বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রক
সিটি ইন্ডিয়া কনফারেন্স ২০২৬-এ কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী শ্রী পীযুষ গোয়েল: বিশ্বের সবচেয়ে আস্থাভাজন বিনিয়োগ গন্তব্য হয়ে উঠে আসছে ভারত
प्रविष्टि तिथि:
04 JUN 2026 1:21PM by PIB Agartala
নতুন দিল্লি, ০৪ জুন, ২০২৬
কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী শ্রী পীযুষ গোয়েল মুম্বাইতে সিটি ইন্ডিয়া কনফারেন্স ২০২৬-এ ভার্চুয়াল মাধ্যমে মুখ্য বক্তা হিসেবে ভাষণ দিলেন, তুলে ধরলেন বিশ্বের সবচেয়ে আস্থাভাজন বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে ভারতের উঠে আসার বিষয়টি। তিনি বিশেষভাবে জানালেন উৎপাদন ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করতে, সহজে বাণিজ্য করতে, পরিকাঠামো, প্রযুক্তি গ্রহণ এবং বিশ্ব বাণিজ্য চুক্তির জন্য সরকারের চলতি প্রয়াসের কথা।
আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী এবং বাণিজ্য প্রতিনিধিদের উদ্দেশে ভাষণে শ্রী গোয়েল বলেন, ভারত বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তিনি জানান, ভারত আগামী দু দশকেরও বেশি সময় ধরে এই স্থান ধরে রাখবে। তিনি বলেন, ভারত লাগাতারভাবে সঙ্কটকে সুযোগে পরিণত করেছে, প্রক্রিয়াকে এবং বাণিজ্যিক কলাকৌশলকে নতুন করে সাজিয়ে পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, যাতে বাণিজ্য, ব্যবসা, উৎপাদন এবং বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণের গন্তব্য হয়ে থাকা যায়।
মন্ত্রী বলেন, কানাডা এবং আমেরিকায় সম্প্রতি বিনিয়োগকারী এবং বণিকদের সঙ্গে তাঁর আলোচনায় বোঝা গেছে ভারতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার উপর সারা বিশ্বের আস্থা আছে। বিশাল বাণিজ্য প্রতিনিধি দল নিয়ে তাঁর কানাডা সফরের উল্লেখ করে মন্ত্রী প্রস্তাবিত ভারত-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে কীরকম ইতিবাচক সাড়া মিলেছে তা তুলে ধরেন। অবসরভাতা তহবিল, বীমা এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে জোরালো বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে। তিনি আরও জানান, শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এবং প্রায় ৫০টি কোম্পানীর সঙ্গে নিউইয়র্কে তাঁর আলোচনা থেকে পুনরায় বোঝা গেছে, যে ভারতকে তারা একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য, বিকল্প, উৎপাদন শিল্পের হাব হিসেবে, আস্থাভাজন অংশীদার হিসেবে এবং সুরক্ষিত বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে দেখছে, যে দেশে আছে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সম্পন্ন নেতৃত্ব, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং ১৪০ কোটি মানুষের বিশাল বাজার।
