অর্থমন্ত্রক

২০২১-২২ আর্থিক সমীক্ষার সারাংশ

Posted On: 31 JAN 2022 3:11PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ৩১ জানুয়ারি, ২০২২

 

সর্বাঙ্গীন টিকারণ, সরবরাহ ক্ষেত্রে সংস্কার, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং মূলধনি ব্যয় ত্বারান্বিত করার জন্য আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ফলে ২০২২-২৩ সালে দেশে জিডিপি ৮.০-৮.৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে।

কেন্দ্রীয় অর্থ ও কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রী শ্রীমতী নির্মলা সীতারমন আজ সংসদে ২০২১-২২ সালের আর্থিক সমীক্ষা পেশ করেছেন। এই সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, আগামী বছরে বেসরকারি ক্ষেত্রে আরও বিনিয়োগ হবে, কারণ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পুনরুজ্জীবনে সহায়তা মেলায় দেশের আর্থিক ব্যবস্থা ভালো অবস্থায় রয়েছে। ২০২২-২৩ সালের জন্য এই বৃদ্ধির পূর্বাভাসটি এসংক্রান্ত ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে যে, আর কোনো মহামারী সম্পর্কিত আর্থিক ব্যঘাত ঘটবে না, বর্ষা স্বাভাবিক থাকবে, বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী আর্থিক অনুদান সুশৃঙ্খল হবে, তেলের দাম ব্যারেল পিছু ৭০ থেকে ৭৫ মার্কিন ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে এবং বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতিবন্ধকতাগুলি এবছরের মধ্যেই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

অর্থনৈতিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, উপরে উল্লেখিত পূর্বাভাসটি বিশ্বব্যাঙ্ক এবং এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাঙ্ক ২০২২-২৩ সালে যথাক্রমে জিডিপি বৃদ্ধির ৮.৫ শতাংশ ও ৭.৫ শতাংশের সাম্প্রতিক পূর্বাভাসের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। চলতি বছরের ২৫শে জানুয়ারি আইএমএফ-এর সর্বশেষ প্রকাশিত ওয়াল্ড ইকনোমি আউটলুক-এ বৃদ্ধির পূর্বাভাস অনুসারে দেশে ২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩ সালের জন্য প্রকৃত জিডিপি ৯ শতাংশ এবং ২০২৩-২৪ সালের জন্য ৭.১ শতাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ভারতকে তিন বছরে সমগ্র বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির দেশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

পূর্বের পূর্বাভাসে উদ্ধৃতি দিয়ে সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, ভারতীয় অর্থনীতি ২০২০-২১ সালে ৭.৩ শতাংশ থেকে ২০২১-২২ সালে ৯.২ শতাংশে বৃদ্ধি পাবে। এমনকি এও বলা হয়েছে যে, সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যকলাপ প্রাক-মহামারীর মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। প্রায় সমস্ত সূচকেই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, প্রথম ত্রৈমাসিকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের জেরে আর্থিক প্রভাব ২০২০-২১ সালে সমগ্র লকডাউন পর্বে প্রভাবের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। যদিও পুরো লকডাউনের সময় স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছিল।

সমীক্ষায় বলা হয়েছে, এই মহামারীর জেরে কৃষি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সামান্য প্রভাব পড়েছে। ২০২১-২২ সালে এই ক্ষেত্র ৩.৯ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগের বছরে এই হার ছিল ৩.৬ শতাংশ। খরিফ ও রবি ফসলের চাষের এলাকা এবং গম ও ধান উৎপাদন ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছরের খরিফ মরশুমে ১৫০.৫ মিলিয়ন টন রেকর্ড পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপাদনের অনুমান করা হয়েছে। ২০২১-২২ সালে কেন্দ্রীয় খাদ্য ভান্ডারগুলির অধীনে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের সাহায্যে খাদ্যশস্য সংগ্রহের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল মহামারী সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও কৃষকদের সময় মতো সার ও বীজ সরবরাহ করে কৃষি ক্ষেত্রে এই চমৎকার সাফল্যের জন্য সরকারের উল্লেখযোগ্য নীতিগুলি বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। ভালো বৃষ্টির জেরে কৃষি ক্ষেত্রে বিশেষ সাহায্য মিলেছে। জল সংগ্রহের স্থানগুলিতে গত ১০ বছরে গড়ে যে পরিমাণ সঞ্চয় হয়েছে, তার চেয়ে বেশি পরিমাণে জল সঞ্চয় রয়েছে।

