PIB Backgrounder
ক্রীড়াপ্রেমী রাষ্ট্রের নির্মাণে
प्रविष्टि तिथि:
27 JUL 2026 5:01PM by PIB Kolkata
২৭ জুলাই ২০২৬
ক্রীড়াপ্রধান ভারতের চেতনা
২০২৬ সালের ২৩ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত গ্লাসগোতে কমনওয়েলথ গেমস পুনরারম্ভের সঙ্গে ভারতের ক্রীড়া যাত্রায় আরও একটি অধ্যায় শুরু হয়েছে। ১৯৩৪ সালে শুরু হওয়া ঐতিহ্যকে অব্যাহত রেখে এটি কমনওয়েলথ গেমসে (সিডব্লিউজি) ভারতের ১৯তম উপস্থিতি। ভারত্তোলক মীরাবাই চানু গ্লাসগোতে ভারতের সোনার পদকের খাতা খুলে ফেলেছেন, যা তাঁর টানা তৃতীয় খেতাব জয় সুনিশ্চিত করেছে।
এই ধরণের মুহূর্তগুলি কেবল পদকের চেয়েও বড় কিছু প্রকাশ করে। একটি জাতিকে রূপান্তরিত করার, ব্যক্তিদের গঠন করার এবং দেশগুলিকে বিশ্বমঞ্চে উন্নীত করার ক্ষেত্রে খেলাধুলার অপার ক্ষমতা রয়েছে। এটি নাগরিকদের চরিত্র ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করে এবং একই সঙ্গে একটি ক্রীড়া পরাশক্তি হিসেবে একটি জাতির আগমন ঘোষণা করে। মাঠের বিজয় বিপুল জাতীয় গৌরব বয়ে আনে, যেটি জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে। এই অংশীদারিত্বমূলক গৌরব একটি সুখী, স্বাস্থ্যকর এবং আরও সংহত সমাজ গঠনে সহায়তা করে।
ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ ক্রীড়া সম্পদ হল দেশের যুবসমাজ। জনসংখ্যার প্রায় ৬৫ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। এই বিপুল সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি জানিয়ে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রক যুব বিকাশকে শক্তিশালী করা এবং দেশজুড়ে ক্রীড়াক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্বকে উৎসাহিত করা অব্যাহত রেখেছে। কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ মন্ত্রকের জন্য রেকর্ড ৪,৪৭৯.৮৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা ২০১৩-১৪ সালে ছিল ১,২১৯ কোটি টাকা।
এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে খেলো ইন্ডিয়া কর্মসূচি, যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে আরও কয়েকটি প্রধান উদ্যোগ। তারা যৌথভাবে গ্রামীণ ও নগর ভারত জুড়ে গণ অংশগ্রহণ এবং ক্রীড়া শ্রেষ্ঠত্বকে উৎসাহিত করে। প্রতিটি স্তরে প্রতিভা চিহ্নিতকরণ, প্রশিক্ষণ প্রদান এবং প্রতিপালনের জন্য তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। এই প্রচেষ্টাগুলি বিশ্বের বৃহত্তম মঞ্চগুলিতে গর্বের সঙ্গে ভারতের পতাকা বহন করার জন্য প্রস্তুত একটি প্রজন্মকে গড়ে তুলছে।
খেলো ইন্ডিয়া দৃষ্টিভঙ্গি
ভারতীয় খেলাধুলার একটি শক্ত ভিত তৈরি করতে ২০১৭ সালে চালু হওয়া খেলো ইন্ডিয়া প্রকল্প তিনটি বিদ্যমান কর্মসূচিকে একত্রিত করেছে। এটি খেলাধুলার উন্নয়নের জন্য রাজীব গান্ধী খেল অভিযান, আরবান স্পোর্টস ইনফ্রাস্ট্রাকচার স্কিম এবং ন্যাশনাল স্পোর্টস ট্যালেন্ট সার্চ স্কিমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে যুক্ত করেছে।
