অর্থমন্ত্রক
আর্থিক সমীক্ষা ২০২৫-২৬ অনুসারে ভারত উন্নয়নমূখী অর্থনৈতিক বিভিন্ন কৌশল বজায় রেখে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধন করবে
प्रविष्टि तिथि:
29 JAN 2026 1:34PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬
বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে উদ্ভুত সমস্যা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, এর থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে কার্বন নিঃসরণ মুক্ত এক ভবিষ্যৎ আমাদের গড়ে তুলতে হবে। কেন্দ্রীয় অর্থ ও কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রী শ্রীমতী নির্মলা সীতারমণ আজ সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের আর্থিক সমীক্ষা উপস্থাপন করেছেন। এই সমীক্ষায় সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে যে লক্ষ্যমাত্রা ধার্য হয়েছে তার সঙ্গে বাস্তবতার পার্থক্য দূর করতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সমীক্ষায় বলা হয়েছে, জলবায়ু সংক্রান্ত নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে মানব কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। দরিদ্র জনগণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যাঁরা সঙ্কটের সম্মুখীন হচ্ছেন, তাঁদের কথা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ভারত সুস্থায়ী উন্নয়নের জন্য ব্যয়সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এক্ষেত্রে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উদ্ভুত সমস্যার সমাধান এবং উন্নয়নকে যুক্ত করে সুস্থায়ী প্রবৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি বিনিয়োগকে কাজে লাগাতে হবে। ২০১৬ সালে এক্ষেত্রে মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ৩.৭% ব্যয় করা হয়েছিল। ২০২২ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৫.৬%। ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান অন ক্লাইমেট চেঞ্জের মাধ্যমে কৃষি সহ মোট ৯টি ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
ভারত বিশ্বজুড়ে উষ্ণায়ণ হ্রাস করতে তার জ্বালানি সম্পদের ব্যবহারে পরিবর্তন আনার জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এক্ষেত্রে অ-জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি দক্ষভাবে এই জ্বালানিকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ, সৌর বিদ্যুৎ, বায়ু শক্তি থেকে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ, পরিবেশ বান্ধব হাইড্রোজেন জ্বালানি, ব্যাটারির সঞ্চয় ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ ব্যবহারের মাধ্যমে জ্বালানি ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫-এর ডিসেম্বরে দেশে ব্যবহৃত মোট বিদ্যুতের ৫০%-এর বেশি অ-জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করে উৎপাদন করা হয়েছে।
আর্থিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ব্যবহারের পরিবর্তন শুধুমাত্র প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করেই করা হয় না। লিথিয়াম, কোবাল্ট, নিকেল, তামা এবং বিরল মৃত্তিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থগুলির সাহায্যে কার্বন নিঃসরণ কম হবে, এ ধরনের অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব। ভারত এই লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক স্তরে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছে। মিনারেল্স সিকিউরিটি পার্টনারশিপ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক ফ্রেম ওয়ার্ক ছাড়াও জাতীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ মিশনকে কার্যকর করা হয়েছে। খনিজ বিদেশ ইন্ডিয়া লিমিটেড নামে একটি যৌথ সংস্থা গঠন করে ভারত আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া এবং চিলি থেকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ সংগ্রহ করতে উদ্যোগী হয়েছে। এছাড়াও সাসটেনেবল হারনেসিং অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অফ নিউক্লিয়ার এজেন্সি ফর ট্রান্সফর্মিং ইন্ডিয়া (শান্তি) আইনের মাধ্যমে বেসরকারি সংস্থাগুলিকেও পারমাণবিক শক্তি ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
২০২৩ সালে সরকার কার্বন ক্রেডিট ট্রেডিং স্কিমের সূচনা করেছে। পাশাপাশি গ্লাসগোয় কপ২৬-এ মিশন লাইফ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে পারিবারিক স্তর থেকে সামাজিক স্তর পর্যন্ত প্রতিটি পর্বে জীবনযাত্রার পরির্বতনের জন্য সরকারের গৃহিত বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলির যে ব্যয় হবে, তার পরিমাণ প্রায় ৪ লক্ষ কোটি মার্কিন ডলারের সমতুল। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্তরে সহায়তার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সমীক্ষায় বলা হয়েছে, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ, শহরাঞ্চলের পরিকাঠামো, বিভিন্ন শিল্প সংস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের জন্য আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে তার মধ্যে ৮৩% অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উদ্ভুত সমস্যার নিরসনের জন্য। ভারত এক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরে এবং বিদেশ থেকে আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করছে। আইআরইডিএ, নাবার্ড, সিডবি, পাওয়ার ফিনান্স কর্পোরেশন লিমিটেড এবং রুরাল ইলেক্ট্রিফিকেশন কর্পোরেশন লিমিটেডের মতো প্রতিষ্ঠানগুলি পরিবেশ বান্ধব বিনিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উদ্ভুত সমস্যার সমাধানের জন্য যে মূলধনের প্রয়োজন, তার যোগান শেয়ার বাজার থেকেও সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্যভরেন গ্রিন বন্ডস ছাড়া হয়েছে। এই সমীক্ষায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মূলধনী বাজারে পর্যাপ্ত তহবিল রয়েছে। কিন্তু দক্ষিণী বিশ্বে সুস্থায়ী উন্নয়নের জন্য এবং জলবায়ু সংক্রান্ত প্রকল্পগুলিতে যথাযথ অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না। বহুস্তরীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্কগুলি এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
SC/CB/NS….
(रिलीज़ आईडी: 2220052)
आगंतुक पटल : 8