যেখানে সৃজনশীলতা মিলিত হয় প্রযুক্তির সঙ্গে: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গল্প বলা ও চলচ্চিত্রের নতুন যুগের প্রতিফলন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রূপান্তরমূলক সম্ভাবনা বিশ্লেষণে শেখর কাপুর ও Tricia Tuttle
কথোপকথন পর্বের কেন্দ্রবিন্দু ছিল উদ্ভাবন, শৈল্পিক অভিপ্রায় ও সিনেমার মানবিক অন্ত:সার
#IFFIWood, ২২ নভেম্বর ২০২৫
৫৬তম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (ইফি)-এ আয়োজিত ‘An Eurasian Festival Frontier: Do We Need to Redefine Cinema in the World of AI?’ শীর্ষক কথোপকথন পর্বে বিশ্ব চলচ্চিত্র উৎসব জগৎের দুই প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ফেস্টিভাল ডিরেক্টর Tricia Tuttle এবং ইফির ফেস্টিভাল ডিরেক্টর শেখর কাপুর, একত্রিত হয়েছিলেন। যদিও পর্বটি পরিচালনা করেন শেখর কাপুর, আলাপচারিতা এক প্রাণবন্ত, দ্বিমুখী কথোপকথনে পরিণত হয়, যেখানে উঠে আসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সৃজনশীলতা এবং চলচ্চিত্র উৎসবের ভবিষ্যতের জটিল ও সম্ভাবনাময় সংযোগরেখা।
পর্বের শুরুতে শেখর কাপুর উৎসবকে প্লাস্টিক বোতলমুক্ত করার উদ্যোগের প্রশংসা করেন। Tricia Tuttle আবেগঘনভাবে স্মরণ করেন ১৯৯৮ সালের একটি মুহূর্ত, একজন তরুণ চলচ্চিত্র-স্কুল স্নাতক হিসেবে তিনি শেখর কপুরের Elizabeth চলচ্চিত্র বিষয়ক মাস্টারক্লাসে উপস্থিত ছিলেন। “আজ মনে হচ্ছে যেন এক পূর্ণবৃত্তের মুহূর্ত,” তিনি বলেন, যা অতীতের অভিজ্ঞতার সঙ্গে ভবিষ্যতের সিনেমার সম্ভাবনাকে সুন্দরভাবে যুক্ত করে।
আলোচনার পুরোটা জুড়ে শেখর কাপুর জোর দিয়ে বলেন, যে কোনও প্রযুক্তির আগমন হোক, ডিজিটাল হোক বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চলচ্চিত্র টিকে থাকে কারণ মানবিক কল্পনাশক্তি টিকে থাকে। তাঁর ভাষায়, “শেষ পর্যন্ত স্রষ্টাই যেকোনও নতুন প্রযুক্তিকে পরিচালনা করে,” এবং কোনও প্রযুক্তি কখনই মানব-সৃজনশীলতার সীমা অতিক্রম করতে পারে না।
Tricia Tuttle প্রযুক্তিগত পরিবর্তনকে ঘিরে অতীতের দুশ্চিন্তা স্মরণ করেন, ডিজিটাল চলচ্চিত্র নির্মাণ আসার সময়েও অনেকে ভেবেছিলেন, সিনেমা হয়তো হারিয়ে যাবে। “কিন্তু যা টিকে থাকে তা হলো ভাবনা, কারিগরি, এবং মানবিকতা,” তিনি বলেন। শেখর কাপুর যোগ করেন - কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যতই উন্নত হোক, একজন মহান অভিনেতার চোখে যে সূক্ষ্ম আবেগের পরিবর্তন ধরা পড়ে, তা এআই কখনই বুঝতে পারে না। “AI doesn’t understand pupils,” তিনি মন্তব্য করেন, এবং ব্যাখ্যা করেন যে আবেগের সেই স্ফুলিঙ্গই দর্শককে গল্পের সঙ্গে যুক্ত করে।
শেখর কাপুর তাঁর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা-নির্মিত সিরিজ War Lord-এর একটি টিজারও শেয়ার করেন। নতুন এই সৃজনশীল হাতিয়ারগুলোকে স্বাগত জানালেও তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, প্রযুক্তি গল্পকারকে সংজ্ঞায়িত করে না; বরং গল্পকার প্রযুক্তিকে নতুন রূপ দেয়।
একপর্যায়ে তিনি হাস্যরসাত্মকভাবে বলেন, তার বাড়ির রাঁধুনি ChatGPT ব্যবহার করে Mr India 2-এর স্ক্রিপ্ট লিখে এনেছিলেন। “ও এত উৎসাহ নিয়ে এসেছিল,” শেখর কাপুর স্মিতহাস্যে বলেন, “আমি বুঝতেই পারছিলাম না আগে কী প্রশংসা করি, ওর রান্না, না স্ক্রিপ্ট!” ঘটনাটি প্রমাণ করে - সৃজনশীল প্রযুক্তির প্রবেশাধিকার কত সহজ হয়ে গেছে এবং কীভাবে এটি অপ্রত্যাশিত জায়গাতেও কল্পনাকে ক্ষমতায়িত করছে।
দুজনেই বলেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মধ্যেও চলচ্চিত্র একটি সামাজিক অভিজ্ঞতা হিসেবেই টিকে থাকে। শেখর কাপুর উদাহরণ দেন, “হোম ডেলিভারি থাকলেও মানুষ রেস্টুরেন্টে যায়” অর্থাৎ, সমষ্টিগত দর্শন-অভিজ্ঞতার বিকল্প নেই। Tricia Tuttle স্বাধীন ও সাহসী চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মতো স্থান রক্ষা করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন, যা চলচ্চিত্র উৎসবের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব।
