প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ইন্দোনেশিয়া রাষ্ট্রীয় সফর উপলক্ষে ভারত-ইন্দোনেশিয়া যৌথ বিবৃতি

प्रविष्टि तिथि: 07 JUL 2026 5:15PM by PIB Kolkata

দিল্লী,৭ জুলাই ২০২৬

 

ইন্দোনেশিয়া প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি মহামান্য প্রাবোও সুবিয়ান্তোর আমন্ত্রণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মহামান্য শ্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২৬ সালের ৬–৮ জুলাই ইন্দোনেশিয়া রাষ্ট্রীয় সফর করেন। ২০২৫ সালের ২৩–২৬ জানুয়ারি ভারতের ৭৬তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদ্‌যাপনে প্রধান অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রপতি প্রাবোওর ভারত সফরের ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত এই সফরটি ভারত-ইন্দোনেশিয়া সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য দুই নেতার অভিন্ন অঙ্গীকারের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

২.সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে জাকার্তার ইস্তানা মেরদেকা প্রাসাদে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি প্রাবোও এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর মধ্যে একান্ত বৈঠক ও প্রতিনিধিদল-স্তরের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি প্রাবোও প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে একটি রাষ্ট্রীয় ভোজেরও আয়োজন করেন।

ইন্দোনেশিয়ার সংসদের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ড. পুয়ান মহারানির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী মোদী ইন্দোনেশিয়ার সংসদে ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং রাষ্ট্রপতি প্রাবোও যৌথভাবে যোগ্যাকার্তার ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী প্রাম্বানান মন্দির কমপ্লেক্সের সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার কাজের সূচনা করেন। সফররত প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে ইন্দোনেশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের আয়োজিত এক সংবর্ধনাতেও দুই নেতা অংশগ্রহণ করেন।

রাজনৈতিক সহযোগিতা

৩.২০২৬ সালের ৭ জুলাই জাকার্তার ইস্তানা মেরদেকায় প্রধানমন্ত্রী মোদী ও রাষ্ট্রপতি প্রাবোও আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, সামুদ্রিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ডিজিটাল অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, মহাকাশ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি, কৃষি, স্বাস্থ্য, ওষুধশিল্প, শিক্ষা, সংস্কৃতি, পর্যটন, যুব বিনিময়, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

দুই নেতা ভারত-ইন্দোনেশিয়া সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একাধিক দ্বিপাক্ষিক নথি বিনিময়েরও সাক্ষী থাকেন।

৪.দুই দেশের কৌশলগত সম্পৃক্ততাকে আরও জোরদার করার লক্ষ্যে এবং উচ্চপর্যায়ের পারস্পরিক সফরের গুরুত্ব স্বীকার করে দুই নেতা নিয়মিত শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের বিষয়ে একমত হন। বহুপাক্ষিক সম্মেলনের পাশাপাশি এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

৫.দুই নেতা বর্তমান যৌথ কার্যকরী গোষ্ঠীগুলির  কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন এবং যৌথ কমিশন বৈঠক , পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের পরামর্শ  এবং মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অন্যান্য সংলাপ ও বিনিময় ব্যবস্থা নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন।

৬.দুই দেশের সংসদে ভারত-ইন্দোনেশিয়া সংসদীয় মৈত্রী গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠাকে দুই নেতা স্বাগত জানান এবং দুই গণতান্ত্রিক দেশের সংসদের প্রতিনিধিদলগুলির নিয়মিত সফরের মাধ্যমে সংসদীয় আদান-প্রদান আরও বৃদ্ধি করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

৭.দুই নেতা উভয় দেশের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং নীতিনির্ধারণী বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতাকে স্বাগত জানান। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল জাকার্তায় অনুষ্ঠিত তৃতীয় ভারত-ইন্দোনেশিয়া নীতি পরিকল্পনা সংলাপ, ২০২৫ সালের ১৫–১৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ভারত-ইন্দোনেশিয়া ট্র্যাক ১.৫ সংলাপ এবং ২০২৫ সালের ৫–৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত জাকার্তা ফিউচার্স ফোরাম।প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক সহযোগিতা

