পেট্রোলিয়ামওপ্রাকৃতিকগ্যাসমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রক সাংবাদিক সম্মেলন

প্রকাশিত: 20 MAR 2026 4:50PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ২০ মার্চ ২০২৬

 

ন্যাশনাল মিডিয়া সেন্টারে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রক সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উদ্ভুত পরিস্থিতি সম্পর্কে সংবাদ মাধ্যমকে অবহিত করতে নিয়মিতভাবে এই ধরনের সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক, বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রক এবং বিদেশ মন্ত্রকের পদস্থ আধিকারিকরা জ্বালানি সরবরাহ, সমুদ্র পথের পরিস্থিতি এবং ওই অঞ্চলে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তার বিষয়ে বিশদ তথ্য জানান। আজকের সাংবাদিক সম্মেলনে পশ্চিম এশিয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং এর প্রেক্ষিতে নেওয়া ব্যবস্থা সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়েছে। 

জ্বালানি সরবরাহ ও জ্বালানি তেলের অবস্থা : 

হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে দেশে জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং  এলপিজি-র সরবরাহে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, সেজন্য গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানিয়েছে : 

অশোধিত তেল ও পরিশোধনাগার

    সব পরিশোধনাগারেই পুরোদমে কাজ চলছে। সেগুলিতে অশোধিত তেল, পেট্রোল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। 

    সংকট-পূর্ববর্তী উৎপাদনের তুলনায় পরিশোধনাগারগুলিতে দেশীয় এলপিজি-র উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। 

খুচরো বিক্রয়কেন্দ্র

    তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে খুচরো কেন্দ্রগুলিতে তেল ফুরিয়ে যাওয়ার কোনও ঘটনা জানানো হয়নি। পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহ নিয়মিতভাবে বজায় রাখা হচ্ছে

    নাগরিকদের আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি না কেনার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। 

প্রাকৃতিক গ্যাস

    অগ্রাধিকার দেওয়া ক্ষেত্রগুলিতে সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। দেশীয় পিএনজি এবং সিএনজি পরিবহণের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ সরবরাহ অক্ষুন্ন রয়েছে। শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে সরবরাহের হার প্রায় ৮০ শতাংশ।

    শহরের গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থাগুলিকে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ক্যান্টিনের মতো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলির পিএনজি সংযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

    পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের সচিব পিএনজি-র সম্প্রসারণ এবং এলপিজি থেকে পিএনজি-তে রূপান্তরের ওপর জোর দিতে শহরের গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে একটি পর্যালোচনা বৈঠকে পৌরোহিত্য করেছেন। 

    শহরের গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থাগুলির মধ্যে আইজিএল, এমজিএল, জিএআইএল গ্যাস এবং বিপিসিএল রয়েছে, তারা এক্ষেত্রে বিভিন্ন সুবিধা দিচ্ছে। 

    পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক এই সংস্থাগুলিকে গৃহস্থালিতে গ্যাস সরবরাহের সময়সীমা কমিয়ে আনার এবং সচেতনতামূলক প্রচার চালাবার নির্দেশ দিয়েছে।  

    ভারত সরকার ১৬.০৩.২০২৬ তারিখে লেখা চিঠিতে শহরে গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থাগুলির সম্প্রসারণে দ্রুত অনুমোদন দিতে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে অনুরোধ জানিয়েছে।

    ভারত সরকার ১৮.০৩.২০২৬ তারিখে লেখা চিঠিতে জানিয়েছে যেসব রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দীর্ঘমেয়াদে এলপিজি থেকে পিএনজি-তে রূপান্তরের ক্ষেত্রে সাহায্য করবে তাদের অতিরিক্ত ১০ শতাংশ বাণিজ্যিক এলপিজি বরাদ্দ করার প্রস্তাব দিয়েছে। 

    এখন রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির দায়িত্ব হল, এই সংস্কার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং শহরে গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থাগুলির নেটওয়ার্ক দ্রুত সম্প্রসারণ সাহায্য করা।