শ্রী গোয়েল বলেন, দীর্ঘমেয়াদী আন্তর্জাতিক মূলধন ক্রমবর্ধমান আগ্রহ নিয়ে ভারতের দিকে লক্ষ্য রাখছে। নিউইয়র্ক এবং টরন্টোয় শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলাপচারিতার উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রতিটি আলোচনাতেই ভারতের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন রেখায় আস্থা স্থাপন করতে দেখা গেছে। প্রশ্নটা হলো ভারতে লগ্নি করা হবে কী হবে না, তা নয়, বরং ভারতের উন্নয়নের যাত্রাটি তারা কত তাড়াতাড়ি বুঝতে পারছে এবং অংশ নিতে পারছে সেটাই মূল বিষয়।
ভারতে সফল দীর্ঘমেয়াদী লগ্নির উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী ১৯৯৯-তে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার লগ্নি করে হুন্ডাইয়ের ভারতে প্রবেশ করার কথা বলেন। তিনি বলেন, সেই সময়ে পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা থাকলেও ওই কোম্পানী ভারতের উৎপাদন চালিয়ে রেখে যথেষ্ট উন্নতি করেছে এবং ডিভিডেন্ড, রয়্যালটি, ক্যাপিটাল অ্যাপ্রিসিয়েশনের মাধ্যমে যথেষ্ট রিটার্নও দিচ্ছে। তিনি ভারতে জেসিবি-র অভিজ্ঞতার কথাও বলেন, জানান ওই কোম্পানী যখন এদেশে এসেছিল তখন পরিকাঠামো উন্নয়ন ছিল প্রাথমিক স্তরে। আর এখন এদেশে তৈরি পণ্য ১৩০টি দেশে পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ চাহিদাও মেটানো হচ্ছে। তিনি বলেন, এইসব নজির থেকে বোঝা যায়, দেশের বাজার এবং বাইরের বাজারের জন্য উৎপাদন করার মতো ভারতের ক্ষমতা আছে।
মন্ত্রী বলেন, ভারত বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য যোগাযোগের প্রসার ঘটিয়েছে। গত তিন থেকে সাড়ে তিন বছরে ভারত ৯টি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে আছে ৩৮টি উন্নত অর্থনীতি। এইসব চুক্তি ভারতের উন্নয়নের কাহিনীকে সমর্থন করছে, বেড়েছে বাজারের সুযোগ, ব্যবসা করার সুবিধা, মেধার আদানপ্রদান এবং বিনিয়োগ আকর্ষণ। ভারতে গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার স্থাপন হয়েছে।
ভারতের উন্নয়নের যাত্রায় অংশগ্রহণ করার জন্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানিয়ে শ্রী গোয়েল বলেন, ভারত শুধুমাত্র একটি বড় এবং ক্রমবর্ধমান বাজারই নয়, এটা উদ্ভাবন, নকশা এবং উন্নত উৎপাদনের মূল জায়গা। তিনি বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ধরে দীর্ঘমেয়াদী লগ্নি করার আবেদন জানান, যাতে ভারতে নতুন প্রযুক্তি এবং ভবিষ্যতের শিল্প সহজ হয়।
মন্ত্রী জানান, ওমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ১ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে। আগামী ৬ মাসে আরও ২ থেকে ৩টি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হতে চলেছে। তিনি আরও জানান, ভারত আগামী বছরে আরও ৩ থেকে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি করবে এবং আগামী ৯ থেকে ১০ মাসে ইতিমধ্যে স্বাক্ষরিত হওয়া ৯টি চুক্তি কার্যকর করবে।
