প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রসঙ্গে ভারত-জাপান যৌথ বিবৃতি

प्रविष्टि तिथि: 02 JUL 2026 9:55PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ২ জুলাই, ২০২৬ 

 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) একটি যুগান্তকারী সর্বসাধারণের ব্যবহার্য প্রযুক্তি, যা অর্থনীতি, সমাজ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য, শাসনব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনায় সংস্কার নিয়ে আসছে। তাঁরা উপলব্ধি করেছেন নকশা, উন্নয়ন, প্রয়োগ এবং শাসনের ক্ষেত্রে এআই-এর সাহায্যে বর্তমানে যে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হচ্ছে, তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব উদ্ভাবন, সামাজিক কল্যাণ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ওপর পড়বে। এই ধারণার উপর ভিত্তি করে, তাঁরা এআই ক্ষেত্রে উভয় দেশের স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা পারস্পরিকভাবে বৃদ্ধি করতে এবং উদ্ভাবন ও উন্নয়নের জন্য সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে সম্মত হয়েছেন। এর মূল উদ্দেশ্য একটি নিরাপদ, সুরক্ষিত, বিশ্বাসযোগ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানবকেন্দ্রিক, সুস্থায়ী, জবাবদিহিমূলক এবং উদ্ভাবন-ভিত্তিক কৃত্রিম মেধার সাহায্যে উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা।

উভয় নেতা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছেন। তাঁরা ভারতের ‘মহাসাগর’ এবং জাপানের ‘ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক (এফওআইপি)’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থিতিশীল ও উন্নয়নমুখী অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছেন। এই লক্ষ্যে, তাঁরা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এবং দক্ষিণী বিশ্বের স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক এআই উন্নয়নকে সমর্থন করার জন্য ভারত ও জাপানের মধ্যে এবং সমমনা দেশ ও অংশীদারদের সঙ্গে এআই ক্ষেত্রে সহযোগিতা শক্তিশালী করতে অঙ্গীকারবদ্ধ হন।

 এআই-এর সুস্থায়ী উন্নয়নের জন্য, প্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রয়োগের মাধ্যমে উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা, এর সাথে সম্পর্কিত ঝুঁকিগুলো যথাযথভাবে প্রশমিত করা এবং স্থিতিশীল, বৈচিত্র্যময় ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খল নিশ্চিত করা যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ- এই বিষয়ে দুই নেতা সহমত প্রকাশ করেছেন। এই প্রসঙ্গে, তাঁরা নতুনদিল্লি এআই ইমপ্যাক্ট সামিটের আলোচনা ও ফলাফলকে স্বাগত জানান। 

উভয় নেতা ‘জাপান-ভারত এআই সহযোগিতা উদ্যোগ (জেএআই)’-এর অধীনে হওয়া অগ্রগতিকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। বিশেষ করে ২০২৬ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত প্রথম ভারত ও জাপান এআই কৌশলগত আলোচনাকে স্বাগত জানিয়েছেন তাঁরা। এআই-এর সুযোগ ও সমস্যা  সম্পর্কে সাধারণ মানুষ যাতে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারেন এবং তাঁদের যৌথ দৃষ্টিভঙ্গিকে নিম্নলিখিত অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলিতে বাস্তব ফলাফলে রূপান্তরিত করার জন্য, যথাযথভাবে প্রাসঙ্গিক অংশীদারদের যুক্ত করে নিয়মিত ভারত ও জাপান এআই কৌশলগত সংলাপ অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন তাঁরা:  

১. আন্তর্জাতিকস্তরে এআই-এর মাধ্যমে পরিচালনা, সুরক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা

দুই নেতা একটি আন্তর্জাতিকস্তরে পরিচালনগত কাঠামোকে উৎসাহিত করার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যা নিরাপদ, সুরক্ষিত, বিশ্বাসযোগ্য, শক্তিশালী এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক এআই-কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে এবং দায়িত্বশীল উদ্ভাবনকে সহায়তা করবে, পাশাপাশি জাতীয় আইন, অগ্রাধিকার এবং প্রেক্ষাপটকে মেনে চলবে। এআই-এর মাধ্যমে পরিচালন ব্যবস্থায় যে কোন ঝুকিকে মোকাবিলা করা, সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ, আনুপাতিকহারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। এই প্রসঙ্গে, তাঁরা হিরোশিমা এআই প্রক্রিয়া (এইচএআইপি)-এর তাৎপর্য তুলে ধরেছেন, যার মধ্যে উন্নত এআই ব্যবস্থাপনার জন্য এর আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা এবং আচরণবিধি যুক্ত করা হয়েছে। তাঁরা জাপানের সহ-সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘সেফ অ্যান্ড ট্রাস্টেড এআই ওয়ার্কিং গ্রুপ’-এর ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এর সময় তৈরি  ‘গাইডেন্স নোট অন এআই গভর্নেন্স’-এর নীতিমালার উপরও আলোকপাত করেন। জি-২০ গোষ্ঠী, অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি), গ্লোবাল পার্টনারশিপ অন এআই (জিপিএআই) এবং জাতিসংঘ সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা এবং এই প্রসঙ্গে এআই গভর্নেন্স বিষয়ক প্রথম জাতিসংঘ গ্লোবাল ডায়ালগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা ‘হিরোশিমা এআই প্রসেস ফ্রেন্ডস গ্রুপ’ এবং ‘পার্টনার্স কমিউনিটি’-র মধ্যে সহযোগিতা আরও নিবিড় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দক্ষিনী বিশ্ব ও বেসরকারি ক্ষেত্রের আরও অংশগ্রহণের মাধ্যমে ‘হিরোশিমা এআই প্রসেস ফ্রেন্ডস গ্রুপ অ্যাকশন প্ল্যান ২০২৬’-এর বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করার বিষয়ে তাঁদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। 

উভয় নেতা এআই পরিচালিত মডেলের মূল্যায়নের মাধ্যমে এর ক্ষমতা যাচাই, নির্দেশিকা, ব্যবহার্য সরঞ্জাম, এআই-এর সম্পূর্ণ জীবনচক্র জুড়ে এর নিরাপদ নকশা, উন্নয়ন, নকশার মাধ্যমে সেটিকে গড়ে তোলা এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তাঁরা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে ‘ট্রাস্টেড এআই কমন্স’-এর মাধ্যমে সহযোগিতার পথ খুজতে উৎসাহিত করেছেন। ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এর সময় প্রযুক্তিগত সম্পদ, সরঞ্জাম, মানদণ্ড এবং সর্বশ্রেষ্ঠ অনুশীলনগুলোকে একত্রিত করার একটি সহযোগিতামূলক মঞ্চ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

উভয় নেতা স্বীকার করেছেন, উন্নতমানের অত্যাধুনিক এআই মডেলগুলির সাইবারক্ষেত্রে প্রয়োগ করা সম্ভব, এর ফলে একদিকে যেমন অপব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে, পাশাপাশি এই ঝুকি থেকে যারা রক্ষা করবেন, তাঁদের শক্তিশালীও করতে পারে । সাইবার জগৎ যে একটি ‘গ্লোবাল পাবলিক গুড’ বা আন্তর্জাতিক স্তরের জনসম্পদ, সেই বিষোয়টি উল্লেখ করে তাঁরা বলেছেন, এই ধরনের ব্যবস্থাপনাগুলির মূল্যায়ন, নিয়ন্ত্রিতভাবে সেগুলি কাজে লাগানো এবং বিশ্বস্ত প্রবেশাধিকারের ব্যবস্থাগুলি নিরাপদ হতে হবে।  দায়িত্বশীল অংশীদারদের সাইবারজগতের সুরক্ষার চাহিদার বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে। তাঁরা বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর বিষয়টি উল্লেখ করেন, যেখানে এআই-এর সাহায্যে সাইবার নিরাপত্তা এবং এআই সিস্টেমের সুরক্ষার ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 তাঁরা এআই-এর উন্নয়ন ও প্রয়োগের সময় শিশুদের নিরাপত্তা রক্ষার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন এবং একমত হয়েছেন, এআই যেন শিশুদের জন্য ক্ষতির কারণ না হয়। এআই শিশুদের শিক্ষালাভ ও বিকাশের একটি মাধ্যম হিসেবে যাতে কাজ করে, তা নিশ্চিত করার জন্য দায়িত্বশীল পরিকল্পনা, পরিচালনা এবং যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা অপরিহার্য। 

২. পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, মডেল উন্নয়ন, মানবসম্পদ আদান-প্রদান এবং যৌথভাবে নানা সমস্যার সমাধান  
উভয় নেতা একটি নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং নির্ভরযোগ্য এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন, এর মধ্যে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলও অন্তর্ভুক্ত এবং যা এআই পরিচালিত প্রযুক্তি কাঠামোকে স্থিতিশীল করবে এবং যাকে বৈচিত্র্যময় ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খল সহায়তা করবে। এই লক্ষ্যে, তাঁরা এআই-এর ক্ষেত্রে ভারত ও জাপানকে কৌশলগত গবেষণা ও উন্নয়নক্ষেত্রে অংশীদার হিসেবে আরও উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁরা ডেটা সেন্টার, জিপিইউ ও অন্যান্য কম্পিউট রিসোর্স এবং সেমি-কন্ডাক্টরের মত ক্ষেত্রে এআই-এর জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে সহযোগিতাকে শক্তিশালী করার এবং অর্থনৈতিক-নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে এআই এর সাহায্যে প্রযুক্তি কাঠামোর সম্ভাব্য সুযোগ ও ঝুঁকিগুলো যৌথভাবে পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাশাপাশি, ডিজিটাল সংযোগ ও এআই সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতাকে শক্তিশালী করার করার লক্ষ্যে তাঁরা ‘এফওআইপি ডিজিটাল করিডোর উদ্যোগ’ এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

উভয় নেতা আরও শক্তিশালী, উদ্ভাবনী ও দক্ষ এআই ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহযোগিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এক্ষেত্রে তাঁরা ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ আলোচিত শক্তিশালী, উদ্ভাবনী ও দক্ষ এআই ব্যবস্থাপনার জন্য ভলান্টারি গাইডিং প্রিন্সিপাল এবং শক্তিশালী এআই পরিকাঠামো উন্নয়ন বিষয়ক পরিকল্পনার’-এর বিষয়গুলি বিবেচনা করেছেন। এর অধীনে দক্ষ মডেল তৈরি, অপ্টিমাইজড ইনফারেন্স, জ্বালানি-সাশ্রয়ী কম্পিউট ব্যবস্থা এবং পরিবেশ-বান্ধব ও নিরাপদ তথ্য পরিকাঠামো নিয়ে কাজ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 

উভয় নেতা বহুভাষিক, ওপেন-সোর্স, ডোমেইন স্পেসিফিক এবং ভার্টিক্যাল এআই মডেলের (যার মধ্যে স্থানীয় ভাষা ও জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট অ্যাপ্লিকেশনের মডেলও অন্তর্ভুক্ত) ক্ষেত্রে সরকার, শিল্পমহল ও শিক্ষাজগতের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে আরও সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারককেও তাঁরা স্বাগত জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল-এর যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি বোম্বে, ভারতজেন টেকনোলজি ফাউন্ডেশন এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেটিক্স-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক; সম্পূর্ণ এআই প্রযুক্তি কাঠামো জুড়ে সহযোগিতার জন্য সর্বম ও প্রিফার্ড নেটওয়ার্কস-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক এবং উভয় দেশের এআই-এর মানোন্নয়নে যুক্ত সংস্থাগুলিকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ‘ইন্ডিয়া এআই’ ও জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের মধ্যে সহযোগিতার জন্য স্মারক।

উভয় নেতা এআই-পরিচালিত বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ও উন্নত গবেষণার গুরুত্ব স্বীকার করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে উৎসাহিত করেছেন; যার মধ্যে ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এর সময় প্রতিষ্ঠিত ‘নেটওয়ার্ক অফ এআই ফর সায়েন্স (AI4S) ইনস্টিটিউশনস’-এর কার্যক্রমও অন্তর্ভুক্ত।

