কৃষিমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ - ICAR-এর ৯৮তম প্রতিষ্ঠা দিবসে 'বিকশিত ভারত ২০৪৭' -এর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিকশিত কৃষি ও সমৃদ্ধ কৃষক বিষয়ক কর্মপরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করলেন শিবরাজ সিং চৌহান

प्रविष्टि तिथि: 16 JUL 2026 8:37PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ১৬ জুলাই, ২০২৬

 

 

 

নতুন দিল্লির এনএএসসি কমপ্লেক্সের ভারতরত্ন সি. সুব্রামানিয়াম অডিটোরিয়ামে ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ-ICAR-এর ৯৮তম প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ এবং গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর অন্যতম মূল ভিত্তি হিসেবে ‘বিকশিত কৃষি ও সমৃদ্ধ কিষাণ’-এর জন্য একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

 

মন্ত্রী যেসব লক্ষ্য ঘোষণা করেন, তার মধ্যে রয়েছে ১০০টি জলবায়ু-সহনশীল গ্রামের উন্নয়ন, ১০ কোটি কৃষকের কাছে ICAR-এর প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া, ‘এক প্রতিষ্ঠান-এক বৃহৎ উদ্ভাবন’ চালু করা, একটি ICAR উন্মুক্ত ডিজিটাল জ্ঞান প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করা, নকল বীজ ও কীটনাশকের বিরুদ্ধে আইন শক্তিশালী করা এবং উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে ICAR-কে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলা। ১৫০ জনেরও বেশি ICAR কর্মচারীর চাকরি স্থায়ী হওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করেন তিনি।

 

 কৃষকরা হলেন আত্মা, বিজ্ঞানীরা মস্তিষ্ক

 

 শ্রী চৌহান বলেন, প্রতিষ্ঠা দিবস কেবল একটি স্মরণীয় উপলক্ষ নয়, যাঁদের ঐকান্তিক নিষ্ঠা অভাবকে আত্মনির্ভরতায় এবং প্রতিবন্ধকতাকে সমাধানে রূপান্তরিত করেছে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সেইসব বিজ্ঞানীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি সুযোগ। 

 

কৃষক ও বিজ্ঞানীদের মধ্যে অংশীদারিত্বের বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, "কৃষকরা যদি কৃষির আত্মা হন, তবে বিজ্ঞানীরা হলেন এর মস্তিষ্ক। সরকারি নীতি, কৃষকদের কঠোর পরিশ্রম এবং বৈজ্ঞানিক প্রতিভা একসঙ্গে কাজ করলে জমিতে জাদুকরী প্রভাব ফেলা সম্ভব হয়।" ভারতের শক্তিশালী কৃষি ভিত্তি তৈরিতে অবদানের জন্য তিনি বিশিষ্ট কৃষি বিজ্ঞানী এবং আইসিএআর-এর প্রাক্তন কর্তাদের সশ্রদ্ধভাবে স্মরণ করেন।

 

১৫০ জনেরও বেশি কর্মচারীকে স্থায়ী চাকরি 

 

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, ১৫০ জনেরও বেশি আইসিএআর (ICAR) কর্মচারীকে প্রথমবারের মতো স্থায়ী চাকরি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের অবিচারের সংশোধন হয়েছে। এই কর্মচারীরা অবশেষে তাঁদের ন্যায্য স্বীকৃতি পাওয়ায় সমগ্র আইসিএআর পরিবার আনন্দে-আবেগে পরিপূর্ণ। তিনি নবনিযুক্ত সকল কর্মচারীকে অভিনন্দন জানান এবং এটিকে সংস্থার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেন।

 

উৎপাদন ছাপিয়ে: এখন গুণমানের ওপর মনোযোগ দেওয়ার সময়

 

খাদ্যশস্য, উদ্যানপালন, দুগ্ধ এবং মৎস্য উৎপাদনে ভারতের উল্লেখযোগ্য বিকাশে সন্তোষ প্রকাশ করলেও এর জেরে আত্মসন্তুষ্টি যাতে মাথা চাড়া না দেয়, সেই বিষয়ে সতর্ক করেন শ্রী চৌহান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, উন্নত জনস্বাস্থ্য এবং বিশ্ব বাজারে শক্তিশালী প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য ভারতের কৃষি বিকাশের পরবর্তী পর্যায়কে অবশ্যই পরিমাণের চেয়ে গুণমানের ওপর বেশি জোর দিতে হবে। এল নিনো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জের উল্লেখ করে তিনি জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, জেলা-ভিত্তিক পরিকল্পনা এবং কৃষি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর দ্রুত কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তির সুবাদে ভারত বিশ্বজুড়ে নতুন বাজারে প্রবেশাধিকার লাভ করছে, যার ফলে উচ্চমানের, রপ্তানিমুখী ও স্বাস্থ্যসম্মত কৃষি পণ্য উৎপাদন করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

