আয়ুষ
azadi ka amrit mahotsav

আয়ুষ ক্ষেত্রে পেটেন্টের আবেদনে আট গুণ বৃদ্ধি

প্রকাশিত: 16 OCT 2026 2:33PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি ১৬ অক্টোবর ২০২৬


গত এক দশকে ভারতে আয়ুষ-সম্পর্কিত উদ্ভাবন ও মেধাস্বত্ব-সংক্রান্ত কার্যকলাপের উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ ঘটেছে। একাদশ আয়ুর্বেদ দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে প্রকাশিত ‘ভারতে আয়ুষ-সম্পর্কিত উদ্ভাবনের প্রতিবেদন (২০১৪–২০২৬)’ অনুসারে, ২০১৪–১৫ থেকে ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের মধ্যে মোট ৪,০৭৭টি পেটেন্টের আবেদন জমা পড়েছে এবং ৭১১টি পেটেন্ট মঞ্জুর করা হয়েছে।
ভারত সরকারের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের শিল্প ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য প্রসার দপ্তরের অধীন পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কের নিয়ন্ত্রক জেনারেলের কার্যালয় প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত সময়কালে ভারতে আয়ুষ-সম্পর্কিত উদ্ভাবন এবং মেধাস্বত্ব-সংক্রান্ত কার্যকলাপের বিবর্তন ও অগ্রগতির একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
আয়ুষ মন্ত্রকের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী শ্রী প্রতাপরাও যাদব বলেছেন, “আয়ুষ-সম্পর্কিত পেটেন্টের আবেদন ও মঞ্জুরির সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি এই ক্ষেত্রে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং মেধাস্বত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব আরোপের প্রতিফলন। এমন একটি অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে ভারতের সমৃদ্ধ জ্ঞানভাণ্ডারের যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঐতিহ্যগত জ্ঞান, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও আধুনিক উদ্ভাবন সমন্বিতভাবে নতুন পণ্য, প্রযুক্তি এবং সমাধান উদ্ভাবনে অবদান রাখতে পারবে।”
আয়ুষ মন্ত্রকের সচিব বৈদ্য রাজেশ কোটেচা বলেন, “পেটেন্ট-সংক্রান্ত কার্যকলাপের ধারাবাহিক সম্প্রসারণ আয়ুষ ক্ষেত্রে গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্রমবর্ধমান ভিত্তিকে তুলে ধরে। ব্যক্তি, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ এবং শিল্পক্ষেত্রের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। এই অংশগ্রহণ গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে উদ্ভাবনী সমাধানে রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে। আয়ুষ ব্যবস্থার সর্বস্তরে প্রমাণভিত্তিক জ্ঞান সৃষ্টি, গবেষণায় সহযোগিতা এবং উদ্ভাবনের প্রসারে মন্ত্রক তার সহায়তা অব্যাহত রাখবে।”
প্রতিবেদনে পেটেন্ট-সংক্রান্ত কার্যকলাপের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে। ২০১৪–১৫ অর্থবর্ষে বার্ষিক পেটেন্ট আবেদনের সংখ্যা ছিল ৬৩, যা ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯০-তে। অর্থাৎ, এই সময়ে আবেদনের সংখ্যা প্রায় ৮৩৬.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২–২৩ অর্থবর্ষে পেটেন্ট আবেদনের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৬০৬-এ পৌঁছায়। একইভাবে, বার্ষিক পেটেন্ট মঞ্জুরির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে—২০১৫–১৬ অর্থবর্ষে মাত্র ৩টি থেকে বেড়ে ২০২৩–২৪ অর্থবর্ষে তা ২০৪টিতে পৌঁছেছে।
কোভিড-পরবর্তী সময়ে পেটেন্ট-সংক্রান্ত কার্যকলাপে  উল্লেখযোগ্য গতি সঞ্চারিত হয়েছে। ২০২০–২১ থেকে ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের মধ্যে মোট ২,৮৫৪টি পেটেন্টের আবেদন জমা পড়ে, যা সমগ্র সময়কালের মোট আবেদনের ৭০ শতাংশ। এর বিপরীতে, ২০১৪–১৫ থেকে ২০১৯–২০ অর্থবর্ষ পর্যন্ত আবেদন জমা পড়েছিল ১,২২৩টি। একইভাবে, কোভিড-পরবর্তী সময়ে মোট ৬৫৭টি পেটেন্ট মঞ্জুর করা হয়, যা সমগ্র সময়কালে মঞ্জুর হওয়া পেটেন্টের ৯২.৪ শতাংশ।
আবেদনকারীদের বৈচিত্র্য আয়ুষ ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান উদ্ভাবনী পরিমণ্ডলেরই প্রতিফলন। ব্যক্তিগত আবেদনকারীদের (প্রাকৃতিক ব্যক্তি) পক্ষ থেকে জমা পড়েছে ২,১১৩টি আবেদন, যা মোট আবেদনের ৫১.৯ শতাংশ; তাঁদের অনুকূলে মঞ্জুর হয়েছে ৩৯৮টি পেটেন্ট। অন্যদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি ৯৯৫টি আবেদন জমা দিয়েছে এবং ৮৮টি পেটেন্ট পেয়েছে। ব্যক্তিগত আবেদনকারী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—এই দুই শ্রেণি সম্মিলিতভাবে মোট পেটেন্ট আবেদনের ৭৬.৩ শতাংশের জন্য দায়ী। কর্পোরেট সংস্থা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে ৭০০টি আবেদন জমা পড়েছে এবং ১৭৬টি পেটেন্ট মঞ্জুর হয়েছে। এ ছাড়া, ক্ষুদ্র সংস্থা ও স্টার্টআপগুলির পক্ষ থেকে যথাক্রমে ১৪৪টি ও ১২৫টি পেটেন্টের আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
এই প্রতিবেদন আয়ুষ ব্যবস্থার মধ্যে গবেষণা, উদ্ভাবন, উদ্যোগশীলতা এবং মেধাস্বত্বের সুরক্ষার ক্রমবর্ধমান সমন্বয়ের বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। একই সঙ্গে, ব্যক্তিগত উদ্ভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা, স্টার্টআপ এবং শিল্পক্ষেত্রের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ এই ক্ষেত্রের উদ্ভাবনী সক্ষমতার বিকাশ ও প্রসারের ইঙ্গিত দেয়।

 


SC/SD/CS


(রিলিজ আইডি: 2324421) ভিজিটরের কাউন্টার : 2
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , Marathi , हिन्दी , Gujarati , Tamil , Malayalam