স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ লোকসভায় 'সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল, ২০২৬', 'সংবিধান (১৩১তম সংশোধন) বিল, ২০২৬' এবং 'কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধন) বিল, ২০২৬' বিষয়ক আলোচনার জবাব দিলেন

প্রকাশিত: 17 APR 2026 10:18PM by PIB Kolkata

নয়া দিল্লি: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, 

 

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ আজ লোকসভায় 'সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল, ২০২৬', 'সংবিধান (১৩১তম সংশোধন) বিল, ২০২৬' এবং 'কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধন) বিল, ২০২৬' বিষয়ক আলোচনার জবাব দিলেন।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ জানান যে, এই আলোচনায় ১৩০ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেছিলেন, যার মধ্যে ৫৬ জন ছিলেন মহিলা সদস্য। তিনি বলেন যে, বিতর্ক চলাকালীন সময়ে বিরোধী জোট স্পষ্টভাবে 'মহিলা সংরক্ষণ বিল'-এর বিরোধিতা করেছে। তিনি আরও বলেন যে, এই বিরোধিতা বিলটি বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে নয়, বরং সরাসরি মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের বিষয়টির বিরুদ্ধেই। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই বিলের মূল উদ্দেশ্য হলো "এক ব্যক্তি, এক ভোট, এক মূল্য"—এই নীতিটি কার্যকর করা; যে নীতিটি আমাদের গণতন্ত্রের ভিত্তি হিসেবে সংবিধান সভা কর্তৃক নির্ধারিত হয়েছিল।

শ্রী অমিত শাহ বলেছেন যে, সংবিধানে সময়ে সময়ে নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের (ডিলিমিটেশন) বিধান রয়েছে এবং এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতিদের জন্য আসন-সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। তিনি উল্লেখ করেন যে, যাঁরা সীমানা পুনর্নির্ধারণের বিরোধিতা করছেন, তাঁরা কার্যত তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতিদের জন্য আসন বৃদ্ধিরই বিরোধিতা করছেন। তিনি বলেন যে, সংবিধান সরকারের ওপর একটি ভারসাম্যপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বাস্তবসম্মত গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তোলার দায়িত্ব অর্পণ করেছে; বর্তমানে এই দায়িত্বটি শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের ওপর ন্যস্ত রয়েছে। শ্রী শাহ বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রীয় ভারসাম্য বজায় রাখা, জনসংখ্যার অনুপাতে লোকসভায় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং রাজ্যগুলোর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাও সীমানা পুনর্নির্ধারণের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। তিনি আরও বলেন যে, সীমানা পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে নতুন ভৌগোলিক বাস্তবতা, প্রশাসনিক পরিবর্তন, নগরায়ন, সড়ক ও রেলপথে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নতুন জেলা গঠনের বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখা হয়। শ্রী শাহ উল্লেখ করেন যে, এই সমস্ত নীতি সংবিধানের ৮১, ৮২ এবং ১৭০ নম্বর অনুচ্ছেদে বিধৃত রয়েছে; আর এগুলোর বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার এই সাংবিধানিক সংশোধনীটি নিয়ে এসেছে। তিনি বলেন যে, নারী ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি, সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো গড়ে তোলার দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যেই এই বিলগুলো পেশ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে, ‘নারী শক্তি বন্দন আইন’-এ বিধান রাখা হয়েছে যে, ২০২৬ সালের পরবর্তী আদমশুমারির (সেন্সাস) পর যে সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, তাতে নারীদের জন্য আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ১৯৭১ সালে বিরোধী দলের সরকারই এই প্রক্রিয়াটিকে স্থগিত বা ‘ফ্রিজ’ করে দিয়েছিল; আর ঠিক সেই কারণেই এই বিষয়টি এখানে উল্লেখ করার প্রয়োজন হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন যে, ১৯৭১ সাল থেকেই লোকসভার আসনের সংখ্যা অপরিবর্তিত বা স্থির (ফ্রোজেন) অবস্থায় রয়েছে; যার ফলে বর্তমানে এমন ১২৭টি নির্বাচনী এলাকা রয়েছে, যেখানে ভোটার সংখ্যা ২০ লক্ষেরও বেশি। এই নির্বাচনী এলাকাগুলোতে ‘এক ব্যক্তি, এক ভোট, এক মূল্য’—এই মূলনীতিটি সম্পূর্ণভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।

