প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
মন কি বাতের ১৩০ তম পর্বের কিছু তথ্য প্রধানমন্ত্রী সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন
प्रविष्टि तिथि:
25 JAN 2026 11:53AM by PIB Kolkata
আমার প্রিয় দেশবাসী, নমস্কার। ২০২৬ সালের এটি প্রথম 'মন কি বাত'। আগামীকাল ২৬ শে জানুয়ারি আমরা সবাই সাধারণতন্ত্র দিবসের উৎসব পালন করবে। এই দিন আমাদের সংবিধান কার্যকর হয়েছিল। ২৬শে জানুয়ারির এই দিন আমরা সংবিধান নির্মাতাদের প্রণাম জানানোর সুযোগ পাই। আজ ২৫শে জানুয়ারির দিনটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ ন্যাশনাল ভোটার্স ডে, জাতীয় ভোটার দিবস। ভোটদাতাই গণতন্ত্রের আত্মা।
বন্ধুরা, সাধারণভাবে যখন কেউ আঠেরো বছর বয়সের হয় তখন সে ভোটার হয়ে যায়। সেটাকে জীবনের এক সাধারণ উত্তরণ বলে মনে করা হয় কিন্তু আসলে এই সুযোগ যেকোনো ভারতবাসীর জীবনে খুব বড় এক মাইলফলক। এইজন্য এটা খুব জরুরী যে আমরা দেশে ভোটার হওয়ার বা মতদাতা হওয়ার উৎসব পালন করি। যেমন আমরা জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাই আর সেই জন্মদিন উদযাপন করি ঠিক তেমনি যখনই কোন তরুণ প্রথমবার ভোটার হবে তখন গোটা পাড়া, গ্রাম অথবা শহর একজোট হয়ে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে মিষ্টি বিতরণ করুক। এতে ভোটদানের ব্যাপারে মানুষের সচেতনতা বাড়বে। একইসঙ্গে এই চিন্তাও শক্তিশালী হবে যে ভোটার হওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
বন্ধুরা, দেশে যাঁরাই ভোট প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকেন, যাঁরা আমাদের গণতন্ত্রকে সজীব রাখার জন্য একেবারে বুনিয়াদি স্তরে কাজ করেন, তাঁদের প্রত্যেককে আমি ভীষণভাবে প্রশংসা করতে চাই। আজ, ভোটার দিবসে আমি আমাদের তরুণ সাথীদের কাছে অনুরোধ জানাবো যে ১৮ বছর হলে তারা যেন ভোটার হিসেবে নিজেদের নথিভুক্ত করেন। সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের কাছে কর্তব্যপালনের যে আশা রাখে তা এই কাজে পূর্ণতা পাবে এবং ভারতের গণতন্ত্রও সুদৃঢ় হবে।
আমার প্রিয় দেশবাসী, আজকাল আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ধরনের আকর্ষণীয় ট্রেন্ড দেখতে পাচ্ছি। মানুষজন ২০১৬ সালের নিজেদের স্মৃতিকে আবার সজীব করে তুলছেন। এই ভাবনাকে সঙ্গে নিয়েই আজ আমিও আপনাদের সঙ্গে নিজের এক স্মৃতি ভাগ করে নিতে চাই। দশ বছর আগে ২০১৬ সালে জানুয়ারিতে আমি এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী যাত্রা শুরু করেছিলাম। তখন আমার মনে হয়েছিল যে এটা একটা ছোট পদক্ষেপই হোক না কেন, কিন্তু তরুণ প্রজন্মের জন্য, দেশের ভবিষ্যতের জন্য এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তখন কিছু মানুষ বুঝতেই পারছিলেন না যে এটা আসলে কী ! বন্ধুরা, আমি যে যাত্রার কথা বলছি সেটা হল স্টার্টআপ ইন্ডিয়ার যাত্রা। অন্যরকম এই যাত্রার নায়ক হলেন আমাদের তরুণ সাথীরা। নিজেদের comfort zone -এর বাইরে বেরিয়ে তারা যেসব উদ্ভাবন করেছেন তা ইতিহাসে নথিবদ্ধ হচ্ছে।
