প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

জি-২০ ইউনিভার্সিটি কানেক্ট ফিনালে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

प्रविष्टि तिथि: 26 SEP 2023 8:45PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

 

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অধ্যাপক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং আমার তরুণ বন্ধুরা! আজ ভারত মন্ডপমে উপস্থিতদের চেয়েও বেশি মানুষ অনলাইনে আমাদের সাথে যুক্ত। আমি ‘জি-২০ ইউনিভার্সিটি কানেক্ট' এই অনুষ্ঠানে সকলকে স্বাগত জানাই এবং সকল তরুণদের অভিনন্দন জানাই।

বন্ধুরা,

দুই সপ্তাহ আগে, এই একই ভারত মন্ডপমে প্রচুর কর্মতৎপরতা ছিল। এই ভারত মন্ডপম একটি 'ঘটনাময়' স্থানে পরিণত হয়েছিল। এবং আমি আনন্দিত যে, আজ আমার ভবিষ্যতের ভারত সেই একই ভারত মন্ডপমে উপস্থিত। ভারত জি-২০ ইভেন্টকে যে উচ্চতায় নিয়ে গেছে, তা দেখে বিশ্ব সত্যিই বিস্মিত। কিন্তু আপনি জানেন, আমি মোটেও অবাক নই। সম্ভবত আপনি ভাবছেন যে, এর ব্যাপকতা সত্ত্বেও আমি কেন অবাক হই না? এর কারণ কী? আপনি কি জানেন কেন? কারণ আপনার মতো তরুণ শিক্ষার্থীরা যদি এই অনুষ্ঠানটিকে সফল করার দায়িত্ব নেয় এবং যুবসমাজ যদি এতে জড়িত হয়, তাহলে এটি সফল হবেই।

তোমাদের তরুণদের জন্যই, ভারত সবার নজর কেড়ে নিয়েছে। আর গত ৩০ দিনের দিকে তাকালেই কার্যকলাপের মাত্রা স্পষ্টভাবে দেখা যায়। 

আর যখন আমি ৩০ দিনের কথা বলি, তখন তোমরাও তোমাদের শেষ ৩০ দিন যোগ করতে থাকো। তোমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ দিনও যোগ করো। আমি তোমাদের গত ৩০ দিনের সংক্ষিপ্তসার জানাতে চাই। এখান থেকে তোমরা নতুন ভারতের গতি এবং মাত্রা উভয়ই জানতে পারবে।

বন্ধুরা,

তোমাদের সবার স্পষ্ট মনে আছে, ২৩ আগস্টের সেই দিনটি, যখন সকলের হৃদয় চঞ্চল হয়ে উঠছিল, সকলেই সবকিছু ভুলে গিয়েছিল এবং অভিযানের সাফল্যের জন্য প্রার্থনা করছিল এবং আশা করছিল যে কোনও ভুল যেন না ঘটে। 
আর হঠাৎ সবার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল; সমগ্র বিশ্ব ভারতের কণ্ঠস্বর শুনতে পেল - 'ভারত চাঁদে আছে'। ২৩ আগস্টের সেই তারিখটি আমাদের দেশে জাতীয় মহাকাশ দিবস হিসেবে চিরন্তন হয়ে আছে।  একদিকে আমাদের চন্দ্রযান ৩ লক্ষ কিলোমিটার ভ্রমণ করেছিল, অন্যদিকে ১৫ লক্ষ কিলোমিটার ভ্রমণ করবে।

বন্ধুরা,

গত ৩০ দিনে ভারতের কূটনীতি এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। জি-২০-এর আগে, দক্ষিণ আফ্রিকায় জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ভারতের প্রচেষ্টার ফলে, ছয়টি নতুন দেশ ব্রিকস-এ যোগ দিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার পরে, আমি গ্রীস সফর করেছি। চল্লিশ বছরের মধ্যে এটি ছিল কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর। 