ক্রীড়া ব্যবস্থার প্রতিটি পর্যায়কে শক্তিশালী করতে এই প্রকল্পটি একটি ব্যাপক পদ্ধতি অনুসরণ করে। এর পাঁচটি প্রধান স্তম্ভ হল:
১. প্রভাবশালী ক্রীড়াবিদদের চিহ্নিত করতে এবং পেশাদার শ্রেষ্ঠত্বের দিকে তাদের পরিচালিত করতে বিভিন্ন স্তরে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা।
২. ডেডিকেটেড ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে কোচ এবং সহায়তা কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
৩. ক্রীড়াবিদদের পারফরম্যান্স উন্নত করতে ক্রীড়া বিজ্ঞান এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারিত করা।
৪. একটি প্রাণস্পন্দিত ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে তুলতে এবং প্রতিযোগিতামূলক সুযোগ প্রদানের জন্য প্রতিযোগিতা ও লিগের আয়োজন করা।
৫. প্রশিক্ষণ এবং প্রতিযোগিতামূলক উভয় অনুষ্ঠানকে সমর্থন করার জন্য ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তোলা।
এই মিশনের দৃষ্টিভঙ্গি হলো রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রতিটি জেলায় একটি করে খেলো ইন্ডিয়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা। এটি ক্রীড়া বিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান এবং পুষ্টি দ্বারা সমর্থিত সুসংগঠিত অ্যাথলিট পথকেও উৎসাহিত করে। ডেটা চালিত প্ল্যাটফর্মগুলি রিয়েল-টাইমে ক্রীড়াবিদদের ট্র্যাকিং করতে সক্ষম করে। এই সমন্বিত পদ্ধতির লক্ষ্য হল, ২০৩৬ সালের মধ্যে ভারতকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়াপ্রধান দেশগুলির মধ্যে অন্যতম স্থান দেওয়া।
খেলো ইন্ডিয়া প্রকল্পের প্রধান সাফল্যগুলির মধ্যে রয়েছে (জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত):
৩,১৭৬ কোটি টাকার মোট বিনিয়োগে ৩৪৯টি নতুন ক্রীড়া পরিকাঠামো প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।
তৃণমূল স্তরে প্রশিক্ষণ এবং ক্রীড়াবিদদের সহায়তা জোরদার করতে ১,০৬৭টি খেলো ইন্ডিয়া সেন্টার (কেআইসি) স্থাপন করা হয়েছে।
বিভিন্ন বিভাগে ক্রীড়া প্রতিভাকে লালন-পালন করার জন্য ২৬৭টি একাডেমিকে সহায়তা করা হয়েছে।
কোচিং, সরঞ্জাম, চিকিৎসা সেবা এবং মাসিক পকেট অ্যালাউন্স সহ ২,৭৪৫ জন খেলো ইন্ডিয়া অ্যাথলিটকে (কেআইএ) সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
ধারাবাহিক বিনিয়োগ এবং একটি স্পষ্ট দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে, খেলো ইন্ডিয়া ভারতের জন্য চ্যাম্পিয়নদের একটি শক্তিশালী পাইপলাইন তৈরি করছে।
খেলো ইন্ডিয়া গেমস: ভবিষ্যৎ চ্যাম্পিয়নদের একটি মঞ্চ
২০১৮ সালে খেলো ইন্ডিয়া স্কুল গেমস চালুর মাধ্যমে খেলো ইন্ডিয়া আন্দোলন এক নতুন পর্বে প্রবেশ করে। নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই ইভেন্টটি সারাদেশের তরুণ ক্রীড়া প্রতিভাকে একটি মঞ্চে নিয়ে এসেছে।
পরের বছরের শেষের দিকে ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন এই উদ্যোগে যোগ দেয়। ২০১৯ সাল থেকে ইভেন্টটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় খেলো ইন্ডিয়া ইউথ গেমস (কেআইওয়াইজি)। এটি খেলো ইন্ডিয়ার অধীনে প্রধান প্রতিযোগিতা হিসাবে কাজ করে চলেছে।