বন্ধুরা, ভারতে আজ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্টআপ ecosystem গড়ে উঠেছে। এইসব স্টার্টআপ প্রচলিত ধারার বাইরে। আজ তাঁরা এমন সব ক্ষেত্রে কাজ করছেন যেগুলোর ব্যাপারে দশ বছর আগে কল্পনাও করা যেত না। AI, SPACE, নিউক্লিয় শক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, মোবিলিটি, গ্রীন হাইড্রোজেন জৈবপ্রযুক্তি - আপনি নাম করুন আর দেখবেন কোনো না কোনো ভারতীয় স্টার্টআপ সেই ক্ষেত্রে কাজ করছে। আমি আমাদের সেই সব তরুণ বন্ধুদের স্যালুট জানাই যাঁরা কোনো-না-কোনো স্টার্টআপে যুক্ত হয়েছেন অথবা স্টার্টআপ শুরু করতে চাইছেন।
বন্ধুরা, আজ মন কি বাত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমি দেশবাসীর, বিশেষ করে শিল্প এবং স্টার্ট আপের সঙ্গে যুক্ত যুবদের কাছে একটা অনুরোধ করতে চাই। ভারতের অর্থনীতি খুব দ্রুত সামনে এগিয়ে চলেছে। সমগ্র বিশ্ব এখন ভারতের দিকে তাকিয়ে। এই মুহূর্তে আমাদের সকলের উপরেই একটা বড় দায়িত্ব আছে। সেই দায়িত্বটা হল- গুণগত-মানের ওপর জোর দেওয়া। 'হয়ে থাকে', 'চলছে', 'চলে যাবে' এসব বলার যুগ চলে গেছে। আসুন এ বছর আমরা পুর্ণ-শক্তির সঙ্গে গুণমান'কে যেন অগ্রাধিকার দিই । আমাদের সকলের একটাই বীজ মন্ত্র হোক কোয়ালিটি, কোয়ালিটি এবং শুধুই কোয়ালিটি। গতকালের থেকে 'আজ' হোক আরো বেশি উন্নত মানের। আমরা যা কিছু উৎপাদন করছি, তার মান উন্নত করার সংকল্প নিতে হবে। সে বস্ত্র শিল্প হোক, প্রযুক্তি হোক, ইলেকট্রনিক্স হোক কিংবা প্যাকেজিং, ভারতীয় পণ্য মানেই 'টপ কোয়ালিটি'। আসুন উৎকর্ষকে আমরা মানদন্ড করে তুলি। আমরা অঙ্গীকার করি- কোয়ালিটিতে না কোনো ঘাটতি থাকবে, না কোয়ালিটি নিয়ে কোন আপোস হবে; আর আমি তো লালকেল্লা থেকে বলেছিলাম 'zero defect- zero effect'. আর এভাবেই আমরা বিকশিত ভারতের এই যাত্রা কে আরো ত্বরান্বিত করতে পারবে।
আমার প্রিয় দেশবাসী, আমাদের দেশের মানুষ খুবই উদ্ভাবনী-ক্ষমতা সম্পন্ন। যেকোনো সমস্যার সমাধান খোঁজা আমাদের দেশবাসীর স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য। কিছু মানুষ এই কাজ যেমন স্টার্ট আপের মধ্যে দিয়ে করেন, তেমনি আবার কিছু মানুষ সমাজের সম্মিলিত শক্তির মধ্যে দিয়ে পথ খোঁজার চেষ্টা করেন। এমনই একটা প্রচেষ্টা দেখা গেছে উত্তরপ্রদেশের আজমগড়ে। এখান দিয়ে প্রবাহিত তমসা নদীকে মানুষ পুনর্জীবন দিয়েছেন। তমসা কেবল একটা নদীই নয়, বরং আমাদের সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের এক প্রাণময় প্রবাহ। অযোধ্যা থেকে নির্গত হয়ে