প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গের মালদায় ৩,২৫০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক রেল ও সড়ক পরিকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন
প্রকাশিত:
17 JAN 2026 3:23PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গের মালদায় ৩,২৫০ কোটি টাকা মূল্যের একাধিক রেল ও সড়ক পরিকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। এর লক্ষ্য হলো পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সংযোগ ব্যবস্থা জোরদার করা এবং উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করা। এই উপলক্ষে সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে শ্রী মোদী বলেন, আজ মালদা থেকে পশ্চিমবঙ্গের অগ্রগতির গতিকে আরও ত্বরান্বিত করার অভিযান নতুন গতি পেয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধন ও উৎসর্গ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের জন্য নতুন রেল পরিষেবা চালু করা হয়েছে এবং এই প্রকল্পগুলো মানুষের যাতায়াতকে সহজ করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও ব্যবসাকেও সুবিধা দেবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এখানে স্থাপিত নতুন ট্রেন রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধাগুলো বাংলার যুবকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
প্রধানমন্ত্রী শ্রী মোদি এই কথাটি তুলে ধরেন যে বাংলার পবিত্র ভূমি থেকে ভারতীয় রেলের আধুনিককরণের দিকে আরও একটি বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং তিনি জানান যে আজ থেকে ভারতে ‘বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন’ চালু করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই নতুন ‘বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন’টি নাগরিকদের জন্য দীর্ঘ যাত্রাকে আরও আরামদায়ক ও চমৎকার করে তুলবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে একটি উন্নত ভারতের ট্রেনগুলো কেমন হওয়া উচিত, সেই স্বপ্ন এই বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে কিছুক্ষণ আগে তিনি মালদা স্টেশনে কিছু যাত্রীর সাথে কথা বলেছেন এবং প্রত্যেকেই বলেছেন যে এই ট্রেনে ভ্রমণ একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা। তিনি স্মরণ করেন যে আগে মানুষ বিদেশি ট্রেনের ছবি দেখত এবং ভাবত যে ভারতেও যদি এমন ট্রেন থাকত, আর আজ সেই স্বপ্ন সত্যি হচ্ছে। শ্রী মোদি আরও বলেন যে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিদেশি পর্যটকরা ভারতীয় রেলওয়ের এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ভিডিও তৈরি করছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই বন্দে ভারত ট্রেনটি 'মেড ইন ইন্ডিয়া', যা ভারতীয়দের কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার দ্বারা নির্মিত। শ্রী মোদি উল্লেখ করেন যে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি মা কালীর ভূমিকে মা কামাখ্যার ভূমির সঙ্গে সংযুক্ত করছে। তিনি আরও বলেন যে আগামী দিনে এই আধুনিক ট্রেনটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে এবং এই আধুনিক স্লিপার ট্রেনের জন্য তিনি বাংলা, আসাম এবং সমগ্র দেশকে অভিনন্দন জানান।
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি মন্তব্য করেছেন যে রেললাইনের বিদ্যুতায়ন এবং স্টেশনগুলির আধুনিকীকরণের মাধ্যমে ভারতীয় রেল একটি রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে আজ পশ্চিমবঙ্গ সহ সারা দেশে ১৫০টিরও বেশি বন্দে ভারত ট্রেন চলাচল করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর পাশাপাশি আধুনিক ও উচ্চ-গতির ট্রেনের একটি সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে, যা বাংলার দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলিকে ব্যাপকভাবে উপকৃত করছে। তিনি ঘোষণা করেন যে বাংলা আরও চারটি আধুনিক ‘অমৃত ভারত এক্সপ্রেস’ ট্রেন পেয়েছে—নিউ জলপাইগুড়ি–নাগেরকয়েল অমৃত ভারত এক্সপ্রেস, নিউ জলপাইগুড়ি–তিরুচিরাপল্লি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস, আলিপুরদুয়ার–বেঙ্গালুরু অমৃত ভারত এক্সপ্রেস এবং আলিপুরদুয়ার–মুম্বাই অমৃত ভারত এক্সপ্রেস। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই ট্রেনগুলি বাংলা, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতের মধ্যে সংযোগকে আরও শক্তিশালী করবে। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে এই অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনগুলি গঙ্গাসাগর, দক্ষিণেশ্বর এবং কালীঘাটে তীর্থযাত্রীদের জন্য, এর পাশাপাশি এগুলি তামিলনাড়ু ও মহারাষ্ট্রে ভ্রমণকারীদের জন্য যাতায়াতকে আরও সহজ করে তুলবে।
