প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
বিকশিত ভারত রোজগার যোজনার অধীনে প্রায় ২,৪০০ কোটি টাকার উৎসাহ ভাতা প্রদান প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর
प्रविष्टि तिथि:
19 JUN 2026 7:49PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি, ১৯ জুন ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ 'প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনা'-র সুবিধাপ্রাপক, শিল্প-প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিনি ভারতের যুবসমাজের ক্ষমতায়ন এবং দেশজুড়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা ব্যক্ত করেন। ভারত সরকারের কর্মসংস্থান-ভিত্তিক প্রকল্প 'প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনা' (পিএম-ভিবিআরওয়াই)-র বাস্তবায়নে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্র প্রসারিত করেছে। শ্রী মোদী এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২,৪০০ কোটি টাকার উৎসাহ ভাতা প্রদান করেন। এই উদ্যোগ দেশজুড়ে ১৫ লক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সহায়তা করেছে।
ফ্রান্স ও স্লোভাকিয়া সফর (যেখানে তিনি জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেন এবং বিশ্বনেতাদের সঙ্গে মত বিনিময় করেন) থেকে ফেরার পরপরই আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, ভারতের যুবসমাজ তাঁদের মেধা, দক্ষতা ও সম্ভাবনার জন্য বিশ্বজুড়ে অভূতপূর্ব স্বীকৃতি পাচ্ছে। তিনি বলেন যে, বিশ্ব ক্রমশ তরুণ ভারতীয়দের সক্ষমতাকে স্বীকার করে নিচ্ছে এবং প্রতিটি তরুণ যাতে তাঁদের সম্ভাবনাকে সাফল্যে রূপান্তর করার সুযোগ পায়, তা সুনিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
শ্রী মোদী বলেন, "প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনা কেবল একটি কর্মসংস্থান প্রকল্প নয়; এটি এমন একটি উদ্যোগ, যা কর্মজীবনে প্রবেশকারী তরুণদের আকাঙ্ক্ষাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি শিল্প ও কর্মীবাহিনীর মধ্যে একটি বলিষ্ঠ সেতুবন্ধন গড়ে তোলে।"
এই প্রকল্পের সাফল্যের কথা তুলে ধরে শ্রী মোদী জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং সমসংখ্যক নতুন কর্মী সামাজিক সুরক্ষার আওতাভুক্ত হয়েছেন। তিনি আরও জানান যে, প্রায় ২০ লক্ষ তরুণ তাঁদের প্রথম চাকরিতে ছয় মাস পূর্ণ করেছেন এবং এই মাইলফলক অতিক্রম করার পর প্রায় ১০ লক্ষ সুবিধাভোগী ইতিমধ্যে প্রকল্পের আওতায় উৎসাহ ভাতা পেয়েছেন।
সুবিধাপ্রাপকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ২,০০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে। এই সহায়তাকে কেবল আর্থিক সাহায্য নয় বলে অভিহিত করে শ্রী মোদী বলেন, এটি দেশের যুবসমাজের কঠোর পরিশ্রমের প্রতি স্বীকৃতি এবং তাঁদের ভবিষ্যতের ওপর দেশের আস্থার প্রতিফলন।
শ্রী মোদী বলেন যে, ভারত বিশ্বের অন্যতম তরুণ রাষ্ট্র এবং একটি উন্নত দেশ হয়ে ওঠার যাত্রা দেশের তরুণদের আকাঙ্ক্ষা, দক্ষতা ও সক্ষমতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি সরকারের সেই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন, যার লক্ষ্য হল, প্রতিটি তরুণ ভারতীয় যেন তাদের মেধা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে পারে, তা নিশ্চিত করা। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, গত বারো বছরে সরকার কর্মসংস্থানের প্রতিটি পথকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, "পরিকাঠামো ও উদ্ভাবন থেকে শুরু করে উৎপাদন শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং স্টার্টআপ - বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য চেষ্টা চালানো হয়েছে। 'মেক ইন ইন্ডিয়া', 'ভোকাল ফর লোকাল', স্থানীয় পণ্যকে বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ এবং 'মিশন ম্যানুফ্যাকচারিং'-এর মতো কর্মসূচিগুলো কর্মসংস্থান ও স্ব-নিযুক্তি - উভয়ের জন্যই নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।"
শ্রী মোদী বলেন যে, পরিকাঠামো ক্ষেত্রে সরকারের ১২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করছে। তিনি আরও বলেন যে, 'প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা'-র আওতায় ৩৩ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি সহায়তা লক্ষ লক্ষ তরুণকে নিজেদের উদ্যোগ বা ব্যবসা গড়ে তুলতে সক্ষম করেছে। নারীর ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি জানান, ১০ কোটিরও বেশি নারী 'স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত এবং ৩ কোটিরও বেশি নারী 'লাখপতি দিদি' হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। তিনি আরও বলেন যে, 'পিএম স্বনিধি' এবং 'পিএম বিশ্বকর্মা'-র মতো উদ্যোগগুলো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, রাস্তার হকার এবং পরম্পরাগত কারিগরদের জীবিকাকে শক্তিশালী করেছে।