    রাজস্থান সরকার ১৯.০৩.২০২৬ তারিখে লেখা একটি চিঠিতে মন্ত্রককে জানিয়েছে যে, রাজ্য সরকার এই নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ এবং পিএনজি-তে রূপান্তরের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে। তাদের এই সংক্রান্ত আবেদন বিবেচনা করা হচ্ছে। 

সাম্প্রতিককালে ১৩,৭০০রও বেশি নতুন পিএনজি সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ৭,৩০০রও বেশি গ্রাহক এলপিজি থেকে পিএনজি-তে গেছেন। এতে এলপিজি-র চাহিদার ওপর চাপ কমেছে। 

এলপিজি

    বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির নিরিখে এলপিজি-র সরবরাহ এখনও উদ্বেগের বিষয়। এর ওপর ধারাবাহিকভাবে নজরদারি চালানো হচ্ছে। 

    কোনও সরবরাহকারী গ্যাস না থাকার ঘটনা জানাননি। 

    আতঙ্কিত হয়ে বুকিং-এর ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ১৩ মার্চ বুকিং-এর সংখ্যা ছিল ৮৯ লক্ষ। তা গতকাল প্রায় ৫৫ লক্ষে নেমে এসেছে। দেশীয় এলপিজি স্বাভাবিকভাবেই সরবরাহ করা হচ্ছে। 

    ১৮টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গার্হস্থ নয় এমন ক্ষেত্রে এলপিজি বরাদ্দের আদেশ জারি করেছে। সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেই এর সরবরাহ অক্ষুন্ন রয়েছে। 

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতালগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বাণিজ্যিক এলপিজি বরাদ্দের প্রায় ৫০ শতাংশই এগুলির জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। 

    গত সপ্তাহে প্রায় ১১,৩৬০ এমটি বাণিজ্যিক এলপিজি উত্তোলন করা হয়েছে। 

কেরোসিন

    রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে অতিরিক্ত প্রায় ৪৮০০০ কেএল কেরোসিন বরাদ্দ করা হয়েছে। 

১৫টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এসকেও বরাদ্দের আদেশ জারি করেছে। হিমাচল প্রদেশ ও লাদাখ এ পর্যন্ত এমন কোনও চাহিদার কথা জানায়নি। এ পর্যন্ত ১৭টি রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসকেও বরাদ্দের আদেশ জারি হয়নি। 

রাজ্য সরকারগুলির বৈঠক

    রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি অত্যাবশ্যক পণ্য আইন এবং এলপিজি নিয়ন্ত্রণ আদেশের আওতায় সরবরাহের ওপর নজরদারি চালাচ্ছে। তাদের এই নজরদারি ও সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

    পেট্রোল, ডিজেল, এলপিজি সহ অত্যাবশ্যক পণ্যের সরবরাহ ও নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকার/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকেই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। 

    ভারত সরকার ১৩.০৩.২০২৬ তারিখে লেখা চিঠিতে সব রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য সচিবদের অনুরোধ করেছে, তাঁরা যেন জেলাশাসক/কালেক্টর এবং অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিকে পেট্রোল পাম্প, এলপিজি বিতরণ কেন্দ্র ইত্যাদিতে আচমকা তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দেন। 

    ভারত সরকার ১৮.০৩.২০২৬ তারিখে লেখা চিঠিতে সব রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে অনুরোধ করেছে

o    মজুতদারি, কালোবাজারি, গৃহস্থালির এলপিজি-র অপব্যবহার ও অন্যান্য অনিয়ম দমনে কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে।

o    অত্যাবশ্যক পণ্য আইন ১৯৫৫, পেট্রোলিয়াম আইন ১৯৩৪, পেট্রোলিয়াম বিধি ২০০২, মোটর স্পিরিট ও এইচএসডি আদেশ ২০০৫ এবং অন্যান্য প্রযোজ্য আইনের সংস্থান লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।

o    এলপিজি ট্যাঙ্কার ও সিলিন্ডারের নিরবচ্ছিন্ন ও নির্বিঘ্ন চলাচলে যথাযথ প্রশাসনিক ও লজিস্টিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।

o    স্থানীয় অগ্রাধিকার ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে বাণিজ্যিক এলপিজি-র জন্য উপযুক্ত বিতরণ পদ্ধতি প্রণয়ন করতে।

o    আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত বুকিং বন্ধ করতে, এলপিজি-র বিচক্ষণ ব্যবহারে উৎসাহিত করতে এবং সঠিক তথ্য প্রচারের জন্য জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করতে। 

