সহযোগিতা মন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ কলকাতায় আমুল বেঙ্গল ডেয়ারি প্রকল্পের আওতায় বিশ্বের বৃহত্তম দই উৎপাদন কারখানার ভূমিপূজা করেছেন

प्रविष्टि तिथि: 19 JUL 2026 9:02PM by PIB Agartala

নতুন দিল্লী, ১৯ জুলাই,২০২৬

 


প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর “সহকার সে সমৃদ্ধি”-র ভাবনা এবং “শ্বেত বিপ্লব ২.০”-এর লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ আজ কলকাতার নিউ টাউন কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আমুল বেঙ্গল ডেয়ারি প্রকল্পের আওতায় বিশ্বের বৃহত্তম দই উৎপাদন কারখানার ভূমিপূজা করেন। এই উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী, গুজরাট বিধানসভার স্পিকার শ্রী শঙ্করভাই চৌধুরী, পশ্চিমবঙ্গের সমবায় মন্ত্রী শ্রী স্বপন দাশগুপ্ত, অর্থমন্ত্রী শ্রী তাপস রায়, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী ড. কল্যাণ চক্রবর্তী, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানপালন মন্ত্রী শ্রী শারদ্বত মুখার্জি, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব শ্রী মনোজ কুমার আগরওয়াল, আমুল ডেয়ারির চেয়ারম্যান শ্রী অশোক চৌধুরী, অন্যান্যবিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সমবায় ক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ভাষণে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী বলেন, বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর তিনি প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর পক্ষ থেকে বাংলার মানুষের মুখে মিষ্টি দই তুলে দিয়ে এই আনন্দঘন মুহূর্তকে আরও মধুর করে তুলতে এসেছেন। তিনি বলেন, বাংলার মানুষ যে পরিবর্তন এনেছেন, তা স্বাধীনতার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠিত সমস্ত বিধানসভা নির্বাচনের ইতিহাসে এক অনন্য ও ঐতিহাসিক পরিবর্তন।

শ্রী শাহ বলেন, পশ্চিমবঙ্গ এমন একটি রাজ্য, যা দেশের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে জাতীয় জীবনে প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছে। কয়েক দশক ধরে শিক্ষা ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় অগ্রণী ছিল। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ও বাংলা একের পর এক মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীর জন্ম দিয়েছে। আধ্যাত্মিকতা, ভক্তি ও সংকীর্তনের ক্ষেত্রে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, স্বামী বিবেকানন্দ, রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব এবং মহর্ষি অরবিন্দ এক অসাধারণ ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠা করেছেন। দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের ক্ষেত্রেও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ক্ষুদিরাম বসুর মতো মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মাধ্যমে বাংলা কখনও দেশের নেতৃত্ব দেওয়া থেকে পিছিয়ে থাকেনি।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী আরো বলেন যে, এই বাংলার মাটিতেই গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বজোড়া সম্মান অর্জন করেছিলেন, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু বিজ্ঞানক্ষেত্রে যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছিলেন এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘বন্দে মাতরম্’ রচনা করে সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদকে নতুন দিশা দেখিয়েছিলেন। তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে দীর্ঘ সময় ধরে বাংলা একটি বিদেশি মতাদর্শের প্রভাবে ছিল। সেই প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসার পরও রাজ্য আদর্শগত শূন্যতা, দুর্নীতি ও অপরাধের জালে আটকে পড়ে। এর ফলে গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সোনার বাংলা’-র স্বপ্ন ক্রমশ ম্লান হয়ে যায়।

শ্রী অমিত শাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর আহ্বান, এক দশকের নিরন্তর সংগ্রাম এবং ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের দীর্ঘ যাত্রাপথের পর, শ্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে ‘সোনার বাংলা’ গড়ার আন্দোলন আবারও নতুন উদ্যমে শুরু হয়েছে। তিনি পশ্চিমবঙ্গের জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি এবং ‘সোনার বাংলা’ গড়ার সংকল্প বাস্তবায়নের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এই সংকল্পই সমৃদ্ধ, শিক্ষিত, নিরাপদ এবং সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ পশ্চিমবঙ্গ গঠনের পথ প্রশস্ত করবে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী বলেন, আজকের দিনটি পশ্চিমবঙ্গের কৃষক এবং পশুপালকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমুল এখানে বিশ্বের বৃহত্তম দই উৎপাদন কেন্দ্রের ভূমিপূজা করেছে। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে প্রতিদিন ১০ লক্ষ লিটার দুধ প্রক্রিয়াকরণ করা হবে, যার ফলে প্রায় ১.২০ লক্ষ ক্ষুদ্র দুগ্ধ উৎপাদক ও পশুপালক সরাসরি উপকৃত হবেন।

