স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

তামিলনাড়ুর মহাবলীপুরমে দক্ষিণাঞ্চলীয় পরিষদের ৩১তম বৈঠকে সভাপতিত্ব করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায়মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ

प्रविष्टि तिथि: 20 AUG 2026 6:25PM by PIB Kolkata

দিল্লী, ২০ আগষ্ট, ২০২৬

 

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায়মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ তামিলনাড়ুর মহাবলীপুরমে দক্ষিণাঞ্চলীয় পরিষদের ৩১তম বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী শ্রী সি. জোসেফ বিজয়, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী চন্দ্রবাবু নাইডু, কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী ডি. কে. শিবকুমার, কেরলের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী ভি. ডি. সতীশন, পুদুচেরির লেফটেন্যান্ট গভর্নর শ্রী কে. কৈলাসনাথন, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের লেফটেন্যান্ট গভর্নর অ্যাডমিরাল (অবসরপ্রাপ্ত) ডি. কে. যোশী, লাক্ষাদ্বীপের প্রশাসক শ্রী প্রফুল পটেল এবং তেলেঙ্গানার উপমুখ্যমন্ত্রী শ্রী ভট্টি বিক্রমার্কা মল্লু উপস্থিত ছিলেন। রাজ্য সরকারগুলির মুখ্যসচিব, উপদেষ্টা ও অন্যান্য পদস্থ আধিকারিকদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

 

বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে দক্ষিণ ভারতের এই অঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, সাহিত্য, গবেষণা ও উন্নয়ন , মহাকাশ, তথ্যপ্রযুক্তি , কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা , শিল্পোন্নয়ন কিংবা কৃষি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই দক্ষিণ ভারত বরাবর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে এসেছে। দেশের তথ্যপ্রযুক্তি, অটোমোবাইল, ওষুধশিল্প এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রেই দক্ষিণ ভারত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সেই কারণেই দক্ষিণ ভারতে বিপুল পরিমাণ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে।

 

 

শ্রী অমিত শাহ বলেন, দক্ষিণ ভারতের সমগ্র উন্নয়নের যাত্রা তিনটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে—উচ্চ সাক্ষরতার হার, প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ এবং গভীর সমুদ্রের সম্পদ ব্যবহারে কারিগরি দক্ষতা। এই তিনটি স্তম্ভই দক্ষিণ ভারতকে দেশের উন্নয়নে সর্ববৃহৎ অবদানকারী অঞ্চলে পরিণত করেছে। দক্ষিণ ভারতের জনগণ এবং সরকারগুলি উদ্ভাবন ও রাজস্ব উৎপাদনের ক্ষেত্রেও বহু উৎকৃষ্ট ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠা করেছে। তিনি বলেন, এই দুটি ক্ষেত্রে সমগ্র ভারতেরই দক্ষিণ ভারতের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, গত সাত দশকে যা অর্জন করা সম্ভব হয়নি, তা আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে অর্জন করতে হবে; একমাত্র তাহলেই আমরা বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় নিজেদের স্থান সুরক্ষিত করতে সক্ষম হব। এই ধরনের উন্নয়ন অর্জনের জন্য দেশের প্রতিটি রাজ্যকে এতে অবদান রাখতে হবে।

 

শ্রী শাহ বলেন, ২০১৪ সাল থেকে জোনাল কাউন্সিলকে একটি অর্থবহ প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরিত করার জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। জোনাল কাউন্সিল মূলত একটি সাংবিধানিক ব্যবস্থা, যা দীর্ঘ সময় ধরে ধীরে ধীরে নিছক আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছিল।

 

 ২০০৪-২০১৪ এবং ২০১৪-২০২৬ সালের সময়কালের তুলনা করে তিনি বলেন, আগে বছরে গড়ে আড়াইটি করে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বর্তমানে প্রতি বছর ছয়টি করে বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি জানান, ২০১৪ সাল থেকে মোট ৭০টি জোনাল কাউন্সিলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকগুলিতে ১,৮৬৯টি বিষয়ের মধ্যে ১,৪৪৫টি বিষয়, অর্থাৎ প্রায় ৮০ শতাংশ, নিষ্পত্তি করা হয়েছে। শ্রী শাহ আরও বলেন, ৬০ বছর ধরে ঝুলে থাকা বহু সমস্যারও এই জোনাল কাউন্সিলের বৈঠকের মাধ্যমে সমাধান হয়েছে।

 

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, উত্তর ভারতে নদীর জল বণ্টন সংক্রান্ত আটটি সমস্যার মধ্যে পাঁচটি সমস্যা ব্রিটিশ-পূর্ব যুগ থেকে চলে আসছিল। পাঁচ মাস আগে এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। কাশ্মীর থেকে উত্তরপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ১০০ শতাংশ সমস্যার সমাধান করে এখন বিরোধমুক্ত উত্তর ভারত গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের অগ্রগতির প্রধান স্তম্ভ হল দক্ষিণের রাজ্যগুলি এবং দক্ষিণের রাজ্যগুলির উন্নয়ন জলসম্পদের ওপর নির্ভরশীল। কৃষি, শিল্প, সুস্থ নাগরিকজীবন এবং পরিবেশ—এই চারটি ক্ষেত্রেই জল হল এই অঞ্চলের প্রাণসত্তা।

 