শ্রী অমিত শাহ বলেন যে, ১৯৭২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সর্বপ্রথম একটি ‘সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল’(ডিলিমিটেশন) নিয়ে আসেন, যার মাধ্যমে আসনের সংখ্যা ৫২৫ থেকে বাড়িয়ে ৫৪৫ করা হয় এবং পরবর্তীতে সেই সংখ্যা স্থির করে দেওয়া হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, ১৯৭৬ সালে জরুরি অবস্থার সময় ৪২তম সংবিধান সংশোধনী আনা হয়েছিল, যা ক্ষমতা ধরে রাখার উদ্দেশ্যে সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়াকে স্থগিত করে দেয়। সেই সময়েও প্রধান বিরোধী দলটি দেশের জনগণকে সীমানা পুনর্নির্ধারণের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিল এবং আজও সেই একই দলই জাতিকে এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। তিনি বলেন যে, ২০০১ সালে ৮৪তম সংবিধান সংশোধনী কার্যকর করা হয়, যার মাধ্যমে ২০২৬ সাল পর্যন্ত আসনের সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৭৬ থেকে ২০২৬ সাল—এই দীর্ঘ ৫০ বছরের সময়কালে—দেশের জনগণ তাদের জনসংখ্যার অনুপাতে যথাযথ প্রতিনিধিত্ব পায়নি। শ্রী শাহ উল্লেখ করেন যে, এই সময়সীমা ২০২৬ সালে শেষ হচ্ছে; কিন্তু তখন যদি সীমানা পুনর্নির্ধারণের কাজ শুরুও করা হয়, তবুও ২০২৯ সালের আগে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না, কারণ সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিশনকে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে গণশুনানি (পাব্লিক হিয়ারিংস) আয়োজন করতে হয়।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র এবং সমবায় মন্ত্রী বলেন যে, ১৯৭৬ সালে দেশের জনসংখ্যা ছিল ৫৪ কোটি ৭৯ লক্ষ, অথচ বর্তমানে তা বেড়ে ১৪০ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন যে, এটি সরকারেরই দায়িত্ব যে, সংসদের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংসদের কার্যদিবসের সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হোক। তিনি জানান যে, সরকার প্রতিটি রাজ্যে আসনের সংখ্যা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করছে, যাতে কোনো রাজ্যেরই আনুপাতিক অংশ(প্রো রাটা শেয়ার) ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, কয়েকজন সদস্য প্রশ্ন তুলেছিলেন—কেন যথাসময়ে জনগণনা (সেন্সাস) পরিচালনা করা হয়নি। শ্রী শাহ ব্যাখ্যা করেন যে, জনগণনা ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু সেই সময়ে দেশ শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ মহামারি—কোভিড-১৯—এর মুখোমুখি হয়েছিল, যার ফলে জনগণনা পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। তিনি আরও বলেন যে, মহামারি প্রশমিত হওয়ার পরেও দেশের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে বেশ কিছুটা সময় লেগেছিল। শ্রী শাহ আরও বলেন যে, ২০২৪ সালে যখন জনগণনা প্রক্রিয়া শুরু হয়, তখন কয়েকটি রাজনৈতিক দল জাতি-ভিত্তিক জনগণনা পরিচালনার জন্য একটি যৌক্তিক দাবি উত্থাপন করে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সাথে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, একটি জাতি-ভিত্তিক জনগণনা পরিচালনা করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, চলমান আদমশুমারিতে জাতিগণনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি আরও বলেন যে, প্রধান বিরোধী দলের শাসনকালে অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী আদমশুমারিগুলোতে জাতিগণনা অন্তর্ভুক্ত ছিল না; এমনকি ধর্মের বিষয়েও কোনো তথ্য চাওয়া হয়নি। শ্রী শাহ জানান যে, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, ২০২৬ সালের আদমশুমারি জাতিগণনাসহ সম্পন্ন করা হবে।

