প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
গুজরাটের কচ্ছে দেশের নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী
প্রকাশিত:
31 OCT 2024 7:00PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ৩১ অক্টোবর, ২০২৪
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ গুজরাটের কচ্ছের স্যার ক্রিক এলাকার লাক্কি নালায় ভারত-পাক সীমান্তের কাছে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (বিএসএফ), সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে উৎসব উদযাপনের ঐতিহ্য অব্যাহত রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রী ক্রিক এলাকার একটি বিওপি পরিদর্শন করেন এবং সাহসী নিরাপত্তা কর্মীদের মিষ্টি বিতরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে স্যার ক্রিকে দীপাবলি উদযাপন করতে পেরে সৌভাগ্যবান বলে মন্তব্য করে সকলকে এই উৎসবের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। শ্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন যে, ৫০০ বছর পর অযোধ্যার বিশাল মন্দিরে ভগবান রাম প্রতিষ্ঠার কারণে এই বছরের উদযাপন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী কেবল উপস্থিত সৈন্যদেরই নয়, সারা দেশের সকল সেনা সদস্যদেরও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতি সৈন্যদের সেবার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে তাদের কাজ করার কঠিন অবস্থার কথা স্বীকার করেন। তাদের সাহসিকতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে সৈন্যরা ভারতের শক্তি এবং নিরাপত্তার গ্যারান্টির প্রতিনিধিত্ব করে, যা প্রতিপক্ষের মধ্যে ভয় জাগিয়ে তোলে। তিনি বলেন,“যখন বিশ্ব আপনাদের দেখে, তখন তারা ভারতের শক্তি দেখে এবং যখন শত্রু আপনাদের দেখে, তখন তারা দুষ্ট উদ্দেশ্যের পরিণাম দেখে।,
প্রধানমন্ত্রী, ভারতবিরোধী হুমকির সম্মুখীন, কচ্ছের কৌশলগত অঞ্চল, বিশেষ করে এর উপকূলরেখা সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে নৌবাহিনীর ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।, শ্রী মোদী, ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় শত্রুকে দেওয়া উপযুক্ত জবাবের কথাও স্মরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, বর্তমান সরকার দেশের সীমান্ত রক্ষার প্রতি তার অঙ্গীকারে অটল। তিনি আরও বলেন “ বর্তমানে দেশে এমন একটি সরকার রয়েছে যারা দেশের সীমান্তের এক ইঞ্চিও আপস করতে পারে না। একটা সময় ছিল যখন কূটনীতির নামে ছলচাতুরির মাধ্যমে স্যার ক্রিক দখলের নীতি তৈরি করা হচ্ছিল। আমি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেশের পক্ষে আওয়াজ তুলেছিলাম এবং এই প্রথমবার আমি এই অঞ্চলে এসেছি না”, শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন যে, সরকারের বর্তমান নীতিগুলি সশস্ত্র বাহিনীর দৃঢ় সংকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শত্রুর কথার উপর নয়, বরং ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর দৃঢ় সংকল্পের উপর আস্থা রাখা হয়।
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতার উপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী একবিংশ শতাব্দীর চাহিদা পূরণের জন্য ভারতের সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকীকরণের জন্য সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন। সাম্প্রতিক অগ্রগতির মধ্যে রয়েছে ভদোদরায় একটি সি-২৯৫ বিমান কারখানার উদ্বোধন এবং বিমানবাহী রণতরী বিক্রান্ত, সাবমেরিন এবং তেজস যুদ্ধবিমানের মতো দেশীয় সামরিক সম্পদের উন্নয়নের কথা বলেন। ভারত প্রাথমিকভাবে আমদানিকারক দেশ থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের একটি উল্লেখযোগ্য রপ্তানিকারক দেশে রূপান্তরিত হচ্ছে, গত দশকে প্রতিরক্ষা রপ্তানি ত্রিশ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
সরকারের স্বনির্ভরতার দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নে সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার উপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমি দেশের নিরাপত্তা বাহিনীকে অভিনন্দন জানাই যে তারা ৫০০০ এরও বেশি সামরিক সরঞ্জামের একটি তালিকা তৈরি করেছে, যা তারা আর বিদেশ থেকে কিনবে না। এটি সামরিক ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর ভারত অভিযানকেও নতুন গতি দিয়েছে।"
আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন প্রযুক্তির তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, ড্রোনগুলি ঐতিহ্যবাহী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এর প্রতিক্রিয়ায়, ভারত ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে তার সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে, যার মধ্যে রয়েছে প্রিডেটর ড্রোন অধিগ্রহণ। ড্রোন ব্যবহারের জন্য একটি কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে ।
যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান প্রকৃতি এবং নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের উত্থানের কারণে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর তিনটি শাখার মধ্যে আরও ভালো একীকরণের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তিনি বলেন, এই একীকরণ তাদের সম্মিলিত কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বাহিনীকে শক্তিশালীকরণ এবং আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) প্রতিষ্ঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ । উপরন্তু, ইন্টিগ্রেটেড থিয়েটার কমান্ডের দিকে পদক্ষেপের লক্ষ্য তিনটি বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় এবং সহযোগিতা উন্নত করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সংকল্প হলো দেশ প্রথমে।, সীমান্ত পরিকাঠামোর উন্নয়ন দেশের অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার”। সীমান্ত সড়ক সংস্থার (বিআরও) কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে লাদাখ এবং অরুণাচল প্রদেশে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রুট সহ ৮০,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। গত দশকে, অটল এবং সেলা টানেলের মতো প্রধান টানেলের পাশাপাশি প্রায় ৪০০টি গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মিত হয়েছে, যা প্রত্যন্ত অঞ্চলে সবরকম -আবহাওয়ায় যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিকে দেশের "প্রথম গ্রাম" হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চল হিসেবে দেখার পরিবর্তিত দৃষ্টিভঙ্গি প্রধানমন্ত্রী ভাগ করে নিয়েছেন। "ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ স্কিমের" মাধ্যমে, এই অঞ্চলগুলিকে একটি গতিশীল এবং প্রাণবন্ত ভারতকে প্রতিফলিত করার জন্য উন্নত করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সীমান্ত পর্যটন এবং অর্থনৈতিকউন্নয়নের জন্য তাদের সম্ভাবনার উপর জোর দিয়ে অনেক সীমান্ত অঞ্চলের প্রাকৃতিক সুবিধাগুলি তুলে ধরেন। স্থানীয় জীবিকা এবং পরিবেশগত স্বাস্থ্য উন্নত করার জন্য সামুদ্রিক শৈবাল চাষ এবং ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধারের মতো উদ্যোগগুলিকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এটি দেশের পরিবেশের জন্য একটি অত্যন্ত সুবর্ণ সুযোগ। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে কচ্ছের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে যে ম্যানগ্রোভ বন তৈরি করা হবে তা পর্যটকদের আকর্ষণ করবে, যেমন ধোরদোর রণ উৎসব সমগ্র দেশ এবং বিশ্বকে আকর্ষণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী সীমান্ত পর্যটনের প্রচারের জন্য সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন, মন্ত্রীদের প্রাণোচ্ছল গ্রামগুলিতে সময় কাটাতে উৎসাহিত করে, নাগরিকদের মধ্যে এই অঞ্চলগুলির প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করে। তিনি পর্যটন গন্তব্য হিসেবে কচ্ছের সম্ভাবনার উপর জোর দেন, এর সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, আকর্ষণ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা উল্লেখ করেন। গুজরাটের কচ্ছ এবং খাম্বাত উপসাগরের তীরবর্তী ম্যানগ্রোভ বন এবং সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র এই ভূদৃশ্যের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মিষ্টি যোজনার মতো উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার এই ম্যানগ্রোভ বন সম্প্রসারণের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন।
ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান ধোলাভিরার তাৎপর্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি ভারতের প্রাচীন শক্তি এবং সিন্ধু সভ্যতার সংগঠিত বসতির প্রমাণ। কচ্ছের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক আকর্ষণের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গুজরাটে, সমুদ্র থেকে অল্প দূরে, লোথালের মতো বাণিজ্য কেন্দ্রগুলিও একসময় ভারতের সমৃদ্ধির অধ্যায় রচনা করেছিল। প্রধানমন্ত্রী নাদাবেতের মতো স্থানে সীমান্ত পর্যটনের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ কীভাবে জাতীয় ঐক্যকে উৎসাহিত করতে পারে। একইভাবে, কচ্ছ এবং অন্যান্য সীমান্তবর্তী অঞ্চলের উন্নয়ন সেখানকার জনগন এবং সেনা উভয়ের জীবনকে উন্নত করবে।
কচ্ছের নিরাপত্তা কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর ভাষণের শেষে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী দেশকে একটি মূর্ত চেতনার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সৈন্যদের ত্যাগ এবং কঠোর পরিশ্রমের কথা উল্লেখ করেন।
*******
SSS/PM/NS….
(রিলিজ আইডি: 2177958)
ভিজিটরের কাউন্টার : 39
এই রিলিজটি পড়তে পারেন:
Odia
,
English
,
Urdu
,
हिन्दी
,
Manipuri
,
Assamese
,
Punjabi
,
Gujarati
,
Tamil
,
Telugu
,
Kannada
,
Malayalam