শ্রী শাহ বলেন, তিনি এর আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেছিলেন যে, যদি আমূলকে ১৫ একর করে দুটি জমি দেওয়া হয়, তবে পূর্ব ভারতের জন্য দুধ উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ এবং বিপণনের সমগ্র ব্যবস্থা পশ্চিমবঙ্গ থেকেই পরিচালিত হতে পারে। তিনি বলেন, তখন এই প্রস্তাব এই যুক্তিতে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল যে, গুজরাটকে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। অথচ এই প্রকল্পটি গুজরাটের জন্য নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের পশুপালক ও দুধ উৎপাদকদের কল্যাণের জন্য ছিল।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায়মন্ত্রী বলেন, এখন রাজ্যে পরিবর্তন স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। তাঁর অনুরোধে মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী আমূল ফেডারেশনকে বিনামূল্যে ৩০ একর জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১০০টি বড় বিনিয়োগের পথ সুগম করেছে। একই সঙ্গে প্রায় ২.৫ লক্ষ পশুপালকের সরবরাহ করা দুধের সর্বোচ্চ মূল্য নিশ্চিত করতেও এটি সহায়ক হবে।
শ্রী শাহ আশা ব্যক্ত করেন যে, কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী এবং গুজরাট থেকে বাংলা পর্যন্ত দেশের সর্বত্র আমূল বেঙ্গল ডেয়ারি প্রকল্পে উৎপাদিত মিষ্টি দই মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছাবে এবং দেশের মানুষ পশ্চিমবঙ্গকে আশীর্বাদ করবেন। তিনি বলেন, সমবায় আন্দোলনের মানুষের সংগঠিত করার, তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়ন করার এবং সমৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করার অসীম ক্ষমতা রয়েছে।

আমূলের উদাহরণ তুলে ধরে শ্রী শাহ বলেন, এই সংস্থাটি আজ বিশ্বের এক নম্বর সমবায় প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমূলের সঙ্গে বর্তমানে প্রায় ৩৬ লক্ষ নারী যুক্ত রয়েছেন। তিনি বলেন, এটি সমবায় ব্যবস্থার শক্তি এবং তার অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সর্বশ্রেষ্ঠ উদাহরণ।


শ্রী অমিত শাহ বলেন, বর্তমানে ১৮,৬০০-রও বেশি গ্রামীণ দুগ্ধ সমবায় সমিতি আমুলের সঙ্গে যুক্ত এবং আমুলের পণ্য দেশের প্রায় প্রতিটি রাজ্যে পাওয়া যায়। আমুলের পণ্য ব্যবহারকারী প্রত্যেক নাগরিকের উদ্দেশে তিনি বলেন, একজন ভোক্তা যখন আমুলের কোনো পণ্য কিনতে ১০০ টাকা ব্যয় করেন, তখন তার মধ্যে প্রায় ৮৭ টাকা সরাসরি কৃষক ও পশুপালকদের কাছে পৌঁছায় ।

তিনি বলেন, এই অর্থ কোনো শিল্পপতি বা বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর কাছে যায় না। আমুলের মোট টার্নওভারের প্রায় ৮৭ শতাংশ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সরাসরি পশুপালকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। এটাই প্রকৃত সমবায় মডেল, যেখানে যে ব্যক্তি উৎপাদন করেন, তিনিই ব্যবসার লাভের সবচেয়ে বড় অংশ পান।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায়মন্ত্রী বলেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারীকে আমুল এবং সমবায়ভিত্তিক দুগ্ধ ক্ষেত্রের সম্প্রসারণের জন্য অতিরিক্ত জমি প্রদানের অনুরোধ করেছেন। ভারত সরকার পশ্চিমবঙ্গে পশুর জাত উন্নয়নের একটি বড় কেন্দ্র স্থাপন করবে। এর ফলে দুধ উৎপাদনকারীরা অধিক উৎপাদনক্ষম উন্নত জাতের গবাদি পশুর সুবিধা পাবেন। এছাড়াও, রাজ্যে একটি সেক্স-সর্টেড সিমেন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যা অধিক সংখ্যক দুধেল পশু উৎপাদনে সহায়তা করবে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াবে।