শ্রী অমিত শাহ বলেছেন যে, এই বিলটি পেশ করার পর থেকেই বিরোধী পক্ষ ভুল ধারণা ছড়াতে শুরু করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রথম ভুল ধারণাটি হলো—সরকার এই সাংবিধানিক সংশোধনীটি এনেছে মূলত জাতিভিত্তিক আদমশুমারি বা জনগণনা পিছিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে। তিনি আরও বলেন যে, আরেকটি ভুল ধারণা ছড়ানো হচ্ছে তা হলো—এর ফলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর প্রতি অবিচার করা হবে। শ্রী শাহ জোর দিয়ে বলেন যে, উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোর এই কক্ষের (সংসদের) ওপর যতটা অধিকার রয়েছে, দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোরও ঠিক ততটাই অধিকার রয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন যে, উত্তর প্রদেশ, গুজরাট এবং বিহারের এই কক্ষের ওপর যতটা অধিকার রয়েছে, লাক্ষাদ্বীপেরও ঠিক ততটাই অধিকার রয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে, বিরোধী পক্ষের উচিত নয় 'উত্তর-দক্ষিণ' বিভাজনের আখ্যান তুলে ধরে দেশকে বিভক্ত করার চেষ্টা করা; বরং তাদের উচিত এই ধরনের বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করা। তিনি বলেন যে, যারা সংবিধানের নামে শপথ গ্রহণ করেছেন, তারাই এখন উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন—যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। শ্রী শাহ জোর দিয়ে বলেন যে, সংসদে শপথ গ্রহণকারী প্রত্যেক সদস্যই ভারতের ঐক্য ও অখণ্ডতা বজায় রাখার এবং সমগ্র জাতির কল্যাণে কাজ করার শপথ নেন। তিনি আরও যোগ করেন যে, কোনো সদস্যই তাঁর নির্বাচনী এলাকা, রাজ্য, ধর্ম কিংবা জাতির নামে শপথ গ্রহণ করেন না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে, দেশকে বিভক্ত করে কেউ কখনোই ক্ষমতায় আসতে পারে না।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র এবং সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ বলেন যে, 'সীমানা নির্ধারণ কমিশন' (ডিলিমিটেশন কমিশন) এবং সাংবিধানিক সংস্কার প্রসঙ্গে এমন একটি আখ্যান ছড়ানো হচ্ছে যে, এর ফলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো তাদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হবে—যা সম্পূর্ণ অসত্য। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু এবং কেরল—এই পাঁচটি রাজ্যে লোকসভার মোট আসন সংখ্যা হলো ১২৯টি; যা দেশের মোট ৫৪৩টি লোকসভা আসনের ২৩.৭৬ শতাংশ। তিনি বলেন যে, যদি এই আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয় এবং ওই পাঁচটি রাজ্যের মধ্যে বন্টন করে দেওয়া হয়, তবে আসন সংখ্যা ১২৯ থেকে বেড়ে ১৯৫-এ উন্নীত হবে। তিনি আরও বলেন যে, সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়ার পর যখন দেশের লোকসভার মোট আসন সংখ্যা বেড়ে ৮১৬-তে পৌঁছাবে, তখন দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর জন্য বরাদ্দকৃত আসনের অংশীদারিত্ব দাঁড়াবে ২৩.৮৭ শতাংশে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, লোকসভার মোট আসন সংখ্যার মধ্যে এই পাঁচটি দক্ষিণ ভারতীয় রাজ্যের বর্তমান অংশীদারিত্ব হলো ২৩.৭৬ শতাংশ, যা সীমানা নির্ধারণের পর সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ২৩.৮৭ শতাংশে পৌঁছাবে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে, সদনের কিছু সদস্য আরেকটি ভ্রান্ত ধারণা ছড়িয়েছেন—তা হলো মুসলিম নারীদেরও সংরক্ষণ দেওয়া উচিত। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ভারতের সংবিধান, সরকার এবং তাঁর দলের নীতি অত্যন্ত স্বচ্ছ; আর তা হলো—সংবিধান ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণের অনুমতি দেয় না। সংরক্ষণ জন্মসূত্রে প্রাপ্ত হয় এবং অন্য কোনো উপায়ে তা অর্জন করা সম্ভব নয়। শ্রী শাহ বলেন যে, সংবিধানের কোথাও ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ প্রদানের কোনো বিধান নেই। তিনি আরও যোগ করেন যে, বিরোধী জোটের নেতারা তোষণ রাজনীতির বশবর্তী হয়ে দেশে মুসলিমদের জন্য সংরক্ষণের দাবি তুলছেন, অথচ একই সঙ্গে তাঁরা সংবিধানের কথাও বলছেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন যে, ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ দেওয়া হবে না এবং ভবিষ্যতেও কখনো তা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।