সমীক্ষা অনুসারে, শিল্প ক্ষেত্রে একটি দ্রুত পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। একই ধরণের পরিবর্তন ঘটেছে উৎপাদন, নির্মাণ এবং খনি ক্ষেত্রে। দেশজুড়ে লকডাউনের সময় বিদ্যুৎ, জলসরবরাহের মতো মৌলিক পরিষেবাগুলি অব্যাহত ছিল। তাই পরিষেবা যোগ্য বিভাগগুলির প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি করে অনুভূত হয়েছে। গড় মূল্য সংযোজনে শিল্প ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের হার বর্তমানে ২৮.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, মহামারীতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেবামূলক ক্ষেত্র। মনে করা হচ্ছে চলতি অর্থ বছরে এক্ষেত্রে বৃদ্ধি ৮.২ শতাংশ হবে। গত বছর এই ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ছিল ৮.৪ শতাংশ। আর্থিক/ আবাসন এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রগুলি এখন প্রাক কোভিড স্তরের তুলনায় অনেক ভালো জায়গায় উঠে এসেছে। তবে, ভ্রমণ, বাণিজ্য এবং হোটেলের মতো ক্ষেত্রগুলি এখনও এর থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারেনি। সফটওয়ার ও তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত পরিষেবাগুলির রপ্তানি বৃদ্ধি পেলেও পর্যটন ক্ষেত্রের পতন ঘটেছে।

সমীক্ষা অনুসারে ২০২১-২২ সালে মোট খরচ ৭.০ শতাংশ বেড়েছে বলেও অনুমান করা হয়েছে এবং আগের বছরের মতোই এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি খরচ রয়েছে সরকারি খাতে। প্রাক-মহামারী মাত্রা ছাড়িয়ে সরকারি খরচ ৭.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হয়েছে। ব্যক্তিগত খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দ্রুত টিকাকরণ এবং আর্থিক কার্যকলাপ ক্রমশই স্বাভাবিক হওয়ার কারণে এটি আরও বৃদ্ধি পাবে।

সমীক্ষা অনুসারে গ্রস ফিক্সড ক্যাপিটাল ফরমেশন (জিএফসিএফ)-এর বিনিয়োগ ২০২১-২২ সালে ১৫ শতাংশের এক শক্তিশালী বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে এবং প্রাক-মহামারী স্তর থেকে পুরোপুরি পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে। যা গত ৭ বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে, তার তুলনায় ২০২১-২২ সালে জিডিপি-তে বিনিয়োগের অনুপাত বৃদ্ধি পেয়ে ২৯.৬ শতাংশে পৌঁছবে। যদিও বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ পুনরুদ্ধার এখনও খুব ধীর গতিতে চলছে। তবে, বেশ কয়েকটি সূচক থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, ভারত শক্তিশালী বিনিয়োগের পথে এগোচ্ছে। একটি স্থিতিশীল ও পরিচ্ছন্ন ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্র বেসরকারি বিনিয়োগে যথাযথ সহায়তা প্রদানের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।  

রপ্তানি ও আমদানি ক্ষেত্রের বিষয়ে সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, ২০২১-২২-এ পর্যাপ্ত পণ্য ও পরিষেবা উভয় ক্ষেত্রেই ভারতে রপ্তানি ব্যতিক্রমীভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। মহামারীর জেরে বিশ্বজুড়ে পণ্য সরবরাহ ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও দেশে ২০২১-২২ সালে টানা ৮ মাস পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের উপরে ছিল। পেশাদার এবং পরামর্শ পরিষেবা, টেলি যোগাযোগ, অডিও ভিজ্যুয়াল এবং সেই সংক্রান্ত পরিষেবা, কম্পিউটার ও তথ্য পরিষেবা পরিচালিত নেট পরিষেবার রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে। চাহিদার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে গেলে ভারতে মোট রপ্তানি ২০২১-২২ সালে প্রাক-মহামারীর মাত্রা ছাড়িয়ে ১৬.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদার পুনরুজ্জীবন এবং আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেল ও ধাতুর দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১-২২-এ আমদানি ২৯.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা প্রাক-মহামারী স্তরকে ছাড়িয়ে যাবে।

