উপ-রাষ্ট্রপতিরসচিবালয়
azadi ka amrit mahotsav

নতুন দিল্লিতে পঞ্চম কৌটিল্য ইকোনমিক কনক্লেভে উদ্বোধনী ভাষণ দিলেন উপ-রাষ্ট্রপতি শ্রী সি. পি. রাধাকৃষ্ণন

প্রকাশিত: 03 OCT 2026 11:56AM by PIB Kolkata

 

নতুন দিল্লি, ৩ অক্টোবর ২০২৬

 

 

নতুন দিল্লিতে আয়োজিত পঞ্চম কৌটিল্য ইকোনমিক কনক্লেভে উদ্বোধনী ভাষণ দেন উপ-রাষ্ট্রপতি শ্রী সি. পি. রাধাকৃষ্ণন। ‘পরিবর্তনশীল যুগে স্থিতিস্থাপকতা’ মূলভাবনা নিয়ে আয়োজিত এই সম্মেলনে নীতি-নির্ধারক, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে ভাষণে তিনি বিশ্বজুড়ে দ্রুত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে স্থিতিস্থাপক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সাড়া-প্রদানকারী অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

 

‘ইনস্টিটিউট অফ ইকোনমিক গ্রোথ’ (আইইজি)-এর ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে উপ-রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৫২ সালে অধ্যাপক ভি. কে. আর. ভি. রাও-এর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই প্রতিষ্ঠানটি ভারতের উন্নয়ন যাত্রার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সঠিক নীতি-নির্ধারণের ভিত্তি হতে হবে বাস্তব পরিস্থিতির সঠিক উপলব্ধি। পাশাপাশি নীতিগুলোকে নমনীয় এবং পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মতো হতে হবে।

 

শ্রী সি. পি. রাধাকৃষ্ণন বলেন, পরিবর্তনশীল সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বসম্মত মতামতের (কনসেনসাস) প্রতিফলন থাকা জরুরি। তিনি বলেন, বিতর্ক ও আলোচনা গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও, শেষ পর্যন্ত তা সবার কাছে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি বলেন, অবাধ ও স্বচ্ছ বিতর্ক গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। অধিকার ও কর্তব্যের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা আবশ্যক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

উপ-রাষ্ট্রপতি বলেন, ভারত প্রমাণ করেছে যে গণতন্ত্র ও উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক হয়ে এগিয়ে যেতে পারে। গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যেই ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সর্বজনীন উন্নয়ন (ইনক্লুসিভ প্রগ্রেস) অর্জিত হয়েছে। পাশাপাশি সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে গৃহীত পদক্ষেপগুলো অর্থনৈতিক সংস্কারকে আরও দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই করে তুলেছে। তিনি বলেন, এই অভিজ্ঞতা ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

 

অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতাকে সামাজিক স্থিতিস্থাপকতা থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না - এ কথা উল্লেখ করে উপ-রাষ্ট্রপতি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, স্বচ্ছতা ও আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির প্রসারে ‘JAM ট্রিনিটি’ (জন-ধন, আধার ও মোবাইল), ‘ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ (সরাসরি সুবিধা হস্তান্তর) এবং জিএসটি -র রূপান্তরমূলক ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের অগাস্ট পর্যন্ত ৫৯ কোটিরও বেশি ‘জন-ধন’ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে এবং জিএসটি নিবন্ধনের সংখ্যা ২০১৭ সালের প্রায় ৬৬.৫ লক্ষ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের মে মাসে ১.৬৫ কোটি হয়েছে।

 

শ্রী সি. পি. রাধাকৃষ্ণন বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়ার লক্ষ্য কেবল মানুষকে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় আনাতেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে মূল্য ও আয় সৃষ্টির সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে এবং তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি ১০ কোটিরও বেশি গ্রামীণ মহিলাকে নিয়ে গঠিত প্রায় ৯২ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর অবদান এবং ৩ কোটি ৪৬ লক্ষেরও বেশি ‘লাখপতি দিদি’র উঠে আসার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিক্ষা ও অর্থনীতিতে মহিলাদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ ভারতের ‘নারী ক্ষমতায়ন’ থেকে ‘নারী-নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন’-এর পথে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টিকেই প্রতিফলিত করে।

 

উপ-রাষ্ট্রপতি জোর দিয়ে বলেন যে, সহনশীলতা বা ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা কেবল বোর্ডরুম বা আর্থিক বাজারের মধ্যেই গড়ে ওঠে না। তা তখনই গড়ে ওঠে যখন গ্রামের কোনো নারীর নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকে, তিনি সরাসরি সরকারি সুবিধা পান, আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির অংশ হন এবং কোনো স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করেন। তিনি জানান, ২৫ কোটিরও বেশি ভারতীয় চরম দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে এসেছেন। একে তিনি একটি ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারতের এই উন্নয়ন যাত্রায় প্রতিটি রাজ্য, জেলা ও গ্রামের সমান অংশীদার হওয়া প্রয়োজন।

 

গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে শ্রী সি. পি. রাধাকৃষ্ণন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, দিল্লি স্কুল অফ ইকোনমিক্স, লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স এবং ইনস্টিটিউট অফ ইকোনমিক গ্রোথ-এর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ভারতের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক কাজকর্মের পাশাপাশি এ ধরনের অংশীদারিত্ব গবেষণা, শিক্ষা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা-সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।

 

পরিশেষে উপ-রাষ্ট্রপতি বলেন, ভারতের ঘুরে দাঁড়ানোর বা টিকে থাকার শক্তি আসবে "পরিবর্তনকে প্রতিহত করার মধ্য দিয়ে নয়, বরং আত্মবিশ্বাস, সর্বজনীন অংশগ্রহণ এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মনোভাব নিয়ে তাকে গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে।" পঞ্চম 'কৌটিল্য ইকোনমিক কনক্লেভ'-এর আলোচনা ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত ভারত গড়ে তোলার জাতীয় প্রচেষ্টায় অর্থপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি দৃঢ় আশা ব্যক্ত করেন।

 

অনুষ্ঠানে আইইজি এর বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের সভাপতি শ্রী এন. কে. সিং, আইইজি-র বোর্ড অফ গভর্নরস-এর চেয়ারম্যান ড. মাইকেল দেবব্রত পাত্র এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

SC/PM/AS


(রিলিজ আইডি: 2318638) ভিজিটরের কাউন্টার : 2
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , हिन्दी , Marathi , Assamese , Gujarati , Tamil , Telugu , Malayalam