গঙ্গায় মিশে যাওয়া এই নদী, একসময় এ অঞ্চলের মানুষজনের দিনযাপনের কেন্দ্র-বিন্দু হয়ে উঠেছিল। কিন্তু দূষণের কারণে এর অবিরল ধারা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছিলো। পলি-মাটি, নোংরা- ময়লা এবং আবর্জনা এই নদীর প্রবাহকে রুদ্ধ করেছিলো। এরপর এখানকার মানুষজন এর নতুন করে প্রাণ-সঞ্চারের উদ্দেশ্যে অভিযান শুরু করেন। নদী সংস্কার করা হয়, আর তার তীরে ছায়াদানকারী, ফলদায়ক গাছ লাগানো হয়। স্থানীয় মানুষ কর্তব্য-ভাবনা থেকেই এই কাজে এগিয়ে আসেন এবং সকলের মিলিত প্রচেষ্টায় নদীটির পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়।
বন্ধুরা, জন অংশীদারিত্বের এমনই এক প্রচেষ্টা অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুরেও দেখা গেছে। এটি এমন এক এলাকা যা খরার মত অত্যন্ত কঠিন সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে চলেছে। এখানকার মাটি লাল এবং বালিযুক্ত। এর ফলে লোকেদের জলের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এখানকার অনেক এলাকায় বহুদিন ধরে বৃষ্টি হয়না। অনেকসময়তো লোকেরা অনন্তপুরের তুলনা মরুভূমির মত শুষ্ক অঞ্চলের পরিস্থিতির সঙ্গেও করে থাকে। বন্ধুরা, এই সমস্যার সমাধানে স্থানীয় লোকেরা জলাশয় গুলি পরিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। প্রশাসনিক সহযোগিতায় এখানে 'অনন্ত নীরু সংরক্ষণম প্রোজেক্ট' শুরু করা হয়েছে। এই প্রচেষ্টার ফলে দশটির ও বেশি জলাশয় পুনর্জীবিত করা হয়েছে এবং ঐ জলাশয় গুলি এখন জলে পূর্ণ হতে শুরু করেছে । এছাড়া ও, 7000 এরও বেশি বৃক্ষরোপন করা হয়েছে। অর্থাৎ, অনন্তপুরে জল সংরক্ষণের সঙ্গে সঙ্গে green cover ও বৃদ্ধি পেয়েছে। এখানকার ছেলেমেয়েরা এখন সাঁতারের সুবিধাও উপভোগ করতে পারছে। অর্থাত, বলা যেতে পারে এখানকার সম্পূর্ণ ecosystem আবার জীবিত হয়ে উঠেছে।
বন্ধুরা, আজমগঢ় হোক, বা অনন্তপুর বা দেশের যে কোন প্রান্ত হোক, এটা দেখে আনন্দ হয় যে,মানুষেরা একত্রিত হয়ে কর্তব্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে অনেক বড় সংকল্প রূপায়িত করতে পারছেন।
জন অংশীদারিত্ব এবং যৌথ প্রচেষ্টার এই ভাবনা আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি।
আমার প্রিয় দেশবাসী, আমাদের দেশে ভজন এবং কীর্তন বহুযুগ ধরে আমাদের সংস্কৃতির প্রাণস্বরূপ। আমরা মন্দিরে ভক্তিগীতি শুনেছি, পাঠ শুনেছি এবং প্রত্যেক প্রজন্ম ভক্তিকে সেই সময়ের মত করে যাপন করেছে। এখনকার প্রজন্ম ও দারুন কিছু নতুন করার চেষ্টা করছে। আজকের যুবশক্তি ভক্তিকে নিজেদের অনুভুতি এবং জীবনধারা তে সম্মিলিত করে নিয়েছে। এই ভাবনার ফলে এক নতুন সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে । আপনারা social media তে এই ধরনের video নিশ্চয়ই দেখে