শ্রী অমিত শাহ বলেন যে, এই দেশে যদি এমন কোনো দল থেকে থাকে যারা 'অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণী' বা ওবিসি (ওবিসি)-দের সবচেয়ে বড় বিরোধী, তবে তা হলো প্রধান বিরোধী দল। তিনি উল্লেখ করেন যে, ১৯৫৭ সালে কাকাসাহেব কালেলকর কমিশনের সুপারিশগুলো—যাতে ওবিসি-দের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছিল—সরকারের হাতে এসে পৌঁছালেও, সেই সময়ে বিরোধী দলের নেতৃত্বে থাকা সরকার ওই প্রতিবেদনটি ধামাচাপা দিয়ে রেখেছিল। তিনি বলেন যে, যখন মণ্ডল কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলো, তখনও বিরোধী দলের সরকার সেটিকে হিমাগারে পাঠিয়ে দিয়েছিল (বা অকার্যকর করে রেখেছিল)। একমাত্র ১৯৯০ সালে যখন ভি. পি. সিং-এর সরকার ক্ষমতায় এল, তখনই মণ্ডল কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হলো। তিনি আরও জানান যে, সেই সময়ে বিরোধী দলের প্রবীণতম নেতা মণ্ডল কমিশনের বিরোধিতা করে তাঁর জীবনের দীর্ঘতম ভাষণটি দিয়েছিলেন। শ্রী শাহ আরও বলেন যে, বিরোধী দলটি ১৯৫১ এবং ১৯৭১—উভয় সালেই জাতিভিত্তিক আদমশুমারির বিরোধিতা করেছিল।

শ্রী অমিত শাহ বলেছেন যে, দেশের প্রধান বিরোধী দলের কাছে নির্বাচনে জয়লাভই সর্বাগ্রে গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সরকারের কাছে জাতি এবং দেশের জনগণই সবার আগে। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সংবিধান বাস্তবায়নের জন্য জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, সমান সুযোগ এবং ন্যায়বিচারের সুরক্ষা অপরিহার্য। তিনি বলেন, সমগ্র দেশের মানুষ বিরোধী দলের এই লোকদেখানো উদ্বেগের বিষয়ে অবগত; আর আজ থেকে দেশের নারীরাও জানতে পারবেন যে, তাঁদের অধিকারগুলো বিরোধী দলের দ্বারাই কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র এবং সমবায় মন্ত্রী বলেন যে, ১৯৯২ সালে পি. ভি. নরসিমা রাও-এর নেতৃত্বাধীন সরকার ৭২তম ও ৭৩তম সংবিধান সংশোধনী নিয়ে আসে এবং পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের মতো একটি প্রশংসনীয় কাজ সম্পন্ন করে। তিনি জানান যে, এরপর ১৯৯৬ সালে শ্রী এইচ. ডি. দেবে গৌড়া প্রধানমন্ত্রী হন এবং ১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বরে ৮১তম সংবিধান সংশোধনী বিলটি পেশ করা হয়, যার বিরোধিতা করেছিল কয়েকটি রাজনৈতিক দল। পরবর্তীতে, বিলটি পর্যালোচনার জন্য ‘গীতা মুখার্জি কমিটি’ গঠন করা হয়। কমিটি যখন তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়, ততক্ষণে একাদশ লোকসভা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল এবং বিলটির কার্যকারিতা লোপ পায়। তিনি আরও বলেন যে, ১৯৯৮ সালে ৮৪তম সংবিধান সংশোধনী বিলটি আনা হয়েছিল; কিন্তু আবারও সেই একই দলগুলো এর বিরোধিতা করে এবং পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, বিলটি সংসদে পেশ করাই সম্ভব হয়নি—দ্বাদশ লোকসভা ভেঙে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিলটির কার্যকারিতাও শেষ হয়ে যায়। শ্রী শাহ আরও যোগ করেন যে, ১৯৯৯ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে ৮৫তম সংবিধান সংশোধনী বিলটি পেশ করা হয়েছিল; কিন্তু আবারও সেই একই দলগুলোর বিরোধিতার মুখে পড়ে বিলটি বাতিল হয়ে যায়।