বন্ধুরা, আজকের আন্তর্জাতিক পরিবেশে এত দেশকে এক মঞ্চে একত্রিত করা কোনও ছোট কাজ নয়।  আমাদের নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্রের বিষয়ে ১০০ শতাংশ একমত আন্তর্জাতিক শিরোনামে পরিণত হয়েছে।  জি-২০-তে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা একুশ শতকের পুরো দিক পরিবর্তন করার সম্ভাবনা রাখে। ভারতের উদ্যোগে আফ্রিকান ইউনিয়ন জি-২০-এর স্থায়ী সদস্য হিসেবে স্থান পেয়েছে। ভারত গ্লোবাল বায়োফুয়েল অ্যালায়েন্সেরও নেতৃত্ব দিয়েছে। জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনেই আমরা সবাই মিলে ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ করিডোর তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই করিডোর অনেক মহাদেশকে সংযুক্ত করবে। এটি আগামী শতাব্দী ধরে বাণিজ্য এবং পর্যটনকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

বন্ধুরা,

জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন শেষ হওয়ার পর, সৌদি আরবের যুবরাজ দিল্লিতে তাঁর রাষ্ট্রীয় সফর শুরু করেন। সৌদি আরব ভারতে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চলেছে। আর এই সব ঘটনা গত ৩০ দিনেই ঘটেছে। গত ৩০ দিনেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি মোট ৮৫ জন বিশ্বনেতার সাথে বৈঠক করেছি। 

বন্ধুরা,

আপনারা নিশ্চয়ই ভাবছেন যে, গত ৩০ দিনের রিপোর্ট কার্ড দেওয়ার সময়, আমি কি কেবল মহাকাশ বিজ্ঞান এবং বৈশ্বিক সম্পর্ক নিয়েই কথা বলব? আমি কি ৩০ দিনে এই কাজগুলোই করেছি? আসলে তা নয়। গত ৩০ দিনে, এসসি-এসটি-ওবিসি, দরিদ্র এবং মধ্যবিত্তদের ক্ষমতায়নের জন্য অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা জয়ন্তীতে, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা চালু করা হয়েছিল। 

রোজগার মেলা আয়োজনের মাধ্যমে, গত ৩০ দিনে ১ লক্ষেরও বেশি তরুণকে কেন্দ্রীয় সরকারে সরকারি চাকরি দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকে, ৬ লক্ষেরও বেশি যুবক-যুবতীকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে।

এই ৩০ দিনে, আপনারা নতুন সংসদ ভবনে দেশের প্রথম সংসদ অধিবেশনও দেখেছেন। দেশের নতুন সংসদ ভবনে প্রথম বিলটি পাস হয়েছে, যা সমগ্র দেশকে গর্বে ভরিয়ে দিয়েছে। নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়মের মাধ্যমে নারী-নেতৃত্বাধীন উন্নয়নের গুরুত্ব সংসদ আনন্দের সাথে গ্রহণ করেছে।

বন্ধুরা,

গত ৩০ দিনেই দেশে বৈদ্যুতিক গতিশীলতা সম্প্রসারণের জন্য আরেকটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমাদের সরকার ব্যাটারি শক্তি সঞ্চয় ব্যবস্থার ক্ষমতায়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদন করেছে। কয়েকদিন আগে, আমরা দ্বারকায় যশোভূমি আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেছি। খেলাধুলায় যুবসমাজকে আরও সুযোগ দেওয়ার জন্য, আমি বারাণসীতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি। দুই দিন আগে, আমি নয়টি বন্দে ভারত ট্রেনের সূচনা করেছি। 

এই ৩০ দিনে, পেট্রোকেমিক্যাল ক্ষেত্রে ভারতের স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির জন্য আমরা আরও একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছি। মধ্যপ্রদেশে অবস্থিত একটি শোধনাগারে একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সের শিলান্যাস করা হয়েছে। মধ্যপ্রদেশেই অচিরাচরিত জ্বালানি, আইটি পার্ক, একটি মেগা শিল্প পার্ক এবং ৬টি নতুন শিল্প এলাকার কাজ শুরু হয়েছে। আমি যে প্রকল্পগুলির তালিকা তৈরি করেছি সেগুলি সরাসরি যুবসমাজের দক্ষতা এবং যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির সাথে সম্পর্কিত। 