থাকবেন। দেশের ভিন্ন ভিন্ন শহরে বড় সংখ্যায় যুবারা একত্রিত হচ্ছে। মঞ্চ সজ্জিত হচ্ছে, আলোর ব্যবস্থা হচ্ছে, সঙ্গীত হচ্ছে, সম্পূর্ণ ব্যবস্থাপনা হচ্ছে এবং পরিবেশ যেন concert এর থেকে কোন অংশে কম হচ্ছে না। এমন মনে হচ্ছে যেন কোন বিশাল concert হচ্ছে। কিন্তু সেখানে যা গাওয়া হচ্ছে সম্পূর্ণ তন্ময়তার সঙ্গে, পুরো মনযোগ দিয়ে, সম্পূর্ণ সুরে , সেটা হলো ভক্তিগীতি। এই প্রথা টিকে আজ ভজন clubbing বলা হচ্ছে, এবং এটি বিশেষ করে Genz-র মধ্যে খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এটা দেখে ভালো লাগছে যে এই ধরনের আয়োজনে ভক্তিগীতির মর্যাদা ও শুদ্ধতা বজায় রাখার প্রতি সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। ভক্তিকে হালকা ভাবে দেখা হচ্ছে না। শব্দের মর্যাদা ভঙ্গ হচ্ছে না এবং ভাব ও অক্ষুন্ন থাকছে। মঞ্চ সজ্জা আধুনিক হতে পারে, গানের প্রস্তুতি ও ভিন্ন হতে পারে কিন্তু মূল ভাবনা অক্ষুন্ন থাকছে। আধ্যাত্মিকতার এক নিরবিচ্ছিন্ন প্রবাহ এখানে অনুভূত হচ্ছে।
আমার প্রিয় দেশবাসী, আজ আমাদের সংস্কৃতি এবং উৎসব সমস্ত পৃথিবী জুড়ে জায়গা করে নিয়েছে। পৃথিবীর প্রত্যেকটি প্রান্তে ভারতের উৎসব গুলি অত্যন্ত উৎসাহ এবং উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালন করা হচ্ছে ।
সব ধরনের cultural vibrancy কে বজায় রাখতে আমাদের ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভাই বোনেদের প্রভূত যোগদান আছে। তাঁরা যেখানেই আছেন নিজেদের সংস্কৃতির মূল ভাবনাটিকে সংরক্ষিত রেখে সেটিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এই ভাবনাকে মাথায় রেখে মালয়েশিয়ায় আমাদের ভারতীয় বংশোদ্ভূত লোকজনেরা অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ করে চলেছেন। আপনারা এটা জেনে অত্যন্ত আশ্চর্য এবং আনন্দিত হবেন যে মালয়েশিয়ায় পাঁচশোর ও বেশি তামিল স্কুল আছে। এখানে তামিল ভাষা শিক্ষার সাথে অন্য বিষয় ও তামিলে পড়ানো হয়। এছাড়াও এখানে তেলেগু এবং পাঞ্জাবী সহ অন্যান্য ভারতীয় ভাষার ওপর ও অনেক focus রাখা হয়।
বন্ধুরা, ভারতের এবং মালয়েশিয়ার মধ্যে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্বন্ধ দৃঢ় ও মজবুত করতে একটি society ও খুব বড় ভূমিকা আছে। যার নাম হল 'Malaysia India Heritage Society '. বিভিন্ন অনুষ্ঠান ছাড়াও এই সংস্থাটি একটি heritage walk এর ও আয়োজন করে থাকে। এতে দুই দেশ কে জুড়ে রাখার মত সাংস্কৃতিক স্থান গুলি কে cover করা হয়। গত মাসে মালয়েশিয়ায় ' লাল পাড় শাড়ি' iconic walk এর আয়োজন করা হয়। এই শাড়ির সাথে বাংলা সংস্কৃতি ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। এই অনুষ্ঠানে সবচেয়ে অধিক মাত্রায় এই শাড়ি পড়ার record তৈরী হয়, যা 'Malaysian Book of Records' এ নথিভুক্ত করা হয়। এই অবসরে ওড়িশী নাচ ও বাউল গান লোকেদের মন্ত্রমুগ্ধ করে। আমি বলতে পারি-
