প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
সিকিম রাজ্য প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তিতে গ্যাংটকে আয়োজিত সমাপ্তি অনুষ্ঠানে যোগদান প্রধানমন্ত্রীর
প্রকাশিত:
28 APR 2026 3:00PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ সিকিম রাজ্য প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গ্যাংটকে আয়োজিত সমাপ্তি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যের জন্য কয়েক হাজার কোটি টাকার ৩০ টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন।
পালজোর স্টেডিয়ামে এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এরাজ্যের সঙ্গে তাঁর গভীর সংযোগের কথা বলেন। অর্কিড বাগান ভ্রমণের বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতির প্রাণবন্ত রঙ এবং উচ্ছ্বাসে তিনি বিমোহিত। এই রাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদের কথা তুলে ধরে সিকিমের অর্কিড বাগানকে পূর্বের স্বর্গ বলে বর্ণনা করে অতুলনীয় সৌন্দর্য, শান্তি ও আধ্যাত্মিক আনন্দ লাভের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি সিকিমের ৫০ বছরের এই যাত্রাকালের তাৎপর্যকে তুলে ধরে বলেন, ঐতিহাসিক এই অনুষ্ঠান এক স্বর্গীয় পরিবেশের মধ্যে আয়োজিত হলে তার মহিমা বহুগুণ বেড়ে যায়। শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর কৃৎকুশলতা, সাধারণ মানুষের উদ্দীপনা, পর্বতের অপূর্ব শোভা এবং আকাশের সুন্দর রূপ পালজোর স্টেডিয়ামকে ঘিরে এক জাদুকরী পরিবেশ গড়ে তুলেছে বলে জানান তিনি।
সিকিম পৌঁছে তাঁর আনন্দের কথা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গতবার খারাপ আবহাওয়ার জন্য তিনি গ্যাংটক পৌঁছতে পারেননি। তাই বাগডোগরা থেকে অনলাইনে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হয় তাঁকে। এখানকার মানুষদের সঙ্গে মিলিত না হতে পারার সেই আক্ষেপ তাঁর মধ্যে থেকে গেছিল। অবশেষে তিনি এইবার গ্যাংটকে এসে পৌঁছতে পেরেছেন। সিকিমের জনসাধারণের ভদ্রতা, সারল্য, হাস্যময় মুখে শান্তি ধরা দেয় বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। মূল অনুষ্ঠানের আগে সিকিমের অনেক প্রতিভাবান মানুষ, বিখ্যাত ব্যক্তি, পদ্ম পুরস্কার প্রাপক সহ শিল্পী, ফুটবল খেলোয়াড়দের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনায় যোগ দিয়েছিলেন তিনি।
গতরাতে রোড শো এর অভিজ্ঞতা ভোলার নয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাঞ্জু লামা দ্বার থেকে লোকভবন পর্যন্ত এই যাত্রাপথে রাস্তার ধারে সারিবদ্ধ মানুষ তাদের অকুণ্ঠ ভালোবাসা জানিয়েছেন। ২১টি জাতি সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের নিজস্ব পোশাকে, সঙ্গীত ও প্রথায় সেখানে সমবেত হয়েছিলেন। সামগ্রিক পরিবেশ এক অপূর্ব উৎসবের চেহারা নেয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। লোকেদের হাতে ধরা ত্রিবর্ণ পতাকা সেই সঙ্গে ভারত মাতা কি জয় এবং বন্দেমাতরম উচ্চারণকে ঘিরে সমগ্র পরিবেশ এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারতের ভাবমূর্তিকে তুলে ধরে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহিলা, শিশু এবং বয়স্করা বহু সংখ্যায় সমবেত হয়েছিলেন। সিকিমের রাস্তার পরিবেশ এবং বাতাসের পরিশুদ্ধতা মনে গভীর রেখাপাত করে। সিকিমবাসীকে তিনি পরিবেশের রক্ষক এবং ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসডর বলে আখ্যা দেন। এই রোড শো এবং পালজোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিকিমবাসীর এই ভালোবাসা, আশীর্বাদের ঋণ মেটাতে কোনও চেষ্টার তিনি ত্রুটি রাখবেন না।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর এই সিকিম যাত্রাকে ঐতিহ্যের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ এবং উন্নয়নের যাত্রা বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন। এই উন্নয়ন বেশ কয়েকটি প্রজন্মের অবদান বলে উল্লেখ করেন তিনি। সিকিমের ঐতিহ্যকে রক্ষা এবং উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে রাজ্য সরকার সততার সঙ্গে কাজ করছে। যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের কাছে সিকিম এবং উত্তর পূর্বাচল দেশের কেবল গুরুত্বপূর্ণ অংশই নয়, বরং তারা দেশের ‘অষ্টলক্ষ্মী’। ফলে তারা ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির লক্ষ্যে কাজ করে ‘অ্যাক্ট ফাস্ট’ অর্থাৎ উত্তর – পূর্বাঞ্চলের জন্য দ্রুত কাজ করার সংকল্প নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