৮.ভারত ও ইন্দোনেশিয়া যে সামুদ্রিক প্রতিবেশী এবং শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসম্পন্ন কৌশলগত অংশীদার—এই বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে এবং ২০১৮ সালে গৃহীত ‘ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক সহযোগিতা সম্পর্কিত ভারত-ইন্দোনেশিয়ার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি’ স্মরণ করে, দুই নেতা প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক অংশীদারিত্বকে আরও সম্প্রসারিত ও শক্তিশালী করার প্রতি তাঁদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

৯.দুই নেতা ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপকে স্বাগত জানান এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রচলিত ও উদীয়মান উভয় ক্ষেত্রেই সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে একমত হন। এর মধ্যে রয়েছে নিয়মিত প্রতিরক্ষা সংলাপ, যৌথ সামরিক মহড়া, স্টাফ পর্যায়ের আলোচনা, নতুন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির যৌথ গবেষণা ও সহ-উৎপাদন, বন্দর সফর, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, তথ্য আদান-প্রদান, হাইড্রোগ্রাফি, সক্ষমতা বৃদ্ধি, ক্যাডেট প্রশিক্ষণ ও বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা।

তাঁরা ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা-সংক্রান্ত সহযোগিতা এবং এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল সহযোগিতা চুক্তি-সহ প্রতিরক্ষা সহযোগিতার উন্নীত পর্যায়কে স্বাগত জানান।

১০.দুই নেতা সামুদ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা , সামুদ্রিক সংযোগ, উপকূলীয় নজরদারি, মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলা , দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধারের মতো ক্ষেত্রে চলমান সামুদ্রিক সহযোগিতাকে স্বাগত জানান। পারস্পরিক স্বার্থ ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই সহযোগিতা অঞ্চলজুড়ে শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি এবং বৃহত্তর ভারত- প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে তাঁরা মত প্রকাশ করেন।

এছাড়াও, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারকের নবায়ন এবং BAKAMLA RI ও ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী-এর মধ্যে বাস্তবায়ন ব্যবস্থা সম্পন্ন হওয়াকেও তাঁরা স্বাগত জানান।

১১.দুই নেতা যৌথ সামরিক মহড়া ও প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কৌশলগত ও কার্যকরী গুরুত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বর্তমান নৌ-সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক বিষয়গুলোতে উভয় দেশের নিজস্ব আইন ও বিধিবিধান এবং আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষত ১৯৮২ সালের UNCLOS-এর নীতিমালার আলোকে গঠনমূলক আলোচনা অব্যাহত রাখার সম্ভাবনা অন্বেষণের গুরুত্বও তাঁরা তুলে ধরেন।

১২.দুই নেতা গুরগাঁওস্থিত ইনফরমেশন ফিউশন সেন্টার–ইন্ডিয়ান ওশান রিজিয়নে ইন্দোনেশিয়ার একজন আন্তর্জাতিক লিয়াজঁ অফিসার নিয়োগকে স্বাগত জানান। তাঁরা সামুদ্রিক নিরাপত্তায় পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হন।

১৩.দুই নেতা প্রতিরক্ষা শিল্প ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকারমূলক সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং যৌথভাবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, কারিগরি সহায়তা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ, জাহাজ নির্মাণে সহযোগিতা, একই ধরনের প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্মের জন্য MRO  সুবিধা গড়ে তোলা, প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনা এবং প্রতিরক্ষা সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে সহযোগিতা সম্প্রসারণে সম্মত হন।

ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সামরিক ওষুধ সরবরাহ সংক্রান্ত সহযোগিতার অগ্রগতিকেও তাঁরা স্বাগত জানান।

সন্ত্রাসবাদ দমন ও নিরাপত্তা সহযোগিতা

১৪.দুই নেতা সব ধরনের ও সব রূপের সন্ত্রাসবাদের তীব্র ও দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানান। তাঁরা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সমন্বিত, কার্যকর ও ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার আহ্বান জানান এবং এই প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাপী নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে, বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ নিষেধাজ্ঞা কমিটি-র তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেন।