সায়া বরবাঙ্গা/ দেঙ্গান ডিয়াস্পোরা ইন্ডিয়া/
দি মলেশিয়া //
মেরেকা মম্বাবা/ ইন্ডিয়া দান মলেশিয়া/
সেমাকিন রাপা //
আমার মালয়েশিয়ায় থাকা প্রবাসী ভারতীয়দের নিয়ে গর্ব হয়, ভারত আর মালয়েশিয়াকে তাঁরা আরও কাছাকাছি নিয়ে আনছেন। মালয়েশিয়াতে আমাদের প্রবাসী ভারতীয়দের প্রতি আমার অনেক অনেক শুভকামনা।
আমার প্রিয় দেশবাসী, আমরা ভারতের যে প্রান্তেই যাই না কেন, কিছু না কিছু অসাধারণ, অভূতপূর্ব ঘটনা অবশ্যই চোখে পড়ে। মিডিয়ার চাকচিক্যের মধ্যে তারা কখনো কখনো জায়গা পায় না। কিন্তু এ থেকে বোঝা যায় আমাদের সমাজের আসল শক্তি কী? এথেকে আমরা আমাদের মূল্যবোধের সেই চিহ্ণ দেখতে পাই যার মধ্যে সবার ওপরে রয়েছে একতার ভাবনা।গুজরাটের বেচরাজীর চন্দনকি গ্রামের পরম্পরা এমনই অনন্য। এখন আমি যদি বলি যে এখানকার লোকেরা বিশেষত বয়স্ক মানুষরা নিজেদের বাড়িতে খাবার তৈরী করেন না, তাহলে আপনারাহতবাক হয়ে যাবেন। এর কারণ হল গ্রামের চমৎকার community kitchen. এই community kitchen এ এক সঙ্গে গোটা গ্রামের সকলের খাবার তৈরী হয় আর লোকজন একসঙ্গে বসে খাবার খান। গত পনেরো বছর ধরে এই পরম্পরা একভাবে চলে আসছে। শুধু তাই নয়, যদি কোন ব্যক্তি অসুস্হ হন তাঁর জন্য tiffin service ও চালু করা হয়, অর্থাৎ home delivery-র পুরো ব্যবস্থা করা হয়। গ্রামের এই সকলের একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া মানুষকে আনন্দে ভরিয়ে তোলে। এই উদ্যোগ শুধু মানুষকে ঐক্যবদ্ধই করেনা, এতে সামগ্রিক পরিবারের ভাবনায় উৎসাহ মেলে।
বন্ধুরা, ভারতের পরিবার ব্যবস্থা - family system
আমাদের ঐতিহ্যের এক অভিন্ন অংশ। বিশ্বের অনেক দেশেই এব্যাপারটি নিয়ে কৌতূহল প্রকাশ করা হয়। অনেক দেশেই এই family system ব্যাপারটা অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখা হয়।কিছুদিন আগেই আমার ভাই UAE র মহামান্য রাষ্ট্রপতি শেখ মোহম্মদ বিন জায়দ অল নাহয়ান ভারতে এসেছিলেন। উনি আমাকে বলেছিলেন যে UAE তে ২০২৬ সালকে year of family হিসেবে পালন করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হল ওখানকার লোকজনের মধ্যে সৌহার্দ্য ও একতার ভাবনা আরও মজবুত করা, এটি সত্যিই অতি প্রশংসনীয় একটি উদ্যোগ।
বন্ধুরা যখন পরিবার আর সমাজের শক্তি একযোগে মিলিত হয়, আমরা তখন আমাদের সামনের অনেক বড় বড় চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে পারি। আমি অনন্তনাগের শেখগুণ্ড গ্রাম সম্পর্কে জানতে পেরেছি। এখানে ড্রাগস, তামাক, সিগারেট আর মদের নেশা অত্যন্ত বেড়ে গেছিল। এইসব দেখে গ্রামের মীর জাফর জী অত্যন্ত অস্থির হয়ে এই সমস্যা দূর করার সিদ্ধান্ত নেন।তিনি গ্রামের নবীন এবং প্রবীণ দের একত্র করেন। তাঁর উদ্যোগের প্রভাব এমনই হয় যে ওখানকার দোকানগুলি তামাকজাত বস্তুর বিক্রয় বন্ধ করে দেয়।এই উদ্যোগের ফলে ড্রাগসের বিপজ্জনক প্রভাব সম্পর্কে লোক সচেতন হয়।