বিভিন্ন বিভাগে ক্রীড়াবিদদের জন্য আরও সুযোগ তৈরি করতে খেলো ইন্ডিয়া গেমস ক্রমাগত সম্প্রসারিত হয়েছে। বার্ষিক প্রতিযোগিতাগুলি এখন তাদের রাজ্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রতিনিধিত্বকারী অংশগ্রহণকারীদের একত্রিত করে, যা তাদের প্রতিযোগিতা করতে, উৎকর্ষ অর্জন করতে এবং উচ্চ স্তরের জন্য প্রস্তুত হতে সাহায্য করে। ২০১৮ সাল থেকে ৬৩,০০০-এরও বেশি ক্রীড়াবিদ খেলো ইন্ডিয়া গেমসে অংশ নিয়েছেন।
খেলো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি গেমস (কেআইইউজি) এবং খেলো ইন্ডিয়া উইন্টার গেমস (কেআইডব্লিউজি) ২০২০ সালে চালু হয়েছিল। খেলো ইন্ডিয়া প্যারা গেমস (কেআইপিজি) ২০২৩ সালে শুরু হয়। ২০২৫ সালে খেলো ইন্ডিয়া বিচ গেমস (কেআইবিজি) এবং খেলো ইন্ডিয়া ওয়াটার স্পোর্টস ফেস্টিভ্যাল চালুর মাধ্যমে এই সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকে। খেলো ইন্ডিয়া ট্রাইবাল গেমস (কেআইটিজি) ২০২৬ সালে আত্মপ্রকাশ করে।
খেলো ইন্ডিয়া গেমস তরুণ ক্রীড়াবিদদের উৎকর্ষ সাধনে একটি জাতীয় মঞ্চ প্রদান করে ভারতের ক্রীড়া সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করা অব্যাহত রেখেছে।
ভারতের ক্রীড়া সাফল্যকে আর-ও সক্ষম করে তোলা
ক্রীড়ায় ভারতের উথ্থান পরিকাঠামো এবং প্রতিযোগিতার বাইরেও বিস্তৃত। বেশ কয়েকটি নির্দিষ্ট উদ্যোগ ক্রীড়াবিদদের উন্নয়নকে শক্তিশালী করে, উদীয়মান প্রতিভাকে চিহ্নিত করে এবং দীর্ঘমেয়াদী ক্রীড়া সক্ষমতা তৈরি করে। সম্মিলিতভাবে, এই প্রচেষ্টাগুলি তৃণমূল স্তরের অংশগ্রহণ থেকে বিশ্বব্যাপী সাফল্য পর্যন্ত একটি শক্তিশালী দিশা তৈরি করছে।
টার্গেট অলিম্পিক পডিয়াম স্কিম (টপস)
অলিম্পিক ও প্যারাঅলিম্পিক গেমসে ভারতের ফলাফলে আর-ও উন্নতিসাধন করতে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রক সেপ্টেম্বর ২০১৪-এ টার্গেট অলিম্পিক পোডিয়াম স্কিম (টপস/TOPS) চালু করেছিল। ক্রীড়াবিদদের সামগ্রিক সহায়তা প্রদানের জন্য একটি বিশেষ প্রযুক্তিগত সহায়তা দলের সঙ্গে ২০১৮ সালের এপ্রিলে প্রকল্পটি পুনর্গঠন করা হয়।
টপস বিদেশী প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, কোচিং ক্যাম্প, বিশেষ সরঞ্জাম এবং প্রতি মাসে ৫০,০০০ টাকার স্টাইপেন্ডের মাধ্যমে ক্রীড়াবিদদের সহায়তা করে। জুনিয়র ক্রীড়াবিদদের প্রতি মাসে ২৫,০০০ টাকার স্টাইপেন্ড প্রদান করে সহায়তা করার জন্য একটি ডেভেলপমেন্ট গ্রুপও চালু করা হয়েছিল।
২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এই প্রকল্পটি বর্তমানে ৫১ জন কোর অ্যাথলিট, ৫২ জন প্যারা কোর অ্যাথলিট এবং ১৩০ জন ডেভেলপমেন্ট অ্যাথলিটকে সহায়তা করে। টোকিও ২০২০ এবং প্যারিস ২০২৪ অলিম্পিক গেমসে ভারতের পদক জয়ের ক্ষেত্রে টপস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
কীর্তি (KIRTI)