১৫.দুই নেতা সন্ত্রাসবাদ এবং সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিতকারী সহিংস চরমপন্থা প্রতিরোধে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হন। এর মধ্যে রয়েছে সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ  মানদণ্ড বাস্তবায়ন, নতুন ও ভবিষ্যত প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইন নিয়োগ ও উগ্রপন্থায় প্ররোচনা মোকাবিলা এবং সহিংস চরমপন্থা প্রতিরোধ কর্মসূচিতে সহযোগিতা জোরদার করা।

১৬.দুই নেতা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে 'শূন্য সহনশীলতা'  নীতির আহ্বান জানান। তাঁরা সন্ত্রাসে অর্থায়নের উৎস ও চ্যানেল ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যে সক্রিয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জাতিসংঘ ও FATF-সহ দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

১৭.সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধের মধ্যে যোগসূত্র স্বীকার করে দুই নেতা নিজ নিজ দেশের আইন ও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার আলোকে তথ্য ও সর্বোত্তম অনুশীলন বিনিময়ের মাধ্যমে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হন। দুই দেশের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ দমন সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক  দ্রুত চূড়ান্ত হওয়াকেও তাঁরা স্বাগত জানান, যা অদূর ভবিষ্যতে স্বাক্ষরিত হবে।

১৮.দুই নেতা তৃতীয় ভারত-ইন্দোনেশিয়া নিরাপত্তা সংলাপ আয়োজনের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানান, যা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে বিস্তৃত আলোচনা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। এই সংলাপের মাধ্যমে দুই দেশ সন্ত্রাসবাদ, সংঘবদ্ধ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ, উদীয়মান প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা শিল্প, সামুদ্রিক সহযোগিতা এবং মহাকাশ সহযোগিতায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করার সংকল্প ব্যক্ত করে।

১৯.দুই নেতা সাইবার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আরও আলোচনা করতে সম্মত হন। এর মধ্যে রয়েছে নীতিগত সংলাপ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, সর্বোত্তম অনুশীলন বিনিময়, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, আর্থিক প্রযুক্তি,  ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা , ডিজিটাল ফরেনসিকস, কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম-এর মধ্যে সহযোগিতা, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোর সুরক্ষা এবং ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন।
প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক সহযোগিতা
২০.দুই নেতা উল্লেখ করেন যে, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কের একটি অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাঁরা ভারতের ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ এবং ‘ইন্দোনেশিয়া এমাস ২০৪৫’-এর উন্নয়ন ভাবনার মধ্যে বর্তমান ব্যাপক অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক সমন্বয়ের সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দেন। একই সঙ্গে তাঁরা মত প্রকাশ করেন যে, দুই দেশের মধ্যে আরও বিস্তৃত ও গভীর অর্থনৈতিক একীকরণ নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এই লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে দুই নেতা একটি ভারসাম্যপূর্ণ, পারস্পরিকভাবে লাভজনক এবং বাণিজ্য-সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে আসিয়ান-ভারত পণ্য বাণিজ্য চুক্তির পর্যালোচনা দ্রুত সম্পন্ন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এর পরপরই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আরও বিস্তৃত ও গভীর বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা গড়ে তোলার ওপরও তাঁরা গুরুত্ব আরোপ করেন।

২১.দুই নেতা বর্তমান দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক কাঠামোগুলিকে পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার ও আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৬ সালে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ-এর দ্বিতীয় বৈঠক, দ্বিবার্ষিক বাণিজ্যমন্ত্রী ফোরাম -এর চতুর্থ বৈঠক এবং যৌথ অর্থনৈতিক ও আর্থিক সংলাপ -এর প্রথম বৈঠক।

তাঁরা মত প্রকাশ করেন যে, এই ব্যবস্থাগুলির মাধ্যমে শুল্ক ও অ-শুল্ক সংক্রান্ত অমীমাংসিত বিষয়গুলির সমাধান, বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজতর করা এবং অর্থ, ডিজিটাল অর্থনীতি, শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খল সংক্রান্ত সহযোগিতাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাস্তবমুখী ও ব্যবসাবান্ধব ফলাফল অর্জন করা উচিত। তবে এই সহযোগিতা পরিচালিত হবে উভয় দেশের নিজস্ব আইন, বিধি এবং উন্নয়ন অগ্রাধিকারের প্রতি সম্মান রেখে।