    সব জেলাশাসক ও আধিকারিকদের দৈনন্দিন ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হচ্ছে।

    সঠিক তথ্য প্রচারের জন্য সব রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে প্রাত্যহিক ভিত্তিতে সাংবাদিক সম্মেলন করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। 

    সব রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে হেল্পলাইন নম্বর চালু করতে এবং সেগুলির ব্যাপক প্রচার করতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

    ৩২টি রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে। অনেক রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দৈনিক সাংবাদিক সম্মেলনও করছে।

    ৩১টি রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জেলা পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করেছে।

    যেসব রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এখনও কন্ট্রোল রুম এবং জেলা পর্যায়ের নজরদারি কমিটি স্থাপন করেনি, তাদের অবিলম্বে তা করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। 

প্রয়োগমূলক পদক্ষেপ

    মজুতদারি ও কালোবাজারি দমনের বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪,৫০০-রও বেশি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪০০০ সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। 

    উত্তরপ্রদেশ, তামিলনাডু়, কেরালা, জম্মু ও কাশ্মীর, পাঞ্জাব, মধ্যপ্রদেশ, হিমাচল প্রদেশ, রাজস্থান, দিল্লি সহ বিভিন্ন রাজ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণের খবর পাওয়া গেছে। 

    রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি অনিময় রোধে বিভিন্ন খুচরো বিপণন কেন্দ্র ও এলপিজি সরবরাহ কেন্দ্রে ১৮০০টিরও বেশি অভিযান চালিয়েছে। 

অন্যান্য সরকারি পদক্ষেপ

    সরকার নিরবচ্ছিন্ন এলপিজি সরবরাহ এবং পিএনজি সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে পরিবার, হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর। 

    পরিশোধনাগারগুলিতে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। শহরে ২৫ দিন এবং গ্রামীণ এলাকায় ৪৫ দিন পর্যন্ত বুকিং-এর ব্যবধান রাখা হয়েছে। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বন্টন করা হচ্ছে।

    কেরোসিন ও কয়লার মতো বিকল্প জ্বালানি সহজলভ্য করা হয়েছে। রাজ্যগুলিতে এর সরবরাহ বৃদ্ধিতে কয়লা মন্ত্রক সহায়তা করছে। 

    অতিরিক্ত এলপিজি বরাদ্দের সঙ্গে পিএনজি সংযোগকে উৎসাহ দিতে রাজ্যগুলিকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

জনসাধারণের জন্য পরামর্শ

    নাগরিকদের গুজবে কান না দিয়ে কেবলমাত্র সরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। 

    গ্রাহকদের আতঙ্কিত হয়ে বুকিং না করার, ডিজিটাল বুকিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করার এবং এলপিজি সরবরাহকারীদের কাছে না যাওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

    নাগরিকদের পিএনজি, ইলেক্ট্রিক, ইন্ডাকশন কুক টপের মতো বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে এবং শক্তি সংরক্ষণ করতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

সামুদ্রিক সুরক্ষা ও জাহাজ চলাচল

বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে পারস্য উপসাগরের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সেখানকার ভারতীয় জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে-

    এই অঞ্চলে সব ভারতীয় নাবিক নিরাপদে রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতীয় পতাকাবাহী কোনও জাহাজে দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

    বর্তমানে ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক সহ ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ পশ্চিম পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে রয়েছে। জাহাজ মালিক, আরপিএসএল এজেন্সি এবং ভারতীয় মিশনগুলির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে জাহাজ মন্ত্রণালয়ের মহানির্দেশক এগুলির ওপর নজর রাখছেন।