শ্রী অমিত শাহ বলেন, সমবায় আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলার কৃষকদের সমৃদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারীকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর কাজের গতিতে তিনি নিজেও বিস্মিত হয়েছেন। সন্ধ্যায় তাঁর ই-মেল পৌঁছানোর পর, সেদিনই রাত ৯টার মধ্যে রাজ্য সরকার একজন লিয়াজঁ অফিসার নিয়োগ করে এবং জানায় যে ওই কর্মকর্তা সমবায় মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ করবেন।

শ্রী অমিত শাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী কৃষকদের কল্যাণে সমবায় মন্ত্রককে ৭০টিরও বেশি প্রকল্পের দায়িত্ব দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে তোলা কার্যকর সমন্বয় ব্যবস্থার ফলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের কৃষকেরা এই সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।
শ্রী অমিত শাহ জানান, আজ রাজ্যের রেজিস্ট্রার অব কো-অপারেটিভ সোসাইটিজের দপ্তরও সম্পূর্ণরূপে কম্পিউটারাইজড হয়েছে। দীর্ঘদিন এই কাজটি অসম্পূর্ণ ছিল, কিন্তু নতুন সরকার মাত্র নয় সপ্তাহের মধ্যেই তা সম্পন্ন করেছে। এর ফলে সমবায় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এখন মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই রেজিস্ট্রারের দপ্তরের বিভিন্ন পরিষেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে সমবায়ের কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দক্ষতা এবং কাজের গতি আরও বৃদ্ধি পাবে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে ১০টি সমবায় গুদামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে এবং মোট ১,৪০০ মেট্রিক ক্ষমতাসম্পন্ন গুদামের উদ্বোধনও করা হয়েছে। এই গুদামগুলি কৃষক ও সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলিকে তাদের উৎপাদিত পণ্য নিরাপদে সংরক্ষণের সুবিধা দেবে এবং কম দামে বাধ্য হয়ে ফসল বিক্রি করার প্রবণতা কমাতে সহায়তা করবে।

শ্রী শাহ বলেন, আজ পশ্চিমবঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন উদ্যোগের সূচনা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন বেসরকারি এগ্রিগেটর সংস্থার মাধ্যমে ট্যাক্সিচালকেরা নানা ধরনের শোষণের শিকার হন। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে কেন্দ্রীয় সরকার ‘ভারত ট্যাক্সি’-র মাধ্যমে ‘সারথি’ ধারণা চালু করেছে। এই ব্যবস্থায় একজন গাড়িচালক শুধু চালক হিসেবেই থাকবেন না, তিনি গাড়ি এবং সংস্থারও অংশীদার ও মালিক হবেন। তিনি জানান, আজ পশ্চিমবঙ্গের ট্যাক্সিগুলিকে ‘ভারত ট্যাক্সি’-র সঙ্গে যুক্ত করার জন্য একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের কোনও সারথি আর কেবলমাত্র চালক থাকবেন না; প্রত্যেকেই সংস্থার শেয়ারহোল্ডার হবেন এবং সংস্থার অর্জিত লাভের একটি অংশ সরাসরি তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এই ব্যবস্থা ট্যাক্সিচালকদের মর্যাদা, মালিকানার অধিকার এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায়মন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে কৃষি ও পশুপালনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। গুজরাটের বহু অঞ্চলে একসময় সেচ ও পানীয় জলের জন্য ১,২০০ ফুট গভীর থেকে জল তুলতে হতো, অথচ পশ্চিমবঙ্গ মা গঙ্গার আশীর্বাদে ধন্য। এখানে অধিকাংশ এলাকায় মাত্র ১০০ থেকে ২০০ ফুট গভীরেই পর্যাপ্ত জল পাওয়া যায়। রাজ্যের উর্বর জমি এবং পশুপালন প্রসারের অসীম সম্ভাবনা রয়েছে।