২২.দুই নেতা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও বিরল মৃত্তিকা ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বিশেষভাবে এমন বহুমুখী ও স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন, যা দেশীয় উৎপাদন শিল্পের বিকাশে সহায়ক হবে, ঝুঁকি কমাবে এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করবে।

বিরল মৃত্তিকায় দুই দেশের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার প্রশংসা করে তাঁরা নন-ফেরাস ম্যাটেরিয়ালস টেকনোলজি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার , মিডওয়েস্ট লিমিটেড এবং পিটি পেরুসাহান মিনারাল ন্যাশিওনালের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকে স্বাগত জানান।

২৩.খনিজ এবং ইস্পাত সরবরাহ শৃঙ্খল প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকেও দুই নেতা স্বাগত জানান। এছাড়া, স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড  এবং পিটি ক্রাকাতাউ স্টিল-এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ায় একটি স্টেইনলেস স্টিল স্ল্যাব উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য গঠিত কৌশলগত যৌথ উদ্যোগকেও তাঁরা স্বাগত জানান।

২৪.দুই নেতা ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবং ব্যাঙ্ক ইন্দোনেশিয়া-র মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন সংক্রান্ত নির্দেশিকা কার্যকর করার অগ্রগতিকে স্বাগত জানান। তাঁরা মত প্রকাশ করেন যে, এই উদ্যোগ ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করবে এবং দুই অর্থনীতির মধ্যে আর্থিক সংহতিকে আরও গভীর করবে।

স্বাস্থ্য, ওষুধশিল্প, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা

২৫.দুই নেতা উল্লেখ করেন যে, ইন্দোনেশিয়ার রেড অ্যান্ড হোয়াইট কো-অপারেটিভ নেটওয়ার্ক একটি সম্ভাবনাময় সরবরাহ ও বিতরণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে, যার মাধ্যমে উভয় দেশের ওষুধ ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত পণ্য সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও বিধি মেনে বিতরণ করা সম্ভব হবে।

২৬.দুই নেতা স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং পেশাদার স্বাস্থ্যকর্মী উন্নয়ন সংক্রান্ত বাস্তবায়ন ব্যবস্থা স্বাক্ষরকে স্বাগত জানান।

এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ফেলোশিপ, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি, বিশেষায়িত চিকিৎসা ক্ষেত্রে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বিনিময়, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে সর্বোত্তম অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া এবং পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে অন্যান্য যৌথ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে।

এছাড়াও তাঁরা BPOM এবং FSSAI-এর মধ্যে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের নিয়ন্ত্রক সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক দ্রুত চূড়ান্ত করার আহ্বান জানান।

২৭.দুই নেতা খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি বিষয়ে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে একমত হন, তবে প্রতিটি দেশের নিজস্ব নীতির প্রতি পূর্ণ সম্মান বজায় রেখে।

তাঁরা কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগকে স্বাগত জানান, যার মধ্যে রয়েছে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের বাণিজ্য, যৌথ গবেষণা, উদ্ভাবন এবং জ্ঞান বিনিময়—যা সুস্থায়ী ও সহনশীল খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

দুই নেতা কৃষি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক এবং সামুদ্রিক ও মৎস্য সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারকের দ্রুত নবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

২৮.দুই নেতা ওষুধশিল্প ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত পণ্যের ক্ষেত্রে চলমান সহযোগিতাকে স্বাগত জানান। তাঁরা CDSCO এবং BPOM-এর মধ্যে চিকিৎসা পণ্যের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকে স্বাগত জানান।

২৯.দুই নেতা সার ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারে সম্মত হন এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির মধ্যেও স্থিতিশীল, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য সার সরবরাহ নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

৩০.দুই পক্ষ প্রচলিত জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং নতুন জ্বালানি-সহ জ্বালানি নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা, যৌথ গবেষণা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

