প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
‘প্রগতি’র ৫০তম বৈঠকে পৌরোহিত্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী
प्रविष्टि तिथि:
31 DEC 2025 8:11PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ ‘প্রগতি’র ৫০তম বৈঠকে পৌরোহিত্য করেছেন। তথ্য, যোগাযোগ, প্রযুক্তি-নির্ভর বহুপাক্ষিক মঞ্চ ‘প্রগতি’ গঠিত হয়েছিল প্রশাসনের সক্রিয়তা এবং বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ যথাযথ সময়ে শেষ করার জন্য। প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এক দশক আগে এই মঞ্চ তার যাত্রা শুরু করে। প্রযুক্তি-ভিত্তিক নেতৃত্ব, যথাযথ নজরদারি এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সুস্থায়ী এক সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে ওঠার ফলে জাতীয় স্তরে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
৫০তম ‘প্রগতি’র বৈঠকে মূল্যায়ন
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সড়ক, রেল, বিদ্যুৎ, জলসম্পদ এবং কয়লা সংক্রান্ত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের পর্যালোচনা করেছেন। এই প্রকল্পগুলি পাঁচটি রাজ্যে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এগুলির জন্য ব্যয় হবে ৪০ হাজার কোটি টাকা।
পিএম শ্রী প্রকল্পের পর্যালোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যালয়-শিক্ষার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের চাহিদার কথা বিবেচনা করে এই প্রকল্পকে জাতীয় স্তরে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এক্ষেত্রে পরিকাঠামো-কেন্দ্রিক ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে ফলাফলের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি মুখ্য সচিবদের এই প্রকল্পে নজরদারি চালানোর পরামর্শ দেন। রাজ্য সরকার পরিচালিত অন্যান্য স্কুলগুলির কাছে পিএম শ্রী প্রকল্পের স্কুলগুলি যাতে আদর্শ হয়ে উঠতে পারে তা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানান তিনি। পিএম শ্রী স্কুলগুলির কাজের ধারার মূল্যায়নের জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের নিয়মিত পরিদর্শনের পরামর্শও দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত এক দশক ধরে প্রশাসনের ক্ষেত্রে ভারতে বিপুল পরিবর্তন নজরে আসছে। যখন সঠিক সময়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, সকলের মধ্যে সমন্বয় যথাযথভাবে বজায় থাকে এবং কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হয়, তখন সরকারের কাজকর্মে স্বাভাবিকভাবেই গতি বৃদ্ধি পায়। নাগরিকদের জীবনে এর ফলাফল প্রত্যক্ষভাবে এসে পড়ে।
‘প্রগতি’র সূচনা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি স্টেট ওয়াইড অ্যাটেনশন অন গ্রিভান্সেস বাই অ্যাপ্লিকেশন অফ টেকনোলজি বা স্বাগত নামের একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেন। প্রযুক্তি-নির্ভর এই উদ্যোগের মাধ্যমে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে, স্বচ্ছতার সঙ্গে, নির্দিষ্ট সময়ে জনসাধারণের বিভিন্ন অভিযোগের নিষ্পত্তি করা হয়।
সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কেন্দ্রে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বড় বড় প্রকল্প, বৃহৎ কর্মসূচি এবং নানা অভাব-অভিযোগের নিষ্পত্তির জন্য একটি সুসংহত প্ল্যাটফর্ম ‘প্রগতি’র সূচনা করেন। এখানে বিভিন্ন প্রকল্পের মূল্যায়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নজরদারি চালানো হয়।
কাজের গতি এবং তার প্রভাব
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ‘প্রগতি’ এমন এক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলেছে যার ফলে বিভিন্ন প্রকল্পে গতি এসেছে। ৮৫ লক্ষ কোটি টাকার নানা প্রকল্প বাস্তবায়নে সুফল পাওয়া গেছে। গুরুত্বপূর্ণ কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নে সুবিধা হয়েছে।
২০১৪ সাল থেকে ‘প্রগতি’র আওতায় ৩৭৭টি প্রকল্পের মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩,১৬২টি বিষয়কে শনাক্ত করে তার ৯৪ শতাংশ, অর্থাৎ ২,৯৫৮টি বিষয়ের সমাধান করা হয়েছে। ফলস্বরূপ, অহেতুক বিলম্ব, অতিরিক্ত ব্যয় এবং সমন্বয়ের অভাবের মতো সমস্যা দূর করা গেছে।
শ্রী মোদী বলেন, ভারত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। এর ফলে ‘প্রগতি’র প্রয়োজনীয়তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্কারে গতি আনতে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়নে ‘প্রগতি’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দীর্ঘদিনের বকেয়া প্রকল্প বাস্তবায়ন করা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সাল থেকে সরকার প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং দায়বদ্ধ থাকার জন্য এমন এক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলছে যেখানে নিয়মিতভাবে নজরদারি চালানো হয়। এর ফলে নির্দিষ্ট সময়ে এবং বাজেটে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। যে প্রকল্পগুলি বহু আগে শুরু হয়েছিল কিন্তু সেগুলির কাজ অসমাপ্ত থাকে, এমনকি মানুষ সেই প্রকল্পগুলি সম্পর্কে সব আশা ছেড়ে দেন, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে সেই প্রকল্পগুলিকে বাস্তবায়িত করা হয়েছে।