শ্রী অমিত শাহ বলেন, দুর্ভাগ্যবশত অতীতে এই সম্ভাবনাগুলির পূর্ণ সদ্ব্যবহার করা হয়নি। তিনি প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত পশুপালকদের আশ্বাস দেন যে আগামী ১৫ বছরে এমনভাবে কাজ করা হবে, যাতে রাজ্যের প্রতিটি পরিবারের অন্তত দুটি দুধ উৎপাদনকারী পশু থাকে এবং সেই পশুর উৎপাদিত দুধ সমবায় সংস্থার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। তিনি বলেন, পশুপালকদের এমন উন্নত জাতের গবাদি পশু প্রদান করা হবে, যা বর্তমানে উৎপাদিত দুধের তুলনায় অন্তত ২৫ শতাংশ বেশি দুধ দেবে। এর ফলে পশুপালন গ্রামীণ পরিবারের নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎসে পরিণত হবে এবং পশ্চিমবঙ্গে এক নতুন শ্বেত বিপ্লবের সূচনা হবে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায়মন্ত্রী বলেন, তিনি গত তিন দিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে রয়েছেন। এই সময়ে বাংলাকে অনুপ্রবেশমুক্ত করা, নতুন করে অনুপ্রবেশ রোধ, আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি এবং মা-বোনেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শ্রী অমিত শাহ বলেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাজের ধরন ও দ্রুত বাস্তবায়ন ক্ষমতা খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং তিনি নিশ্চিত যে পশ্চিমবঙ্গের হারানো শক্তি পুনরুদ্ধার করতে বেশি সময় লাগবে না। তিনি রাজ্যের মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার তাদের সমস্ত প্রত্যাশা পূরণ করবে এবং অবশ্যই গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলার লক্ষ্য বাস্তবায়ন করবে।


প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া ফুড পার্কে আমুল ‘আমুল বেঙ্গল ডেয়ারি প্রকল্প’ স্থাপন করছে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ চালু হলে প্রতিদিন প্রায় ৩০ লক্ষ লিটার দুধ প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা অর্জন করবে। এই কারখানায় প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ মেট্রিক টন, অর্থাৎ ১০ লক্ষ কিলোগ্রাম দই ও অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনের ক্ষমতা থাকবে। এই উৎপাদন ক্ষমতার ভিত্তিতে এটি হবে বিশ্বের বৃহত্তম দই উৎপাদনকারী কারখানা।
প্রকল্পটির দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে ১০ লক্ষ লিটার প্যাকেটজাত দুধ, ২ লক্ষ লিটার ইউএইচটি দুধ, ১ লক্ষ লিটার আইসক্রিম, ২০ মেট্রিক টন পনির, ১০ মেট্রিক টন ঘি এবং ১০ মেট্রিক টন মিষ্টি। এছাড়া প্রতিদিন প্রায় আড়াই লক্ষ প্যাকেট বিভিন্ন স্বাদের দুধ উৎপাদনেরও ক্ষমতা থাকবে।

‘আমুল বেঙ্গল ডেয়ারি প্রকল্প’ পশ্চিমবঙ্গের দুগ্ধ ব্যবসায়ে আধুনিক প্রক্রিয়াকরণ, মূল্য সংযোজন, কোল্ড-চেইন এবং বিপণন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ঘটাবে। এর ফলে দুধ উৎপাদনকারী ও পশুপালকেরা তাদের উৎপাদিত দুধের জন্য আরও উন্নত, স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল বাজার পাবেন এবং তাঁদের আয় বৃদ্ধি পাবে। এই প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে দুগ্ধ সমবায় ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে, গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং রাজ্যে শ্বেত বিপ্লবের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

*****

PS/Agt


(रिलीज़ आईडी: 2286621) आगंतुक पटल : 4
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , Urdu , हिन्दी , Assamese , Bengali , Gujarati , Odia , Kannada , Malayalam