পেট্রোলিয়ামওপ্রাকৃতিকগ্যাসমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

৫ কেজির এফটিএল (FTL) সিলিন্ডার বিক্রি অব্যাহত রয়েছে, ১ এপ্রিল থেকে ১৭.৮৩ লক্ষের বেশি সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে

প্রকাশিত: 24 APR 2026 5:21PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

 

পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারত সরকার নাগরিকদের অবহিত রাখতে নিয়মিত তথ্য প্রদান অব্যাহত রেখেছে। এই প্রেক্ষাপটে আজ ন্যাশনাল মিডিয়া সেন্টারে একটি মিডিয়া ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস, বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ এবং বিদেশ মন্ত্রকের কর্মকর্তারা জ্বালানি প্রাপ্যতা, সামুদ্রিক কার্যক্রম, ওই অঞ্চলে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তা এবং প্রধান ক্ষেত্রগুলোতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেন।

 

**জ্বালানি সরবরাহ এবং জ্বালানির প্রাপ্যতা**

পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক বর্তমান জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমকে অবহিত করেছে এবং পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির মধ্যে পেট্রোলিয়াম পণ্য ও এলপিজি-র নিরবচ্ছিন্ন প্রাপ্যতা বজায় রাখতে গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেছে। মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে:

 

**জনসাধারণের জন্য পরামর্শ এবং সচেতনতা**

 * নাগরিকদের পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজি আতঙ্কিত হয়ে মজুত না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, কারণ সরকার এগুলোর প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

 * গুজবে কান দেবেন না এবং সঠিক তথ্যের জন্য কেবল সরকারি সূত্রের ওপর নির্ভর করুন।

 * এলপিজি গ্রাহকদের ডিজিটাল বুকিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে এবং ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে ভিড় না করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

 * নাগরিকদের বিকল্প জ্বালানি যেমন পিএনজি এবং ইলেকট্রিক বা ইন্ডাকশন কুকটপ ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

 * বর্তমান পরিস্থিতিতে সমস্ত নাগরিককে দৈনন্দিন জীবনে শক্তি সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা চালানোর অনুরোধ করা হচ্ছে।

 

**সরকারি প্রস্তুতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনা**

 * চলমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও সরকার গার্হস্থ্য এলপিজি, গার্হস্থ্য পিএনজি এবং সিএনজি (পরিবহন) ক্ষেত্রে ১০০% সরবরাহ নিশ্চিত করেছে।

 * বাণিজ্যিক এলপিজি-র ক্ষেত্রে হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফার্মা, স্টিল, অটোমোবাইল, বীজ ও কৃষি ক্ষেত্রকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ৫ কেজির এফটিএল (FTL) সিলিন্ডারের সরবরাহ ২ ও ৩ মার্চ ২০২৬-এর গড় দৈনিক সরবরাহের তুলনায় দ্বিগুণ করা হয়েছে।

 * সরকার সরবরাহ ও চাহিদা উভয় দিকেই বেশ কিছু যৌক্তিক ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে শোধনাগারের উৎপাদন বৃদ্ধি করা, এলপিজি বুকিংয়ের ব্যবধান শহরাঞ্চলে ২১ থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন ও গ্রামাঞ্চলে ৪৫ দিন করা এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলোকে সরবরাহের অগ্রাধিকার দেওয়া।

 * এলপিজি-র ওপর চাপ কমাতে কেরোসিন ও কয়লার মতো বিকল্প জ্বালানি সহজলভ্য করা হয়েছে।

 * কয়লা মন্ত্রক কোল ইন্ডিয়া ও সিঙ্গারেণী কোলিয়ারিজ-কে ক্ষুদ্র ও মাঝারি গ্রাহকদের জন্য অতিরিক্ত কয়লা সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছে।

 * রাজ্যগুলোকে গার্হস্থ্য ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য নতুন পিএনজি সংযোগের সুবিধা প্রদানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

**রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার সাথে সমন্বিত প্রচেষ্টা**

 * রাজ্য সরকারগুলো মজুতদারি ও কালোবাজারি রোধে এসেনশিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট, ১৯৫৫ এবং এলপিজি কন্ট্রোল অর্ডার, ২০০০-এর অধীনে ব্যবস্থা নিতে ক্ষমতা প্রাপ্ত।

 * পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজি-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকে প্রাথমিক ভূমিকা পালন করতে হবে। ভারত সরকার একাধিক চিঠি এবং ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই বিষয়টি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।

 * ভারত সরকার ২৭.০৩.২০২৬ এবং ০২.০৪.২০২৬ তারিখের চিঠির মাধ্যমে পর্যাপ্ত জ্বালানি প্রাপ্যতা সম্পর্কে নাগরিকদের আশ্বস্ত করতে সক্রিয় জনযোগাযোগের ওপর জোর দিয়েছে। রাজ্যগুলোর সাথে নিয়মিত পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে ০২.০৪.২০২৬ (পেট্রোলিয়াম সচিবের সভাপতিত্বে) এবং ০৬.০৪.২০২৬ (পেট্রোলিয়াম সচিবের সাথে তথ্য ও সম্প্রচার এবং উপভোক্তা বিষয়ক সচিবদের সভাপতিত্বে) বৈঠকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে:

   * দৈনিক প্রেস ব্রিফিং এবং নিয়মিত গণ-পরামর্শ জারি করা।

   * সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া খবর বা ভুল তথ্য সক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও মোকাবিলা করা।

   * জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দৈনিক এনফোর্সমেন্ট ড্রাইভ জোরদার করা এবং তেল সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয়ে তল্লাশি অব্যাহত রাখা।

   * রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে বাণিজ্যিক এলপিজি বরাদ্দের আদেশ জারি করা।

   * অতিরিক্ত বরাদ্দকৃত কেরোসিনের (SKO) জন্য আদেশ জারি করা।

   * পিএনজি গ্রহণ এবং বিকল্প জ্বালানি প্রচার করা।

   * বিশেষ করে গার্হস্থ্য প্রয়োজনে এলপিজি সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে ৫ কেজির এফটিএল সিলিন্ডারের লক্ষ্যভিত্তিক বন্টন গ্রহণ করা।

 * সমস্ত রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মজুতদারি ও কালোবাজারি রোধে কন্ট্রোল রুম এবং জেলা পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করেছে।

 * অনেক রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং করছে।

 

**এনফোর্সমেন্ট এবং মনিটরিং কার্যক্রম**

 * এলপিজি মজুতদারি ও কালোবাজারি রোধে দেশজুড়ে এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। গতকাল দেশজুড়ে ২,৩০০-এর বেশি তল্লাশি চালানো হয়েছে।

 * রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলো আকস্মিক পরিদর্শন জোরদার করেছে এবং গতকাল পর্যন্ত ৩০৭টি এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরশিপের ওপর জরিমানা আরোপ করেছে এবং ৭০টি স্থগিত করেছে।

 

**এলপিজি সরবরাহ**

 

**গার্হস্থ্য এলপিজি সরবরাহের অবস্থা:**

 * বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এলপিজি সরবরাহ প্রভাবিত হচ্ছে।

 * গার্হস্থ্য পরিবারগুলোতে এলপিজি সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

 * কোনো ডিস্ট্রিবিউটরশিপে 'ড্রাই-আউট' (জ্বালানি শূন্যতা) রিপোর্ট করা হয়নি।

 * গতকাল শিল্পজুড়ে অনলাইন এলপিজি সিলিন্ডার বুকিং ৯৮% এ পৌঁছেছে।

 * সরবরাহ অন্য পথে সরিয়ে নেওয়া রোধ করতে ডেলিভারি অথেন্টিকেশন কোড (DAC) ভিত্তিক সরবরাহ প্রায় ৯৪% এ উন্নীত হয়েছে। গ্রাহকের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে এই কোডটি পাঠানো হয়।

 

**বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ এবং বরাদ্দ ব্যবস্থা:**

 * বাণিজ্যিক এলপিজি বরাদ্দ সংকট-পূর্ব সময়ের ৭০% পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০% সংস্কার-সংযুক্ত বরাদ্দ অন্তর্ভুক্ত।

 * ০৬.০৪.২০২৬ তারিখের চিঠির মাধ্যমে সরকার জানিয়েছে যে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ৫ কেজির এফটিএল সিলিন্ডারের দৈনিক পরিমাণ ২-৩ মার্চ ২০২৬-এর গড় দৈনিক সরবরাহের তুলনায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। এই সিলিন্ডারগুলো তেল সংস্থাগুলোর সহায়তায় কেবল পরিযায়ী শ্রমিকদের সরবরাহের জন্য রাজ্য সরকারের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।

 * ১লা এপ্রিল ২০২৬ থেকে এ পর্যন্ত ১৭.৮৩ লক্ষের বেশি ৫ কেজির এফটিএল (FTL) সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে।

 * গতকাল একদিনে দেশজুড়ে ৮১,০০০-এর বেশি ৫ কেজির এফটিএল সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে।

 * ৩রা এপ্রিল ২০২৬ থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলো ৮,৫০০-এর বেশি সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করেছে, যেখান থেকে ১,৩৩,০০০-এর বেশি সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে।

 * গতকাল ২৫০টির বেশি শিবিরের মাধ্যমে ৫,৫৪৯টি সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে।

 * আইওসিএল (IOCL), এইচপিসিএল (HPCL) এবং বিপিসিএল (BPCL)-এর নির্বাহী পরিচালকদের তিন সদস্যের একটি কমিটি বাণিজ্যিক এলপিজি বন্টনের পরিকল্পনার জন্য রাজ্য কর্তৃপক্ষ এবং শিল্প সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় করছে।

 * এপ্রিল মাসে (২৩.০৪.২৬ পর্যন্ত) মোট ১,৪৭,২৬২ মেট্রিক টন (৭৭.৫০ লক্ষের বেশি ১৯ কেজি সিলিন্ডার সমতুল্য) বাণিজ্যিক এলপিজি বিক্রি হয়েছে।

 

**প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ এবং পিএনজি সম্প্রসারণ উদ্যোগ**

 * গার্হস্থ্য পিএনজি (D-PNG) এবং সিএনজি-পরিবহন ক্ষেত্রে ১০০% সরবরাহ নিশ্চিত করে গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

 * সার কারখানাগুলোতে সামগ্রিক গ্যাস বরাদ্দ বাড়িয়ে তাদের ছয় মাসের গড় ব্যবহারের প্রায় ৯৫% করা হয়েছে।

 * এছাড়া সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন (CGD) নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সরবরাহসহ অন্যান্য শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে সরবরাহ ৮০% পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

 * বাণিজ্যিক এলপিজি-র প্রাপ্যতা নিয়ে উদ্বেগ দূর করতে সমস্ত ভৌগোলিক এলাকায় (GAs) হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ক্যান্টিনের মতো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পিএনজি সংযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 * আইজিএল (IGL), এমজিএল (MGL), গেইল গ্যাস (GAIL Gas) এবং বিপিসিএল (BPCL)-সহ সিজিডি সংস্থাগুলো পিএনজি সংযোগের জন্য ইনসেনটিভ বা উৎসাহ প্রদান করছে।

 * সিজিডি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনগুলো ত্বরান্বিত করার জন্য রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রকগুলোকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 * ১৮.০৩.২০২৬ তারিখের চিঠির মাধ্যমে ভারত সরকার রাজ্যগুলোকে অতিরিক্ত ১০% বাণিজ্যিক এলপিজি বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছে, যদি তারা এলপিজি থেকে পিএনজিতে দীর্ঘমেয়াদী রূপান্তরে সহায়তা করতে পারে। বর্তমানে ২২টি রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এই অতিরিক্ত বরাদ্দ পাচ্ছে।

 * সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রক সিজিডি অবকাঠামোর আবেদনগুলো দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের জন্য ৩ মাসের জন্য একটি বিশেষ 'ত্বরান্বিত অনুমোদন কাঠামো' গ্রহণ করেছে।

 * ভারত সরকার ২৪.০৩.২০২৬ তারিখে এসেনশিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট, ১৯৫৫-এর অধীনে 'প্রাকৃতিক গ্যাস ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য বিতরণ আদেশ ২০২৬' বিজ্ঞপ্তিভুক্ত করেছে। এই আদেশটি দেশজুড়ে পাইপলাইন স্থাপন ও সম্প্রসারণের জন্য একটি সুশৃঙ্খল এবং সময়বদ্ধ কাঠামো প্রদান করে, যা অনুমোদন এবং জমি সংক্রান্ত বিলম্ব দূর করে প্রাকৃতিক গ্যাস অবকাঠামোর দ্রুত উন্নয়নে সহায়তা করবে। এটি ভারতের গ্যাস-ভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 * পিএনজিআরবি (PNGRB) গার্হস্থ্য পিএনজি সংযোগ দ্রুত করার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া 'ন্যাশনাল পিএনজি ড্রাইভ ২.০' ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

 * সিবিজি (CBG) বা কম্প্রেসড বায়ো গ্যাস উন্নয়নের জন্য ভারত সরকার একটি মডেল খসড়া রাজ্য সিবিজি নীতি তৈরি করেছে। যেসব রাজ্য এটি গ্রহণ করবে, তাদের বাণিজ্যিক এলপিজি-র পরবর্তী কিস্তির অতিরিক্ত বরাদ্দে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

 * পরিবেশ ও বন মন্ত্রক (MoEFCC) দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছে যাতে সিজিডি নেটওয়ার্কের অনুমতির আবেদন ১৫ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়।

 * মার্চ ২০২৬ থেকে প্রায় ৫.২৭ লক্ষ পিএনজি সংযোগ চালু করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত ২.৬০ লক্ষ সংযোগের অবকাঠামো তৈরি হয়েছে, যা মোট সংযোগের সংখ্যাকে ৭.৮৭ লক্ষে নিয়ে গেছে। প্রায় ৫.৯৭ লক্ষ গ্রাহক নতুন সংযোগের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন।

 * ২৩.০৪.২০২৬ পর্যন্ত ৪২,০০০-এর বেশি পিএনজি গ্রাহক MYPNGD.in ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাদের এলপিজি সংযোগ সমর্পণ করেছেন।

**অপরিশোধিত তেলের অবস্থা এবং শোধনাগার কার্যক্রম**

 * সমস্ত শোধনাগার পর্যাপ্ত মজুত নিয়ে উচ্চ ক্ষমতায় কাজ করছে এবং পেট্রোল ও ডিজেলে যথেষ্ট স্টক বজায় রাখা হয়েছে।

 * গার্হস্থ্য ব্যবহার মেটাতে শোধনাগার থেকে এলপিজি উৎপাদন বৃদ্ধি করা হয়েছে।

 * পেট্রোক্যামিকাল ফিডস্টক সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি আন্তঃমন্ত্রক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ (JWG) গঠন করা হয়েছে।

 * ফার্মা ও রাসায়নিক শিল্পের অনুরোধে এলপিজি পুল থেকে দৈনিক ১০০০ মেট্রিক টন সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

 * ৯ এপ্রিল থেকে মুম্বাই, কোচি ও মথুরা শোধনাগার থেকে ৬,৪০০ মেট্রিক টনের বেশি প্রোপিলিন বিক্রি হয়েছে।

 

**খুচরা জ্বালানি প্রাপ্যতা এবং মূল্য ব্যবস্থা**

 * সারা দেশে রিটেইল আউটলেটগুলো স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।

 * মধ্যপ্রাচ্য সংকটে তেলের দাম অস্বাভাবিক বাড়লেও গ্রাহকদের রক্ষায় ভারত সরকার পেট্রোল ও ডিজেলে লিটার প্রতি ১০ টাকা অন্তঃশুল্ক কমিয়েছে।