তিনি বলেন যে, ২০০৮ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে মনমোহন সিং ১০৮তম সংবিধান সংশোধনী বিলটি নিয়ে আসেন এবং তা রাজ্যসভায় পেশ করেন। বিলটি রাজ্যসভায় পাস হলেও, তা আর কখনোই লোকসভা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। শ্রী শাহ উল্লেখ করেন যে, তাঁর দল এই বিলের বিরোধিতা করেনি; বরং সরকারের সমর্থক দলগুলোই এর বিরোধিতা করেছিল। এটি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, সরকারের নির্দেশে—শাসক জোটের অংশীদার দলগুলো লোকসভায় বিলটি উত্থাপন করতে দেয়নি।

শ্রী অমিত শাহ বলেন যে, ২০২৪ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানা সত্ত্বেও, ২০২৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী সজ্ঞানে ‘নারী সংরক্ষণ বিল’টি নিয়ে এসেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক কৌশল বা ভান যাই হোক না কেন, বিরোধী পক্ষ এই বিলের বিরোধিতা করতে পারবে না। নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধনের পর, ‘নারী শক্তি বন্দন আইন’-ই ছিল সর্বসম্মতিক্রমে পাস হওয়া প্রথম বিল; এবং এটি রাজ্যসভাতেও পাস হয়েছিল। তিনি বলেন যে, যখন এই আইনটি বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ এল, তখন বিরোধী পক্ষ আবারও এর বিরোধিতা শুরু করেছে—যা দেশের মহিলারা কখনোই ভুলবে না। তিনি আরও যোগ করেন যে, বিরোধী দলগুলো যখন নির্বাচনে অংশ নিতে যাবে, তখন তাদের মহিলাদের রোষের মুখে পড়তে হবে।

 

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে, কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন—পরিবর্তনের প্রয়োজনটা আসলে কী? তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রথম লোকসভায় ২২ জন মহিলা নির্বাচিত হয়েছিলেন; ষষ্ঠ লোকসভায় ১৯ জন; অষ্টম লোকসভায় ৪৪ জন; চতুর্দশ লোকসভায় ৫১ জন; সপ্তদশ লোকসভায় রেকর্ড সংখ্যক ৭৮ জন; এবং অষ্টাদশ লোকসভায় ৭৫ জন মহিলা সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বলেন যে, এই পরিসংখ্যানগুলো দেশের মহিলাদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ক্রমবর্ধমান উৎসাহকেই প্রতিফলিত করে। শ্রী অমিত শাহ বলেন যে, নারীদের জন্য সংরক্ষণের বিষয়টি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার "নারীর নেতৃত্বে উন্নয়ন"(উইমেন-লেড ডেভেলাপমেন্ট)—এই নীতিটি আক্ষরিক ও ভাবগত—উভয় অর্থেই নিষ্ঠার সঙ্গে অনুসরণ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রথম মন্ত্রিসভায় ১০ জন মহিলা সদস্য ছিলেন। তিনি আরও বলেন যে, সুষমা স্বরাজ দিল্লির প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন; শ্রীমতি উমা ভারতী মধ্যপ্রদেশের এবং শ্রীমতি বসুন্ধরা রাজে রাজস্থানের; আর শ্রীমতি আনন্দীবেন প্যাটেল হয়েছিলেন গুজরাটের প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন যে, গত ৭০ বছরে প্রধান বিরোধী দলটি এই রাজ্যগুলোর কোনোটিতেই কোনো মহিলাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উপহার দিতে পারেনি। তিনি আরও যোগ করেন যে, এই সরকারই শ্রীমতি দ্রৌপদী মুর্মুকে দেশের প্রথম আদিবাসী নারী রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত করেছে। শ্রী শাহ বলেন যে, সরকার এমন একটি বিল উত্থাপন করেছে, যা গত তিন দশক ধরে প্রত্যাখ্যাত হয়ে আসছিল। তবে এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে, সেই একই বিরোধী পক্ষ—যারা এর আগে এই বিলটি পাস হতে বাধা দিয়েছিল—তারা আবারও নানা শর্ত ও আপত্তির মাধ্যমে এর বিরোধিতা করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে, সারা দেশের পঞ্চায়েতগুলোতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৪ লক্ষ মহিলা নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আরও বলেন যে, তাঁরা যতই বিরোধিতার সম্মুখীন হোন না কেন, মহিলাদের ক্ষমতায়ন এবং আইনসভাগুলোতে তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাঁরা তাঁদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন।

