পেট্রোলিয়ামওপ্রাকৃতিকগ্যাসমন্ত্রক
বৈজ্ঞানিক যাচাইয়ের ভিত্তিতে সরকার E20 পেট্রোলের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা পুনর্ব্যক্ত করেছে
प्रविष्टि तिथि:
23 JUL 2026 3:05PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি, ২৩ জুলাই ২০২৬
ইথানল-মিশ্রিত পেট্রোল কর্মসূচিটি এক পর্যায়ক্রমিক, বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষিত এবং পরামর্শ-ভিত্তিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় নীতি আয়োগ, অটোমোবাইল প্রস্তুতকারক সংস্থা, তেল বিপণনকারী সংস্থা, অটোমোটিভ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া, সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ পেট্রোলিয়াম এবং অন্যান্য কারিগরি প্রতিষ্ঠান যুক্ত ছিল।
ইথানল কোনো নতুন জ্বালানি নয়। বিশ্বজুড়ে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এর ব্যবহার হয়ে আসছে; ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশে কয়েক দশক ধরেই উচ্চমাত্রার ইথানল মিশ্রণ ব্যবহৃত হচ্ছে। ভারতে ২০০১ সালে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্পের মাধ্যমে ইথানল-মিশ্রিত পেট্রোল কর্মসূচি শুরু হয় এবং ২০০৬ সালে 'E5' (৫% ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল) চালু করা হয়। ২০১৩-১৪ সালে মিশ্রণের হার ১.৫৩%-এর কাছাকাছি থাকলেও, পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় উৎপাদন ক্ষমতা, পরিকাঠামো এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির মাধ্যমে ধাপে ধাপে এই হার বৃদ্ধি করা হয়েছে।
জ্বালানি দক্ষতা, ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং সামগ্রিক ড্রাইভিং অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে E20 পেট্রোল ব্যবহারের বিষয়ে সরকার যানবাহন প্রস্তুতকারক, অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন বা ভোক্তা সংগঠনগুলোর কাছ থেকে কোনো ব্যাপক বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পায়নি। তবে, গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলা উদ্বেগের বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে এবং সেগুলো বৈজ্ঞানিকভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছে।
ARAI, SIAM, IOCL, IIP এবং অটোমোবাইল প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির ব্যাপক গবেষণাগার-ভিত্তিক ও হাতেকলমে পরীক্ষায় ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব, গাড়ি চালানোর সুবিধা, ইঞ্জিন চালু হওয়ার ক্ষমতা, ক্ষয় প্রতিরোধ ক্ষমতা, যন্ত্রাংশের উপযোগিতা, নির্গমন এবং জ্বালানি দক্ষতার মতো বিষয়গুলি যাচাই করা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী E20 ব্যবহার নিরাপদ।
এই গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, পুরনো মডেলের গাড়িগুলিতেও E20 ব্যবহারের ফলে কার্যক্ষমতায় কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন বা অস্বাভাবিক ক্ষয়ক্ষতি পরিলক্ষিত হয়নি।
সরকারের এই মূল্যায়ন কেবল গবেষণাগারের গবেষণার ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং দেশব্যাপী বাস্তবায়নের পরবর্তী বিশাল পরিসরের অভিজ্ঞতার ওপরও প্রতিষ্ঠিত। ভারতে প্রতিদিন প্রায় ৮ কোটি যানবাহন খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে আসে (যার মধ্যে প্রায় ৮০%-ই পেট্রোলচালিত যানবাহন)। E15+ মিশ্রিত পেট্রোল সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে এবং E19-E20 জ্বালানি আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০ কোটিরও বেশি দু-চাকার যান এবং ৩ কোটিরও বেশি পেট্রোল চালিত গাড়ি এই মিশ্রণগুলো ব্যবহার করে চলছে; অথচ ইথানল মিশ্রণের কারণে ইঞ্জিন বিকল হওয়া বা গাড়ি অচল হয়ে পড়ার মতো কোনো প্রমাণিত ঘটনা বা ব্যাপক সমস্যা দেখা যায়নি। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সার্ভিস ডেটা বা রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করে যে, E20 জ্বালানির কারণে গাড়িতে কোনো অস্বাভাবিক ক্ষয়, যন্ত্রাংশের ক্ষয় বা গাড়ির আয়ুষ্কাল কমে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেনি। প্রস্তুতকারকরা E20 জ্বালানি ব্যবহারকারী গাড়ির ক্ষেত্রেও ওয়ারেন্টি বা গ্যারান্টি সংক্রান্ত দায়বদ্ধতা বজায় রাখছেন, যা এর নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতার প্রতি আস্থা আরও বাড়িয়েছে।