প্রধানমন্ত্রী শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, “ভারতীয় রেল শুধু আধুনিকই হচ্ছে না, আত্মনির্ভরও হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন যে ভারতের রেল ইঞ্জিন, কোচ এবং মেট্রো কোচগুলো ভারতের প্রযুক্তির প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ ভারত আমেরিকা ও ইউরোপের চেয়ে বেশি লোকোমোটিভ তৈরি করে এবং অনেক দেশে যাত্রীবাহী ট্রেন ও মেট্রো ট্রেনের কোচ রপ্তানি করে, যা দেশের অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে উপকৃত করে এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে। শ্রী মোদী এই বলে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন যে, ভারতকে সংযুক্ত করা একটি অগ্রাধিকার এবং দূরত্ব কমানো একটি লক্ষ্য, যা আজকের অনুষ্ঠানে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল শ্রী সি ভি আনন্দ বোস, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, শ্রী শান্তনু ঠাকুর, শ্রী সুকান্ত মজুমদার সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রেক্ষাপট
প্রধানমন্ত্রী মালদা টাউন রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করেন, যেখানে তিনি হাওড়া ও গুয়াহাটি (কামাখ্যা)-এর মধ্যে ভারতের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধন করেন। তিনি ভার্চুয়ালি গুয়াহাটি (কামাখ্যা)–হাওড়া বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনেরও উদ্বোধন করেন। আধুনিক ভারতের ক্রমবর্ধমান পরিবহন চাহিদা মেটাতে তৈরি, সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি যাত্রীদের সাশ্রয়ী ভাড়ায় বিমান ভ্রমণের মতো অভিজ্ঞতা দেবে। এটি দূরপাল্লার যাত্রাকে আরও দ্রুত, নিরাপদ এবং সুবিধাজনক করে তুলবে। হাওড়া–গুয়াহাটি (কামাখ্যা) রুটে ভ্রমণের সময় প্রায় ২.৫ ঘণ্টা কমিয়ে এই ট্রেনটি ধর্মীয় ভ্রমণ এবং পর্যটনকেও একটি বড় উৎসাহ দেবে।
প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গ চারটি প্রধান রেল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন, যার মধ্যে রয়েছে বালুরঘাট ও হিলির মধ্যে নতুন রেললাইন, নিউ জলপাইগুড়িতে পরবর্তী প্রজন্মের পণ্যবাহী ট্রেন রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা, শিলিগুড়ি লোকো শেডের আধুনিকীকরণ এবং জলপাইগুড়ি জেলায় বন্দে ভারত ট্রেন রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধার আধুনিকীকরণ। এই প্রকল্পগুলো যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কার্যক্রমকে শক্তিশালী করবে, উত্তরবঙ্গে পণ্য পরিবহন দক্ষতা উন্নত করবে এবং এই অঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।
প্রধানমন্ত্রী নিউ কোচবিহার–বামনহাট এবং নিউ কোচবিহার–বক্সিরহাটের মধ্যে রেললাইনের বিদ্যুতায়ন জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন, যা দ্রুত, পরিচ্ছন্ন এবং আরও শক্তি-সাশ্রয়ী ট্রেন চলাচল সম্ভব করবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও চারটি নতুন অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন - নিউ জলপাইগুড়ি-নাগেরকয়েল অমৃত ভারত এক্সপ্রেস; নিউ জলপাইগুড়ি-তিরুচিরাপল্লি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস; আলিপুরদুয়ার – এসএমভিটি বেঙ্গালুরু অমৃত ভারত এক্সপ্রেস; আলিপুরদুয়ার – মুম্বাই (পানভেল) অমৃত ভারত এক্সপ্রেস। এটি সাশ্রয়ী এবং নির্ভরযোগ্য দূরপাল্লার রেল সংযোগ বাড়াবে। এই পরিষেবাগুলো সাধারণ নাগরিক, ছাত্রছাত্রী, পরিযায়ী শ্রমিক এবং ব্যবসায়ীদের চলাচলের চাহিদা মেটাবে, পাশাপাশি আন্তঃরাজ্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে।
প্রধানমন্ত্রী এলএইচবি কোচযুক্ত দুটি নতুন ট্রেন পরিষেবারও উদ্বোধন করেন - রাধিকাপুর – এসএমভিটি বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেস; বালুরঘাট – এসএমভিটি বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেস। এই ট্রেনগুলো এই অঞ্চলের তরুণ, ছাত্রছাত্রী এবং আইটি পেশাদারদের বেঙ্গালুরুর মতো প্রধান আইটি ও কর্মসংস্থান কেন্দ্রগুলিতে সরাসরি, নিরাপদ এবং আরামদায়ক ভ্রমণের সুযোগ করে দেবে। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সড়ক ৩১ডি-এর ধূপগুড়ি-ফালাকাটা অংশের পুনর্বাসন ও চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রকল্প যা আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ উন্নত করবে এবং উত্তরবঙ্গে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে আরও মসৃণ চলাচল সহজতর করবে।
এই প্রকল্পগুলো আধুনিক পরিকাঠামো নির্মাণ এবং উন্নত সংযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, যা পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলকে দেশের প্রধান প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে শক্তিশালী করবে।
SC/SB/NS….
(রিলিজ আইডি: 2215736)
ভিজিটরের কাউন্টার : 83
এই রিলিজটি পড়তে পারেন:
English
,
Urdu
,
Marathi
,
हिन्दी
,
Manipuri
,
Bengali-TR
,
Assamese
,
Punjabi
,
Gujarati
,
Odia
,
Tamil
,
Telugu
,
Kannada
,
Malayalam