স্বাস্থ্যওপরিবারকল্যাণমন্ত্রক
ভারতের ব্রিকস অধ্যক্ষতা ২০২৬-এর অধীনে সফলভাবে সম্পন্ন হল ১৬ তম ব্রিকস স্বাস্থ্য মন্ত্রীদের বৈঠক
प्रविष्टि तिथि:
23 JUL 2026 3:02PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি, ২৩ জুলাই, ২০২৬
আজ চণ্ডীগড়ে ভারতের ব্রিকস অধ্যক্ষতা ২০২৬-এর অধীনে ১৬ তম ব্রিকস স্বাস্থ্য মন্ত্রীদের বৈঠক সম্পন্ন হল সফলভাবে। একই ধরনের জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকারের রূপায়ণ এবং সহনশীল বিশ্ব স্বাস্থ্য কাঠামোকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির স্বাস্থ্য মন্ত্রী, প্রতিনিধি দলের নেতা, শীর্ষ স্থানীয় আধিকারিক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ।
থিম ছিল “বিল্ডিং ফর রেজিলিয়েন্স, ইনোভেশন, কোঅপারেশন অ্যান্ড সাসটেনেবিলিটি”। স্বাস্থ্যের প্রধান প্রধান সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি, উদ্ভাবনের প্রসার, অতিমারীর জন্য প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং সুস্থায়ী সহযোগিতার মাধ্যমে সর্বজনীন স্বাস্থ্য আওতাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া নিয়ে আলোচনা করতে সদস্য দেশগুলিকে একটি মঞ্চ দিল এই বৈঠক।
ভার্চুয়াল মাধ্যমে ১৬ তম ব্রিকস স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী শ্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা সকলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সদস্যদেশগুলির সক্রিয় অংশগ্রহণ থেকে প্রমাণিত হচ্ছে গ্লোবাল সাউথে সহযোগিতা বৃদ্ধির মঞ্চ হিসেবে ব্রিকসের অক্ষয় শক্তি।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বে ভারত মানবকেন্দ্রিক নেতৃত্বে তার স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থাকে জোরদার করতে রূপান্তরকারী সংস্কার করেছে, স্বাস্থ্য পরিষেবার আওতা বাড়িয়েছে। ডিজিটাল গণপরিকাঠামো বৃদ্ধি করেছে এবং পরিষেবা প্রদান ব্যবস্থার উন্নতি করেছে।” তিনি মনে করেন যে, ভারতের অভিজ্ঞতা এই বিশ্বাসই দৃঢ় করেছে যে, সহনশীল জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং সুষম স্বাস্থ্য পরিষেবা সবদেশে সুস্থায়ী উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
গত দু-দশকে ব্রিকসের বিবর্তন তুলে ধরে শ্রী নাড্ডা বলেন, যে এই গোষ্ঠী গ্লোবাল সাউথের পরিচিত কণ্ঠ হিসেবে উঠে এসেছে। আরও বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সুষম আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে রূপ দিতে ক্রমবর্ধমান প্রভাবশালী মঞ্চ হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, সংক্রামক ব্যাধি, অসংক্রামক ব্যাধির বাড়বাড়ন্ত, জলবায়ু সংক্রান্ত স্বাস্থ্যের ঝুঁকি এবং প্রযুক্তির অগ্রগতির জন্য প্রয়োজন আরও গভীর বহুমুখী সহযোগিতা এবং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব।
ভারতের অধ্যক্ষতায় থিমটির উল্লেখ করে জোর দিয়ে বলেন যে, বিশ্ব স্বাস্থ্যের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সহনশীল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গঠনের ওপর, যা আগামী দিনের জনস্বাস্থ্য সমস্যার পূর্বানুমান এবং তদনুযায়ী তার মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।
ভারতের চিরন্তন এক বাণী “সর্বে ভবন্তু সুখিনঃ। সর্বে সন্তু নিরাময়াঃ।।” উদ্ধৃত করে শ্রী নাড্ডা বলেন, জনস্বাস্থ্যের মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র ব্যাধির চিকিৎসা নয়, ব্যাধির প্রতিরোধ এবং সার্বিক সুস্থতা।