বন্ধুরা, আমাদের দেশে এমন অনেক সংস্থা আছে যাঁরা বছরভোর নিঃস্বার্থ ভাবে সমাজের সেবায় লেগে আছেন। এরকমই একটি সংস্হা আছে পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের ফরিদপুরে। তার নাম ‘বিবেকানন্দ লোক শিক্ষা নিকেতন’। এই সংস্থা গত চার দশক ধরে শিশু ও প্রবীণদের দেখাশোনা করার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গুরুকুল পদ্ধতিতে শিক্ষাদান, আর শিক্ষক দের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমাজকল্যাণমূলক অনেক ভালো কাজের সঙ্গে এই সংস্থা যুক্ত আছেন। আমার প্রার্থনা নিস্বার্থ সেবার এই মনোভাব দেশবাসীর মধ্যে প্রতিনিয়ত আরও শক্তিশালী হয়ে উঠুক।
আমার প্রিয় দেশবাসী, মন কি বাত এ আমি প্রতি নিয়ত স্বচ্ছতার কথা বলে থাকি। আমার এটা দেখে গর্ব হয় যে আমাদের যুব প্রজন্ম তাদের আশপাশের স্বচ্ছতা বিষয়ে অত্যন্ত সজাগ। অরুণাচল প্রদেশের এমনই এক অনন্য প্রচেষ্টা সম্পর্কে আমি জানতে পেরেছি।অরুণাচল সেই জায়গা যেখানে আমাদের দেশের মধ্যে সবথেকে আগে সূর্যের কিরণ পৌঁছে যায়। এখানকার মানুষ জয় হিন্দ বলে একে অপরকে অভিবাদন জানান। এখানে ইটানগরে যুব সম্প্রদায় একজোট হন সেই সব জায়গার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে, যেখানে মনোযোগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরী ছিল। এই যুবকরা আলাদা আলাদা শহরে সর্বসাধারণের ব্যবহারযোগ্য জায়গাকে পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারটি নিজেদের জীবনের উদ্দেশ্য করে নিয়েছেন। এরপর তাঁরা ইটানগর, নাহরলাগুন, দইমুখ, সেপ্পা, পালিন আর পাসিঘাটে অভিযান চালান।
এই যুবারা এখনও পর্যন্ত প্রায় ১১ লক্ষ কিলোগ্রাম থেকেও বেশী বর্জ্য পরিষ্কার করেছেন। ভাবুন বন্ধুরা, যুবারা একজোট হয়ে ১১লাখ কিলোগ্রাম আবর্জনা সাফাই করেছেন!
বন্ধুরা, আর এক উদাহরণ অসমের। অসমের নগাঁওতে পুরোনো গলিগলির সঙ্গে সেখানকার মানুষের আবেগ জুঁড়ে আছে, এখানকার কিছু মানুষ একযোগে নিজেদের রাস্তা পরিষ্কারের শপথ নেন। ধীরে ধীরে তাঁদের সঙ্গে আরও মানুষ যোগ দেন। এইভাবে এমন একটি দল তৈরী হয়ে যায় যাঁরা তাঁদের রাস্তা থেকে সমস্ত আবর্জনা পরিষ্কার করে ফেলেন। বন্ধুরা, এমনই একটি প্রচেষ্টা বেঙ্গালুরুতেও হচ্ছে। বেঙ্গালুরু তে sofa waste এক বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। এজন্য কিছু পেশাদার মানুষ একজোট হয়ে নিজের নিজের পদ্ধতিতে তার সমাধান করে চলেছেন।