একটি শীর্ষস্থানীয় গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২.৮৪ কোটি গাড়ির সার্ভিসিং বা রক্ষণাবেক্ষণ করেছে - এর মধ্যে প্রায় ১.৫ কোটি গাড়ি E20 ব্যবহারের জন্য প্রত্যয়িত ছিল না – কিন্তু তা সত্বেও E20-জনিত কোনো ক্ষয়, অস্বাভাবিক ক্ষয় বা যন্ত্রাংশের আয়ুষ্কাল কমে যাওয়ার মতো কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। দু-চাকার যান প্রস্তুতকারী একটি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে। একটি গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি জানিয়েছে যে, দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা ১.৪ কোটি E20-চালিত গাড়ির তথ্যে ইথানল-জনিত ক্ষয়ের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মাইলেজ বা জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়ে সরকারি সংস্থা ও গাড়ি প্রস্তুতকারকদের গবেষণায় দেখা গেছে যে, জ্বালানি দক্ষতা বেশ কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে; যেমন - গাড়ি চালানোর পরিস্থিতি, চালকের অভ্যাস এবং গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ। E10-এর জন্য তৈরি কিছু গাড়ির ক্ষেত্রে জ্বালানি সাশ্রয় বা মাইলেজ সামান্য কমলেও তা সাধারণত ৩-৫%-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে; অন্যদিকে E20 উচ্চতর অকটেন রেটিং, উন্নত অ্যান্টি-নক বৈশিষ্ট্য, পরিচ্ছন্ন দহন এবং ইঞ্জিনের মসৃণ কার্যক্ষমতা প্রদান করে।
গাড়ি প্রস্তুতকারক, যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী, SIAM, ARAI, টেস্টিং এজেন্সি এবং তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলি E20-এর বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন ও পর্যায়ক্রমিক প্রচলনের প্রতিটি ধাপের সাথে যুক্ত ছিল। জ্বালানি ব্যবস্থা, ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব, গাড়ি চালানোর সুবিধা, যন্ত্রাংশের উপযোগিতা এবং নির্গমন বা নিঃসরণ সংক্রান্ত কার্যকারিতা সফলভাবে যাচাই করার পরেই E20 বাজারে ছাড়া হয়েছিল। গবেষণায় আরও প্রমাণিত হয়েছে যে, পুরনো মডেলের গাড়িগুলোর কার্যক্ষমতায় কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন বা অস্বাভাবিক ক্ষয়-ক্ষতি E20 ব্যবহারের কারণে দেখা যায় না।
SIAM এবং ARAI-এর মতে, E20 গাড়ির গতিবৃদ্ধি ও চালানোর উপযোগিতা উন্নত করে এবং একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ কমায়। ইথানলের উচ্চ অকটেন সংখ্যা আধুনিক উচ্চ-কম্প্রেশন ইঞ্জিনকে সহায়তা করে এবং এর উচ্চ বাষ্পীভবন তাপ দহন দক্ষতা বাড়ায়।
E20 জ্বালানিতে রূপান্তর উল্লেখযোগ্য জাতীয় সুবিধাও বয়ে এনেছে। 'ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল কর্মসূচি'র মাধ্যমে ১.৯৭ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়েছে, প্রায় ৩১৬ লক্ষ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেলের ব্যবহার এড়ানো গেছে, প্রায় ৯৫২ লক্ষ মেট্রিক টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমন হ্রাস পেয়েছে এবং কৃষকদের হাতে ১.৬৬ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অর্থ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
এছাড়া, তেল বিপণন সংস্থাগুলি জ্বালানি সংগ্রহ, মিশ্রণ, সংরক্ষণ, পরিবহণ এবং খুচরা বিক্রয় বা বিতরণের ক্ষেত্রে কঠোর 'স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর' বা কার্যপদ্ধতি মেনে চলে। ডিস্টিলারি, ডিপো এবং খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র - প্রতিটি পর্যায়েই জ্বালানির গুণমান পরীক্ষা করা হয়। ভেজাল শনাক্ত করতে এবং ভোক্তাদের কাছে শুধুমাত্র নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী জ্বালানি পৌঁছানো নিশ্চিত করতে, প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তেল বিপণন সংস্থাগুলি খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রগুলিতে ৩০,০০০-এরও বেশি গুণমান পরীক্ষা (গত ১০-২০ দিনের মধ্যে) চালিয়েছে। জ্বালানিতে ভেজালের যেকোনো ঘটনার বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' বা কঠোর অবস্থান গ্রহণের জন্য রাজ্য সরকারগুলির কাছেও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত্ব তেল বিপণন সংস্থাগুলি উপভোক্তাদের অভিযোগ ও পরামর্শ গ্রহণ, তদন্ত এবং সমাধানের জন্য একটি শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে; এর মধ্যে E20 জ্বালানি সংক্রান্ত বিষয়গুলিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উপভোক্তারা বিভিন্ন অফলাইন ও অনলাইন মাধ্যমের সাহায্যে তাদের অভিযোগ জানাতে পারেন, যেমন - খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রে থাকা অভিযোগ/পরামর্শ রেজিস্টার, নির্দিষ্ট টোল-ফ্রি কাস্টমার কেয়ার নম্বর, কোম্পানির ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ, কাস্টমার রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, ই-মেইল এবং 'সেন্ট্রালাইজড পাবলিক গ্রিভেন্স রিড্রেস অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেম'।
উপভোক্তাদের সচেতন করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে তাদের জানানো হচ্ছে, কোনো সমস্যা ছাড়াই সমস্ত পেট্রোল চালিত গাড়িতে E20 জ্বালানি ব্যবহার করা সম্ভব এবং ইথানল মিশ্রণের ফলে পরিবেশগত ও জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কী কী সুবিধা পাওয়া যায়।
আজ লোকসভায় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস প্রতিমন্ত্রী শ্রী সুরেশ গোপী এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে এই তথ্য জানিয়েছেন।
SC/SD/AS
(रिलीज़ आईडी: 2288455)
आगंतुक पटल : 11