    ডিজি শিপিং কন্ট্রোল রুম ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। এ পর্যন্ত ৩৫৫০টি ফোনকল এবং ৬৭৪৮টি ই-মেল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১২৫টি ফোনকল ও ২০৯টি ই-মেল গত ২৪ ঘণ্টায় এসেছে।

    ডিজি শিপিং এ পর্যন্ত ৫১৩ জনেরও বেশি ভারতীয় নাবিকের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করেছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫ জন রয়েছেন।

    গুজরাট, মহারাষ্ট্র, গোয়া, কেরালা, অন্ধ্রপ্রদেশ, পুদুচেরি সহ বিভিন্ন রাজ্য সামুদ্রিক বোর্ড জানিয়েছে ভারতের সমুদ্র ক্ষেত্র নির্বিঘ্নে পরিচালিত হচ্ছে এবং বন্দরগুলিতে যানজটের কোনও খবর নেই।

    বন্দরগুলিতে জাহাজ চলাচল ও পণ্য পরিবহণের ওপর গভীরভাবে নজর রাখা হচ্ছে। জওহরলাল নেহেরু পোর্ট অথরিটি, বিশাখাপত্তনম বন্দর, মুন্দ্রা, দীনদয়াল পোর্ট অথরিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলির সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। 

    নিউ ম্যাঙ্গালোর পোর্ট অথরিটিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৪-৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল ও এলপিজি বহনকারী জাহাজের জন্য কার্গো সংক্রান্ত চার্জ মুকুব, রপ্তানি কন্টেনারের জন্য গ্রাউন্ড রেন্ট ও রিফার চার্জ মকুব প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

    পশ্চিম এশিয়ার পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রক, জাহাজ চলাচল, বন্দরের কাজকর্ম, নাবিকদের নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। 

এই অঞ্চলে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা

বিদেশ মন্ত্রক পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের উদ্ভুত পরিস্থিতি এবং সেখানে ভারতীয় মিশনগুলির মাধ্যমে সহায়তা ও জনসংযোগের বিশদ তথ্য জানিয়েছে। মন্ত্রক জানিয়েছে- 

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ওমান, মালয়েশিয়া, ফ্রান্স, জর্ডন এবং কাতারের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী ওই অঞ্চলের উত্তেজনা প্রশমন এবং শান্তি ও সুস্থিতি পুনরুদ্ধারে আলোচনা ও কূটনীতির ওপর জোর দিয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি পরিকাঠামোর ওপর হামলার তীব্র নিন্দা করে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ ও অবাধ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

    ওমান- প্রধানমন্ত্রী ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিখের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং ওমানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দা করেছেন। ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে সহায়তা করার জন্য ওমানের প্রশংসা করেছেন তিনি। 

    মালয়েশিয়া- প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন এবং ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    ফ্রান্স- প্রধানমন্ত্রী ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। দুই নেতা পশ্চিম এশিয়া ও অন্যত্র শান্তি ও সুস্থিতির প্রসারে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় অব্যাহত রাখতে সহমত ব্যক্ত করেছেন। 

    জর্ডন- প্রধানমন্ত্রী জর্ডনের রাজা দ্বিতীয় আব্দুল্লাকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ভারতীয়দের নিরাপদে প্রত্যাবর্তনে সহায়তার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। দুই পক্ষই জ্বালানি পরিকাঠামোর ওপর হামলার নিন্দা করে পণ্য ও জ্বালানির অবাধ চলাচলকে সমর্থন জানিয়েছে।

    কাতার- প্রধানমন্ত্রী কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে কথা বলে তাঁকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। দুই পক্ষ জ্বালানি পরিকাঠামোর ওপর হামলার নিন্দা করে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    বিদেশ মন্ত্রক পশ্চিম এশিয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের ঘটনাবলীর ওপর গভীরভাবে নজর রাখছে এবং ভারতীয়দের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। 