কমতে থাকা ক্রু-সাইজ ও ফিল্ম সেটে ভবিষ্যতের শ্রম-সংকট নিয়েও আলোচনা ওঠে। Tuttle জানান, তাঁর ছেলে একসময় বলেছিল, সে পরিচালক বা লেখক নয়, ক্রু সদস্য হিসেবেই কাজ করতে চায়, কারণ সেটের অভিজ্ঞতা নিজেই এক শিক্ষা। শেখর কাপুর বলেন, তিনি ভয় পান “অ্যাকশন” বা “কাট” বলার ক্ষমতা হারানোর, কারণ মানবিক সম্পর্কের জাল বোনা হয় সেটেই, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কখনোই পুনর্গঠন করতে পারে না।
দর্শক-আলোচনায় রচনাচুরি, নৈতিকতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-এর শিল্প-স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে শেখর কাপুর দৃঢ়ভাবে বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জাদু নয়। এটা বিশৃঙ্খলা নয়। এটা পরিবর্তন। কিন্তু প্রকৃত গল্প বলা অপ্রত্যাশিত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভবিষ্যতের ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে না; এটি কেবল অতীতকে অনুকরণ করতে পারে।” তিনি আরও যোগ করেন, রচনাচুরি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থাকুক বা না থাকুক, সর্বদাই সৃজনশীল আলস্য থেকে আসে আর সত্যিকারের আবেগময় গল্প বলাই মানুষের স্বাক্ষর বহন করে।
পর্বটির সমাপ্তি হয় উভয় বক্তার এই অভিমত দিয়ে, সিনেমা বদলাবে, প্রযুক্তি বদলাবে, কিন্তু এর মূল, মানব কল্পনা, আবেগের সত্যতা, এবং গল্পের অটল শক্তি, চিরকাল টিকে থাকবে। অনুষ্ঠানের শেষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শ্রী প্রভাত দুই বক্তাকে সম্মাননা প্রদান করেন।
ইফি সম্পর্কে
১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ভারতীয় চলচ্চিত্র উৎসব দক্ষিণ এশিয়ার প্রাচীনতম ও বৃহত্তম চলচ্চিত্র উৎসব হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক, ভারত সরকার-এর অধীন ন্যাশনাল ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (NFDC) এবং গোয়া রাজ্য সরকারের এন্টারটেইনমেন্ট সোসাইটি অব গোয়া (ESG)-এর যৌথ আয়োজনে এই উৎসব আজ এক বিশ্বব্যাপী চলচ্চিত্রশিল্পের শক্তিকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে - যেখানে পুনরুদ্ধার করা ক্লাসিক চলচ্চিত্রের পাশে জায়গা পায় সাহসী নবীন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, এবং কিংবদন্তি নির্মাতাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিজেদের কাজ তুলে ধরেন প্রথমবারের শিল্পীরাও। ইফি-কে সত্যিকারের অনন্য করে তোলে তার বহুমাত্রিক বৈচিত্র্য - আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী, মাস্টারক্লাস, শ্রদ্ধাঞ্জলি, এবং প্রাণময় WAVES ফিল্ম বাজার, যেখানে ধারণা, অংশীদারি এবং সৃজনশীল সহযোগিতা উড়ে যায় নতুন দিগন্তে। গোয়ার মনোরম সমুদ্রতটকে পটভূমি করে ২০–২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ৫৬তম সংস্করণে প্রতিশ্রুত রয়েছে ভাষা, ধারা, উদ্ভাবন ও কণ্ঠস্বরের এক বর্ণময় সমাহার, বিশ্বমঞ্চে ভারতের সৃজনশীল দীপ্তির এক পূর্ণাঙ্গ উদ্যাপন।
বিশদ তথ্য জানতে এই লিঙ্কগুলি দেখুন –
IFFI Website: https://www.iffigoa.org/
PIB’s IFFI Microsite: https://www.pib.gov.in/iffi/56new/
PIB IFFIWood Broadcast Channel: https://whatsapp.com/channel/0029VaEiBaML2AU6gnzWOm3F
X Handles: @IFFIGoa, @PIB_India, @PIB_Panaji
SC/SS.
रिलीज़ आईडी:
2194615
| Visitor Counter:
24
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें:
Khasi
,
English
,
Urdu
,
Konkani
,
हिन्दी
,
Marathi
,
Assamese
,
Gujarati
,
Tamil
,
Telugu
,
Kannada
,
Malayalam