বন্ধুরা,

যুবসমাজ কেবল তখনই এগিয়ে যেতে পারে যেখানে আশাবাদ, সুযোগ এবং উন্মুক্ততা থাকবে। বন্ধুরা, আজ ভারত যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে ডানা মেলে ওড়ার জন্য আকাশ তোমাদের জন্য উন্মুক্ত। আমি তোমাদের এটাই বলতে চাই - বড় চিন্তা করো। এমন কিছু নেই যা তুমি অর্জন করতে পারবে না। এমন কোনও লক্ষ্য নেই যা অর্জনে দেশ তোমাকে সমর্থন করবে না। কোনও সুযোগকে হালকাভাবে নেবে না। বরং, সেই সুযোগকে একটি নতুন মানদণ্ডে পরিণত করার কথা ভাব। 

দেশের ৬০-টি শহরে জি-২০-এর ২০০-টিরও বেশি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জি-২০-এর কার্যক্রমে ১.৫ কোটিরও বেশি নাগরিক ভূমিকা নিয়েছেন।  টিয়ার-২ এবং টিয়ার-৩ শহরগুলি, যেখানে আগে কোনও আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়নি, সেগুলিও অপরিসীম শক্তি প্রদর্শন করেছে। এবং আজকের এই অনুষ্ঠানে জি-২০-এর জন্য আমি বিশেষভাবে আমাদের যুবসমাজকে প্রশংসা করতে চাই। ইউনিভার্সিটি কানেক্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে ১০০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১ লক্ষ শিক্ষার্থী জি-২০তে অংশগ্রহণ করেছে। সরকার স্কুল, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের ৫ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানোর জন্য জি-২০-কে এগিয়ে নিয়েছে।

বন্ধুরা,

আজ ভারত তার 'অমৃতকাল'-এ রয়েছে। এই অমৃতকাল তোমাদের মতো সোনালী প্রজন্মের। ২০৪৭ সালে আমরা দেশের স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্ণ করব। এটা আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হবে। ২০৪৭ সাল পর্যন্ত সময়কাল হলো সেই একই সময়, যখন তোমাদের মতো তরুণরা তোমাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে। অর্থাৎ আগামী ২৫ বছর তোমাদের জীবনে যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ততটাই গুরুত্বপূর্ণ দেশের জন্য। 

 খুব কম সময়ের মধ্যে, আমরা দশম বৃহত্তম অর্থনীতি থেকে পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছি। আজ ভারতের উপর বিশ্বের আস্থা অনেক বেশি, এবং ভারতে বিনিয়োগ রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে। আজ ভারতের উৎপাদন এবং পরিষেবা ক্ষেত্র নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আমাদের রপ্তানি নতুন রেকর্ড তৈরি করছে। মাত্র পাঁচ বছরে, ১৩.৫ কোটিরও বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার উপরে উঠে এসেছেন। এটি ভারতের নব্য-মধ্যবিত্ত শ্রেণীতে পরিণত হয়েছে।

 এই বছর পরিকাঠামোয় ১০ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে এবং বছরের পর বছর এই বিনিয়োগ বাড়ছে। একবার ভাবুন, এর ফলে আমাদের অর্থনীতিতে কত বড় প্রভাব পড়বে এবং কত নতুন সুযোগ তৈরি হবে!

বন্ধুরা,

এটা আপনাদের মতো তরুণদের জন্য সুযোগের সময়। ২০২০ সালের পর, প্রায় ৫ কোটি মানুষ ইপিএফও যোগদান করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৩.৫ কোটি মানুষ প্রথমবারের মতো ইপিএফও-র আওতায় এসেছেন এবং প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক চাকরি পেয়েছেন। এর অর্থ হল, ভারতে তোমাদের মতো তরুণদের জন্য আনুষ্ঠানিক চাকরির সুযোগ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

২০১৪ সালের আগে, আমাদের দেশে ১০০-এরও কম স্টার্টআপ ছিল। আজ তাদের সংখ্যা এক লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে। স্টার্টআপের এই ঢেউ অনেক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছে। আজ ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল প্রস্তুতকারক হয়ে উঠেছে। আজ আমরা মোবাইল ফোন রপ্তানিকারক হয়েছি। ফলস্বরূপ, প্রচুর সংখ্যক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। গত কয়েক বছরে প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। ২০১৪ সালের তুলনায় প্রতিরক্ষা রপ্তানি প্রায় ২৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যখন এত বড় পরিবর্তন আসে, তখন প্রতিরক্ষা পরিমণ্ডলের সমগ্র সরবরাহ শৃঙ্খলে বিপুল সংখ্যক নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়।

 দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সরকারের মুদ্রা প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সহায়তা পায়। আজ ৮ কোটি মানুষ প্রথমবারের মতো উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁদের নিজস্ব ব্যবসা শুরু করেছে। গত নয় বছরে ৫ লক্ষ কমন সার্ভিস সেন্টারও খোলা হয়েছে। এই প্রতিটি কেন্দ্রে ২ থেকে ৫ জন চাকরি পেয়েছে।

বন্ধুরা,

ভারতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নীতিগত স্বচ্ছতা এবং আমাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কারণেই এসব ঘটছে। গত নয় বছরে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা করা হয়েছে। 

বেশ কয়েকটি সংস্কার এবং ব্যবস্থা থেকে মধ্যস্বত্বভোগীদের নির্মূল করে একটি স্বচ্ছ ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। অসৎ লোকদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে এবং সততাকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে। আমি অবাক হয়েছি যে, আজকাল আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে মোদী মানুষকে জেলে পুরেছেন। আপনারা বলুন, যদি আপনারা দেশের সম্পদ চুরি করে থাকেন তবে আপনারা কোথায় থাকবেন? কোথায় থাকবেন? তাদেরকে খুঁজে বার করার পর কি জেলে পাঠানো উচিত নয়? 

বন্ধুরা,

উন্নয়নের যাত্রা অব্যাহত রাখার জন্য, পরিষ্কার, স্বচ্ছ এবং স্থিতিশীল শাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন, তাহলে ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্বনির্ভর দেশে পরিণত হতে কেউ আটকাতে পারবে না।

বন্ধুরা,

আমাদের আরও একটি বিষয় মনে রাখতে হবে। শুধু ভারতই নয়, সমগ্র বিশ্ব আপনাদের উপর আশা করছে। ভারত এবং তার যুব সমাজের সম্ভাবনা এবং কর্মক্ষমতা উভয়ই বিশ্ব জেনেছে। 

যখন আমি বিশ্বের মঞ্চে ভারতের উদ্দেশ্যকে দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হই, তখন আমার অনুপ্রেরণা আমার যুবসমাজ। অতএব, ভারতের যুবসমাজই আমার আসল শক্তি; আমার সম্পূর্ণ শক্তি এর মধ্যেই নিহিত। এবং আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি যে, আমি আপনাদের উন্নত ভবিষ্যতের জন্য দিনরাত কাজ করে যাব।

কিন্তু বন্ধুরা,

আপনাদের কাছ থেকেও আমার প্রত্যাশা আছে। আজ আমিও তোমাদের কাছ থেকে কিছু দাবি করতে চাই। বন্ধুরা, আমি আপনাদের নির্বাচনে আমাকে জয়ী করতে বলছি না। বন্ধুরা, আমি তোমাদের আমার দলে যোগ দিতেও বলব না।

বন্ধুরা,

আমার কোনও ব্যক্তিগত এজেন্ডা নেই; সব কিছুই দেশের, এবং দেশের জন্য। আর সেইজন্যই আজ আমি আপনাদের কাছ থেকে কিছু দাবি করছি। আমি দেশের জন্য এটা দাবি করছি। 

আমার আরেকটি অনুরোধ হলো ইউপিআই ডিজিটাল লেনদেন সম্পর্কিত। আজ সারা বিশ্ব ডিজিটাল ভারত এবং ইউপিআই-এর এত প্রশংসা করছে। এই গর্ব আপনাদেরও।

বন্ধুরা,

তোমাদের কাছে আমার তৃতীয় অনুরোধ হলো ভোকাল ফর লোকাল সম্পর্কে। বন্ধুরা, কেবল আপনারাই এটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।  কারণ, আপনাদের শক্তিতে আমার বিশ্বাস আছে। এটা উৎসবের সময়। উৎসবের সময় উপহার দেওয়ার জন্য আপনারা যা কিছু কিনবেন, তা যেন  'মেড ইন ইন্ডিয়া' হয়। বন্ধুরা, দয়া করে আপনার দৈনন্দিন জীবনে কেবল সেই জিনিস এবং পণ্য ব্যবহার করার উপর জোর দিন, যা ভারতীয় মাটিতে উৎপাদিত হয়েছে এবং ভারতীয় শ্রমিকদের ঘাম ঝরিয়ে তৈরি হয়েছে।

