পেট্রোলিয়ামওপ্রাকৃতিকগ্যাসমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর সাম্প্রতিক অবস্থা

প্রকাশিত: 12 APR 2026 4:51PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ১২ এপ্রিল ২০২৬

 

পশ্চিম এশিয়ার পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ভারত সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। জ্বালানি সরবরাহ, সামুদ্রিক কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তার জন্য গৃহীত পদক্ষেপগুলোর একটি হালনাগাদ বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

*জ্বালানি সরবরাহ এবং জ্বালানির প্রাপ্যতা*

পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক বর্তমান জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য প্রদান করেছে। হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতির কারণে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য এবং এলপিজি (LPG)-র নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে গৃহীত পদক্ষেপগুলো হলো:

*জনসাধারণের জন্য পরামর্শ এবং সচেতনতা*

 * নাগরিকদের পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজি আতঙ্কিত হয়ে মজুত না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং তথ্যের জন্য শুধুমাত্র সরকারি সূত্রের ওপর নির্ভর করতে বলা হয়েছে।
 * এলপিজি গ্রাহকদের ডিজিটাল বুকিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করার এবং ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে যাওয়া এড়ানোর অনুরোধ করা হচ্ছে।
 * নাগরিকদের পিএনজি (PNG) এবং ইলেকট্রিক বা ইন্ডাকশন কুকটপ-এর মতো বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
 * বর্তমান পরিস্থিতিতে দৈনন্দিন জীবনে শক্তি সংরক্ষণের জন্য সমস্ত নাগরিককে অনুরোধ করা হচ্ছে।

*সরকারি প্রস্তুতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনা*

 * ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও সরকার অভ্যন্তরীণ এলপিজি এবং পিএনজি সরবরাহকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, পাশাপাশি হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
 * সরকার সরবরাহ ও চাহিদা উভয় ক্ষেত্রেই বেশ কিছু  ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে শোধনাগারের উৎপাদন বৃদ্ধি, শহরাঞ্চলে বুকিংয়ের ব্যবধান ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন এবং গ্রামাঞ্চলে ৪৫ দিন পর্যন্ত করা এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলোকে সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়া।
 * এলপিজি-র ওপর চাপ কমাতে কেরোসিন ও কয়লার মতো বিকল্প জ্বালানি সহজলভ্য করা হয়েছে।
 * কয়লা মন্ত্রক কোল ইন্ডিয়া ও সিঙ্গারেণী কোলিয়ারিজ-কে ক্ষুদ্র ও মাঝারি গ্রাহকদের জন্য রাজ্যগুলোতে অতিরিক্ত কয়লা সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছে।
 * রাজ্যগুলোকে গার্হস্থ্য ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য নতুন পিএনজি সংযোগ সহজতর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

*রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার সাথে সমন্বিত প্রচেষ্টা*

 * অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন ১৯৫৫ এবং এলপিজি নিয়ন্ত্রণ আদেশ ২০০০-এর অধীনে রাজ্য সরকারগুলো সরবরাহ তদারকি এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের মজুতদারি ও কালোবাজারি রোধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
 * ভারত সরকার ২৭.০৩.২০২৬ এবং ০২.০৪.২০২৬ তারিখের চিঠির মাধ্যমে জ্বালানির পর্যাপ্ত প্রাপ্যতা সম্পর্কে নাগরিকদের আশ্বস্ত করতে সক্রিয় প্রচারের ওপর জোর দিয়েছে। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর সাথে নিয়মিত পর্যালোচনা বৈঠক করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ০২.০৪.২০২৬ এবং ০৬.০৪.২০২৬ তারিখে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় যেখানে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোতে জোর দেওয়া হয়েছে:

   * প্রতিদিন প্রেস ব্রিফিং এবং নিয়মিত গণ-পরামর্শ প্রদান করা।
   * সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া খবর বা অপপ্রচার সক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও মোকাবিলা করা।
   * জেলা প্রশাসন কর্তৃক দৈনিক এনফোর্সমেন্ট ড্রাইভ জোরদার করা এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলোর (OMCs) সাথে সমন্বয় করে তল্লাশি ও পরিদর্শন অব্যাহত রাখা।
   * রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক এলপিজি বরাদ্দের আদেশ জারি করা।
   * রাজ্যগুলোতে অতিরিক্ত বরাদ্দকৃত কেরোসিন (SKO) বিতরণের আদেশ জারি করা।
   * পিএনজি গ্রহণ এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার উৎসাহিত করা।
   * গার্হস্থ্য প্রয়োজনের জন্য এলপিজি সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে ৫ কেজির এফটিএল (FTL) সিলিন্ডার বিতরণের ব্যবস্থা করা।
 * মজুতদারি ও কালোবাজারি রুখতে সমস্ত রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কন্ট্রোল রুম এবং জেলা মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।
 * বর্তমানে ২৪টি রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং করছে।

*এনফোর্সমেন্ট এবং মনিটরিং কার্যক্রম*

 * এলপিজি মজুতদারি ও কালোবাজারি রুখতে দেশজুড়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ১১.০৪.২০২৬ তারিখে দেশজুড়ে ২৭০০-এর বেশি তল্লাশি চালানো হয়েছে।
 * রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলো আকস্মিক পরিদর্শন জোরদার করেছে এবং এখন পর্যন্ত ২১৯টি এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরশিপের ওপর জরিমানা আরোপ করেছে এবং ৫৬টি ডিস্ট্রিবিউটরশিপ স্থগিত করেছে।

