প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

লোকসভায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষনের বঙ্গানুবাদ

প্রকাশিত: 16 APR 2026 5:43PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ 

 

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

এই গুরুত্বপূর্ণ বিলটির উপর আলোচনা আজ সকালে শুরু হয়েছে। এখানে উপস্থিত অনেক সহকর্মী বিভিন্ন বিষয় উত্থাপন করেছেন এবং তাঁরা অবশ্যই এই সভাকে তথ্য ও যুক্তি দিয়ে সহায়তা করবেন। তাই, আমি সেই বিষয়গুলিতে যেতে চাই না।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

একটি দেশের জনগনের জীবনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে এবং সেইসময়ে সমাজের মানসিকতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা সেই মুহূর্তগুলোকে ধারণ করে সেগুলোকে একটি জাতীয় ঐতিহ্যে পরিণত করে, এবং এর মাধ্যমে এক শক্তিশালী উত্তরাধিকার তৈরি করে। আমি বিশ্বাস করি, ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটি তেমনই একটি মুহূর্ত। আদর্শগতভাবে, ২৫-৩০ বছর আগে যখন এই ধারণাটি প্রথম উদ্ভূত হয়েছিল, যখন এর প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছিল, তখনই আমাদের এটি বাস্তবায়ন করা এবং এতদিনে এটিকে পূর্ণতা দেওয়া উচিত ছিল। প্রয়োজন অনুযায়ী সময়ে সময়ে উন্নতি করা যেত, আর এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমরা গণতন্ত্রের ধাতৃভূমি। আমাদের গণতন্ত্রের হাজার হাজার বছরের এক উন্নয়নমূলক যাত্রা রয়েছে এবং আজ আমাদের সেই যাত্রায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করার শুভ সুযোগ এসেছে। আমি শুরুতেই যেমন বলেছি যে, আমরা ভাগ্যবান কারণ দেশের অর্ধেক জনসংখ্যাকে দেশ গঠনের নীতি-নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় যুক্ত করানোর সুযোগ আমরা পেয়েছি। এটা আমাদের সৌভাগ্য, এবং এই গুরুত্বপূর্ণ সুযোগটি যেন হাতছাড়া না হয় সেদিকে নজর দিতে আমি আমার সকল মাননীয় সংসদ সদস্যকে অনুরোধ করছি । আমরা ভারতীয়রা একসঙ্গে দেশকে একটি নতুন দিকনির্দেশনা দেব। আমরা আমাদের শাসনব্যবস্থাকে সংবেদনশীলতায় পূর্ণ করার জন্য একটি অর্থবহ প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। আমি আত্মবিশ্বাসী যে এই আলোড়ন থেকে যে অমৃতের উদ্ভব হবে, তা কেবল দেশের রাজনীতির রূপই নির্ধারণ করবে না, বরং দেশের গতিপথ ও অবস্থাও নির্ধারণ করবে। আমরা এমনই এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