বন্ধুরা, আজ অনেক শহরে এমন দল আছে যাঁরা landfill waste পুনর্ব্যবহারের কাজে যুক্ত আছেন। চেন্নাইতে এমনই একটি দল অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ করেছেন। এইসব উদাহরণ থেকে এটাই বোঝা যায যে স্বচ্ছতার সঙ্গে যুক্ত যে কোন প্রচেষ্টা কতটা প্রশংসনীয়। স্বচ্ছতার ব্যাপারে আমাদের ব্যক্তিগত এবং সমবেত প্রচেষ্টা বাড়াতে হবে, তবেই আমাদের শহর আরও সুন্দর হবে।
আমার প্রিয় দেশবাসী, যখন পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়ে কথা হয়, তখন সাধারণত আমাদের মনে বড় বড় প্রকল্প, বিরাট কোন অভিযান এবং বৃহৎ সংগঠনের কথা আসে। কিন্তু অনেক সময় পরিবর্তনের শুরুটা খুব সাধারণভাবে হয়। একজন মানুষের মাধ্যমে, একটি এলাকা থেকে, একটি পদক্ষেপই ক্রমাগত করতে থাকা ছোট ছোট প্রচেষ্টার থেকেও বড় পরিবর্তন আসে। পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের অধিবাসী বিনয় দাসজির প্রচেষ্টা এক্ষেত্রে উদাহরণ। গত কয়েক বছর ধরে উনি নিজের জেলাকে সবুজে ভরিয়ে রাখার কাজটি একাই সম্পন্ন করে চলেছেন। বিনয় দাস জি প্রায় এক হাজার গাছ লাগিয়েছেন। অনেকবার গাছ কেনা থেকে শুরু করে তা রোপণ করা এবং তার খেয়াল রাখার সম্পূর্ণ খরচ উনি ব্যয় করেছেন। যেখানে প্রয়োজন হয়েছে সেখানে স্থানীয় মানুষ, ছাত্র-ছাত্রী এবং পৌরসভার সঙ্গে মিলে কাজ করেছেন। ওঁর প্রচেষ্টার ফলে রাস্তার ধারে সবুজ গাছ-গাছালির সংখ্যা আরো বেড়েছে।
বন্ধুরা, মধ্যপ্রদেশের পান্না জেলায় জগদীশপ্রসাদ অহিরবারজির প্রচেষ্টাও অত্যন্ত প্রশংসনীয়। উনি জঙ্গলে নিরাপত্তা রক্ষীর কাজ করেন, নিজের সেবা প্রদান করেন। একবার টহল দেওয়ার সময় উনি অনুভব করেন যে জঙ্গলে থাকা অনেক ঔষধি গাছের কথা কোথাও নথিবদ্ধ নেই। কিন্তু জগদীশজি এই গাছের কথা আগামী প্রজন্মকেও জানাতে চাইছিলেন, তাই উনি ঔষধি গাছগুলিকে চিহ্নিত করলেন এবং তাদের রেকর্ড তৈরি করা শুরু করেন। উনি দেড়শোএরও বেশি ঔষধি গাছ চিহ্নিত করেন। প্রত্যেকটি গাছের ছবি, নাম, উপযোগীতা এবং তাদের প্রাপ্তিস্থানের সম্বন্ধে তথ্য জোগাড় করেন। ওঁর জোগাড় করা তথ্যগুলি বনদপ্তর সংকলন করে এবং বইয়ের আকারে প্রকাশ করে। এই বইয়ের তথ্য এখন গবেষক, ছাত্র এবং বনবিভাগ এর আধিকারিকদের খুব কাজে লাগছে।
বন্ধুরা, পরিবেশ সংরক্ষণের এই ভাবনা আজ বড় স্তরেও দেখা যাচ্ছে। এই ভাবনাকে মাথায় রেখে দেশে এক পেড় মা কে নাম অভিযান চালানো হচ্ছে। কয়েক কোটি মানুষ আজ এই অভিযানে যুক্ত হয়েছেন। এখনো পর্যন্ত দেশে ২০০ কোটিরও বেশি গাছ লাগানো হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং কোনো না কোনো ভাবে এতে যোগদান করতে চান।
আমার প্রিয় দেশবাসী, আমি আপনাদের আরেকটি বিষয়ে অনেক প্রশংসা করছি, যেটি হল মিলেটস অর্থাৎ শ্রীঅন্ন। আমি এটা দেখে আনন্দিত যে শ্রীঅন্নের প্রতি দেশের মানুষের আকর্ষণ বেড়েই চলেছে। যদিও আমরা ২০২৩ কে মিলেট ইয়ার ঘোষণা করেছিলাম কিন্তু আজ তিন বছর পরেও মিলেটকে নিয়ে দেশ এবং সারাবিশ্বে যে প্যাশন এবং কমিটমেন্ট দেখা যাচ্ছে তা খুবই উৎসাহব্যান্জক।