তাঁরা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস,  গ্রিন হাইড্রোজেন, জৈবজ্বালানি,  সৌরশক্তি এবং জ্বালানি দক্ষতা প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধিকে স্বাগত জানান।অবকাঠামো ও সংযোগ

৩১.দুই নেতা ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে সামুদ্রিক ও আকাশপথে যোগাযোগ আরও জোরদারের গুরুত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বিমান যোগাযোগ ও বন্দর-থেকে-বন্দর সংযোগ বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করেন। তাঁরা ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে অনুষ্ঠিতব্য আন্দামান-আচেহ সংযোগ বিষয়ক তৃতীয় যৌথ টাস্ক ফোর্স বৈঠকের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং সেখানে গৃহীত কর্মপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

৩২.রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সাবাং বন্দরের সমন্বিত উন্নয়নে ভারতের অংশীদার হওয়ার আগ্রহকে স্বাগত জানান। দুই নেতা স্বীকার করেন যে, এই অংশীদারিত্বের আওতায় ক্রুজ ও সামুদ্রিক পর্যটন অবকাঠামো, সামুদ্রিক শিল্প (জাহাজ মেরামত ও জাহাজ নির্মাণ), এবং আন্দামান সাগরে অফশোর জ্বালানি কার্যক্রমে সহায়তাকারী উপকূলভিত্তিক পরিষেবার উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তাঁরা মত প্রকাশ করেন যে, এই সহযোগিতা ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের প্রদেশগুলির মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক, ভৌত ও ডিজিটাল সংযোগের পাশাপাশি মানুষ ও পণ্যের আদান-প্রদান বৃদ্ধি করবে। এর ফলে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং যৌথ আঞ্চলিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে।

দুই নেতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইন্দোনেশিয়ার উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রযোজ্য বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রকল্পটির পরিধি, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং অর্থায়নের রূপরেখা প্রণয়নের আহ্বান জানান।

৩৩.ভারতের ওপেন নেটওয়ার্ক ফর ডিজিটাল কমার্স -এর স্থাপত্যের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ইন্দোনেশিয়া ওপেন নেটওয়ার্ক  চালুর উদ্যোগকে দুই নেতা স্বাগত জানান। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইন্দোনেশিয়ার ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগগুলির ডিজিটাল অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি পাবে।

৩৪.ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবং ব্যাঙ্ক ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে সমঝোতা অনুযায়ী সীমান্ত-পার QR পেমেন্ট সংযোগ  বাস্তবায়নের অগ্রগতিকে দুই নেতা স্বাগত জানান।

তাঁরা বলেন, এই উদ্যোগ ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক পেমেন্ট সংযোগকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর ফলে লেনদেন আরও দ্রুত ও দক্ষ হবে, আর্থিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং বিশেষত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, পর্যটন ও শিক্ষার্থীদের সহায়তার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।

৩৫.ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি ও পরিষেবা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হওয়াকে দুই নেতা স্বাগত জানান। তাঁদের মতে, এই চুক্তি টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সংযোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করবে।

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সুস্থায়ী উন্নয়ন

৩৬.রাষ্ট্রপতি প্রাবোও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদী ইন্দোনেশিয়ার অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে IBCA-তে যোগদানের আগ্রহকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে তিনি ইন্দোনেশিয়ার ওয়ার্ল্ড ম্যানগ্রোভ সেন্টার  এবং ইন্টারন্যাশনাল ট্রপিক্যাল পিটল্যান্ড সেন্টার  প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের প্রশংসা করেন। দুই নেতা মত প্রকাশ করেন যে, এসব উদ্যোগ জীববৈচিত্র্য, ম্যানগ্রোভ ও পিটল্যান্ড সংরক্ষণে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

৩৭.প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের প্রতি উভয় দেশের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে দুই নেতা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন।

তাঁরা দুই দেশের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকে স্বাগত জানান। এই সহযোগিতার মাধ্যমে তথ্য, অভিজ্ঞতা ও সর্বোত্তম অনুশীলনের বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি, দুর্যোগ মোকাবিলা, পুনর্বাসন, প্রশমন ও প্রস্তুতি বিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং কার্যকর দুর্যোগ প্রশমনে তথ্যের ব্যবহার ও দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।