খেলো ইন্ডিয়া রাইজিং ট্যালেন্ট আইডেন্টিফিকেশন (কীর্তি) উদ্যোগটি ৯ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিভাকে চিহ্নিত করে এবং লালন-পালন করে। এটি স্বচ্ছ এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচন নিশ্চিত করতে ট্যালেন্ট অ্যাসেসমেন্ট সেন্টার, স্ট্যান্ডার্ডাইজড অ্যাসেসমেন্ট প্রোটোকল এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও ডাটা অ্যানালিটিক্স-সহ উন্নত আইটি সরঞ্জাম ব্যবহার করে।
বর্তমানে তিনটি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জুড়ে ১৭৪টি ট্যালেন্ট অ্যাসেসমেন্ট সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে ১,৮৭,৯২১টি মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে। কীর্তির লক্ষ্য হলো ২০৩৬ সালের মধ্যে ভারতকে শীর্ষ ১০টি ক্রীড়াপ্রধান দেশের এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি ক্রীড়াপ্রধান দেশের একটিতে পরিণত হতে সাহায্য করার জন্য একটি সুস্থায়ী প্রতিভা ধারা তৈরি করা।
ক্রীড়া সামগ্রীর প্রস্তুতকরণ
কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের সঙ্গে ক্রীড়া সামগ্রী তৈরির জন্য একটি বিশেষ উদ্যোগের কথা ঘোষণা করা হয়। এই উদ্যোগের লক্ষ্য উচ্চমানের এবং সাশ্রয়ী মূল্যে ক্রীড়া সামগ্রীর বিশ্বব্যাপী হাব হিসাবে ভারতের অবস্থানকে শক্তিশালী করা।
এর মূল উদ্দেশ্যগুলির মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা, সরঞ্জামের নকশায় গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা, বস্তুগত বিজ্ঞানের উন্নতি ঘটানো, বিশ্বব্যাপী ক্রীড়া সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারতের উপস্থিতি শক্তিশালী করা এবং উৎপাদন ও সহযোগী ক্ষেত্র জুড়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
এই উদ্যোগগুলি ভারতের ক্রীড়া ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করছে এবং বিশ্বমঞ্চে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার জন্য ক্রীড়াবিদদের প্রস্তুত করছে।
বিশ্ব ক্রীড়া মঞ্চে ভারতের উত্থান
ভারতের ক্রীড়া ব্যবস্থায় করা বিনিয়োগ বিশ্বমঞ্চে সদর্থক সাঢড়া দিচ্ছে। প্রধান আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টগুলিতে ভারতের পারফরম্যান্স অলিম্পিক, প্যারাঅলিম্পিক এবং বহু-ক্রীড়া বিভাগে দেশের ক্রমবর্ধমান শক্তিকে প্রতিফলিত করে। শক্তিশালী ক্রীড়াবিদ উন্নয়ন, উন্নত প্রশিক্ষণ সহায়তা এবং ধারাবাহিক বিনিয়োগ বিশ্বমঞ্চে ধারাবাহিক উন্নতির রূপ নিয়েছে। অংশগ্রহণ এবং পদক সংখ্যায় ধারাবাহিক বৃদ্ধি একটি ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়াপ্রধান দেশ হিসাবে ভারতের উত্থানকে তুলে ধরে।
অলিম্পিক গেমস
২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ভারতের অলিম্পিক যাত্রা একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে। দেশটি রিও ২০১৬-এ দুটি পদক থেকে টোকিও ২০২০-এ সাতটিতে উন্নীত হয়েছে। ভারত প্যারিস ২০২৪-এ ছয়টি পদক নিয়ে এই গতি ধরে রেখেছে। নীরজ চোপড়া টোকিও ২০২০-এ ভারতের প্রথম অলিম্পিক অ্যাথলেটিক্স স্বর্ণপদক বিজয়ী হয়েছিলেন। মীরাবাই চানুও ভারতের সবচেয়ে ধারাবাহিক অলিম্পিক পদক বিজয়ীদের একজন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