একবিংশ শতাব্দীতে ভারত নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে চলেছে। আজ আমরা সকলেই বিশ্বে ভারতের স্বীকৃতি অনুভব করছি, এবং এটি আমাদের জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত। আমরা বর্তমানের এই সময়কে একটি উন্নত ভারতের সংকল্পের সঙ্গে যুক্ত করেছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, একটি উন্নত ভারত মানে কেবল চমৎকার রেলপথ, সড়কপথ, পরিকাঠামো বা কিছু অর্থনৈতিক অগ্রগতির পরিসংখ্যান নয়। একটি উন্নত ভারত সম্পর্কে আমাদের এমন সীমিত ধারণা নেই। আমরা এমন একটি উন্নত ভারত চাই যেখানে নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে “সবার সঙ্গে, সবার বিকাশ” এই মন্ত্রটি প্রোথিত থাকবে। দেশের জনসংখ্যার ৫০ শতাংশকে নীতি নির্ধারণের অংশ হতে হবে, এটাই সময়ের দাবি। কারণ যাই হোক না কেন, বা যার জন্যই হোক, আমরা ইতিমধ্যেই দেরি করেছি এই সত্যটি মেনে নিতেই হবে। যখন আমরা ব্যক্তিগতভাবে মিলিত হই, আমরা তা স্বীকার করি, কিন্তু যখন আমরা সম্মিলিতভাবে মিলিত হই, তখন পরিস্থিতি বদলে যায়। আমার মনে আছে, যখন এই প্রক্রিয়াটি চলছিল, তখন সব দলের সঙ্গেই বৈঠক হয়েছিল। একটি দল ছাড়া, সবাই নীতিগতভাবে একমত হয়েছিল। পরে যা ঘটেছে, রাজনৈতিক নির্দেশনাই নেওয়া হয়েছে। কিন্তু যারা শুধু রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করেন, আমি বন্ধু হিসেবে তাদের একটি পরামর্শ দিতে চাই, এবং এই পরামর্শ সকলের জন্যই উপকারী হবে। মহিলা সংরক্ষণের আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিটি নির্বাচনে, যারা মহিলাদের এই অধিকার দেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন, দেশের মহিলারা তাদের কখনও ক্ষমা করেননি। তাদের সঙ্গে কঠোর আচরণ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের নির্বাচনের দিকে তাকান—তখন এমনটা ঘটেনি। কেন? কারণ ২০২৪ সালে সবাই এটি পাশ করতে একমত হয়েছিল, তাই এটি আর কোনো বিষয় ছিল না। রাজনৈতিকভাবে কেউ লাভবান হয়নি, কেউ ক্ষতিগ্রস্তও হয়নি। অন্যান্য বিষয় নিয়ে নির্বাচন হয়েছিল, কারণ ২০২৪ সালে সবাই একজোট ছিল। কেউ এখানে আছেন, কেউ নেই, কিন্তু সবাই একজোট ছিল। আজও আমি বলি, যদি আমরা সবাই একসঙ্গে এগিয়ে যাই, ইতিহাস সাক্ষী যে এটি কোনো একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে যাবে না। এটি দেশের গণতন্ত্রের পক্ষে যাবে, দেশের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার পক্ষে যাবে, এবং আমরা সবাই এর গৌরবের অধিকারী হব। শুধু সরকারি বেঞ্চ বা মোদী একা এর অধিকারী হবেন না, এখানে বসে থাকা প্রত্যেকেই এর অধিকারী হবেন। সুতরাং, যারা এর মধ্যে রাজনীতি দেখছেন, আমি চাই তারা বিগত ৩০ বছরের ফলাফলের দিকে তাকান। এতে তাদেরও লাভ রয়েছে। আমি সেই পথই দেখাচ্ছি যাতে লাভ আছে এবং যেখানে আপনারা ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবেন। তাই আমি বিশ্বাস করি, একে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

আমার মনে আছে, সেই সময়ে আমি প্রত্যক্ষ সরকারি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। আমি একটি সংগঠনের কর্মী হিসেবে কাজ করছিলাম। সেই সময় সংসদের অলিন্দে প্রায়ই এমন আলোচনা শোনা যেত যে—যখন পঞ্চায়েত স্তরে সংরক্ষণের বিষয়টি এল, তখন তারা খুব সহজেই তাতে সম্মতি দিয়ে দিল। কারণ পঞ্চায়েত স্তরে নিজেদের পদ হারানোর কোনো ভয় তাদের ছিল না। তারা নিজেদের নিরাপদ মনে করত, তাই তারা বলল,ওখানেই বরং সংরক্ষণ দেওয়া হোক। তারা যে কখনোই এখানে, অর্থাৎ সংসদে, এই সংরক্ষণ চালু করবে না সেই সময় সংসদের অলিন্দে এটিই ছিল একটি সাধারণ আলোচনার বিষয় ।কারণ এখানে তাদের নিজেদেরই কিছু হারাতে হবে। আর ঠিক সেই কারণেই পঞ্চায়েত স্তরে সংরক্ষণের হার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল।

রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমি আরও একটি বিষয় ব্যাখ্যা করতে চাই, বন্ধুরা —