বন্ধুরা তামিলনাড়ুর কল্লো-কুরিচি জেলার মহিলা কৃষকদের একটি দল প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। এখানকার পেরিয়াপলায়েম মিলেট এফ পি সির সঙ্গে প্রায় ৮০০ জন মহিলা কৃষক যুক্ত আছেন। মিলেটর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা দেখে এই মহিলারা মিলেট প্রসেসিং ইউনিট বসিয়েছেন। এখন ওরা মিলেট থেকে তৈরি বিভিন্ন পণ্য সরাসরি বাজারে পৌঁছে দিচ্ছেন।
বন্ধুরা, রাজস্থানের রামসরের কৃষক রাও মিলেটকে নিয়ে নানা ইনোভেশন করছেন। এখানকার রামসার অর্গানিক ফার্মার প্রডিউসার কোম্পানিতে ৯০০ এরও বেশি কৃষক যুক্ত রয়েছেন। এখানকার কৃষকরা মূলত বাজরা চাষ করেন। এখানে বাজরাকে প্রসেস করে রেডি টু ইট লাড্ডু তৈরি করা হয়। বাজারে এর খুব চাহিদা রয়েছে।
শুধু তাই নয়, বন্ধুরা, আমি এটা জানতে পেরে খুশি হয়েছি যে আজকাল অনেক মন্দির আছে যেখানে প্রসাদে কেবল মিলেটস ব্যবহার করা হচ্ছে। ওদের এই পদক্ষেপের জন্য আমি ওই সকল মন্দিরের পরিচালকদের অন্তর থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।
বন্ধুরা মিলেটস, শ্রী-অন্ন থেকে আমাদের অন্নদাতাদের আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের সুস্বাস্থ্যের নিশ্চয়তাও বাড়ছে। মিলেটস পুষ্টিগুণে ভরপুর। এটি একটি সুপার ফুড। আমাদের দেশে শীতকালকে খাওয়া-দাওয়ার জন্য খুবই উপযুক্ত সময় বলে ধরা হয়, এমতাবস্থায় এই সময় শ্রীঅন্ন অবশ্যই খাওয়া উচিত। আমার প্রিয় দেশবাসী, মন কি বাত অনুষ্ঠানে আমাদের আবার একবার বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করার সুযোগ হল। এই অনুষ্ঠান আমাদের দেশে বিভিন্ন উপলব্ধিকে অনুভব করার এবং উদযাপন করার সুযোগ দেয় । ফেব্রুয়ারিতে এইরকম আরেকটি সুযোগ আসছে। আগামী মাসে ইন্ডিয়া এআই ইম্প্যাক্ট সামিট আয়োজিত হতে চলেছে। এই সামিটে সমগ্র পৃথিবীর বিশেষ করে প্রযুক্তি ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা ভারতে আসবেন। এই সম্মেলন এআই জগতে ভারতের উন্নতি ও সাফল্যের কথা তুলে ধরবে। এতে অংশগ্রহণকারী সকলকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। আগামী মাসের মন কি বাত অনুষ্ঠানে ইন্ডিয়া এ আই ইম্প্যাক্ট সামিট সম্পর্কে আমরা নিশ্চয়ই কথা বলব। দেশবাসীর আরো অন্যান্য সাফল্যের সম্বন্ধেও আলোচনা করব। ততক্ষণ পর্যন্ত আমায় মন কি বাত থেকে বিদায় দিন। আগামীকাল সাধারণতন্ত্র দিবসের জন্য আবার আপনাদের সকলকে আমার অনেক অনেক শুভেচ্ছা। ধন্যবাদ।
(रिलीज़ आईडी: 2218406)
आगंतुक पटल : 22
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें:
Gujarati
,
Assamese
,
Manipuri
,
English
,
Urdu
,
Marathi
,
हिन्दी
,
Odia
,
Tamil
,
Kannada
,
Malayalam