ভারতের ব্রিকস অধ্যক্ষতায় স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রাধিকারগুলি তুলে দরে শ্রী নাড্ডা বলেন, সারা বিশ্বে যত যক্ষ্মা রোগী আছেন, তার অর্ধেক আছেন ব্রিকস ভুক্ত দেশগুলিতে। সেই জন্য ব্রিকসের টিভি নিয়ে গবেষণার নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করার লাগাতার প্রচেষ্টায় বাড়বে যৌথ গবেষণা, উদ্ভাবন, কার্যকরী গবেষণা এবং নতুন রোগ নির্ণয় পদ্ধতি এবং টিকায় সকলের অধিকার, তাহলে বিশ্বে যক্ষ্মা দূরীকরণ প্রয়াস উল্লেখযোগ্যভাবে সফল হবে।
ব্রিকস মেডিকেল প্রোডাক্টস রেগুলেটরি অথরিটিগুলির মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির গুরুত্বকে তুলে ধরেন তিনি এবং ব্রিকসের জিএক্সপি শ্বেতপত্রকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, নিয়ামক, উৎকর্ষ, ঐক্যবদ্ধতা, সক্ষমতা বর্ধন, মেডিকেল পণ্যের গুণমান, সুরক্ষা, কার্যকারিতা সুনিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আগামী দিনের জরুরি স্বাস্থ্য সংক্রন্ত সমস্যার জন্য প্রস্তুত থাকার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী ব্রিকস ইন্টিগ্রেটেড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম ফর প্রিভেনশন অ্যান্ড রেসপন্স টু মাস ইনফেকশাস ডিজিজেস সংক্রান্ত সাব ওয়ার্কিং গ্রুপ এবং কার্যাবলি গ্রহণকে স্বাগত জানান। একে তিনি আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে বর্ণনা করেন।
স্বাস্থ্য পরিষেবায় ডিজিটাল প্রযুক্তির রূপান্তরকারী ভূমিকাকে তুলে ধরে শ্রী নাড্ডা বলেন, আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশন, আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির এবং ই-সঞ্জীবনী টেলিমেডিসিন প্ল্যাটফর্মের অভিজ্ঞতা থেকে ভারত দেখেছে স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানের গণতন্ত্রীকরণ, দূরবর্তী এবং পরিষেবাহীন অঞ্চল সহ সমস্ত অঞ্চলে পরিষেবা পৌঁছে দিতে ডিজিটাল গণকাঠামোর প্রভূত সম্ভাবনা আছে।
ব্রিকস কম্পেনডিয়াম অন ডিজিটাল হেলথ আর্কিটেকচার ফর কন্টিনিউয়াম অফ কেয়ার ইনক্লুডিং অ্যাক্সেস টু হেলথ কেয়ার ইন রিমোট এরিয়াজ প্রকাশকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতার সহায়ক হিসেবে সেরা ব্যবস্থার আদান প্রদানে এবং পারস্পরিক শিখনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান ভাণ্ডার। সুস্থ জীবনশৈলীর জন্য ব্রিকসের লক্ষ্যের পাশাপাশি ২০২৬ থেকে ২০২৯ –এর মধ্যে স্বাস্থ্যকর জীবনশৈলী প্রসারে যৌথ উদ্যোগের জন্য, ব্রিকসের পথ মানচিত্রের সূচনাকে স্বাগত জানান তিনি। এতে বলা হয়েছে, ব্রিকস দেশগুলিতে স্বাস্থ্যকর পথ্য, নিয়মিত শরীর চর্চা, চিরাচরিত খাদ্য সংস্কৃতির সংরক্ষণ এবং প্রমাণ ভিত্তিক ব্যবহারিক পরিবর্তনের প্রসার।
বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ মানসিক স্বাস্থ্য, একথাকে স্বীকৃতি জানিয়ে শ্রী নাড্ডা ব্রিকস নেটওয়ার্ক অফ সেন্টার্স অফ এক্সেলেন্স অন মেন্টাল ওয়েলনেস গঠনের ঘোষণা করেন। ব্রিকস নিউক্লিয়ার মেডিসিনে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা এবং ব্রিকসের টিকা নিয়ে গবেষণা ও প্রস্তুতকারী কেন্দ্র গঠনে সহায়তার কথা জানান তিনি।
নির্দিষ্ট অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলিতে সকল সদস্য দেশের সেরা ব্যবস্থার আদান প্রদানের প্রশংসা করেন তিনি। বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত একগুচছ্ ব্রিকস কমপেনডিয়াম প্রকাশকে স্বাগত জানান শ্রী নাড্ডা। সবশেষে “বসুধৈব কুটুম্বকম” বা “সমগ্র জগৎ একটি পরিবার” ভারতের এই প্রাচীন দর্শন বাণী তুলে ধরে শ্রী নাড্ডা ব্রিকস গোষ্টীভিুক্ত দেশগুলিকে সকলের জন্য সুস্থ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে অংশীদারিত্ব, দায়িত্ব, এবং সংহতির আদর্শ নিয়ে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান।
SC/AP/SG
(रिलीज़ आईडी: 2288383)
आगंतुक पटल : 8