২৫-৩০ বছর আগে, যারা এই সংরক্ষণের বিরোধিতা করেছিলেন, তাদের সেই বিরোধিতা কেবল রাজনৈতিক স্তরেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বিষয়টি খুব একটা গভীরতাও পায়নি। কিন্তু আজ, সেই একই ভুল করার কথা ভাববেন না। গত ২৫-৩০ বছরে, যেসব বোনেরা পঞ্চায়েত নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন, তাদের মধ্যে এখন রাজনৈতিক চেতনার জাগরণ ঘটেছে। তৃণমূল স্তরে তারাই এখন জনমত গঠনকারী বা 'ওপিনিয়ন মেকার' হয়ে উঠেছেন। ত্রিশ বছর আগে তারা নীরব ছিলেন। তারা সবকিছু বুঝতেন ঠিকই, কিন্তু মুখ ফুটে কিছু বলতেন না। আজ কিন্তু তারা সোচ্চার। তাই এখন পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, সেই লক্ষ লক্ষ বোন, যারা কোনো না কোনো সময়ে পঞ্চায়েত স্তরে কাজ করেছেন, মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং মানুষের সুখ-দুঃখকে অত্যন্ত কাছ থেকে ও গভীরভাবে অনুভব করেছে,তারা আজ অত্যন্ত উদ্দীপ্ত ও সক্রিয়। তারা আজ বলছেন,তোমরা আমাদের কেবল ঘর-দোর ঝাড়ু দেওয়া বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজেই ঠেলে দিচ্ছ।যে কাজগুলো আমরা আগে নিজেদের পরিবারেই করতাম। কিন্তু এখন আমাদের দেশের নীতিনির্ধারণ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায়ও অন্তর্ভুক্ত করো। আর সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল কাজটা তো হয় বিধানসভা এবং এই সংসদে। তাই আমি সেই সব মানুষদের বলছি, আপনি সংসদ সদস্য এমপি) হোন কিংবা বিধায়ক (এমএলএ) আমি এখানে কোনো নির্দিষ্ট দলের কথা বলছি না । আপনারা যারা নিজেদের রাজনৈতিক জীবনে উন্নতি ও অগ্রগতি চান ও সফলভাবে রাজনৈতিক জীবনে এগিয়ে যেতে চান তাদের এই সত্যটি অবশ্যই মেনে নিতে হবে যে। গত ২৫-৩০ বছরে তৃণমূল স্তরে লক্ষ লক্ষ বোন এখন নেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। এখন তারা কেবল এই সংসদে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের মাধ্যমেই আপনাদের সিদ্ধান্তগুলোকে প্রভাবিত করবেন না, বরং তৃণমূল স্তরেও তাদের প্রভাব বিস্তার করবেন। সুতরাং, যারা আজ এই সংরক্ষণের বিরোধিতা করছেন, তাদের এর মূল্য দীর্ঘ সময় ধরে চুকিয়ে যেতে হবে। আর ঠিক এই কারণেই, তৃণমূল স্তরে মহিলাদের যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে উঠেছে, তাকে যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে প্রকৃত রাজনৈতিক প্রজ্ঞা। আমি শুনেছি—মুলায়ম সিং জির সময়কাল থেকেই এই বিষয়টি উত্থাপিত হয়ে আসছিল, এবং তাঁর পরিবারও সেই ধারাটি আজও অব্যাহত রেখেছে। দেশের মহিলাদের ওপর আস্থা রাখুন; তাদের প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার ওপর বিশ্বাস রাখুন। বোনদের ৩৩ শতাংশকে এখানে আসার সুযোগ দিন, তাঁদেরই সিদ্ধান্ত নিতে দিন।কাকে দেবেন আর কাকে দেবেন না, কোন শ্রেণিকে দেবেন আর কোন শ্রেণিকে দেবেন না। তাঁরাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। তাঁদের সক্ষমতা নিয়ে আমরা কেন সন্দেহ পোষণ করি? একবার তাঁদের আসতে দিন না! ধর্মেন্দ্রজি, আমাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য আমি আপনার কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। এ কথা সত্য যে, আমি এক অত্যন্ত অনগ্রসর সমাজ থেকে উঠে এসেছি। ধর্মেন্দ্রজি, আমি আপনার কাছে অত্যন্ত ঋণী, আর অখিলেশজি যেহেতু আমার বন্ধু, তাই মাঝেমধ্যে তিনি আমাকে সহায়তা করেন। এ কথা সত্যি যে আমি এক অত্যন্ত অনগ্রসর সমাজ থেকে এসেছি, কিন্তু আমার দায়িত্ব হলো সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলাএ বং আমার সংবিধান আমাকে ঠিক সেই শিক্ষাই দেয়। আমার কাছে সংবিধানই হলো সর্বোচ্চ। আর এ তো সংবিধানেরই শক্তি যে, এত ক্ষুদ্র ও অত্যন্ত অনগ্রসর একটি সমাজ থেকে উঠে আসা একজন মানুষকে দেশের পক্ষ থেকে এত বড় একটি দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। তাই, আমি দেশের জনগণের কাছে এবং সংবিধান প্রণেতাদের কাছে ঋণ। তাঁদের জন্যই আজ আমি এই অবস্থানে এসে পৌঁছেছি।