‘প্রগতি’র মাধ্যমে বিভিন্ন বকেয়া প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে অথবা সেই প্রকল্পগুলিকে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৯৭ সালে আসামের বোগিবিল রেল ও সড়ক সেতু; ১৯৯৫ সালে শুরু হওয়া জম্মু-উধমপুর-শ্রীনগর-বারামুল্লা রেল প্রকল্প; ১৯৯৭ সালে পরিকল্পনা গ্রহণের পর নভি মুম্বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর; ২০০৭ সালে ভিলাই ইস্পাত শিল্পের আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা এবং ২০০৮-০৯ সালে গাদারওয়ারা এবং লারা তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প। এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের ফলে উচ্চ পর্যায়ের সুস্থায়ীভাবে নজরদারি চালানো এবং আন্তঃসরকারি সমন্বয়ের গুরুত্বের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়।
একক উদ্যোগ থেকে টিম ইন্ডিয়া
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পগুলি একক উদ্যোগে বাস্তবায়িত হওয়ার প্রয়াস গ্রহণ করায় সেগুলি যথাযথভাবে কার্যকর হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে সমন্বয়ের অভাব নজরে এসেছে। ‘প্রগতি’ প্রত্যেক স্টেক হোল্ডারদের একটি অভিন্ন মঞ্চে নিয়ে আসার ফলে এগুলির বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে।
তিনি ‘প্রগতি’কে একটি সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর আদর্শ উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেন – যেখানে কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলি একটি অভিন্ন দল হিসেবে কাজ করছে। নানা সমস্যার সমাধানে মন্ত্রক ও দপ্তরগুলি একজোট হচ্ছে। ‘প্রগতি’ গঠনের পর কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকারগুলির প্রায় ৫০০ জন সচিব ও মুখ্য সচিব বিভিন্ন সময়ে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি তাঁদের যোগদানের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তাঁদের অঙ্গীকার এবং তৃণমূলস্তরে বোঝাপড়ার মাধ্যমে ‘প্রগতি’ প্রকৃত অর্থে সমস্যা সমাধানের একটি মঞ্চ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
শ্রী মোদী বলেন, জাতীয় গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন প্রকল্পে সরকার যথাযথ সম্পদ বরাদ্দ করেছে। সুস্থায়ীভাবে বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। তিনি পরিকল্পনা থেকে প্রকল্পের বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রত্যেক মন্ত্রক এবং রাজ্যকে আরও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে পরামর্শ দিয়েছেন। এর ফলে, প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে কম বিলম্ব হবে। এক্ষেত্রে টেন্ডার ডাকা থেকে প্রকল্পের কাজ শেষ করা পর্যন্ত – প্রতিটি ক্ষেত্রে সমন্বয় বজায় থাকবে।
সংস্কার, বাস্তবায়ন এবং পরিবর্তন
এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য একটি সুস্পষ্ট প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সংস্কারের মাধ্যমে সরলীকরণ, বাস্তবায়ন এবং পরিবর্তনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের প্রভাবের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
শ্রী মোদী বলেন, সংস্কারের অর্থ হল বিভিন্ন প্রক্রিয়ার যথাযথ প্রয়োগ যার মধ্য দিয়ে নানা সমস্যার সমাধান করা যায়। সহজ জীবনযাত্রা এবং সহজে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরিবেশ গড়ে তোলাও সংস্কারের কাজ।
বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক্ষেত্রে সময়, ব্যয় এবং গুণমানের ওপর সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। ‘প্রগতি’র মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। ভবিষ্যতে একে আরও কার্যকর করে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নাগরিকরা যখন নির্দিষ্ট সময়ে পরিষেবা পাবেন, বিভিন্ন অভিযোগের যখন দ্রুত সমাধান হবে এবং জীবনযাত্রার মান যখন আরও উন্নত হবে, তখনই পরিবর্তনের সুফল সকলের কাছে অনুভূত হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ে তোলা একটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত। নির্দিষ্ট সময়ে কোনো প্রকল্পের বাস্তবায়নে ‘প্রগতি’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রাজ্যগুলিকেও ‘প্রগতি’র মতো একটি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি। ‘প্রগতি’কে পরবর্তী স্তরে উন্নীত করতে প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
‘প্রগতি’র ৫০তম বৈঠকে তিনি বলেন, এটি অঙ্গীকারের প্রতিফলন। আগামীদিনগুলিতে ‘প্রগতি’কে আরও শক্তিশালী করতে হবে যার ফলে বিভিন্ন প্রকল্পের আরও দ্রুত বাস্তবায়ন, উন্নত গুণমান বজায় রাখা এবং নাগরিকদের কাছে প্রয়োজনীয় সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়।
ক্যাবিনেট সচিবের উপস্থাপনা
‘প্রগতি’র ৫০তম বৈঠকে ক্যাবিনেট সচিব বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘প্রগতি’র গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। ভারতের নজরদারি এবং সমন্বয়ের ব্যবস্থাপনায় কিভাবে পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে, সেই বিষয়টি উত্থাপন করে তিনি বলেন, এর ফলে আন্তঃমন্ত্রক এবং কেন্দ্র-রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় শক্তিশালী হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করার এক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। ফলস্বরূপ, বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা সুবিধাভোগী সকলের কাছে পৌঁছচ্ছে। জন-অভিযোগেরও দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে।
SC/CB/DM..
(रिलीज़ आईडी: 2210441)
आगंतुक पटल : 3