 * ১১.০৪.২০২৬ তারিখের গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ডিজেলে রপ্তানি শুল্ক বাড়িয়ে প্রতি লিটারে ৫৫.৫০ টাকা এবং এটিএফ-এ (ATF) ৪২ টাকা করা হয়েছে যাতে অভ্যন্তরীণ বাজারে এগুলো সহজলভ্য থাকে।

 * রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলোর খুচরা দোকানে পেট্রোল ও ডিজেলে কোনো দাম বাড়ানো হয়নি।

 

**কেরোসিনের প্রাপ্যতা এবং বিতরণ ব্যবস্থা**

 * নিয়মিত বরাদ্দের অতিরিক্ত ৪৮,০০০ কিলো লিটার কেরোসিন প্রদান করা হয়েছে। ১৮টি রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বরাদ্দের আদেশ জারি করেছে। হিমাচল প্রদেশ ও লাদাখ জানিয়েছে তাদের কোনো প্রয়োজন নেই।

 

**সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং জাহাজ চলাচল**

 * বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রক পারস্য উপসাগরের সামুদ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানিয়েছে:

   * মন্ত্রক বিদেশ মন্ত্রক ও ভারতীয় মিশনগুলোর সাথে সমন্বয় বজায় রাখছে।

   * অঞ্চলে অবস্থানরত সমস্ত ভারতীয় নাবিক নিরাপদ এবং গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজের সাথে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

   * ডিজি শিপিং কন্ট্রোল রুম চব্বিশ ঘণ্টা সচল রয়েছে এবং এ পর্যন্ত ৭,৫৫৩টি কল ও ১৬,০৩৩টির বেশি ইমেল পরিচালনা করেছে।

   * এখন পর্যন্ত ২,৭২৯ জন ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৯ জন রয়েছেন।

   * ভারতজুড়ে বন্দর কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

 

**অঞ্চলে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা**

 * বিদেশ মন্ত্রক পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং ভারতীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। মন্ত্রক জানিয়েছে:

   * বিশেষ কন্ট্রোল রুমগুলো সচল রয়েছে। মিশনগুলো চব্বিশ ঘণ্টা হেল্পলাইন চালাচ্ছে এবং নিয়মিত সুরক্ষা পরামর্শ জারি করছে।

   * মিশনগুলো ভারতীয় কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশন এবং কোম্পানিগুলোর সাথে সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ রাখছে।

   * নাবিকদের কল্যাণকে উচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের ভারতে ফেরার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

   * সামগ্রিক বিমান চলাচল পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় ১২,৩৮,০০০ যাত্রী ওই অঞ্চল থেকে ভারতে ফিরেছেন।

   * সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে আজ প্রায় ১১০টি ফ্লাইট প্রত্যাশিত। সৌদি আরব, ওমান এবং কাতার থেকেও ফ্লাইট চলাচল করছে।

   * কুয়েতের আকাশপথ এখন খোলা রয়েছে এবং শীঘ্রই সীমিত বাণিজ্যিক চলাচল শুরু হবে। সৌদি আরবের দাম্মাম থেকেও নন-শিডিউল ফ্লাইট চলছে।

   * বাহরিন ও ইরাকের আকাশপথ খোলা রয়েছে।

   * ইরানের আকাশপথ আংশিকভাবে খোলা। দূতাবাস ভারতীয়দের ইরান ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। এখন পর্যন্ত ২,৪৩২ জন ভারতীয় নাগরিককে (যার মধ্যে ১০৯৬ জন ছাত্র এবং ৬৫৭ জন মৎস্যজীবী) আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মাধ্যমে ইরান থেকে বের করে আনা হয়েছে।

   * ইজরায়েলের আকাশপথ খোলা রয়েছে এবং সীমিত বিমান চলাচল শুরু হয়েছে।

 

SC/PK


(রিলিজ আইডি: 2255388) ভিজিটরের কাউন্টার : 14
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Marathi , Gujarati , Tamil , Kannada , Urdu , हिन्दी , Assamese , Odia , Malayalam