কিন্তু মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়!

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

আজ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ,যেদিকেই আমরা তাকাই না কেন দেশকে গৌরবান্বিত করতে এবং দেশের পতাকার গৌরব বজায় রাখতে মহিলারা বিন্দুমাত্র পিছিয়ে নেই। জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের মা ও বোনেরা যে অসামান্য অবদান রাখছেন, আমাদের মেয়েরা কন্যারা প্রতিটি ক্ষেত্রে যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করছেন আমরা তার জন্য গর্ববোধ করতে পারি ! এমন বিপুল শক্তির অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও কেন আমরা তাদের অংশগ্রহণে বাধা দিতে এত শক্তি ব্যয় করছি? তাদের অন্তর্ভুক্তি তো কেবল আমাদের শক্তিকেই বৃদ্ধি করবে। তাই, আজ আমি আপনার কাছে এই আবেদন জানাতে এসেছি যে,দয়া করে এই বিষয়টিকে রাজনীতির নিরিখে বিচার করবেন না। এটি সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থে গৃহীত একটি সিদ্ধান্ত।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

আজ আমাদের সামনে সেই সুবর্ণ সুযোগ এসেছে যেখানে আমরা সবাই একযোগে বসে, একই লক্ষ্যে চিন্তা করে এবং মুক্তমনে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারি যে, একটি উন্নত ভারত গড়ে তুলতে আমরা আমাদের নারীশক্তির অংশগ্রহণকে সাদরে বরণ করে নেব। আমি যেমনটি আগেই উল্লেখ করেছি, আজ সমগ্র দেশ, বিশেষ করে দেশের নারীশক্তি, আমাদের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে থাকবে। তবে সিদ্ধান্তের চেয়েও বেশি করে তারা লক্ষ্য করবে আমাদের আন্তরিক অভিপ্রায় বা উদ্দেশ্যকে। তাই, আমাদের উদ্দেশ্য যদি কলুষিত হয়, তবে দেশের নারীশক্তি আমাদের কখনোই ক্ষমা করবে না।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