| বছর | আয়োজক শহর | ভারতীয় ক্রীড়াবিদ | জেতা পদক |
| --- | --- | --- | --- |
| ২০১৬ | রিও ডি জেনিরো | ১১৭ | ২ |
| ২০২০ | টোকিও | ১১৯ | ৭ |
| ২০২৪ | প্যারিস | ১১৭ | ৬ |
প্যারাঅলিম্পিক গেমস
শেষ তিনটি সংস্করণে ভারতের প্যারাঅলিম্পিক পারফরম্যান্স অসাধারণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পদক সংখ্যা রিও ২০১৬-এর ৪টি থেকে টোকিও ২০২০-এ ১৯টিতে উন্নীত হয়েছে। প্যারিস ২০২৪ ২৯টি পদক নিয়ে ভারতের সর্বকালের সেরা প্যারা-অলিম্পিক প্রচারকে চিহ্নিত করেছে। অবনী লেখারা, সুমিত অ্যান্টিল এবং প্রমোদ ভগত দেশের সেরা পারফরমারদের মধ্যে ছিলেন। টপস এবং খেলো ইন্ডিয়া প্যারা গেমসের মতো কর্মসূচি প্যারা-ক্রীড়াবিদদের জন্য সহায়তা বৃদ্ধি করেছে।
বছর | আয়োজক শহর | ভারতীয় ক্রীড়াবিদ | জেতা পদক (স্বর্ণ | রৌপ্য | ব্রোঞ্জ)
--- | --- | --- | ---
২০১৬ | রিও ডি জ্যানেরো | ১৯ | ৪ (২ | ১ | ১)
২০২০ | টোকিও | ৫৪ | ১৯ (৫ | ৮ | ৬)
২০২৪ | প্যারিস | ৮৪ | ২৯ (৭ | ৯ | ১৩)
এশিয়ান গেমস
বৃহত্তর দল এবং শক্তিশালী পদক জয়ের প্রদর্শনের মাধ্যমে ভারত এশিয়ান গেমসে তার পারফরম্যান্স ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি করেছে। দেশটি ইনচন ২০১৪-এ ৫৭টি পদক জিতেছিল এবং জাকার্তা ২০১৮-এ ৬৯টিতে উন্নতি করেছিল। হাংঝৌ ২০২৩ একটি ল্যান্ডমার্ক সংস্করণ হয়ে উঠেছিল কারণ ভারত তার সর্বোচ্চ ১০৭টি পদক নথিভুক্ত করেছিল। নীরজ চোপড়া, লাভলিনা বরগোঁহাই, সাত্ত্বিকসাইরাজ রাঙ্কিরেড্ডি এবং চিরাগ শেঠি শীর্ষস্থানীয় অবদানকারীদের মধ্যে ছিলেন।
বছর | আয়োজক শহর | ভারতীয় ক্রীড়াবিদ | জেতা পদক (স্বর্ণ | রৌপ্য | ব্রোঞ্জ)
--- | --- | --- | ---
২০১৪ | ইনচন | ৫৪১ | ৫৭ (১১ | ৯ | ৩৭)
২০১৮ | জাকার্তা | ৫৭০ | ৬৯ (১৫ | ২৪ | ৩০)
২০২৩ | হাংঝৌ | ৬৫৫ | ১০৭ (২৮ | ৩৮ | ৪১)
কমনওয়েলথ গেমস
কমনওয়েলথ গেমসে ভারত অন্যতম সেরা পারফরমার হিসাবে রয়ে গিয়েছে। দেশ গ্লাসগো ২০১৪-এ ৬৪টি পদক জিতেছিল এবং গোল্ড কোস্ট ২০১৮-এ ৬৬টিতে উন্নতি করেছিল। ভারত বার্মিংহাম ২০২২-এ ৬১টি পদক সংগ্রহ করে। কুস্তি, ভারত্তোলন, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন এবং অ্যাথলেটিক্স ধারাবাহিকভাবে ভারতের সাফল্যে অবদান রেখেছে। পি ভি সিন্ধু, ভিনেশ ফোগাট এবং অচিন্ত্য শিউলি দেশের উল্লেখযোগ্য পারফরমারদের মধ্যে ছিলেন।
বছর | আয়োজক শহর | ভারতীয় ক্রীড়াবিদ | জেতা পদক (স্বর্ণ | রৌপ্য | ব্রোঞ্জ)
--- | --- | --- | ---
২০১৪ | গ্লাসগো | ২১৫ | ৬৪ (১৫ | ৩০ | ১৯)
২০১৮ | গোল্ড কোস্ট | ২১৮ | ৬৬ (২৬ | ২০ | ২০)
২০২২ | বার্মিংহাম | ২১০ | ৬১ (২২ | ১৬ | ২৩)
ভারতের বিশ্বব্যাপী সাফল্য এই দেশের ক্রীড়া ব্যবস্থার শক্তি এবং বিশ্বমঞ্চে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে ক্রীড়াবিদদের সংকল্পকে প্রতিফলিত করে।
কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬
কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬ গ্লাসগোতে ২৩ জুলাই থেকে ২ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গেমসটি চারটি স্থানে আয়োজিত ১০টি ক্রীড়া কর্মসূচিতে ৭৪টি দেশের ক্রীড়াবিদদের একত্রিত করেছে, যার মধ্যে ছয়টি পুরোপুরি সমন্বিত প্যারা স্পোর্টস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ভারতের পক্ষে ১২৪ সদস্যের একটি দল প্রতিনিধিত্ব করছে, যার মধ্যে ৭৮ জন পুরুষ এবং ৪৬ জন মহিলা ক্রীড়াবিদ রয়েছে। এই দলটি একাধিক ক্রীড়া বিভাগে দেশের ক্রমবর্ধমান গভীর প্রতিভাকে প্রতিফলিত করে।
২৭ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ভারত একটি সোনা, দুটি রূপো এবং একটি ব্রোঞ্জসহ চারটি পদক জিতেছে। প্যারা পাওয়ারলিফটিং-এ ব্রোঞ্জ জিতে ঝান্ডু কুমার ভারতের পদকের খাতা খোলেন। পুরুষদের ৬০ কেজি ভারোত্তোলন ইভেন্টে রূপো জেতার পর ঋষিকান্ত সিং প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধীহীন ভারতীয় পদক বিজয়ী হন। তিনি নতুন কমনওয়েলথ গেমস রেকর্ডও গড়েছেন।
মীরাবাই চানু গ্লাসগোতে ভারতের প্রথম স্বর্ণপদক জিতে আর একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত উপহার দেন। এই জয়টি তাঁর টানা তৃতীয় কমনওয়েলথ গেমস খেতাব চিহ্নিত করেছে। পুরুষদের ৬৫ কেজি ভারোত্তোলন ইভেন্টে রূপো জিতে মুথুপান্ডি রাজাও ভারতের পদক সংখ্যা বৃদ্ধি করেছেন।
এখনও বেশ কয়েকটি ইভেন্টের প্রতিযোগিতা বাকি থাকায় ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা সংকল্প এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছেন। গ্লাসগোতে তেরঙ্গা ওড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারত আরও স্মরণীয় পারফরম্যান্সের আশায় রয়েছে।
ক্রীড়া শ্রেষ্ঠত্বের সাধনা
ভারতের ক্রীড়া যাত্রার গতি ক্রমবর্ধমান। ধারাবাহিক বিনিয়োগ, শক্তিশালী সহায়তা ব্যবস্থা এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক ক্রীড়াবিদ্ উন্নয়নকল্পে
সাফল্যের প্রয়োজনে একটি স্থায়ী ভিত তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ এবং উন্নত পারফরম্যান্স এই প্রচেষ্টার প্রভাবকে প্রতিফলিত করে। কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬ এখনো চলছে। ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা সংকল্প এবং গর্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। প্রতিটি পারফরম্যান্স পরবর্তী প্রজন্মকে বড় স্বপ্ন দেখতে এবং উচ্চ লক্ষ্যে পৌঁছাতে অনুপ্রাণিত করে। ভারত ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর সঙ্গে সঙ্গে, চ্যাম্পিয়ন তৈরি করতে এবং বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়াপ্রধান দেশগুলির মধ্যে তার স্থানকে শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে।প
তথ্যসূত্র:
PIB Backgrounders:
Ministry of Youth Affairs and Sports
Ministry of Textiles
Commonwealth Sport:
The Making of a Sporting Nation
*******
SSS/PK/Kol...
(रिलीज़ आईडी: 2290289)
आगंतुक पटल : 7