প্রধাননন্ত্রী বলেন, কয়েক হাজার কোটি টাকার যে ৩০ টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস হল তাতে সড়ক, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, পর্যটন, শিক্ষাক্ষেত্র জড়িয়ে রয়েছে। ২০২৩ এর পরে উত্তর সিকিম যে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়েছে, তার ওপরই বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। যা হল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির মধ্যে যোগাযোগ পুনর্বহাল করা।
পর্যটন অর্থনীতিকে সিকিমের মূল শক্তি হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ভৌগোলিক এলাকার এক শতাংশেরও কম জায়গা জুড়ে রয়েছে সিকিম। অথচ তা দেশের ২৫ শতাংশ পুষ্প বৈচিত্র্য, প্রায় ৫০০ প্রজাতির পাখি, কম করে ৭০০ প্রজাতির প্রজাপতি, অসাধারণ বনচ্ছাদিত এলাকা এবং অপরূপ কাঞ্চনজঙ্ঘায় ঢাকা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিকিমে পর্যটন বহু মানুষের উপার্জনের সংস্থান ঘটায়। কোনও রাজ্যে অপূর্ব পরিকাঠামো থাকলে সেখানে পর্যটন প্রসার লাভ করে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক বছরে রাজ্যে কয়েক শো কিলোমিটার মহাসড়ক নির্মিত হয়েছে। প্রত্যেক গ্রামে সড়ক সম্প্রসারণের কাজে এগিয়ে চলেছে। আধুনিক পরিকাঠামো যা একসময় অকল্পনীয় ছিল তা এখন বাস্তবায়িত হতে দেখা যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রধান সংযোগ প্রকল্পগুলির ওপর আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাগডোগরা - গ্যাংটক এক্সপ্রেসওয়ে এবং সেবক – রংপো রেল লাইন সমগ্র দেশের সঙ্গে সিকিমকে যুক্ত করবে। নতুন জাতীয় সড়ক নির্মিত হচ্ছে এবং গ্যাংটককে ঘিরে রিং রোড গড়ে তোলার মতো আবশ্যকীয় ভবিষ্যৎমুখী প্রকল্পের অগ্রগতি হচ্ছে বলে তিনি জানান।
সেবক- রংপো রেলপথের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮-০৯ সালে অনুমোদিত এই প্রকল্প ফাইল বন্দী হয়ে থাকায় প্রাথমিক প্রস্তুতির গতিরুদ্ধ হয়। তিনি বলেন বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরই এই প্রকল্প গতি পায় এবং এই প্রথম রেলপথ সিকিমে পৌঁছচ্ছে বলে তিনি জানান।
পর্যটন প্রসারে নতুন ধারণার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভালেধুঙ্গা, ইয়েন-ইয়েং এবং পেলিং-এ নির্মীয়মান রোপওয়ের পাশাপাশি ভালেধুঙ্গা স্কাইওয়াক এবং সিং শোর ব্রীজে গ্লাস ডেক স্কাইওয়াক উদ্ভাবনী চিন্তার নির্দশন। নাথুলা এবং নামলির মতো জায়গায় বৃহত্তর অভিজ্ঞতার প্রসার ঘটানো হচ্ছে, যাতে জীবনধারার স্বাচ্ছন্দ্য বিধান, পর্যটন প্রসার, উপার্জন বৃদ্ধি এবং অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে তিনি জানান।
সিকিমের পরিবেশবান্ধব সুস্থতা পর্যটন বিপুল সুযোগের ওপর আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এই সুযোগের প্রসার ঘটাচ্ছে। যাতে স্থানীয় মানুষের পর্যটনভিত্তিক উপার্জন প্রসার লাভ করে ১০০০ টি হোম-স্টে নির্মাণ করা হচ্ছে এবং অ্যাডভেঞ্চার টুরিজমের সম্ভাবনাকেও সহায়তা জোগানো হচ্ছে।
সিকিমে বিরাট সম্ভাবনার আরেকটি দিকের প্রতি আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী এখানকার তরুণ প্রজন্মের প্রতিভা ও সক্ষমতার কথা তুলে ধরেন। ফুটবল, বক্সিং ও তীরন্দাজিতে তারা রাজ্য এবং দেশের গরিমা বর্ধন করেছে বলে জানান।
ক্রীড়া ক্ষেত্রে সিকিমের অসাধারণ প্রতিভার প্রতিপালনের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী খেলো ইন্ডিয়া, ফিট ইন্ডিয়ার মতো সরকারের বহুমুখী উদ্যোগের ওপর আলোকপাত করেছেন। সিকিম প্রিমিয়ার লিগের প্রসার, রাজ্য ক্রীড়া অ্যাকাডেমিকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি যশলাল প্রধানের নামাঙ্কিত অত্যাধুনিক বক্সিং অ্যাকাডেমি এবং সুসংহত ক্রীড়া এবং সংস্কৃতি গ্রামের মতো আসন্ন বিভিন্ন প্রকল্পের ওপর আলোকপাত করে তিনি বলেন, রাজ্যের বিশ্বস্তরের ক্রীড়া পরিকাঠামোকে গড়ে তোলা হল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ যে সমস্ত প্রকল্পের উদ্বোধন তার বিরাট এক অংশ জুড়ে আছে স্বাস্থ্যক্ষেত্র। এক সময় সীমিত স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ রাজ্যে পর্যটক ভ্রমণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল বলে তিনি বলেন, বর্তমানে এর রূপান্তর ঘটছে।
রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর ওপর আলাকপাত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় ২০০ আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির সিকিমে বর্তমানে কাজ করছে। সেই সঙ্গে জেলা হাসপাতাল, আরোগ্য কেন্দ্র, টার্শিয়ারি কেয়ার হাসপাতালে হাজার হাজার মানুষ আয়ুষের নানান সুবিধা পাচ্ছেন বলে জানান। ধ্রেজং নামগিয়াল সোয়া রিগপা হাসপাতালের উদ্বোধন সিকিমের স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শক্তি সংযোজন করে বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর পাশাপাশি সাশ্রয়ী চিকিৎসার সুযোগের ওপর আলোকপাত করেন প্রধানমন্ত্রী। আয়ুষ্মান কার্ডে গরিব মানুষেরা বিনামূল্যে চিকিৎসার যে সুযোগ পেতেন তা বর্তমানে ৭০ বছর বয়স বা তদুর্ধ্ব প্রবীণ মানুষদের জন্য সম্প্রসারিত হয়েছে। জনঔষধি কেন্দ্রগুলি থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে ওষুধ পাওয়া যায় বলে তিনি জানান।
অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং সম্পদ সম্পর্কে বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গী দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। বর্তমানে স্থিতিশীল জীবন শৈলী, পরিবেশ বান্ধব জ্বালানি, অর্গানিক খাবারের ওপর আলোকপাত করা হচ্ছে। সিকিম ও উত্তর পূর্বাঞ্চল পরিবেশ বান্ধব এই বিকাশের মূল কেন্দ্র বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক্ষেত্রে সমগ্র দেশকে পথ দেখিয়েছে সিকিম।
জৈব চাষে সিকিমের অগ্রবর্তী ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন ডেমাজং এখন কেবলমাত্র চাল উৎপাদনই নয় বরং অর্গানিক চাল উৎপাদনে সমধিক প্রসিদ্ধ, বড় এলাচ, আদা, হলুদ, অ্যাভোকাডো এবং কিউই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছচ্ছে। সেই সঙ্গে ভেষজ উদ্ভিদ থেকে বহু স্থানীয় মানুষের উপার্জনের পথ প্রশস্ত হচ্ছে। প্রাকৃতিক চাষবাসে মানুষকে উৎসাহিত করতে অর্গানিক প্রসেসিং প্ল্যান্ট যা বাজারের সঙ্গে কৃষকের প্রত্যক্ষ যোগাযোগের সুযোগ করে দিচ্ছে।
স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং সিকিমের অগ্রগতিতে মহিলাদের ভূমিকার ওপর আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল ইন্ডিয়া বর্তমানে কৃষকের পণ্য বৃহৎ বাজারে পৌঁছে দিতে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করছে।
সিকিমের পরিবেশ বান্ধব জ্বালানির বৃহৎ সম্ভাবনার ওপর আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ রক্ষায় এর ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষা সিকিমের মানুষের স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত। এক পেঢ় মা কে নাম উদ্যোগে তাদের বিপুল অংশগ্রহণের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয়ভাবে গৃহীত উদ্যোগ ‘মেরো রুখ মেরো সন্ততি’ এর প্রশংসা করে বলেন সিকিমে শিশুর জন্মে এই উদ্যোগে ১০৮ টি গাছ রোপন করা হয়। সারা বিশ্বের কাছে এই উদ্যোগ অনুপ্রেরণাদায়ক হয়ে উঠবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রত্যেককে পরম নিষ্ঠায় পরিবেশ গত এই উদ্যোগে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরবর্তী প্রজন্মে এই ঐতিহ্য সঞ্চারিত হতে হবে। ভাষণ শেষে প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারতের স্বপ্নকে চরিতার্থ করতে সিকিমের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা এবং এই স্বপ্নের অংশীদার হওয়ার জন্য সকলকে আহ্বান জানিয়েছেন। সিকিমের উন্নয়নকে এক নতুন লক্ষ্যে পৌঁছে দেওয়ার সংকল্পের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সকলকে আরো একবার অভিনন্দন জানান।
SC/AB/SG
(রিলিজ আইডি: 2256323)
ভিজিটরের কাউন্টার : 6