২০২৩ সালে, এই নতুন সংসদ ভবনেই আমরা সর্বসম্মতিক্রমে এই আইনটি অনুমোদন করেছিলাম। সমগ্র দেশজুড়ে তখন এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল; এতে কোনো রাজনৈতিক রং বা তকমা লাগানো হয়নি এবং ঠিক সেই কারণেই এটি কখনোই কোনো রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে ওঠেনি। সেটি ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক ও শুভ একটি মুহুর্ত । এখন প্রশ্ন হলো,আমরা আর কতদিন ধরে এই বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখব বা বিলম্ব করব? যারা জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করেনআ পনারা কি প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত নন? আমি চাইব অমিত ভাই তাঁর বক্তৃতায় এই সংক্রান্ত সমস্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরুন। আমরা কবে আদমশুমারি বা জনগণনা পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছিলাম, পরবর্তীতে কোভিড অতিমারীর কারণে কী কী জটিলতা দেখা দিয়েছিল এবং কী কী প্রতিবন্ধকতা আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল। এই সমস্ত বিষয়ই আমাদের সামনে রয়েছে। এ নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা বা বিতর্কের অবকাশ নেই। কিন্তু ২০২৩ সালে যখন আমরা এই বিষয়ে আলোচনা করেছিলাম, তখন সর্বস্তরে একটি ব্যাপক ঐকমত্য গড়ে উঠেছিল যে,এই কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন; সবাই তখন জোর দিয়ে বলছিলেন যে কাজটি যেন অবিলম্বে করা হয়। সময়ের স্বল্পতার কারণে ২০২৪ সালে এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এখন ২০২৯ সালে আমাদের সামনে সেই সুযোগটি পুনরায় উপস্থিত হয়েছে। আমরা যদি ২০২৯ সালেও এই কাজটি সম্পন্ন না করি, তবে ভবিষ্যতে কী ধরনের পরিস্থিতির উদ্ভব হবেতা আমরা সহজেই অনুমান করতে পারি। তখন দেশের মা ও বোনদের আমরা আর কোনোভাবেই বিশ্বাস করাতে পারব না যে, আমরা সত্যিই এই মহৎ উদ্যোগটি বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে সচেষ্ট ছিলা ম। আমরা যেন আর বিন্দুমাত্র বিলম্ব না করি সেটাই সময়ের দাবি । ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দলের সদস্য, সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞ, নারী অধিকার কর্মী এবং আরও অনেকের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। কেউ কেউ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। কাঠামোগত ও অনানুষ্ঠানিক,উভয়ভাবেই সকল পক্ষের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এই সমস্ত আলোচনার নির্যাস থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের এমন একটি পথ খুঁজে বের করতেই হবে, যার মাধ্যমে আমরা আমাদের মা ও বোনদের শক্তিকে কাজে লাগাতে পারি।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

আমি অবশ্যই একটি কথা বলতে চাই। এখানে বসে, সংবিধান আমাদের কাউকেই দেশকে খণ্ড-বিখণ্ডভাবে চিন্তা করার অধিকার দেয়নি। আমরা যে শপথ গ্রহণ করেছি, তা আমাদের সমগ্র দেশকে এক অখণ্ড সত্তা হিসেবে চিন্তা করতে বাধ্য করে। তা কাশ্মীরই হোক বা কন্যাকুমারী—আমরা কোনো বিষয়কে খণ্ড খণ্ড করে ভাবতে পারি না, কিংবা খণ্ড খণ্ড করে কোনো সিদ্ধান্তও নিতে পারি না। তাই, শুধুমাত্র রাজনৈতিক সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যে সত্যের লেশমাত্র নেই এমন ভিত্তিহীন যে বিতর্কের ঝড় তোলা হচ্ছে, সে প্রসঙ্গে আমি এই পবিত্র সংসদ থেকে পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে বলতে চাই, দক্ষিণ হোক বা উত্তর, পূর্ব হোক বা পশ্চিম, ছোট রাজ্য হোক বা বড় রাজ্য,আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি যে, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কারো প্রতি কোনো বৈষম্য করা হবে না, কারো প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। অতীতে পূর্ববর্তী সরকারগুলোর আমলে সীমানা পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে যে পদ্ধতিই অনুসরণ করা হয়ে থাকুক না কেন, কিংবা তখন থেকে যে অনুপাতই বজায় রাখা হয়ে থাকুক না কেন—সেই অনুপাতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না; এবং ভবিষ্যতে যদি কোনো বৃদ্ধি ঘটে, তবে তাও সেই একই অনুপাতেই হবে। যদি ‘নিশ্চয়তা’ (গ্যারান্টি) শব্দটি ব্যবহারের প্রয়োজন হয়, তবে আমি সেই শব্দটিই ব্যবহার করছি। আপনারা যদি ‘প্রতিশ্রুতি’ শব্দটি শুনতে চান, তবে আমি সেই প্রতিশ্রুতিই দিচ্ছি। তামিল ভাষায় যদি এর চেয়েও কোনো উত্তম শব্দ থাকে, তবে আমি সেটি ব্যবহার করতেও প্রস্তুত; কারণ যখন উদ্দেশ্য স্বচ্ছ ও সৎ হয়, তখন শব্দের মারপ্যাঁচে জড়ানোর কোনো প্রয়োজন থাকে না।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

