চলচ্চিত্র হল একটি যৌথ শিল্পকলা : দীপা ভাটিয়া
মুম্বই, ১৮ জুন, ২০২৬
১৯তম মুম্বই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (এমআইএফএফ ২০২৬) অংশ হিসেবে আয়োজিত ‘সারভাইভিং দ্য কাট’ শীর্ষক এক কর্মশালায় আজ চলচ্চিত্র সম্পাদনার শিল্প ও কৌশল নিয়ে মনোগ্রাহী আলোচনা করেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র সম্পাদক দীপা ভাটিয়া। চলচ্চিত্র-শিক্ষার্থী এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের বিভিন্ন ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত পেশাদাররা এতে অংশ নেন।
সিনেমার মূল সত্তা সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে পরিচালক ও প্রযোজক দীপা ভাটিয়া বলেন যে, চলচ্চিত্র হলো চলমান চিত্র ও মন্তাজের এক অনন্য সমন্বয়; আর সম্পাদনার কৌশলে এমন এক মানবিক স্পর্শ থাকা প্রয়োজন, যা সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতার কেন্দ্রে অবস্থান করে।
একজন সম্পাদকের প্রয়োজনীয় গুণাবলী সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বিষয়বস্তু অনুধাবন ও সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, "শট বা দৃশ্যখণ্ড সম্পর্কে সম্পাদকের গভীর বিচার-বিবেচনা ও অনুধাবন ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন।"
বিশিষ্ট এই সম্পাদক জোর দিয়ে বলেন যে, সম্পাদকের উচিত চলচ্চিত্র নির্মাতার দৃষ্টিভঙ্গি ও আবেগের গভীরতা বোঝার চেষ্টা করা এবং সম্পাদনার টেবিলে বসে প্রকল্পটির সঙ্গে এক ধরনের নিবিড় একাত্মতা ও মমত্ববোধ গড়ে তোলা। তিনি বলেন যে, কাজের প্রতি এমন গভীর সম্পৃক্ততাই সেরা সৃজনশীল ফলাফল বয়ে আনে।
সম্পাদনাকে ছন্দ বা লয় বোঝার শিল্প হিসেবে চিহ্নিত করে দীপা ভাটিয়া বলেন যে, সম্পাদনা প্রক্রিয়ায় দৃশ্যগুলির উপস্থাপনা বা বিন্যাসের ক্ষেত্রে শটগুলির অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ‐ উভয় ধরনের ছন্দই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
নিজের দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে দীপা ভাটিয়া তাঁর প্রশংসিত কয়েকটি চলচ্চিত্র প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর সম্পাদনা করা উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলির মধ্যে রয়েছে 'তারে জমিন পর', 'মাই নেম ইজ খান', 'রক অন!!', 'কাই পো চে!', 'রইস', 'স্টুডেন্ট অফ দ্য ইয়ার' এবং 'শচীন: আ বিলিয়ন ড্রিমস'। তিনি চলচ্চিত্রের বিভিন্ন দৃশ্যক্রম বা সিকোয়েন্সের যথাযথ উত্তরণের ওপর গুরুত্ব দেন।
'রক অন!!' - এর উদাহরণ টেনে তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, কীভাবে চলচ্চিত্রটির শুরুর দৃশ্যগুলিতে সম্পাদনার মাধ্যমে এক ধরনের স্বাভাবিকতা বজায় রাখা হয়েছিল, যা ধীরে ধীরে শেষের দিকের শান্ত ও স্থির মেজাজের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। 'শচীন: আ বিলিয়ন ড্রিমস' প্রসঙ্গে তিনি লন্ডনে বসে দেড় বছর ধরে ছবিটির সম্পাদনার কথা স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, কিংবদন্তি এই ক্রিকেটারের জীবন ও কর্মজীবনের মূল নির্যাস ফুটিয়ে তোলার লক্ষ্যে একটি বিশেষ মন্টাজের মাধ্যমে তথ্যচিত্রটি শুরু করা হয়েছে।
তথ্যচিত্রের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে দীপা ভাটিয়া উল্লেখ করেন যে, ওটিটি প্ল্যাটফর্মের আগমনের ফলে এই ধারার প্রতি দর্শকদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিষয়টি যেমন তুলে ধরেন, তেমনই একটি সুসংহত সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন।
SC/MP/SB
रिलीज़ आईडी:
2275094
| Visitor Counter:
8