এছাড়াও সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশ্বব্যাপী মহামারীর জেরে উদ্ভূত সমস্ত বাধা সত্ত্বেও ভারতে অর্থপ্রদানের ভারসাম্য গত ২ বছরে উদ্বৃ্ত্ত ছিল। ২০২১ সালের ৩১শে ডিসেম্বর রিজার্ভ ব্যাঙ্কে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার ৬৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, উন্নত এবং উদীয়মান উভয় অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি একটি বিশ্বব্যাপী সমস্যা হিসেবে পুনরায় উঠে এসেছে। জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি, বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে আঘাত এবং ক্রমবর্ধমান পণ্যবাহী খরচ বেড়ে যাওয়ার ফলে বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে। দেশে উপভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) মুদ্রাস্ফীতি ২০২১-২২ (এপ্রিল-ডিসেম্বর) সালে কমে এসে দাঁড়িয়েছে ৫.২ শতাংশে, যা ২০২০-২১ সালে ছিল ৬.৬ শতাংশ। ২০২১-২২ সালে খুচরো মুদ্রাস্ফীতি হ্রাসের ক্ষেত্রে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হ্রাসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তবে, পাইকারি মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কে পৌঁছে গেছে।

সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, অর্থনীতির পাশাপাশি স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সমস্যা মোকাবিলায় আর্থিক সাহায্য ২০২০-২১ সালে রাজস্ব ঘাটতি এবং সরকারি ঋণ বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে যাই হোক, এখনও পর্যন্ত ২০২১-২২ সালে সরকারের রাজস্ব ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ২০২১ সালের এপ্রিল-নভেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের রাজস্ব প্রাপ্ত ৬৭.২ শতাংশ বেড়েছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উভয় কর সংগ্রহের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালের জুলাই থেকে ধারাবাহিকভাবে জিএসটি সংগ্রহের পরিমাণ ১ লক্ষ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে।

সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় সরকারের সুস্থায়ী রাজস্ব সংগ্রহ এবং একটি লক্ষ্যযুক্ত ব্যয় নীতির কারণে ২০২১ সালের এপ্রিল-নভেম্বর পর্যন্ত রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ ৪৬.২ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।  

সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, কঠিন সময়েও একাধিক চাপের মধ্যে আর্থিক ক্ষেত্র সবসময় সচল ছিল। ভারতে মূলধনি বাজারগুলি ব্যতিক্রমীভাবে ভালো ফল করেছে। ভারতীয় কোম্পানিগুলি ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতেও মূলধন বিনিয়োগ করেছে। সেনসেক্স এবং নিফটি ২০২১ সালের ১৮ই অক্টোবর যথাক্রমে ৬১ হাজার ৭৬৬ এবং ১৮ হাজার ৪৭৭-এ সর্বোচ্চ সীমায় ছুঁয়েছে। ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাগুলিও যথেষ্ট ভালো অবস্থায় রয়েছে। ২০১৮-১৯ সাল থেকে শিডিউল কমার্শিয়াল ব্যাঙ্কের নেট নন-পারফর্মিং অ্যাডভান্সের অনুপাত ক্রমশ হ্রাস পেয়েছে।

সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে যে, দেশে আর্থিক বিকাশের ক্ষেত্রে আরও একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হল চাহিদা ব্যবস্থাপনার উপর সম্পূর্ণ নির্ভরতার পরিবর্তে সরবরাহ ক্ষেত্রে সংস্কারের উপর জোর দেওয়া। এর সঙ্গে সরবরাহ ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত সরলীকরণ, নিয়ন্ত্রণ মুক্ত, পূর্ববর্তী কর লাঘব, বেসরকারিকরণ এবং উৎপাদন সংযুক্ত ক্ষেত্রে উৎসাহদান। সরকারের মূলধন ব্যয়ের দ্রুত বৃদ্ধিকে চাহিদা এবং সরবরাহ উভয় প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা যেতে পারে, কারণ এটি ভবিষ্যতে বৃদ্ধির জন্য পরিকাঠামোগত ক্ষমতা তৈরি করবে।