    ইরানের ভারতীয় দূতাবাস ৯১৩ জন ভারতীয় নাগরিককে ইরান থেকে অন্য দেশে যেতে সাহায্য করেছে। এদের মধ্যে ৭৯৩ জনকে আর্মেনিয়ায় এবং ১২০ জনকে আজারবাইজানে পাঠানো হয়েছে। 

    ইরানে যাওয়া ২৪৮ জন ভারতীয় তীর্থযাত্রীর সকলেই নিরাপদে দেশে ফিরে এসেছেন। 

    বিদেশ মন্ত্রকের কন্ট্রোল রুম ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। গতকাল ১০ ফোনকল ও ৬টি ইমেল এসেছিল। এগুলির অধিকাংশই বাণিজ্যিক জাহাজগুলিতে আটকে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে সম্পর্কিত। 

    বিদেশ মন্ত্রকের একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রেখেছে। 

    ওই অঞ্চল জুড়ে ভারতীয় মিশন ও পোস্টগুলি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রাখছে। নাবিক, ছাত্রছাত্রী, আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিক ও পর্যটকদের সবরকম সহযোগিতা করছে। 

    ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ওই অঞ্চলের প্রায় ৩ লক্ষ যাত্রী ভারতে ফিরেছেন। সার্বিকভাবে বিমান চলাচলে ধারাবাহিক উন্নতি লক্ষ করা যাচ্ছে। 

    সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে সীমিত সংখ্যক বিশেষ উড়ান চালু রয়েছে। আজ ভারতে প্রায় ৯০টি বিমান আসার কথা।

    সৌদি আরব ও ওমান থেকে ভারতে বিমান চলাচল অব্যাহত রয়েছে।

    কাতারের আকাশসীমা আংশিকভাবে খোলা রয়েছে। কাতার এয়ারওয়েজ আজ ভারতে ১০টি বিশেষ বিমান পাঠাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কুয়েতের আকাশসীমা বন্ধ। জাজিরা এয়ারওয়েজ সৌদি আরবের আল কাইসুমা বিমানবন্দর থেকে বিশেষ বিমান পরিষেবা চালু করেছে। এর প্রথম বিমানটি আজ কোচিতে আসার কথা।

    বাহরিনের আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে। গাল্ফ এয়ার সৌদি আরবের দাম্মাম থেকে ভারতে বিশেষ বিমান চালাচ্ছে।

    কুয়েত, বাহরিন ও ইরাকে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের সৌদি আরব দিয়ে দেশে ফেরানো হচ্ছে। 

    ইরানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান দিয়ে ভারতে ফেরানো হচ্ছে। 

    ইজরায়েলে থাকা ভারতীয় নাগরিকরা জর্জন দিয়ে দেশে ফিরছেন।

    গত ১৮ মার্চ রিয়াধে এক হামলায় এক ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। সরকার এজন্য গভীর শোকপ্রকাশ করছে এবং মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করা হচ্ছে। 

    সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে মোট ৬ জন ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, নিখোঁজ ১ জন। ২ ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ ইতিমধ্যেই দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

    নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিকের সন্ধানে এবং নিহত ভারতীয় নাগরিকদের মরদেহ দেশে ফেরাতে সৌদি আরব, ওমান, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ভারতীয় মিশনগুলি সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। 

    এমটি সেফসি বিষ্ণু জাহাজের উদ্ধার করা ১৫ জন ভারতীয় নাবিক ইরাক ত্যাগ করেছেন। তাঁরা সৌদি আরবের মধ্য দিয়ে দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    এমভি এমকেডি ব্যোম-এর ১৬ জন এবং এমটি স্কাইলাইট জাহাজের ৮ জন, মোট ২৪ জন উদ্ধার করা ভারতীয় নাবিক ইতিমধ্যেই ওমান থেকে ভারতে ফিরে এসেছেন।  

 

SC/SD/NS


(রিলিজ আইডি: 2243161) ভিজিটরের কাউন্টার : 4
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , Marathi , हिन्दी , Assamese , Gujarati , Odia , Kannada , Malayalam