 

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে, কেবল নারী সংরক্ষণ বিলেরই বিরোধিতা করা হচ্ছে এমন নয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, যখন ৩৭০ ধারা বাতিল করা হয়েছিল, তখন বিরোধীরা তার বিরোধিতা করেছিল। যখন রাম মন্দির নির্মিত হয়েছিল, তখনো বিরোধিতা করা হয়েছিল। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের(সিএএ ) বিরোধিতা করা হয়েছিল। তিন তালাক প্রথা বাতিলের বিরোধিতা করা হয়েছিল। জিএসটি প্রবর্তনের বিরোধিতা করা হয়েছিল। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের বিরোধিতা করা হয়েছিল। নতুন সংসদ ভবন নির্মাণের বিরোধিতা করা হয়েছিল। মৎস্য ও সমবায় মন্ত্রক গঠনের বিরোধিতা করা হয়েছিল। চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ(সিডিএস) পদ তৈরির বিরোধিতা করা হয়েছিল। নকশালবাদ নির্মূলের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করা হয়েছিল। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের বিরোধিতা করা হয়েছিল। সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের বিরোধিতা করা হয়েছিল। বিমান হামলার বিরোধিতা করা হয়েছিল। ‘অপারেশন সিন্দূর’-এর বিরোধিতা করা হয়েছিল। তিনি বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী যা-ই করেন না কেন, বিরোধীরা তার বিরোধিতা করে। তিনি আরও বলেন যে, আজ যখন দেশের নারীদের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, তখন এর বিরোধিতা করা উচিত ছিল না; কিন্তু বিরোধীরা এরও বিরোধিতা করছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে, বিরোধীরা এর বিরোধিতা করছে কারণ এই বিলটি প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী নিয়ে এসেছেন। তিনি আরও বলেন যে, যদি নারী সংরক্ষণ কার্যকর হয়, তবে মহিলাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পাবে; আর বিরোধীদের ধারণা হলো, মহিলা ভোটাররা এমনিতেই তাঁকে বেশি সমর্থন করেন—আর ঠিক এই কারণেই তাঁরা এই সংরক্ষণকে সমর্থন করতে নারাজ। তিনি আরও বলেন যে, ২০২৩ সালে সংসদের সব দল ও সদস্যরা মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু আজ বিরোধীরা সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসছে। তিনি মন্তব্য করেন যে, এমন ঘটনা এই প্রথম নয়; তিনি শাহ বানো মামলা এবং তিন তালাক-এর মতো বিষয়গুলোতে বিরোধীদের পিছু হটার নজির তুলে ধরেন এবং বলেন যে, একইভাবে যখনই নারী সংরক্ষণের প্রস্তাব এসেছে, বিরোধীরা সেখান থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।

শ্রী অমিত শাহ বলেন যে, তাঁদের নেতা সংসদের সব সদস্যকে তাঁদের বিবেক অনুযায়ী ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে তিনি আরও বলেন যে, এখানে তো মনে হচ্ছে ‘আত্মা’টাই অনুপস্থিত—তাই ‘অন্তরের কণ্ঠস্বর’ আসবে কোথা থেকে? তিনি বলেন যে, এটি এক নির্মম রাজনীতিরই প্রতিফলন। শ্রী শাহ আরও বলেন যে, নির্বাচনের সময় বিরোধীদের নেতারা দেশের যেখানেই যান না কেন, তাঁদের দেশের নারীদের রোষের মুখে পড়তে হবে।

****

SC/SB/DM


(রিলিজ আইডি: 2253215) ভিজিটরের কাউন্টার : 12
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Marathi , हिन्दी , Gujarati , Telugu , Kannada