শ্রী অমিত শাহ বলেন, নিজের রাজ্যের স্বার্থ রক্ষা করা কোনও ভুল নয়। কিন্তু স্বার্থ রক্ষার কারণে যদি বছরের পর বছর রাজ্যগুলি জল থেকে বঞ্চিত হয় এবং সেই জল শুধুই সমুদ্রে গিয়ে পড়ে, তাহলে প্রকৃতপক্ষে কোনও স্বার্থই রক্ষা হয় না। তিনি বলেন, ব্রহ্মপুত্র থেকে কাবেরী ও গোদাবরী পর্যন্ত প্রধান নদীগুলিকে সংযুক্ত করা গেলে আগামী ১০০ বছর ভারতকে জলসংকটের মুখোমুখি হতে হবে না। এই উদ্যোগের মাধ্যমে একাধিক জলপথও গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এর ফলে শুধু জ্বালানি সাশ্রয় ও পরিবেশের উন্নতিই হবে না, পাশাপাশি কম খরচে পরিবহণ ব্যবস্থাও গড়ে উঠবে।

 

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ দক্ষিণের রাজ্যগুলির সঙ্গে সম্পর্কিত দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত জলসংক্রান্ত সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, জলশক্তি মন্ত্রক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, আন্তঃরাজ্য পরিষদ এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির যৌথ বৈঠকের মাধ্যমে এই সমস্যাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। দক্ষিণের রাজ্যগুলি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই প্রস্তাবের সঙ্গে সহমত পোষণ করে এবং পারস্পরিক আলোচনা ও গঠনমূলক সমাধানের মাধ্যমে অমীমাংসিত জলবিরোধগুলি দ্রুত মেটাতে সম্মত হয়। অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানার মধ্যে সম্পদ ও দায়বদ্ধতা বণ্টন সংক্রান্ত বিষয়গুলির ক্ষেত্রে উভয় রাজ্যই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে পরামর্শ করে সমস্যাগুলি সমাধানে সম্মত হয়েছে।

 

শ্রী অমিত শাহ বলেন, মহিলা ও শিশুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলাগুলির দ্রুত তদন্ত এবং ফাস্ট ট্র্যাক স্পেশাল কোর্ট কার্যকর করার মাধ্যমে ধর্ষণ ও POCSO মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীদের স্তরে এই বিষয়গুলিকে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন ফৌজদারি আইন চালু হওয়ার পর সমগ্র প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করার জন্য আমাদের হাতে এখন অনেকগুলি কার্যকর উপায় রয়েছে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপুষ্টি, কম বৃদ্ধি (স্টান্টিং) এবং স্কুলছুটের হার আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্কুলছুটের হার মোকাবিলার ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশের কম সাফল্যে আমাদের সন্তুষ্ট হওয়া উচিত নয়। শ্রী শাহ বলেন, বর্তমানে সারা দেশে স্কুলছুটের হার ৯.৫ শতাংশ। সমস্ত রাজ্য যদি সামান্য সামান্য করেও উন্নতি করে, তাহলে এই হার ৩ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব। তিনি বলেন, জাতীয় স্তরে স্কুলছুটের হার ৩ শতাংশের নিচে নামলে শিশুরা শিক্ষিত নাগরিকে পরিণত হবে এবং দেশের তৃণমূল স্তর পর্যন্ত সংবিধানের মূল ভাবনাকে প্রকৃত অর্থে বাস্তবায়িত করার জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

 

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপুষ্টির বিষয়টির প্রতিও আমাদের বিশেষ নজর দিতে হবে। এক অর্থে, পুষ্টি সংক্রান্ত প্রকল্পগুলিও স্কুলছুটের হারের সঙ্গে যুক্ত। তিনি আরও বলেন, আমরা আরও একটি বিপজ্জনক সমস্যার দিকে এগিয়ে চলেছি—তা হল স্টান্টিং বা শারীরিক বৃদ্ধির ব্যাহত হওয়া। এটি ধীরে ধীরে একটি জাতীয় সমস্যায় পরিণত হচ্ছে, যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই অপুষ্টি ও স্টান্টিংকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। শ্রী শাহ বলেন, অপুষ্টির বিরুদ্ধে লড়াই তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশ শুরু করেছিল, যা পরবর্তীকালে সারা দেশে গ্রহণ করা হয়। এখন এই বিষয়টির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। স্বাধীনতার ৮০ বছর পরেও আমরা অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের বোঝা এই দেশের উপর চাপিয়ে রাখতে পারি না। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীদের স্তরে সংবেদনশীলতার সঙ্গে প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন করা হলে দেশকে এই সমস্যা থেকে মুক্ত করা সম্ভব। 

 

শ্রী শাহ বলেন, আজ মাদকমুক্ত ভারত গড়ে তোলা প্রতিটি সরকার ও আমাদের সমাজের জন্য অত্যন্ত জরুরি। ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি তিন বছরের রোডম্যাপ তৈরি করেছে, যেখানে কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরের ভূমিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত দপ্তর এবং প্রতিটি রাজ্য সরকারের সমস্ত দপ্তর এই আন্দোলনে যুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা আগামী প্রজন্মকে এই অভিশাপ থেকে রক্ষা করতে পারব না। তিনি বলেন, একটি শিক্ষিত ও সুস্থ ভারত গড়ে তোলার কাজে অবদান রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব।

 

SC/


(रिलीज़ आईडी: 2301811) आगंतुक पटल : 5
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , Urdu , Marathi , हिन्दी , Assamese , Gujarati , Tamil , Telugu , Kannada , Malayalam