আয়ুষ
azadi ka amrit mahotsav

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপনে অংশগ্রহণ করেন

प्रविष्टि तिथि: 21 JUN 2026 8:14AM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ২১ জুন ২০২৬

 

 

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস (আইডিওয়াই)-এর জাতীয় উদযাপনে অংশ নেন। "সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ" প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই জাতীয় অনুষ্ঠানে তিনি হাজার হাজার অংশগ্রহণকারীর সঙ্গে কমন যোগ প্রোটোকল অনুযায়ী যোগব্যায়াম করেন; পাশাপাশি ভারত ও বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষ এই উদযাপনে সামিল হন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল শ্রী আর. এন. রবি, মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী, আয়ুষ মন্ত্রকের কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত) শ্রী প্রতাপরাও যাদব এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

 

সমবেত জনতাকে উদ্দেশ্য করে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে ভারত ও বিশ্বের সকল মানুষকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২১ জুন তারিখটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম যৌথ উদযাপনের দিনে পরিণত হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির মানুষ যোগচর্চার মাধ্যমে একত্রিত হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন যে, হিমালয় থেকে ভারত মহাসাগর এবং বাংলা থেকে সৌরাষ্ট্র - সমগ্র দেশ যোগের শক্তি ও উদ্দীপনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, মানুষ, সমাজ ও জাতিকে সংযুক্ত করার এক অনন্য ক্ষমতা যোগের রয়েছে এবং এটি মানব ঐক্যের বন্ধনকে ক্রমাগত শক্তিশালী করে চলেছে।

 

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, পশ্চিমবঙ্গের সমৃদ্ধ আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রেক্ষাপটে সেখানে এই জাতীয় উদযাপন আয়োজন করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। স্বামী বিবেকানন্দ ও শ্রী অরবিন্দ সহ বাংলার সঙ্গে যুক্ত মহান আধ্যাত্মিক নেতা ও চিন্তাবিদদের অবদানের কথা স্মরণ করে - যাঁরা বিশ্বজুড়ে যোগের বার্তা ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করেছিলেন - তিনি বলেন, এই ভূমি দীর্ঘকাল ধরে এমন সব ঐতিহ্যকে লালন করে আসছে যা মন, শরীর ও আত্মার ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দেয়। তিনি আরও বলেন, কলকাতায় আয়োজিত এই যৌথ যোগব্যায়াম পর্ব সেই দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহ্যেরই প্রতিফলন।

 

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য "সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ"-এর ওপর আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী শ্রী মোদী বলেন, যোগ কেবল শারীরিক ব্যায়াম বা কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি জীবনের এমন এক সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি যা জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে প্রাণশক্তি, সহনশীলতা ও সুস্থতার বিকাশ ঘটায়। তিনি বলেন, যোগ মানুষকে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে সুস্থ, সক্রিয় ও উদ্যমী থাকতে সহায়তা করে এবং একইসঙ্গে শারীরিক নমনীয়তা, মানসিক ভারসাম্য ও মানসিক শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।

 

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, যোগ জীবনের সকল ক্ষেত্রে ভারসাম্যের গুরুত্ব শেখায়। ভগবদগীতার শিক্ষার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুষম অভ্যাস, সুষম কর্ম এবং সুষম জীবনযাপনই সুস্থতার ভিত্তি। তিনি লক্ষ্য করেন যে, আধুনিক সমাজের অনেক সমস্যার মূলে রয়েছে জীবনযাত্রার ভারসাম্যহীনতা; আর যোগব্যায়াম বা যোগসাধনা এই ভারসাম্যে সামঞ্জস্য, শৃঙ্খলা ও মানসিক প্রশান্তির পথে এক বাস্তবসম্মত দিশা দেখায়।

 

যোগের সামগ্রিক বা সর্বাঙ্গীন প্রকৃতির ওপর গুরুত্বারোপ করে শ্রী মোদী বলেন, এর সুফল কেবল শারীরিক সুস্থতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা মানসিক সুস্থতা ও আবেগের স্থিতিশীলতা পর্যন্ত বিস্তৃত। তিনি উল্লেখ করেন যে, যোগব্যায়াম আত্মসচেতনতা বৃদ্ধি করে, মানসিক চাপ কমায় এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গঠনে সহায়তা করে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যোগব্যায়াম যেমন ব্যক্তির জীবনকে সমৃদ্ধ করে, তেমনই বিশ্বজুড়ে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সহযোগিতা ও শান্তি প্রসারেও এক শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে।

 

নাগরিকদের প্রতি যোগব্যায়ামকে দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটিকে যেন কেবল একটি নির্দিষ্ট দিনের উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখা হয়। তিনি ‘যোগ ৩৬৫’ উদ্যোগ এবং এ বছর চালু হওয়া ১০০ দিনের অনলাইন যোগ কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন; এই কর্মসূচিতে ১৩০টি দেশের ৩০ লক্ষেরও বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, যোগব্যায়ামের ব্যাপক প্রচলন একটি স্বাস্থ্যবান, শক্তিশালী ও স্বনির্ভর সমাজ গঠনে অবদান রাখবে এবং তিনি ‘সর্বে ভবন্তু সুখিনঃ, সর্বে সন্তু নিরাময়ঃ’ - এই প্রার্থনার মধ্য দিয়ে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