সদনের সকল সহকর্মীকে আমি আরও একটি কথা বলতে চাই যে—আমাদের কোনো ভ্রান্ত ধারণার মধ্যে ডুবে থাকা উচিত নয়, কিংবা কোনো অহংকারের বশবর্তী হওয়াও উচিত নয়। আমি এখানে ‘আমরা’ শব্দটি ব্যবহার করছি; আমি ‘আমি’ বা ‘আপনি’—কারো একক প্রসঙ্গে কথা বলছি না। আমাদের এই ভ্রান্ত ধারণায় থাকা উচিত নয় যে, আমরা দেশের নারীশক্তিকে নতুন কিছু ‘দান’ করছি। না, এটি তাঁদের জন্মগত অধিকার। আমরাই দশকের পর দশক ধরে সেই অধিকারকে আটকে রেখেছিলাম। আজ, নিজেদের সেই অতীতের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করার মাধ্যমেই আমরা নিজেদের মুক্ত করার এক সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছি। আমরা সকলেই জানি যে, কীভাবে প্রতিবারই নানা কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে এবং চাতুরীর জাল বোনা হয়েছে। আমরা মুখে সবসময়ই বলেছি যে আমরা এই প্রস্তাবের পক্ষে, কিন্তু প্রতিবারই কোনো না কোনো ‘কারিগরি অজুহাত’ দিয়ে এটিকে আটকে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবারই এমন সব অবান্তর বিষয় সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিরোধিতা করার সাহস কারো ছিল না—কারণ সেই যুগ এখন অতীত। প্রকাশ্যে বিরোধিতা করা এখন আর সম্ভব নয়। কিন্তু আপনারা প্রকাশ্যে বিরোধিতা করার সাহস না দেখালেও, অন্ততপক্ষে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার সৎসাহসটুকুও দেখাতে পারেননি। তাই, ‘এটা করো’, ‘ওটা করো’, ‘এটা যোগ করো’—এমন সব কারিগরি অজুহাত দেখিয়ে এখন আর আপনারা দেশের মহিলাদের কাছে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বোঝাতে পারবেন না। সংসদে সংখ্যার এই খেলাটি শেষমেশ সময়ের হাতেই নির্ধারিত হবে; তবে এটুকু নিশ্চিত যে—নানা অজুহাত ও কারিগরি জটিলতার বেড়াজালে জড়িয়ে আমরা বিষয়টিকে গত তিন দশক ধরে আটকে রেখেছি। আপনারা যা চেয়েছিলেন, তা তো পেয়েই গেছেন। এখন বরং বিষয়টিকে ছেড়ে দিন! এটিকে আটকে রাখার জন্য তিন দশক কি যথেষ্ট নয়? টানা তিন দশক ধরে আপনারা এটিকে থামিয়ে রেখেছিলেন, অথচ এর মাধ্যমে আপনারা কিছুই অর্জন করতে পারেননি। তাই এখন বরং কাজটি সম্পন্ন করুন।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

এখানে কেউ কেউ এমনটাই মনে করেন।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

এখানে কেউ কেউ মনে করেন যে, এর মধ্যে কোথাও না কোথাও মোদীর রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িয়ে আছে। তাঁদের বলতে দিন। তাঁদের মুখ তো ওদিকে বন্ধ। বাংলায় তো কেউ তাঁদের কথা বলতে দেয় না।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