সহজে ব্যবসা করার জন্য সাম্প্রতিক সংস্কারের উল্লেখ করে শ্রী গোয়েল বলেন, এপ্রিলে জনবিশ্বাস আইনের দ্বিতীয় সংস্কারণ পাশ হয়েছে। তিনি জানান, প্রায় ১ হাজার অপরাধ মকুব হয়েছে আইনে, যেখানে প্রতারণার কোনো উদ্দেশ্য নেই এবং জনসুরক্ষা এবং জনস্বাস্থ্যের প্রতি ক্ষতিকারক নয়। তিনি জানান, এই সংস্কার সরকারের বিশ্বাসনির্ভর উদ্দেশ্যের প্রতিফলন। যেখানে বাধ্যবাধকতার বোঝা কমানো হচ্ছে, আইন ব্যবস্থার চাপও সহজ করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, সারা দেশে ১০০টি শিল্প পার্ক তৈরির জন্য সম্প্রতি ঘোষিত হয়েছে ভব্য কর্মসূচি। খরচ হবে ৩.৫ বিলিয়ন ডলার। এর উদ্দেশ্য চটজলদি শিল্প পরিকাঠামো গড়ে তোলা। উৎপাদন, কর্মী আবাসন, মনোরঞ্জনের সুবিধা, পরিবেশগত ছাড়পত্র, অভিন্ন নিকাশি ব্যবস্থা, জলসরবরাহ, বিদ্যুৎ এবং ডিজিটাল পরিকাঠামো। তিনি বলেন, এই উদ্যোগে সরকার সবরকম সুবিধা দেবে কিন্তু নিয়ন্ত্রক হয়ে থাকবে না, শুধু সহায়তা করবে এমএসএমই, উৎপাদন এবং ব্যবসায়।
শ্রম সংস্কারের উল্লেখ করে শ্রী গোয়েল জানান, চারটি শ্রম কোড কার্যকর হয়েছে এবং একাধিক রাজ্য সেটি গ্রহণ করে বিধি সংশোধন করছে। ২৯টি শ্রম আইনকে চারটি শ্রম কোডে পরিবর্তন করার মাধ্যমে পদ্ধতি সরল করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সঙ্কটের মোকাবিলা ভারত কীভাবে করছে সেই নিয়ে আলোচনায় মন্ত্রী বলেন, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত থেকে উত্থিত সমস্যার সফল মোকাবিলা করেছে ভারত। বিভিন্ন সূত্র থেকে জ্বালানি আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে অপেক্ষাকৃত কম দামে। কৃষকদের জন্য সারের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে বিশ্ববাজারে মূল্য বৃদ্ধি সত্ত্বেও। অতিরিক্ত ভার বহন করছে কেন্দ্রীয় সরকার নিজেই। শ্রী গোয়েল বলেন, গত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কঠোর আর্থিক ব্যবস্থাপনার ফলে ভারত কৃষক, এমএসএমই, ব্যবসা এবং সমাজে দুর্বল শ্রেণীকে সাহায্য করতে পারছে, অথচ অর্থনৈতিক স্থিরতা রক্ষা করছে।
পরিকাঠামো উন্নয়ন সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, ভারত বন্দর, জাতীয় সড়ক, রাস্তা, গ্রামীণ যোগাযোগ এবং বিমাবন্দরে প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলার লগ্নি করছে। গত এক দশকে দেশের বন্দর এবং বিমানবন্দর ক্ষমতা দ্বিগুণ হয়েছে। জলজীবন মিশনের কথা উল্লেখ করেন তিনি, সেইসঙ্গে ৫০০ গিগাওয়াটের ন্যাশনাল পাওয়ার গ্রিড স্থাপনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ভারতের পরিকল্পনা আছে আগামী ৫ বছরে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ক্ষমতা আড়াইশো গিগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ৫০০ গিগাওয়াট করা। সেমি কনডাকটর শিল্পের জন্য টাটা এবং এএসএমএল ভারতে প্রথম ক্যাপিটাল ইক্যুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং করছে বলে সন্তোষপ্রকাশ করেন শ্রী গোয়েল।
মন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্ব প্রাথমিকভাবে লগ্নি করতো ভারতের মেধাতে। এখন এটি ক্রমবর্ধমানভাবে লগ্নি করছে ভারতের মূলধন এবং প্রযুক্তিতে। মন্ত্রী জানান, ভারত সুরক্ষিত নিরাপদ পরিমণ্ডল দিচ্ছে, যেখানে মেধাসম্পদ সুরক্ষিত থাকবে, প্রযুক্তি নিরাপদ থাকবে এবং গোপনীয়তা বজায় থাকবে। সব শেষে শ্রী গোয়েল বলেন, ভারতের প্রভূত সম্ভাবনা আছে। উন্নতমানের পণ্য পরিষেবার নকশা এবং উৎপাদন করার ক্ষমতা আছে এদেশে।
*****
PS/Agt
(रिलीज़ आईडी: 2268958)
आगंतुक पटल : 6