দুই নেতা দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও সহনশীলতা বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে কোয়ালিশন ফর ডিজাস্টার রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, মহাকাশ এবং গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান প্রযুক্তি

৩৮.দুই নেতা ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট অনুষ্ঠিত প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক যৌথ কমিশন বৈঠক এবং ভারত-ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে গবেষণা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকে স্বাগত জানান।

৩৯.দুই নেতা ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা  এবং ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন এজেন্সির মধ্যে বর্তমান মহাকাশ সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। এছাড়া ২০২৬ সালের ২৪–২৫ জুন বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ মহাকাশ সহযোগিতা বিষয়ক যৌথ কমিশন বৈঠককেও তাঁরা স্বাগত জানান।

তাঁরা শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে মহাকাশ অনুসন্ধান ও ব্যবহারে ভারত-ইন্দোনেশিয়া কাঠামোগত সহযোগিতা চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টিও স্বাগত জানান।

৪০.প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারতের উপগ্রহ ও উৎক্ষেপণযান কর্মসূচি এবং গগনযান মিশন-এ BRIN-ISRO সহযোগিতা ও বিয়াক টেলিমেট্রি, ট্র্যাকিং অ্যান্ড কমান্ড সুবিধার মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য রাষ্ট্রপতি প্রাবোওকে ধন্যবাদ জানান।

রাষ্ট্রপতি প্রাবোও ইন্দোনেশিয়ার উপগ্রহ উৎক্ষেপণে ভারতের সহায়তা এবং CSSTEAP ও আসিয়ান-ভারত মহাকাশ সহযোগিতার মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য ভারতের প্রশংসা করেন। তিনি ইন্দোনেশিয়ায় স্পেসপোর্ট প্রকল্পে দুই দেশের মধ্যে মহাকাশ-ভিত্তিক সহযোগিতা বৃদ্ধিকেও স্বাগত জানান।

৪১.দুই নেতা শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার সংক্রান্ত সহযোগিতা নিয়ে চলমান আলোচনার অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন। তাঁরা বলেন, এই সহযোগিতা গবেষণা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারমাণবিক নিরাপত্তা ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।

এছাড়া শিল্প, পারমাণবিক চিকিৎসা, কৃষি ও জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বেসামরিক পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নকে উৎসাহিত করার প্রচেষ্টাকেও তাঁরা স্বাগত জানান।সংস্কৃতি, পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ

৪২.দুই নেতা ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ -এর সহায়তায় যোগ্যাকার্তার ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী প্রাম্বানান মন্দির কমপ্লেক্স-এর সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের উদ্বোধনকে স্বাগত জানান।

ইন্দোনেশিয়া, ভারতের জাতীয় জাদুঘরের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে প্রদান করা প্রায় ৮৬০ খ্রিস্টাব্দের মূল নালন্দা তাম্রশাসনের প্রতিরূপ, যা দেবনাগরী লিপিতে সংস্কৃত ভাষায় উৎকীর্ণ এবং বর্তমানে মুয়ারা জাম্বি-র নতুন জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে, তার জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

দুই নেতা ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে বারাণসীতে অনুষ্ঠিত জি-২০ সংস্কৃতিমন্ত্রীদের বৈঠকে গৃহীত ‘কাশী কালচারাল পাথওয়ে’-এর নীতিমালা স্মরণ করেন এবং পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও শ্রদ্ধার মনোভাব বজায় রেখে নিজ নিজ দেশের আইন ও প্রক্রিয়া অনুসারে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংক্রান্ত বিষয়ে দুই সরকারের মধ্যে নিয়মিত পরামর্শ অব্যাহত রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

৪৩.দুই নেতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং  দেওয়ান্তারা-এর স্থায়ী বৌদ্ধিক উত্তরাধিকার এবং অভিন্ন শিক্ষাদর্শকে স্বীকৃতি দেন। তাঁরা উল্লেখ করেন যে, তাঁদের পারস্পরিক আদান-প্রদান ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত সম্পর্কের দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