দেখুন, যদি এর বিরোধিতা করা হয়, তবে স্বাভাবিকভাবেই আমি রাজনৈতিক সুবিধা পাব। কিন্তু আমরা যদি একযোগে এগিয়ে যাই, তবে কেউ-ই কোনো সুবিধা পাবে না,এটা লিখে রাখুন। কেউ-ই কোনো সুবিধা পাবে না।। কারণ তখন বিষয়টি ভিন্ন এক রূপ ধারণ করে, তখন আর কারো ব্যক্তিগত লাভ হয় না। তাই, আমরা কোনো কৃতিত্ব বা ‘ক্রেডিট’ চাই না। বিলটি পাস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই, আগামীকালই আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিজ্ঞাপন দিতে প্রসংগে। সবার ছবি প্রকাশ করতেও প্রস্তুত। আপনারা কৃতিত্বটা নিয়ে নিন! আপনারা যদি কৃতিত্ব নিয়ে চিন্তিত হন, তবে সেটাই গ্রহণ করুন। আপনারা যার ছবিই প্রকাশ করতে চাইবেন, আমরা সরকারি খরচে সেটাই করে দেব। আমি আপনাদের সামনে থেকেই কৃতিত্বের একটি ‘ব্ল্যাঙ্ক চেক’ বা উন্মুক্ত অধিকার তুলে দিচ্ছি।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রে মহিলাদের অংশগ্রহণ কেবল সংখ্যার খেলা কিংবা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সামান্য কোনো উন্নতিসাধন নয়। ‘গণতন্ত্রের ধাতৃভূমি’ হিসেবে, এই সিদ্ধান্ত হলো ভারতের এক অঙ্গীকার। এটি একটি সাংস্কৃতিক অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকারের কারণেই পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় এমন বিধান চালু করা হয়েছিল। এখন দেশের ২০টিরও বেশি রাজ্যে মহিলাদের অংশগ্রহণ ৫০ শতাংশে পৌঁছে গেছে। আমরা নিজেরা এর অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের মানুষ আমাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিয়েছিলেন, সেই সময়ে আমি তৃণমূল স্তরে মহিলাদের নেতৃত্ব প্রত্যক্ষ করেছি। আমার অভিজ্ঞতা বলে যে, সংবেদনশীলতার সঙ্গে সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে তাঁদের অঙ্গীকার ছিল অত্যন্ত কার্যকর। উন্নয়নের যাত্রাপথে এটি নতুন গতি সঞ্চার করেছিল। সেই অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই আমি বলছি যে, এই সংসদে তাঁদের কণ্ঠস্বর এক নতুন শক্তিতে পরিণত হবে । এতে যুক্ত হবে নতুন চিন্তাধারা এবং দেশ এগিয়ে যাওয়ার যাত্রাপথে যুক্ত হবে এক নতুন সংবেদনশীলতা। যখন অভিজ্ঞতা, তথ্য এবং যুক্তির সঙ্গে মিলিত হয়, তখন তার শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং সংসদ আরও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

আমাদের দেশে অভিজ্ঞ নারীশক্তির কোনো অভাব নেই। নেই কোনো যোগ্য নারীর অভাব। আসুন, আমরা তাঁদের ওপর আস্থা রাখি। তাঁরা অবশ্যই অবদান রাখবেন। অত্যন্ত চমৎকারভাবেই তাঁরা তাঁদের দায়িত্ব পালন করবেন। আজও যখনই আমাদের বোনেরা এখানে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন, তাঁরা অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে নিজেদের মতামত তুলে ধরেছেন এবং এই সংসদকে সমৃদ্ধ করেছেন।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

আজ দেশে ৬৫০টিরও বেশি জেলা পঞ্চায়েত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৭৫টির নেতৃত্ব দিচ্ছেন মহিলারা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার মন্ত্রীদের তুলনায় তাঁদের ওপর দায়িত্ব, তহবিল এবং সুযোগ-সুবিধার পরিমাণ অনেক বেশি। তাঁরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন। প্রায় ৬,৭০০টি ব্লক পঞ্চায়েতের মধ্যে ২,৭০০টিরও বেশি পঞ্চায়েতের নেতৃত্বে রয়েছেন নারীরা। আজ দেশের ৯০০টিরও বেশি শহরে অবস্থিত নগর স্থানীয় সংস্থাগুলোতে মেয়র হিসেবেই হোক কিংবা বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির প্রধান হিসেবে আমাদের বোনেরাই ক্ষমতার আসনে অধিষ্ঠিত রয়েছেন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, দেশ আজ অগ্রগতির যে পথে এগিয়ে চলেছে, তাতে তাঁদের অবদানও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আর আজ সেই অবদানের স্বীকৃতি জানানোরই এক সুবর্ণ সুযোগ উপস্থিত হয়েছে। এই সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা যখন এই মহান সংসদের সঙ্গে যুক্ত হবে, তখন এর শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