দুই নেতা গবেষণাক্ষেত্রে সহযোগিতাকে শক্তিশালী করার কৌশলগত গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন—যার মধ্যে যৌথ গবেষণা প্রকল্পগুলিকে উৎসাহিত করা এবং গবেষকদের আদান-প্রদান বা বিনিময়ের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, উভয় দেশের নেতারা সেমিকন্ডাক্টর, এআই-এর সামগ্রিক প্রযুক্তিকাঠামো বা 'স্ট্যাক' জুড়ে বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের ক্ষেত্রে শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতার মাধ্যমে মানবসম্পদ আদান-প্রদান করে দুই দেশের শিল্প জগতে প্রতিযোগিতা  আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে ভারতে এআই নিয়ে কাজ করা শক্তিশালী মানবসম্পদকে স্বীকৃতি দিয়ে, তারা ভারতের শীর্ষস্থানীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে দক্ষ মানব সম্পদের সঙ্গে জাপানি সংস্থাগুলির ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততাকে স্বাগত জানান। জাপানি সংস্থা ও ভারতের এআই নিয়ে কাজে দক্ষ মানব সম্পদের মধ্যে আরও শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তোলার লক্ষ্যে উভয় পক্ষ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণে সম্মত হয়। এর আওতায় জাপানি কোম্পানিগুলোকে ভারতে এআই-সম্পর্কিত গবেষণা ও উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং শিল্প-অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে উৎসাহিত করা হবে; পাশাপাশি যৌথ গবেষণা, ইন্টার্নশিপ, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং অন্যান্য উপায়ে ভারতীয় দক্ষ জনসম্পদের পেশাগত উন্নয়ন ও জাপানে তাদের কাজের সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে। এছাড়া, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত থেকে ৫০০ জন অত্যন্ত দক্ষ এআই পেশাজীবীকে জাপানে নিয়ে আসা এবং যৌথ গবেষণাকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জানুয়ারি মাসে ভারত-জাপান বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের কৌশলগত সংলাপে যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়, তারা তা পুনর্ব্যক্ত করেন।

উভয় নেতাই স্বীকার করেন, এআই-এর দায়িত্বশীল উন্নয়ন, প্রয়োগ এবং পরিচালনার ক্ষেত্রে দক্ষ মানবসম্পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে তারা 'ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট'-এর সময় 'এআই যুগে দক্ষতা বৃদ্ধি ও পুনঃদক্ষতা অর্জনের জন্য স্বেচ্ছাসেবী নির্দেশিকা নীতিমালার' উপযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দুই নেতা উভয় দেশের কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রাধিকারগুলো মোকাবিলায় যৌথভাবে এআই-এর সাহায্যে সমাধান তৈরির গুরুত্বর বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পগুলোতে গতি বৃদ্ধি করতে সম্মত হন। উভয় দেশের বিভিন্ন সংস্থা  স্টার্টআপ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী এবং সরকারি সংস্থাগুলিকে নিজেদের সমস্যা চিহ্নিত করে, এআই-এর সাহায্যে সেই সমস্যার সমাধান যৌথভাবে তৈরির আহ্বান জানান। এ ক্ষেত্রে, সফল এআই ব্যবহারের দৃষ্টান্তগুলি লিপিবদ্ধ করে সেগুলোর পরিসর বৃদ্ধিতে সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের 'গ্লোবাল এআই ইমপ্যাক্ট কমন্স'-এর সহায়তা নিতে উৎসাহিত করা হবে।

৩. সবার জন্য এআই

উভয় নেতা 'ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট'-এ গৃহীত 'নতুনদিল্লি ঘোষণা'-য় উল্লিখিত 'সবার জন্য এআই' ভিশন বা লক্ষ্যকে স্বাগত জানান। তারা সমগ্র মানবজাতির কল্যাণে, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুস্থায়ী উন্নয়নের লক্ষ্যে এবং জন পরিষেবা প্রদানের মানোন্নয়নে এআই-কে কাজে লাগানোর বিষয়ে তাদের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

*দুই নেতা বিভিন্ন দেশের আইন, অগ্রাধিকার এবং প্রেক্ষাপটকে সম্মান জানিয়ে এআই-এর সাহায্যে ক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সহায়তা, জ্ঞান বিনিময় এবং ব্যবহারিক দৃষ্টান্তের অনুকরণের জন্য সমমনা দেশ ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে একযোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একটি নিরাপদ, সুরক্ষিত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, সুস্থায়ী, শক্তিশালী এবং ভরসাযোগ্য এআই ইকোসিস্টেম যৌথভাবে তৈরি করার জন্য তৃতীয় কোন দেশকে অংশীদার হিসেবে নেওয়া এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সঙ্গে সহযোগিতা শক্তিশালী করা যে অপরিহার্য, সেই বিষয়ে উভয় নেতা সহমত পোষণ করেছেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ে ঘোষণা করেছেন, তাঁর দেশ যত দ্রুত সম্ভব এআই শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাপানের প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ভারত এ ক্ষেত্রে সব রকমের সহায়তা করবে। 

 

SC/CB/DM.


(रिलीज़ आईडी: 2280676) आगंतुक पटल : 2
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , Urdu , हिन्दी , Assamese , Punjabi , Gujarati , Malayalam