 

সাতটি প্রধান লক্ষ্যের ঘোষণা 

 

১. ১০০টি জলবায়ু-সহনশীল গ্রাম গড়ে তোলা

 

শ্রী চৌহান ঘোষণা করেছেন, আইসিএআর তার শতবর্ষ পূর্ণ করার আগেই সংস্থা এবং এর আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলিকে যৌথভাবে কমপক্ষে ১০০টি জলবায়ু-সহনশীল গ্রাম গড়ে তুলতে হবে। এই গ্রামগুলি জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, সমন্বিত চাষাবাদ পদ্ধতি, জল ও মাটি সংরক্ষণ এবং বাস্তবসম্মত ঝুঁকি হ্রাস মডেল প্রদর্শন করবে, যা কৃষকদের পরিবর্তিত জলবায়ু পরিস্থিতির সাথে সফলভাবে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করবে।

 

২. এক প্রতিষ্ঠান-এক বৃহৎ উদ্ভাবন

 

আইসিএআর-এর আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে মন্ত্রী বলেন, "এক প্রতিষ্ঠান-এক বৃহৎ উদ্ভাবন" উদ্যোগের অধীনে আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে অন্তত একটি যুগান্তকারী উদ্ভাবন করতে হবে। এই উদ্ভাবনটি কোন নতুন ফসলের জাত, টিকা, ডিজিটাল সরঞ্জাম বা জলবায়ু-সহনশীল কৃষি সমাধান - যে কোন কিছু হতে পারে। তবে উদ্ভাবনটি এমন হতে হবে, যা জাতীয় স্তরে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে এবং কৃষকদের জীবনে বাস্তব উন্নতি আনতে সক্ষম।

 

 ৩. আইসিএআর প্রযুক্তির মাধ্যমে ১০ কোটি কৃষকের কাছে পৌঁছানো

 

শ্রী চৌহান বলেন, আইসিএআর-এর শতবর্ষ পূর্তির মধ্যে সংস্থাটির লক্ষ্য হওয়া উচিত এর বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং আধুনিক কৃষি সমাধান যাতে সারা দেশের অন্তত ১০ কোটি কৃষকের কাছে পৌঁছায়, তার ব্যবস্থা করা। তিনি এটিকে ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর অধীনে ‘বিকশিত কৃষি’ এবং ‘সমৃদ্ধ কিষাণ’-এর স্বপ্ন পূরণের পথে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেন।

 

৪. "মিশন আইসিএআর-১০০" এবং কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রগুলির নতুন ভূমিকা

 

মন্ত্রী আগামী দুই বছর "মিশন আইসিএআর-১০০" হিসেবে পালন করার পরামর্শ দেন। এই মিশনের আওতায়, কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রগুলিকে নিছক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে উদ্ভাবন কেন্দ্র, জলবায়ু পরামর্শ কেন্দ্র, স্টার্টআপ সহায়তা কেন্দ্র এবং কৃষক প্রযুক্তি প্রদর্শন কেন্দ্রে রূপান্তরিত হওয়ার কথা বলেন তিনি। কৃষকদের মধ্যে আইসিএআর প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপনের জন্য পক্ষকালব্যাপী দেশব্যাপী প্রচার কর্মসূচি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এর আওতায় প্রতিটি কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র অন্তত ১০০টি গ্রাম পরিদর্শন করে বৃহৎ পরিসরে আইসিএআর-এর গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করবে।

 

৫. আইসিএআর উন্মুক্ত ডিজিটাল জ্ঞান প্ল্যাটফর্ম

 

শ্রী চৌহান কৃষকদের মোবাইল ফোনে আইসিএআর-এর প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক পরামর্শ এবং নির্দেশনামূলক ভিডিও বিনামূল্যে সহজলভ্য করার জন্য একটি আইসিএআর উন্মুক্ত ডিজিটাল জ্ঞান প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রযুক্তি হস্তান্তরে ‘মোবাইল-ফার্স্ট’ পদ্ধতির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, কৃষকরা যাতে তাঁদের স্মার্টফোনের মাধ্যমে সরাসরি নিজেদের ক্ষেত থেকেই মাটি পরীক্ষার দিশানির্দেশ, ফসল সংক্রান্ত পরামর্শ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং বাজারের তথ্য পেতে পারেন তা নিশ্চিত করতে হবে।

 

৬. নকল বীজ ও কীটনাশকের বিরুদ্ধে কঠোর আইন

 