ভারতের সরবরাহ ক্ষেত্রের কৌশলের দুটি সাধারণ বিষয় রয়েছে। একটি হলো কোভিড পরবর্তী বিশ্বের দীর্ঘমেয়াদী অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় স্থিতিস্থাপকতা এবং উদ্ভাবনের উন্নতির মতো সংস্কার। এর মধ্যে রয়েছে বাজার সংস্কার, মহাকাশ, ড্রোন, এলিয়াল ম্যাপিং, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় সংস্কার, টেলিকম ক্ষেত্রে সংস্কার, পূর্ববর্তী কর বিলোপ, বেসরকারিকরণ ও নগদীকরণের উপর জোর দেওয়া ইত্যাদি। দ্বিতীয়টি হলো, ভারতীয় অর্থনীতির সামঞ্জস্যের উন্নতির লক্ষ্যে সংস্কার। এই ধরণের সংস্কারের মধ্যে জলবায়ু/ পরিবেশ সংক্রান্ত নীতি থেকে শুরু করে সামাজিক পরিকাঠামো যেমন নলবাহিত জল সরবরাহ, শৌচালয়, আবাসন নির্মাণ, দরিদ্রদের জন্য বীমা ইত্যাদি রয়েছে। আত্মনির্ভর ভারতের আওতায় প্রধান শিল্পগুলিকে সহায়তা দান, বৈদেশিক বাণিজ্য চুক্তির পারস্পরিক সম্পর্ক ইত্যাদির উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবার আর্থিক সমীক্ষায় আলোচনা করা হয়েছে, তা হল ‘প্রক্রিয়াগত সংস্কার’। নিয়ন্ত্রণমুক্ত এবং পদ্ধতিগত সংস্কারের মধ্যে পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমটি, একটি নির্দিষ্ট কার্যকলাপে সরকারের ভূমিকা হ্রাস বা বাদ দেওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। দ্বিতীয়টি, এই ধরণের কার্যকলাপগুলির প্রক্রিয়া সহজ করার সঙ্গে সম্পর্কিত। এর জন্য একজন সহকারী বা নিয়ন্ত্রক হিসেবে সরকারের উপস্থিতি প্রয়োজন।

সমীক্ষায় ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, গত দু বছরে কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে বিশ্ব অর্থনীতির খুব কঠিন অবস্থা ছিল। সংক্রমণের ঢেউয়ে সরবরাহ-শৃঙ্খলে বিঘ্নে ঘটেছে এবং বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি তৈরি হয়েছে। এই সঙ্কটের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ‘বারবেল কৌশল’ বেছে নিয়েছে, যা সমাজের দুর্বল অংশ এবং ব্যবসায়িক ক্ষেত্রের উপর প্রভাব কমানোর জন্য এক সুরক্ষা-জাল হিসেবে কাজ করেছে। এটি পরবর্তীতে স্বল্প মেয়াদী চাহিদা তৈরি করতে পরিকাঠামো ক্ষেত্রে মূলধন ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি দীর্ঘমেদায়ী সম্প্রসারণের জন্য অর্থনীতিকে সাবলম্বি করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, মহামারী ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে মুদ্রানীতিতে পেছন থেকে সাহায্য করা হয়েছে। অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ সংস্থাগুলিকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। গত দু বছরে সরকার শিল্প, পরিষেবা ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে প্রবণতা, অতি ক্ষুদ্র স্থিতিশীলতা সূচক এবং অন্যান্য কার্যকলাপের প্রতিনিধিত্বকারী ৮০টি হাই ফ্রিকোয়েন্সি ইন্ডিকেটর (এইচএফআই)-এর একটি অ্যারো ব্যবহার করেছে, যা সরকারি এবং বেসরকারি উভয় উৎস থেকে অর্থনীতির অন্তর্নিহিত অবস্থা পরিমাণ করতে সাহায্য করবে। এটি প্রকৃত বাস্তব সময় ভিত্তিক।

পরিশেষে সমীক্ষায় মোটের উপর আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে, সামগ্রিকভাবে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক স্থিতাবস্থার সূচক এই ইঙ্গিত করেছে, ২০২২-২৩ সালের সমস্যা মোকাবিলা করার জন্য ভারতীয় অর্থনীতি যথাযথ অবস্থায় রয়েছে। ভারতীয় অর্থনীতির এই ভালো অবস্থানে থাকার অন্যতম কারণ হল এর অনন্য কৌশল।

 

CG/SS/SKD/



(Release ID: 1793963) Visitor Counter : 7306