 

মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাতায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ও অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিদের স্বাগত জানান এবং দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপনের জাতীয় অনুষ্ঠানের স্থান হিসেবে পশ্চিমবঙ্গকে বেছে নেওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই অনুষ্ঠানটি রাজ্যজুড়ে অভূতপূর্ব উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে; দার্জিলিং থেকে দিঘা ও কোচবিহার থেকে শুরু করে রাজ্যের সব জেলার মানুষ যোগব্যায়াম ও উদযাপনে অংশ নিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, কলকাতা ও সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের বিপুল সংখ্যক নাগরিক এই আয়োজনে সামিল হয়েছেন, যা জীবনযাত্রার একটি অংশ হিসেবে যোগব্যায়ামের ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতাকে প্রতিফলিত করে।

 

বাংলার সমৃদ্ধ আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে শ্রী অধিকারী স্বামী বিবেকানন্দ এবং অন্যান্য মহান চিন্তাবিদদের অবদানের কথা স্মরণ করেন, যাঁরা মন, শরীর ও চরিত্রের বিকাশে যোগব্যায়ামের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, যোগব্যায়ামের নীতিগুলি ভারতের সভ্যতার ঐতিহ্যে গভীরভাবে প্রোথিত এবং তা মানুষকে ভারসাম্যপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপনে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপনের আয়োজন কলকাতায় নিয়ে আসার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজক হওয়ার সুযোগের জন্য পশ্চিমবঙ্গের জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

সমবেত সকলকে স্বাগত জানিয়ে আয়ুষ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত) শ্রী প্রতাপরাও যাদব বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বে যোগব্যায়াম স্বাস্থ্য ও সুস্থতার ক্ষেত্রে একটি প্রকৃত বিশ্বজনীন আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস সংক্রান্ত রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর থেকে বর্তমানে ১৮০টিরও বেশি দেশে যোগ দিবস উদযাপিত হচ্ছে, যা সমসাময়িক সমাজে এর সর্বজনীন আবেদন ও ক্রমবর্ধমান প্রাসঙ্গিকতাকে তুলে ধরে।

 

এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় "সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগব্যায়াম"-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শ্রী যাদব মন্ত্রকের "যোগ ৩৬৫" উদ্যোগটির কথা তুলে ধরেন; এর লক্ষ্য হলো নাগরিকদের সারা বছর ধরে তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে যোগব্যায়াম চর্চায় উৎসাহিত করা। তিনি আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন, যার মধ্যে রয়েছে ব্যাপক জন-সংযোগ কর্মসূচি, ডিজিটাল অংশগ্রহণের প্রচারভিযান এবং অভিনব যোগব্যায়াম কার্যক্রম। ভারতের ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতির প্রসারে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আয়ুষ মন্ত্রক আয়ুষ পরিষেবাগুলির প্রসার ঘটাতে এবং দেশের সুস্থতা বা 'ওয়েলনেস' পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছে। কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত এই উদযাপনে যোগব্যায়াম অনুশীলনকারী, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবক, বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেন। স্বাস্থ্য ও সুস্থতার লক্ষ্যে একটি আন্দোলন হিসেবে যোগব্যায়ামের ব্যাপক জনপ্রিয়তার প্রতিফলন ঘটিয়ে, দেশ ও বিদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ যোগব্যায়াম অভ্যাস, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই আয়োজনে সামিল হয়েছেন।

 

এই উদযাপন কর্মসূচিতে অভূতপূর্ব জনঅংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে; ‘যোগ সঙ্গম পোর্টাল’-এ নিবন্ধিত সংস্থার সংখ্যা ছয় লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে। এই বিপুল সাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সম্প্রদায় এবং নাগরিকদের মধ্যে যোগব্যায়ামকে একটি প্রকৃত গণ-আন্দোলনে পরিণত করার প্রবল উৎসাহকেই তুলে ধরে।

 

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬-এ বিশ্বজুড়েও উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ পরিলক্ষিত হচ্ছে। ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস’ (আইসিসিআর)-এর সমন্বিত প্রচেষ্টায়, বিশ্বের প্রায় ২,৫০০টি স্থানে ২১০টিরও বেশি ভারতীয় মিশন যোগব্যায়াম উদযাপনের আয়োজন করছে।

 

উদযাপনে সাংস্কৃতিক মাত্রা যোগ করতে, সংস্কৃতি মন্ত্রক ‘আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’ (এএসআই)-র সহযোগিতায় দেশের ১০০টি আইকনিক বা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ যোগব্যায়াম অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। এর মাধ্যমে ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং যোগব্যায়াম ঐতিহ্যের মধ্যে এক মেলবন্ধন গড়ে তোলা হচ্ছে।

 

 

 

SC/SB/AS


(रिलीज़ आईडी: 2276366) आगंतुक पटल : 2
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: Nepali , Khasi , English , Urdu , Marathi , हिन्दी , Gujarati , Odia , Tamil , Telugu , Kannada