প্রধানমন্ত্রী ড্রোন ক্ষেত্রকে উদীয়মান প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। ওষুধ ও কৃষি-সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার থেকে শুরু করে 'স্বামিত্ব' প্রকল্পের আওতায় জমির মানচিত্র তৈরি এবং প্রতিরক্ষা কার্যক্রম ‐ সর্বত্রই ড্রোন প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহার তরুণ ভারতীয়দের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন পথ খুলে দিচ্ছে। ডিজিটাল অর্থনীতির রূপান্তরমূলক প্রভাব সম্পর্কে বলতে গিয়ে শ্রী মোদী কর্মসংস্থান ও আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে 'গিগ ইকোনমি', প্ল্যাটফর্ম-ভিত্তিক পরিষেবা, কনটেন্ট তৈরি এবং প্রযুক্তি-চালিত উদ্যোগের উত্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "একসময়ে যা ছিল অকল্পনীয় সুযোগ, তা আজ লক্ষ লক্ষ তরুণ ভারতীয়র জন্য জীবিকার বাস্তব ও কার্যকর উপায় হয়ে উঠেছে। ভারতের প্রাণবন্ত স্টার্টআপ পরিমণ্ডলেও একই পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে; এটি ক্রমাগত উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে অবদান রাখছে।"
ফ্রান্স সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি 'ইন্ডিয়া ইনোভেটস' অনুষ্ঠানের সফল আয়োজনের কথা স্মরণ করেন; এই অনুষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ প্রযুক্তি, সবুজ শক্তি এবং জৈব-প্রযুক্তির মত উদীয়মান ক্ষেত্রগুলিতে ভারতীয় স্টার্টআপ ও বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের একত্রিত করা হয়েছিল। তিনি বলেন যে, এ ধরনের উদ্যোগ ভারতের উদ্ভাবনী বাস্তুতন্ত্রের প্রতি ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক আগ্রহ এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকাকেই তুলে ধরছে।
প্রধানমন্ত্রী গত বারো বছরে ভারতের কর্মসংস্থান ব্যবস্থায় ঘটে যাওয়া এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। শ্রী মোদী বলেন যে, "সরকারের মূল লক্ষ্য হলো কর্মসংস্থানের সঙ্গে নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সামাজিক সুরক্ষার সংযোগ ঘটানো। এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশনের আধুনিকীকরণ, পেনশন ব্যবস্থাকে সহজতর করা এবং লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের জন্য স্বাস্থ্য বিমা ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ সম্প্রসারণে প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকারের গৃহীত শ্রম সংস্কারের ক্ষেত্রেও একই দর্শন কাজ করছে।"
শিল্পজগতের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময়, শ্রী মোদী একবিংশ শতাব্দীতে অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জনের ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি, উদ্ভাবন এবং গুণমানের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন যে, যে সব দেশের এই সক্ষমতাগুলি রয়েছে, তারা সবচেয়ে বেশি সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, এই তিনটি ক্ষেত্রেই ভারতের অভূতপূর্ব সম্ভাবনা রয়েছে। শ্রী মোদী বলেন, “বিশ্ব ক্রমশ ভারতের জন্য তার দ্বার উন্মুক্ত করছে এবং প্রায় চল্লিশটি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তিগুলি নতুন বাজার তৈরি করছে, বিশ্বব্যাপী ক্রেতাদের কাছে পৌঁছনোর সুযোগ বাড়াচ্ছে এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় গড়ে ওঠা ব্র্যান্ডগুলোর জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে।”
শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, কোনো দেশ যখন বিশ্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে, তখন সাফল্যের পরিধি স্বাভাবিকভাবেই প্রসারিত হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, একবিংশ শতাব্দীতে প্রশিক্ষণ, পরামর্শদান (মেন্টরশিপ) এবং ইন্টার্নশিপ আর ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত কর্মীবাহিনীর অপরিহার্য উপাদান। শ্রী মোদী বলেন, “উন্নত ভারত গড়ার যাত্রা কেবল বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করবে না; বরং তা চালিত হবে মেধা, দক্ষতা এবং উদ্ভাবনী শক্তির মাধ্যমে। জাতীয় উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে গুণমান বা উৎকর্ষতাকেই মূল মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতা ও সাফল্য অর্জনের জন্য ভারতকে ধারাবাহিকভাবে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করতে হবে এবং তা অতিক্রম করতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতের তরুণ সমাজ ও তাঁদের উদ্যোক্তা-সুলভ মানসিকতার ওপর অবিচল আস্থা প্রকাশ করেন। তিনি সকল অংশগ্রহণকারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে ওঠার লক্ষ্যে ভারতের অগ্রগতির যাত্রায় দেশের তরুণ নাগরিকদের আকাঙ্ক্ষা, উদ্ভাবন ও উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সহায়তা করার বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা ফের দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যক্ত করেন।
SC/MP/AS
(रिलीज़ आईडी: 2275620)
आगंतुक पटल : 11
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें:
Telugu
,
English
,
Urdu
,
Marathi
,
हिन्दी
,
Manipuri
,
Assamese
,
Punjabi
,
Gujarati
,
Odia
,
Kannada
,
Malayalam