ্ধতি প্রণয়ন করা।

 

Ø আতঙ্কিত হয়ে পণ্য কেনা রোধ করতে, এলপিজি-র পরিমিত ব্যবহারে উৎসাহিত করতে এবং সঠিক তথ্য প্রচারের লক্ষ্যে জনসচেতনতামূলক নির্দেশিকা জারি করা।

 

 ৩২টি রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ কক্ষ বা কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। এই রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির অনেকেই প্রতিদিন সাংবাদিক বৈঠকও করছে।

 

 ৩২টি রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জেলা-স্তরের পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করেছে।

 

 যে সব রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এখনও কন্ট্রোল রুম চালু এবং জেলা পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করেনি, তাদের জরুরি ভিত্তিতে তা সম্পন্ন করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

 

 

 

বলবৎযোগ্য পদক্ষেপ 

 

 এলপিজি-র মজুতদারি ও কালোবাজারি রোধে দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, তেলেঙ্গনা, মহারাষ্ট্র সহ বিভিন্ন রাজ্যে ৩,৫০০-এরও বেশি অভিযান চালানো হয়েছে এবং প্রায় ১,৪০০টি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

 

 সংশ্লিষ্ট সকল রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকারের কাছে নিয়মিত অভিযান চালানোর অনুরোধ জানানো হচ্ছে, যাতে কালোবাজারি ও মজুতদারি কার্যকরভাবে রোধ করা সম্ভব হয়।

 

 সরবরাহ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখা এবং যে কোনো প্রকার মজুতদারি বা কালোবাজারি রোধ করার লক্ষ্যে, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলির আধিকারিকরা দেশজুড়ে ২,০০০-এরও বেশি খুচরো আউটলেট এবং এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরদের কার্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে যান। 

 

 

 

সরকারের অন্যান্য পদক্ষেপ

 

 যুদ্ধের এই পরিস্থিতি সত্ত্বেও, সরকার গার্হস্থ্য এলপিজি এবং পিএনজি-কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে; পাশাপাশি হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও উচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে।

 

 সরকার ইতিমধ্যেই সরবরাহ ও চাহিদা—উভয় ক্ষেত্রেই বেশ কিছু যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, শোধনাগারে উৎপাদন বৃদ্ধি; শহরাঞ্চলে এলপিজি বুকিংয়ের মধ্যবর্তী বিরতি ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা এবং গ্রামাঞ্চলে তা ৪৫ দিন পর্যন্ত করা।

 

 এলপিজি-র চাহিদার ওপর চাপ কমাতে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কেরোসিন ও কয়লার ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রক ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদগুলিকে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কেরোসিন ও কয়লা ব্যবহারের অনুমতি প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে।

 

 কয়লা মন্ত্রক ইতিমধ্যেই ‘কোল ইন্ডিয়া’ এবং ‘সিঙ্গারেনি কোলিয়ারিজ’-কে নির্দেশ দিয়েছে, যাতে তারা বিভিন্ন রাজ্যে কয়লার বরাদ্দ বৃদ্ধি করে—যার মাধ্যমে ক্ষুদ্র, মাঝারি এবং অন্যান্য শ্রেণীর গ্রাহকদের মধ্যে কয়লা বিতরণ করা সম্ভব হয়।

 

 রাজ্যগুলিকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, তারা যেন গার্হস্থ্য ও বাণিজ্যিক—উভয় শ্রেণীর গ্রাহকদের জন্যই নতুন পিএনজি সংযোগ প্রদানের প্রক্রিয়াটি সহজতর করে তোলে। এই প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ ও ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে, রাজ্যগুলোর জন্য বাণিজ্যিক এলপিজি-র ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রদানের একটি প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

 

 

 

জনসাধারণের প্রতি পরামর্শ

 

 সরকার বাড়ি বাড়ি এলপিজি সিলিন্ডারের নিরবচ্ছিন্ন প্রাপ্যতা ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে; নাগরিকদের শুধুমাত্র সরকারি সূত্রের উপর নির্ভর করতে এবং গুজব এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

 

 নাগরিকদের আতঙ্কিত হয়ে বুকিং করা থেকে বিরত থাকতে, এলপিজি বুকিংয়ের জন্য ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করতে এবং ডিস্ট্রিবিউটরদের কার্যালয়ে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করা হচ্ছে; সিলিন্ডারের হোম ডেলিভারি নিশ্চিত করা হচ্ছে।

 

 যদিও আতঙ্কিত হয়ে বুকিংয়ের সংখ্যা কমে গেছে, তবে ডিস্ট্রিবিউটরশিপগুলোতে বিচ্ছিন্নভাবে ভিড়ের খবর পাওয়া গেছে; গ্রাহকদের লাইনে দাঁড়িয়ে বাড়িতে ডেলিভারির জন্য অপেক্ষা না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

 

 নাগরিকদের পিএনজি এবং ইলেকট্রিক/ইন্ডাকশন কুকটপের মতো বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে এবং দৈনন্দিন ব্যবহারে শক্তি সংরক্ষণের অভ্যাস গ্রহণ করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

 

 

সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল 

 

এই অঞ্চলে কর্মরত ভারতীয় জাহাজ ও নাবিকদের সুরক্ষার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে:

 

 বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রক নৌচলাচল, বন্দরের কাজকর্ম, ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর নিবিড় নজর রাখছে; এই অঞ্চলের সমস্ত ভারতীয় নাবিক নিরাপদে রয়েছেন এবং গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতীয় পতাকাবাহী কোনো জাহাজের সঙ্গে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

 

 পশ্চিম পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মোট ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ অবস্থান করছে, সেগুলিতে ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন; ডিজি শিপিং জাহাজ মালিক, আরপিএসএল সংস্থা এবং বিদেশে অবস্থিত ভারতীয় মিশনগুলির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।

 

 একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায়, ১৮.০৩.২০২৬ তারিখে একজন ভারতীয় নাবিকের (পানামা পতাকাবাহী জাহাজ 'ASP Avana'-এর মাস্টার বা ক্যাপ্টেন) মৃত্যু হয়েছে। ডিজি শিপিং সংযুক্ত আরব আমির শাহিতে অবস্থিত ভারতীয় মিশনের সাথে সমন্বয় বজায় রেখে চলেছেন এবং মৃত নাবিকের পরিবারকে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করছেন।

 

 ডিজি শিপিং-এর নিয়ন্ত্রণ কক্ষটি দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই চালু রয়েছে এবং চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তারা ৩,৬৭০টি ফোন কল ও ৬,৯২৯টি ই-মেল গ্রহণ ও অভিযোগের নিষ্পত্তি করেছে (যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় পাওয়া ১২০টি কল এবং ১৮১টি ই-মেল অন্তর্ভুক্ত); এ পর্যন্ত ৫৩৪ জনেরও বেশি ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ফিরেছেন ২১ জন।

 

 ভারতের সামুদ্রিক ক্ষেত্র অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং দেশের কোনো বন্দরেই জাহাজজটের কোনো খবর পাওয়া যায়নি; নাবিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য ও বন্দরের কাজকর্ম যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে পারে, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মন্ত্রক বিভিন্ন রাজ্যের 'সামুদ্রিক পর্ষদ' এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সাথে নিবিড় সমন্বয় বজায় রেখে চলেছে।

 

এই অঞ্চলে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা

 

 ভারতীয় মিশন ও দূতাবাসসমূহ ভারতীয়দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে এবং তাঁদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলী জারির পাশাপাশি সহায়তা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:

 

 প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী বাহরাইনের রাজা মহামান্য শেখ হামাদ বিন ইসা আল খলিফার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাঁকে ও বাহরাইনের মানুষকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। উভয় নেতাই পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

 

 প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি ও অসামরিক পরিকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন এবং বিশ্বজুড়ে খাদ্য, জ্বালানি ও সারের নিরাপত্তার ওপর এই হামলার প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন। 

 

পাশাপাশি, তিনি সমুদ্রপথে চলাচলের স্বাধীনতা এবং নিরাপদ নৌ-চলাচলের গুরুত্বের কথা ফের ব্যক্ত করেন এবং বাহরাইনে বসবাসরত ভারতীয়দের সহায়তা প্রদানের জন্য মাননীয় রাজাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

 

 পররাষ্ট্র মন্ত্রক উপসাগরীয় ও পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের ঘটনাবলির ওপর নিবিড় নজর রাখছে; এক্ষেত্রে ভারতীয়দের নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এই লক্ষ্যে একটি চব্বিশ ঘণ্টার বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হয়েছে এবং বিভিন্ন রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।

 

 এই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ভারতীয় মিশন ও দূতাবাসগুলি দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে। তারা হেল্পলাইন পরিচালনা করছে, প্রয়োজনীয় পরামর্শ বা নির্দেশিকা জারি করছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখছে। নাবিক, শিক্ষার্থী, সেখানে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তা প্রদানের কাজও অব্যাহত রয়েছে।

 

 গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এই অঞ্চল থেকে প্রায় ৩ লক্ষ ৩০ হাজার যাত্রী ভারতে ফিরে এসেছেন।

 

 সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে আজ প্রায় ৯০টি বিমান চালানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সৌদি আরব ও ওমান থেকেও বিমান চলাচল অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে, কাতার তাদের আকাশপথ আংশিকভাবে আবার খুলে দেওয়ায় সেখান থেকে ৮ থেকে ১০টি সূচি-বহির্ভূত বিমান চালানো হচ্ছে।

 

 কুয়েত ও বাহরাইনের আকাশপথ বন্ধ থাকায় বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে: সৌদি আরবের (দাম্মাম ও আল কাইসুমা বিমানবন্দরসহ) ওপর দিয়ে বিমানগুলি চালানো হচ্ছে এবং সৌদি আরবের মাধ্যমেই ভারতীয় নাগরিকদের দেশে ফেরার বিষয়টি সহজ করা হচ্ছে।

 

 ‘এমটি সেফসি বিষ্ণু’ (MT Safesea Vishnu) জাহাজের ১৫ জন ভারতীয় ক্রু সদস্য ইরাক থেকে নিরাপদে ভারতে ফিরে এসেছেন।

 

 পৃথক কয়েকটি ঘটনায় ৬ জন ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এই অঞ্চলের ভারতীয় মিশনগুলি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিখোঁজদের সন্ধান চালাচ্ছে এবং মৃতদেহগুলি দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

SC/MP/NS…  


(রিলিজ আইডি: 2243473) ভিজিটরের কাউন্টার : 10