বন্ধুরা,

আমাদের ক্যাম্পাসগুলি ভোকাল ফর লোকালেরও প্রধান কেন্দ্র হতে পারে। আমাদের ক্যাম্পাসগুলি কেবল শিক্ষারই নয়, ফ্যাশনেরও কেন্দ্র। 
আপনার কি এটি পছন্দ হয়েছে? আমরা যখন কোনও নির্দিষ্ট দিন উদযাপন করি তখন কী হয়?

আপনার মতো সমস্ত তরুণদের মধ্যে এই শক্তি আছে। আপনি বাজার, ব্র্যান্ড, ডিজাইনারদের আপনার দিকে ফিরিয়ে আনতে প্রভাবিত করতে পারেন। কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনেক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড হয়। সেখানে, আমরা খাদি সম্পর্কিত ফ্যাশন শো আয়োজন করতে পারি।

আমার তরুণ বন্ধুরা,

আমাদের যুবসমাজ এবং আমাদের নতুন প্রজন্ম যদি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়, তাহলে আমরা অবশ্যই কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাব। আমি নিশ্চিত যে, আজই আপমরা এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে ভারত মণ্ডপম থেকে বেরোবেন। আর সংকল্প গ্রহণের মাধ্যমে আপনারা অবশ্যই আপনাদের এই ক্ষমতা প্রদর্শন করবেন।
 ১০০ বছর আগের কথা ভাবুন এবং ১৯১৯, ১৯২০, ১৯২২, ১৯২৩, ১৯২৫ সালের কথা কল্পনা করুন। সেই সময়ের যুবকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, দেশকে স্বাধীন করার জন্য তারা যা কিছু করতে হবে তা করবেন। তাঁরা যে পথই খুঁজে পাবেন, তা ব্যবহার করবেন। এবং সেই সময়ের যুবকরা তাদের যাত্রা শুরু করেছিল। তাঁরা তাদের বই আলমারিতে বন্ধ করে রেখেছিলেন, এবং তাঁরা জেলে যেতে পছন্দ করেছিলেন। তাঁরা ফাঁসি বরণ করতে পছন্দ করেছিলেন। 

বন্ধুরা,

আমার সাথে আসুন।  আমি আপনাদের সকলকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমাদের সামনে ২৫ বছর অপেক্ষা করছে। একশো বছর আগেও এমনটা হয়েছিল; আমরা একসময় স্বরাজের জন্য অভিযান চালিয়েছিলাম, কিন্তু এখন আমরা সমৃদ্ধির জন্য অভিযান চালিয়ে যাব। আমরা ২৫ বছরে দেশকে উন্নত করে তুলব। এর জন্য আমাকে যা-ই করতে হোক না কেন, আমি পিছপা হব না। বন্ধুরা, আত্মনির্ভর ভারত যেন সমৃদ্ধির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছয়। আত্মনির্ভর ভারত আত্মসম্মানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। আসুন আমরা সেই সংকল্প নিয়ে এগিয়ে চলি; আসুন আমরা একসাথে উন্নত ভারতের সংকল্প পূরণ করি; ২০৪৭ সালের মধ্যে আমাদের একটি উন্নত দেশ হওয়া উচিত। এবং তখন তোমরাও জীবনের সর্বোচ্চ স্থানে থাকবে। 

আমার সাথে বলুন - ভারত মাতা কি - জয়! আপনাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে বলুন - বন্ধুরা - ভারত মাতা কি - জয়, ভারত মাতা কি - জয়

অনেক ধন্যবাদ।

প্রধানমন্ত্রী মূল ভাষণটি দিয়েছেন হিন্দিতে। 


*****

SSS/MP/DM


(रिलीज़ आईडी: 2180816) आगंतुक पटल : 17
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: Assamese , Telugu , English , Gujarati , Urdu , Marathi , हिन्दी , Manipuri , Punjabi , Odia , Tamil , Kannada , Malayalam