দীর্ঘ প্রতীক্ষার ফলে আমাদের সকলের সামনেই আজ একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। আর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছি আমরা নিজেরাই। অতীতে যেসব সীমাবদ্ধতা বা প্রতিবন্ধকতা ছিল, তা কাটিয়ে উঠে সাহসিকতার সঙ্গে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে মহিলাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার এটাই হলো উপযুক্ত সময়। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আজ যদি আমরা সকলে মিলে সম্মিলিতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি, তবে সেই সর্বসম্মত পদক্ষেপের ফলে 'ট্রেজারি বেঞ্চ' বা সরকারি পক্ষের ওপরও এক ধরনের ইতিবাচক চাপ সৃষ্টি হবে। তখন তাঁরাও অনুভব করবেন যে, এই প্রক্রিয়ায় সকলেরই সমান অধিকার রয়েছে; সকলের কণ্ঠস্বরকেই যথাযথ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এতে কারোই কোনো ক্ষতি নেই, বরং কেবল কল্যাণই নিহিত রয়েছে। সম্মিলিত শক্তির প্রয়োগ সর্বদা আমাদের জন্য অত্যন্ত সুফল বয়ে আনে। আমাদের সকলেরই সর্বসম্মতভাবে এই লক্ষ্যে এগিয়ে আসা উচিত। আমি এ জন্য সকলের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাই। 

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

বেশি সময় ব্যয় না করে আমি কেবল এইটুকুই বলতে চাই যে,দয়া করে এই বিষয়টিকে রাজনীতির মানদণ্ড দিয়ে বিচার করবেন না। আমরা যখনই কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি, তখন এই বিশাল দেশের সামগ্রিক দায়িত্বের অর্ধেকটাই ন্যস্ত থাকে তাঁদের ওপর,যাঁদের আমরা আজ এই সদনে অন্তর্ভুক্ত করতে চলেছি। এই সংসদে আসন গ্রহণ করার অধিকার তাঁদেরও রয়েছে। তাঁদের সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা আমাদের কোনোভাবেই উচিত নয়। আর সংখ্যার বিষয়টি নিয়েও এর আগে আলোচনা হয়েছিল যে, তাঁদের সংখ্যা কমিয়ে ফেলার পরিবর্তে বরং তা বৃদ্ধি করা উচিত। তবেই এই প্রক্রিয়াটি আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন হবে। সেই প্রসঙ্গটিই আজ আবারও সামনে এসেছে।যেখানে প্রস্তাব করা হয়েছে যে, পূর্বে নির্ধারিত ৩৩ শতাংশের কোটা বা সংখ্যাটিকে আরও বৃদ্ধি করা হোক তাঁদের প্রাপ্য অধিকারটুকু কেড়ে নেওয়া হয়েছে এমন কোনো আশঙ্কা বা ক্ষোভের উদ্রেক যেন কারো মনেই না হয় ।এর ফলে সংসদের শক্তিতে এক নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। এর সামগ্রিক শক্তি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এবং সংসদের গঠনশৈলী বা বিন্যাসও সেই অনুযায়ী সুসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে উঠবে।ঠিক যেভাবে আমরা আগেই পরিকল্পনা করেছিলাম এবং যার জন্য প্রয়োজনীয় স্থান বা সুযোগ আমরা তৈরি রেখেছিলাম। 

মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়,

একটু হালকা সুরেই বলি—সব মানুষেরই নিজস্ব রাজনৈতিক কারণ থাকে; তবে পরাজয়ের ভয়টা কিছুটা বিস্ময়করই বটে। কিন্তু আমাদের ঐতিহ্যে এমন একটি রীতি আছে যে।যখনই কোনো ভালো কাজ সম্পন্ন হয়, তখন ‘কু-নজর’ বা অশুভ দৃষ্টি এড়াতে আমরা তাতে একটি কালো টিপ লাগিয়ে দিই। সেই ‘কালো টিপ’টি লাগিয়ে দেওয়ার জন্য আমি আপনাকে ধন্যবাদ জানাই!

আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ!

 

(এটি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের একটি আনুমানিক বঙ্গানুবাদ। মূল ভাষণটি হিন্দিতে দেওয়া হয়েছিল)

 

SC/PM/SB


(রিলিজ আইডি: 2252939) ভিজিটরের কাউন্টার : 9