নকল ও নিম্নমানের কৃষি উপকরণ নিয়ে কৃষকদের ব্যাপক অভিযোগের কথা উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নকল বীজ ও কীটনাশকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি বিধানের আহ্বান জানান। তিনি বিজ্ঞানীদের তৃণমূল স্তরের সহজ প্রযুক্তি এবং রোগনির্ণয় সরঞ্জাম তৈরি করার জন্য অনুরোধ করেন। এতে কৃষকরা বীজ ও কীটনাশকের গুণমান যাচাই করতে পারবেন, প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাবেন, তাঁদের ফসলের ক্ষতি কমবে।

 

 ৭. ২০২৯ সালের মধ্যে ১০,০০০ কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ সম্পদ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা

 

শ্রী চৌহান বলেছেন, আইসিএআর-এর উচিত শুধুমাত্র সরকারি অনুদানের উপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমানো এবং নিজস্ব প্রযুক্তি, ফসলের জাত, টিকা ও লাইসেন্সিং উদ্যোগের বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে আর্থিকভাবে শক্তিশালী হওয়া। তিনি ২০২৯ সালের মধ্যে ১০,০০০ কোটি টাকার অভ্যন্তরীণ সম্পদ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের প্রস্তাব করেন। উদ্ভাবনের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক আত্মনির্ভরশীলতা তৈরির প্রচেষ্টার পাশাপাশি সরকারি সহায়তাও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

 

কৃষি আত্মনির্ভরশীলতা জোরদার করতে নতুন জাত, টিকা এবং প্রযুক্তি

 

প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপনে ৪৩টি নতুন ফসলের জাত, ১৭টি প্রযুক্তি/পণ্য এবং ১৪টি প্রকাশনার উন্মোচন করা হয়। এর মধ্যে উচ্চ ফলনশীল ও রোগ-প্রতিরোধী ফসলের জাত, পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসল, গবাদি পশু ও মৎস্যের জন্য টিকা এবং ডিজিটাল কৃষি সমাধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফুট-অ্যান্ড-মাউথ ডিজিজ এবং অন্যান্য প্রধান পশু রোগ নিয়ন্ত্রণে আইসিএআর-এর কাজের প্রশংসা করে শ্রী চৌহান বলেন, দেশীয় টিকা, উন্নত ফসলের জাত এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বীজ, সার এবং পশু স্বাস্থ্যে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন করা হবে। এই অনুষ্ঠানে ৭০টিরও বেশি সমঝোতা স্মারক এবং প্রযুক্তি লাইসেন্সিং চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বেসরকারি ক্ষেত্র এবং স্টার্টআপগুলির সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে কৃষকদের কাছে আইসিএআর-এর উদ্ভাবন দ্রুত পৌঁছে দেওয়া এর লক্ষ্য।

 

বিজ্ঞানীদের জন্য প্রেরণার বার্তা 

 

বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে একটি জাতীয় মিশন আখ্যা দিয়ে শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, প্রত্যেক বিজ্ঞানীর দায়িত্ব চাকরির গণ্ডি ছাড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। ভগবান কৃষ্ণের শিক্ষাদর্শ উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন আদর্শ কর্মী উদ্যমী, নিরহংকার ও ধৈর্যশীল হবেন, তিনি অন্যদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে পারবেন। বিজ্ঞানীদের কৃষকদের আকাঙ্ক্ষাকে ব্যক্তিগত ব্রত হিসেবে গ্রহণ করার এবং ভারতের কৃষির রূপান্তরে নিজেদের পূর্ণ সামর্থ্য উৎসর্গ করার আহবান জানান কৃষিমন্ত্রী। 

 

কেন্দ্রীয় মৎস্য, পশুপালন ও দুগ্ধ এবং পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রী শ্রী রাজীব রঞ্জন সিং, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শ্রী রামনাথ ঠাকুর এবং শ্রী ভগীরথ চৌধুরী, মৎস্য, পশুপালন ও দুগ্ধ এবং পঞ্চায়েতি রাজ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক এস. পি. সিং বাঘেল, DARE-এর সচিব এবং ICAR-এর মহাপরিচালক ডঃ এম. এল. জাট এবং অতিরিক্ত সচিব শ্রী জ্ঞানেন্দ্র ডি. ত্রিপাঠীও সমাবেশে ভাষণ দেন।

 

সারাদেশের সমস্ত কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র, আইসিএআর প্রতিষ্ঠান এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞানী, কর্মচারী, ছাত্রছাত্রী এবং কৃষি সম্প্রদায়ের সদস্যরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। 

 

 

 

SC/SD/SKD


(रिलीज़ आईडी: 2285663) आगंतुक पटल : 13
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: Malayalam , English , Urdu , हिन्दी , Punjabi , Gujarati , Tamil , Telugu