স্বাস্থ্যওপরিবারকল্যাণমন্ত্রক

কোভিড-১৯ : অসত্য ও প্রকৃত তথ্য

Posted On: 03 FEB 2022 2:09PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২২
 
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের বেশ কিছু প্রতিবেদনে ভারতে ‘টিকাকরণে জালিয়াতি’র অভিযোগ তোলা হয়েছে এবং আরও দাবি করা হয়েছে যে, দুটি ডোজ না নিয়েও প্রতারণামূলকভাবে উভয় টিকা গ্রহণকারী হিসাবে সাধারণ মানুষের নাম নথিভুক্ত হচ্ছে। এই প্রতিবেদনগুলিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, টিকাদানের পরিসংখ্যানে কারচুপি করা হচ্ছে।
 
এর প্রেক্ষিতে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, সংবাদ মাধ্যমে এ ধরনের প্রতিবেদনগুলি বিভ্রান্তকর এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। 
 
প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলির শিরোনামও বিভ্রান্তকর। প্রতিবেদনের লেখকরা সম্ভবত সচেতন নন যে, স্বাস্থ্য কর্মীরাই কোউইন ব্যবস্থাপনায় টিকাদান পর্বের তথ্য দিয়ে থাকেন। প্রতিবেদনের লেখকদের দাবি যে, প্রত্যেক স্বাস্থ্য কর্মী অনিয়মিতভাবে এ ধরনের তথ্য কোউইনে দিচ্ছেন। বাস্তবে এই ধরনের প্রতিবেদনের লেখকের কোউইন – এ টিকাকরণ পর্বের তথ্য রেকর্ডিং প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই।
 
বিশ্বের মধ্যে ভারতেই সবচেয়ে বৃহৎ কোভিড টিকাকরণ পর্ব চলছে। কোউইন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শক্তিশালী প্রযুক্তি ব্যাকআপের সাহায্যে এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। গত এক বছরেরও বেশি সময় দেশে কোভিড টিকাদান অভিযান সফলভাবে চলছে। এমনকি, সমস্ত কোভিড টিকাপর্ব এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রেকর্ড করা হচ্ছে।
 
কোউইন ব্যবস্থাপনা হ’ল একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্ল্যাটফর্ম। দেশে মোবাইল ও ইন্টারনেটের সুবিধার সীমাবদ্ধতা এবং সমস্যার কথা মাথায় রেখে এটি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি যোগ্য ব্যক্তি শারীরিক, ডিজিটাল অথবা আর্থ-সামাজিক বাধা নির্বিশেষে কোউইনের সুবিধা যাতে গ্রহণ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা হয়েছে। 
 
টিকা দেওয়ার সময় প্রতারণা/ভুল তথ্য নথিভুক্ত রোধ করার জন্য বেশ কিছু স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর জারি করা হয়েছে। বলা হয়েছে, প্রতিটি টিকাদান দলের একজন করে তথ্য যাচাইকারী থাকবেন। যিনি টিকা নিতে আসা সুবিধাভোগীর পরিচয় যাচাই করবেন। কোউইনের সাহায্যে টিকা নেওয়ার জন্য একজন উপভোক্তাকে নথিভুক্ত করার আগে টিকাকরণ প্রক্রিয়ার নিম্নলিখিত ধাপ পার হতে হবে – 
 
ক) সময়সূচি – অনলাইন বা অনসাইট হতে পারে।
খ) যাচাই প্রক্রিয়া – শুধুমাত্র নির্ধারিত সুবিধাভোগী (অনলাইন বা অনসাইট) যাচাই প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে যেতে পারবেন। সেখানে সুবিধাভোগীর পরিচয় বিস্তারিতভাবে জানাতে হবে। 
গ) টিকাকরণ – সুবিধাভোগীর পরিচয় সফলভাবে যাচাই করার পর কেবলমাত্র তাঁকেই টিকা দেওয়া হবে। 
অনসাইটে নাম নথিভুক্তিকরণ এবং প্রথম ডোজ টিকা নেওয়ার জন্য – 
ক) প্রথম ডোজ বা অনসাইট নাম নথিভুক্তিকরণের জন্য আসা যে কোনও সুবিধাভোগীর তথ্য যাচাইয়ের সময় টিকাদানকারীকে সুবিধাভোগীর মোবাইল নম্বরে পাঠানো ওটিপি লিখতে হবে।
খ) আধার-ভিত্তিক প্রমাণপত্র যাচাই করার একটি বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে।
গ) অন্য সচিত্র পরিচয়পত্র প্রদান করা হলে টিকাদানকারীর কাছে সচিত্র পরিচয়পত্র প্রমাণের ছবি বিকল্প ব্যবস্থাও রয়েছে। 
অনসাইট দ্বিতীয় ডোজের জন্য –
ক) টিকাদানকারী/তথ্য যাচাইকারী কোউইনে নথিভুক্ত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে সুবিধাভোগীর প্রদত্ত বিশদ তথ্য, নাম, সুবিধাভোগীর আইডি ডেটাবেস থেকে যাচাই করতে পারবেন।
খ) সফলভাবে তথ্য যাচাইয়ের পর সুবিধাভোগীকে জন্মের তারিখ ও একটি গোপন কোড নম্বর প্রদান করা হবে, যা শুধুমাত্র সুবিধাভোগীর ড্যাশবোর্ডে দেখা যাবে এবং সুবিধাভোগীকে এসএমএস পাঠানো হবে। 
এসএমএস নোটিফিকেশনে সুবিধাভোগীকে যেগুলি পাঠানো হবে –
ক) অনলাইন/অনসাইটে নাম নথিভুক্তিকরণের সময়।
খ) দ্বিতীয় ডোজ/সতর্কতামূলক ডোজের টিকা দেওয়ার নির্ধারিত তারিখের তথ্য।
গ) টিকা নিশ্চিতকরণ।
ঘ) উপযুক্ত কারণ সহ টিকাকরণ বাতিল।
 
এই প্রক্রিয়াগুলির মাধ্যমে টিকাকরণ পর্ব সুনিশ্চিত হয়েছে। তবে, এমন কিছু ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে, টিকাদানকারী দল যদি এই স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর উপেক্ষা করে থাকে, তা হলে এটি সংশোধনের চেষ্টা চলছে। এমনকি, সুবিধাভোগীদের কোউইনে তাঁদের নথিভুক্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধন করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সুবিধাভোগী প্রয়োজনে নাম, বয়স, লিঙ্গ, সচিত্র পরিচয়পত্রের মতো ইত্যাদির বিবরণ পরিবর্তন করতে পারেন। 
 
এটি উল্লেখযোগ্য যে, সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি বিবৃতিও প্রকাশিত হইয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার টিকা জালিয়াতির ঘটনার বিষয় অস্বীকার করেছে। টিকা দেওয়ার সময় জালিয়াতি/ভুল তথ্য নথিভুক্ত রোধ করার জন্য স্ট্যান্ডার্ড অপেরেটিং প্রসিডিওর জারি করেছে বলেও জানানো হয়েছে। 
 
উল্লেখ্য, দেশব্যাপী কোভিড টিকাকরণ কর্মসূচির আওতায় এ পর্যন্ত ১৬৭ কোটিরও বেশি ডোজ দেওয়া হয়েছে। ৭৬ শতাংশেরও বেশি ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে যোগ্য ব্যক্তিরা উভয় ডোজ নিয়েছেন। 
 
 
CG/SS/SB


(Release ID: 1795226) Visitor Counter : 219