পরিবেশওঅরণ্যমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

ভারতে ব্যাঘ্র প্রজাতির পাঁচটি পশুর সংরক্ষণের উদ্যোগের প্রচারে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক দেশজুড়ে পাঁচটি বিষয়-ভিত্তিক কর্মসূচির আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে

প্রকাশিত: 13 MAY 2026 11:08AM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ১৩ মে, ২০২৬

 

ভারতে ব্যাঘ্র প্রজাতির পাঁচটি পশু – বাঘ, এশীয় সিংহ, লেপার্ড, স্নো লেপার্ড এবং চিতা – এদের সংরক্ষণের উদ্যোগের প্রচারে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক দেশজুড়ে পাঁচটি বিষয়-ভিত্তিক কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্সের লক্ষ্যগুলি পূরণের ক্ষেত্রে ভারতের সাফল্যও এর মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। এক্ষেত্রে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলির বিভিন্ন উদ্যোগ, সাফল্য ও যৌথ প্রয়াস সম্পর্কে জানানো হবে।

বিষয়-ভিত্তিক এই অনুষ্ঠানগুলি আয়োজিত হবে – 
গুজরাটের গিরে এশীয় সিংহ সংরক্ষণ কর্মসূচি
মধ্যপ্রদেশের ভোপালে চিতা সংরক্ষণ কর্মসূচি
ওড়িশার ভুবনেশ্বরে লেপার্ড সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক জৈব-বৈচিত্র্য দিবস উদযাপন
সিকিমের গ্যাংটকে স্নো লেপার্ড সংরক্ষণ কর্মসূচি
মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুরে ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্মসূচি

এই অনুষ্ঠানগুলিতে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ভারতের সাফল্যের কাহিনী যেমন তুলে ধরা হবে, পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ভারতের নেতৃত্বদান এবং প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর আহ্বানে বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে নানা তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

গুজরাটের গিরে এশীয় সিংহ সংরক্ষণ
এই অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা – ভারতের অনন্য এক সংরক্ষণে সাফল্য। এশীয় সিংহ শুধুমাত্র ভারতেই পাওয়া যায়। এই প্রজাতির সংরক্ষণে অত্যন্ত সফল এক উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে। বিজ্ঞানসম্মতভাবে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে সিংহের বিচরণভূমির প্রসার ঘটানোর পাশাপাশি, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সিংহের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কোনো অসুখ হলে তা দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। গির অভয়ারণ্য ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জঙ্গলেও সিংহের বিচরণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে মালধারি সহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সিংহ সংরক্ষণে কারোর গৃহপালিত পশু মারা পড়লে গুজরাট সরকার প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে। 

মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুরে ব্যাঘ্র সংরক্ষণ
ভারতে বন সংরক্ষণের ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচির ভাবনায় এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সারা পৃথিবীতে যত বাঘ বনে রয়েছে, তার মধ্যে ৭০ শতাংশই ভারতে। প্রোজেক্ট টাইগার এবং জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষে সুস্থায়ী উদ্যোগের ফলে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে নানা ধরনের সাফল্য অর্জিত হয়েছে। দেশজুড়ে ব্যাঘ্র সংরক্ষণের জন্য অভয়ারণ্যের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্যপ্রাণীদের অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ যেমন নেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি কৃত্রিম মেধা-ভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা সহ ক্যামেরা ও অন্যান্য উন্নত প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। চোরাশিকার বন্ধ করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভয়ারণ্যের কোর জোনে যাঁরা বসবাস করতেন, তাঁদেরকে অন্যত্র পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্যাঘ্র সংরক্ষণে সম্প্রদায়গত অংশগ্রহণ এবং পরিবেশগত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মানুষের সঙ্গে বাঘের সংঘাত কমাতে চন্দ্রপুর সহ বিদর্ভ অঞ্চলে বিভিন্ন উদ্যোগ মহারাষ্ট্র সরকার তুলে ধরবে। 

ওড়িশার ভুবনেশ্বরে লেপার্ড সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক জীব-বৈচিত্র্য দিবস উদযাপন
বিভিন্ন জনপদে লেপার্ডের সঙ্গে মানুষের সহাবস্থানই এই কর্মসূচির মূল ভাবনা। ভারতে ব্যাঘ্র প্রজাতির প্রাণীদের মধ্যে লেপার্ডই সবথেকে বেশি দেখা যায়। বিভিন্ন জনপদে মানুষের সঙ্গে এই প্রাণীটির সংঘাতের খবর প্রায়ই পাওয়া যায়। লেপার্ডকে উদ্ধার করে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো এবং মানুষের সঙ্গে সহাবস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় সচেতনতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বনকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ছাড়াও সংঘাত প্রবণ অঞ্চলে নজরদারির জন্য প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। ওড়িশায় জীব-বৈচিত্র্যের সংরক্ষণের ক্ষেত্রে জনসাধারণের অংশগ্রহণের পাশাপাশি বাস্ততন্ত্রকে রক্ষা করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। 

সিকিমের গ্যাংটকে স্নো লেপার্ড সংরক্ষণ
এই কর্মসূচির মূল ভাবনা - হিমালয়ের প্রহরী। হিমালয়ের বাস্তুতন্ত্রের সুস্বাস্থ্যের সূচক স্নো লেপার্ড। জলবায়ু পরিবর্তন এবং এদের বিচরণভূমি সঙ্কুচিত হওয়ার ফলে এই প্রজাতির প্রাণী নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। ভারতে এদের সংরক্ষণের জন্য স্নো লেপার্ড পপুলেশন অ্যাসেসমেন্ট ইন ইন্ডিয়া কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চলে বসবাসরত বিভিন্ন সম্প্রদায়কে এই সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। সুউচ্চ পর্বতমালায় স্নো লেপার্ডদের খাবার যোগানে যাতে কোনো টান না পড়ে, তার জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলা হয়েছে।

মধ্যপ্রদেশের ভোপালে চিতা সংরক্ষণ
এই কর্মসূচির মূল ভাবনা – ভারতের তৃণভূমির বাস্তুতন্ত্রকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা। প্রোজেক্ট চিতার আওতায় এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে বড় মাংসাশী প্রাণীকে স্থানান্তরিত করে সংরক্ষণের উদ্যোগ ভারতেই প্রথম নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও নামিবিয়া থেকে কয়েকটি চিতাকে মধ্যপ্রদেশে নিয়ে এসে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে তৃণভূমি গড়ে তুলে চিতার শিকারের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যভাণ্ডারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আফ্রিকা থেকে চিতাগুলিকে নিয়ে আসার পর সেগুলির উপর নানাভাবে নজরদারী চালান হচ্ছে। এক্ষেত্রে কৃত্রিম উপগ্রহের সহায়তাও নেওয়া হয়েছে। 

 

SC/CB/DM...


(রিলিজ আইডি: 2260573) ভিজিটরের কাউন্টার : 8
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Gujarati , Urdu , Marathi , हिन्दी , Kannada , Malayalam