এই উপলক্ষে দুই নেতা ২০২৬–২০২৭ সালকে ‘ভারত-ইন্দোনেশিয়া ঠাকুর–দেওয়ান্তারা সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত কূটনীতি বর্ষ’ হিসেবে উদ্‌যাপনের সিদ্ধান্ত নেন। ১৯২৭ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ইন্দোনেশিয়া সফরের শতবর্ষ উপলক্ষে দুই দেশে বছরব্যাপী যৌথ সাংস্কৃতিক, শিক্ষাগত, একাডেমিক এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগমূলক নানা কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।

৪৪.দুই নেতা জনগণের মধ্যে যোগাযোগ জোরদারে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং পর্যটন সহযোগিতা আরও গভীর করার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে পর্যটকদের যাতায়াত বৃদ্ধি করার অভিন্ন অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তাঁরা ভ্রমণকে আরও সহজতর করা এবং ভিসা-সংক্রান্ত সুবিধা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে সম্মত হন।

৪৫.দুই নেতা শিক্ষা ক্ষেত্রে চলমান সহযোগিতার অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন এবং ছাত্র-ছাত্রী বিনিময়সহ একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে উভয় পক্ষকে উৎসাহিত করেন। তাঁরা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক দ্রুত চূড়ান্ত করার আহ্বান জানান।

৪৬.দুই নেতা উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁরা একাডেমিক গতিশীলতা, যৌথ গবেষণা, জ্ঞান বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন-সহায়ক অন্যান্য উদ্যোগের মাধ্যমে পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে উৎসাহিত করেন।

তাঁরা উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক দ্রুত চূড়ান্ত হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রপতি প্রাবোও ইন্দোনেশিয়ায় ভারতের খ্যাতনামা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শাখা ক্যাম্পাস স্থাপনে ক্রমবর্ধমান আগ্রহকে স্বাগত জানান। দুই নেতা ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (আইআইএম), বেঙ্গালুরু-এর একটি ক্যাম্পাস ইন্দোনেশিয়ায় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবকেও স্বাগত জানান।

৪৭.দুই নেতা ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং ইন্দোনেশিয়ার সাধারণ নির্বাচন কমিশনের মধ্যে মানবসম্পদ উন্নয়ন, নির্বাচন ব্যবস্থাপনার উন্নতি এবং নির্বাচনী প্রযুক্তির ব্যবহার সংক্রান্ত চলমান সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। তাঁরা নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ে ECI ও KPU-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকে স্বাগত জানান।

৪৮.দুই নেতা ভারতের পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রক  এবং স্ট্যাটিস্টিকস ইন্দোনেশিয়া-এর মধ্যে সরকারি পরিসংখ্যান, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত সহযোগিতা বিষয়ক প্রস্তাবিত সহযোগিতাকে স্বাগত জানান।

আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা

৪৯.বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক ও সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন এবং পারস্পরিক উদ্বেগের বৈশ্বিক বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে দুই নেতা জাতিসংঘ ও তার বিশেষায়িত সংস্থাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক মঞ্চে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সমন্বয় ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

তাঁরা আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে শান্তি, স্থিতিশীলতা, সহযোগিতা ও সমৃদ্ধিনির্ভর আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রতিনিধিত্বশীল বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। দুই পক্ষ সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি অভিন্ন শ্রদ্ধা পুনর্ব্যক্ত করে এবং সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বৈচিত্র্য, বহুত্ববাদ ও আইনের শাসনকে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরে।

এই প্রেক্ষাপটে তাঁরা দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব স্বীকার করেন এবং গ্লোবাল সাউথ-এর কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী করতে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সম্মত হন।

৫০.দুই নেতা সমসাময়িক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা এবং গ্লোবাল সাউথের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থবহ সংস্কারের লক্ষ্যে কাজ করার বিষয়ে একমত হন।

