স্বাস্থ্যওপরিবারকল্যাণমন্ত্রক
জরায়ু মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে বড় মাইলফলক স্পর্শ, ভারতে ৮০ লক্ষ এইচপিভি টিকার ডোজ প্রদান
প্রকাশিত:
11 SEP 2026 2:12PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জরায়ু মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ অভিযানে ভারত এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘জাতীয় এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি’র শুরুর পর থেকে এখনও পর্যন্ত ৮০ লক্ষেরও (৮ মিলিয়ন) বেশি ডোজ হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) টিকা প্রদান করা হয়েছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘জাতীয় এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি’র সূচনা করেছিলেন। এই কর্মসূচির আওতায় সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের অভিভাবকদের সম্মতিক্রমে বিনামূল্যে এক ডোজ করে এইচপিভি টিকা প্রদান করা হয়।
ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল (আরজিআই)-এর ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ১.২ কোটি কিশোরী ১৪ বছর বয়সী জনসমষ্টিতে অন্তর্ভুক্ত হয়, যারা এই উদ্যোগের মাধ্যমে উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এইচপিভি টিকাদানের আওতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে; এর মধ্যে কয়েকটি রাজ্য তাদের চিহ্নিত লক্ষ্যমাত্রার জনগোষ্ঠীর মধ্যে একশো ভাগ টিকাদান সম্পন্ন করেছে।
গুজরাট, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ এবং মিজোরাম তাদের নিজ নিজ চিহ্নিত লক্ষ্যমাত্রার জনগোষ্ঠীর মধ্যে ১০০ শতাংশ টিকাদান সম্পন্ন করেছে। বিহার, অন্ধ্র প্রদেশ এবং আসাম ৯০ শতাংশের বেশি টিকাদানের হার অতিক্রম করেছে, যেখানে কর্নাটক ৮৫ শতাংশেরও বেশি টিকাদানে সাফল্য অর্জন করেছে। ছত্তিশগড়, সিকিম, কেরালা, তেলেঙ্গনা এবং ওড়িশা ৬০ শতাংশের বেশি কভারেজ অতিক্রম করেছে।
বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে উত্তর প্রদেশ সর্বাধিক সংখ্যক টিকাদানের রেকর্ড গড়েছে; এই কর্মসূচির আওতায় সেখানে ২২ লক্ষেরও বেশি কিশোরীকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
গ্রাম, শহর, প্রত্যন্ত এবং ভৌগোলিকভাবে দুর্গম এলাকা সহ বিভিন্ন স্থানে সরকারি স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে উপযুক্ত কিশোরীদের কাছে পৌঁছতে রাজ্যগুলি স্থানীয় পরিস্থিতির সাথে মানানসই কৌশল গ্রহণ করেছে।
মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাট তাদের চিহ্নিত লক্ষ্যমাত্রার একশো ভাগ কভারেজ অর্জন করেছে। আসাম এবং অন্যান্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির অগ্রগতিও ভৌগোলিকভাবে বৈচিত্র্যময় এলাকায় সেবা সম্প্রসারণে সমন্বিত কমিউনিটি স্বাস্থ্য নেটওয়ার্ক এবং ফিল্ড-স্তরের যৌথ কার্যক্রমের ভূমিকা তুলে ধরেছে।
শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ, স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ, এইমস-এর মত প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি শিক্ষক এবং আশা ও এএনএম-এর মত সামনের সারির স্বাস্থ্যকর্মীরা বিভিন্ন রাজ্য ও জেলায় সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছেন।
এই কর্মসূচিতে 'ইউ-উইন' প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভারতের ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকেও কাজে লাগানো হয়েছে।
এই জাতীয় কর্মসূচিটি এইচপিভি টিকাদান বিষয়ক ব্যাপক আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রূপায়িত করা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে ৮০ কোটিরও বেশি ডোজ এইচপিভি টিকা বিতরণ করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে মূলত উচ্চ-আয়ের দেশগুলিতে গৃহীত হলেও, এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি ধীরে ধীরে বিভিন্ন আয়ের দেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বর্তমানে, উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলির ৮৭ শতাংশ, নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলির ৭৮ শতাংশ এবং নিম্ন-আয়ের দেশগুলির ৫৪ শতাংশ তাদের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে এইচপিভি টিকাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী, সামনের সারির স্বাস্থ্যকর্মী এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করে চলেছে। এর লক্ষ্য হল, সচেতনতা বৃদ্ধি, টিকার প্রাপ্তি সহজতর করা এবং এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়নে সহায়তা করা।
৮০ লক্ষ ডোজ এইচপিভি টিকা প্রদানের এই সাফল্য ভারতের প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে জোরদার করার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে জরায়ু মুখের ক্যান্সার থেকে দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়াসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
SC/MP/NS….
(রিলিজ আইডি: 2309232)
ভিজিটরের কাউন্টার : 6