তাঁরা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সদস্যরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন আন্তঃসরকারি আলোচনার মাধ্যমে, পাঠভিত্তিক আলোচনা-সহ, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ও অস্থায়ী—উভয় শ্রেণির সদস্যপদের সম্প্রসারণ এবং সার্বিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেন। বহুপাক্ষিক মঞ্চে পারস্পরিক সমর্থনের চেতনাকে প্রতিফলিত করে দুই নেতা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পদে একে অপরের প্রার্থিতার প্রতি সমর্থন নিয়েও আলোচনা করেন।

৫১.দুই নেতা আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেন এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাকে কেন্দ্র করে নিয়মভিত্তিক, ন্যায্য, উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন, যা অ-বাজারভিত্তিক অনুশীলন, সরবরাহ শৃঙ্খলের অতিরিক্ত কেন্দ্রীভবন এবং অনিশ্চিত বাজারে প্রবেশাধিকার-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম হবে।

৫২.ইন্দোনেশিয়া ২০২৬ সালে ব্রিকসের  সভাপতিত্বে ভারতের প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে এবং ভারত ব্রিকসের সদস্য হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানায়।

দুই নেতা ব্রিকস, জি-২০, এবং ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন সহ গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করার বিষয়ে সম্মত হন, যাতে ন্যায্য বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা ও সুস্থায়ী উন্নয়নে গঠনমূলক অবদান রাখা যায়।

৫৩.২০১৮ সালে ঘোষিত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক সহযোগিতা সম্পর্কিত ভারত-ইন্দোনেশিয়ার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি স্মরণ করে দুই নেতা একটি স্বাধীন, উন্মুক্ত, স্বচ্ছ, নিয়মভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতি তাঁদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

৫৪.দুই নেতা সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান, আন্তর্জাতিক আইন—বিশেষ করে ১৯৮২ সালের UNCLOS—মেনে চলা, নৌ ও আকাশপথে অবাধ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং বলপ্রয়োগ বা বলপ্রয়োগের হুমকি থেকে বিরত থেকে সংলাপ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

৫৫.রাষ্ট্রপতি প্রাবোও আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে গড়ে ওঠা পরিবর্তিত আঞ্চলিক কাঠামোয় আসিয়ানের ঐক্য এবং আসিয়ানের কেন্দ্রীয় ভূমিকার প্রতি ভারতের ধারাবাহিক সমর্থনের প্রশংসা করেন।

দুই পক্ষ আসিয়ান-ভারত সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার পক্ষে মত প্রকাশ করে এবং ASEAN Outlook on the Indo-Pacific  ও ভারতের Indo-Pacific Oceans Initiative এর মধ্যে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমন্বয় আরও গভীর করার আহ্বান জানান।

৫৬.দুই নেতা ভারত-ইন্দোনেশিয়া-অস্ট্রেলিয়া ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতা কাঠামোকে স্বাগত জানান এবং সামুদ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা, সামুদ্রিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ, ব্লু ইকোনমি এবং পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলন , IPOI ও IORA-র আওতায় সহযোগিতার নতুন সুযোগ অনুসন্ধানের বিষয়ে একমত হন।

৫৭.দুই নেতা পশ্চিম এশিয়া/মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং তার বৈশ্বিক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁরা ২০২৬ সালের ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারককে স্বাগত জানান।

তাঁরা উত্তেজনা প্রশমনের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সব সমস্যার সমাধান সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে হওয়া উচিত। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষত UNCLOS-এর বিধান অনুযায়ী হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ নৌ-চলাচল এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখার গুরুত্বের বিষয়েও তাঁরা অভিন্ন মত প্রকাশ করেন।

৫৮.প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সুবিয়ান্তো-কে তাঁর এবং তাঁর প্রতিনিধিদলের প্রতি প্রদর্শিত আন্তরিক অভ্যর্থনা ও উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। ইন্দোনেশিয়ার জনগণের সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে প্রধানমন্ত্রী মোদী রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সুবিয়ান্তোকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের আন্তরিক আমন্ত্রণ জানান।

 

 

SC/


(रिलीज़ आईडी: 2282306) आगंतुक पटल : 8
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: Malayalam , English , Urdu , हिन्दी , Assamese , Gujarati , Odia , Tamil , Telugu , Kannada