*এলপিজি সরবরাহ*

*গার্হস্থ্য এলপিজি সরবরাহের অবস্থা:*

 * বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এলপিজি সরবরাহ প্রভাবিত হচ্ছে।
 * এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরশিপগুলোতে কোনো ঘাটতি বা 'ড্রাই-আউট' রিপোর্ট করা হয়নি।
 * অনলাইন এলপিজি বুকিং প্রায় ৯৮% বৃদ্ধি পেয়েছে।
 * জ্বালানি সরিয়ে নেওয়া (diversion) রোধ করতে ডেলিভারি অথেন্টিকেশন কোড (DAC) ভিত্তিক সরবরাহ প্রায় ৯৩% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
 * গার্হস্থ্য এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।
 * ১১.০৪.২০২৬ তারিখে ৫২.৩ লক্ষেরও বেশি গার্হস্থ্য এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়েছে।

*বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ এবং বরাদ্দ ব্যবস্থা:*

 * মোট বাণিজ্যিক এলপিজি বরাদ্দ সংকট-পূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ৭০% পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যার মধ্যে ১০% সংস্কার-সম্পর্কিত বরাদ্দ অন্তর্ভুক্ত।
 * ০৬.০৪.২০২৬ তারিখের চিঠিতে জানানো হয়েছে যে, পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য প্রতিটি রাজ্যে ৫ কেজি এফটিএল সিলিন্ডারের দৈনিক পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়েছে। এই সিলিন্ডারগুলো রাজ্য সরকার তেল সংস্থাগুলোর সহায়তায় শুধুমাত্র পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য বিতরণ করবে।
 * গত ৮ দিনে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলো ৫ কেজি সিলিন্ডার সম্পর্কে প্রায় ৩৩০০টি সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করেছে, যেখানে ৩৫,৮০০-এর বেশি সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে।
 * ১১.০৪.২০২৬ তারিখে দেশজুড়ে ১ লক্ষ কেজির বেশি এফটিএল সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে, যেখানে ফেব্রুয়ারি মাসে দৈনিক গড় ছিল ৭৭,০০০।
 * ২৩ মার্চ ২০২৬ থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ লক্ষেরও বেশি ৫ কেজির ফ্রি ট্রেড এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করা হয়েছে।
 * আইওসিএল (IOCL), এইচপিসিএল (HPCL) এবং বিপিসিএল (BPCL)-এর কার্যনির্বাহী পরিচালকদের একটি তিন সদস্যের কমিটি বাণিজ্যিক এলপিজি বিতরণের পরিকল্পনা করতে রাজ্য কর্তৃপক্ষ এবং শিল্প সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় করছে।
 * ১৪ মার্চ ২০২৬ থেকে মোট ১,২০,৮৯৮ মেট্রিক টন (যা ৬৩.৬ লক্ষেরও বেশি ১৯ কেজি সিলিন্ডারের সমান) বাণিজ্যিক এলপিজি বিক্রি হয়েছে।
 * ১১.০৪.২০২৬ তারিখে ৭৬৬৫ মেট্রিক টন বাণিজ্যিক এলপিজি (যা ৪ লক্ষেরও বেশি ১৯ কেজি সিলিন্ডারের সমান) বিক্রি হয়েছে।

*প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ এবং পিএনজি সম্প্রসারণ উদ্যোগ*

 * গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দিয়ে গার্হস্থ্য পিএনজি এবং সিএনজি পরিবহনে ১০০% সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
 * বর্তমান মজুত এবং নির্ধারিত এলএনজি কার্গো আসার ওপর ভিত্তি করে, সার কারখানাগুলোতে গ্যাস বরাদ্দ আরও ৫% বাড়ানো হচ্ছে, যা ৯৫% পর্যন্ত পৌঁছাবে (০৯.০৪.২০২৬ থেকে কার্যকর)।
 * বাণিজ্যিক এলপিজি-র অভাব মেটাতে সিজিডি (CGD) সংস্থাগুলোকে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং ক্যান্টিনের মতো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পিএনজি সংযোগকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।
 * আইজিএল (IGL), এমজিএল (MGL), গেইল গ্যাস (GAIL Gas) এবং বিপিসিএল-এর মতো সিজিডি সংস্থাগুলো নতুন পিএনজি সংযোগের জন্য ইনসেনটিভ দিচ্ছে।
 * সিজিডি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন দ্রুত করার জন্য রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রকগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে।
 * ১৮.০৩.২০২৬ তারিখের চিঠিতে ভারত সরকার সমস্ত রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে ১০% অতিরিক্ত বাণিজ্যিক এলপিজি বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছে, যদি তারা দীর্ঘমেয়াদে এলপিজি থেকে পিএনজি-তে রূপান্তর করে।
 * ২১টি রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ইতিমধ্যেই এই সংস্কারের সাথে যুক্ত অতিরিক্ত বরাদ্দ পাচ্ছে।
 * সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রক সিজিডি পরিকাঠামোর আবেদনের জন্য তিন মাসের জন্য একটি 'অ্যাক্সিলারেটেড অ্যাপ্রুভাল ফ্রেমওয়ার্ক' গ্রহণ করেছে।
 * ২৪.০৩.২০২৬ তারিখে ভারত সরকার অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন ১৯৫৫-এর অধীনে নতুন একটি আদেশ জারি করেছে। এটি পাইপলাইন স্থাপন এবং সম্প্রসারণের জন্য একটি সুশৃঙ্খল এবং সময়বদ্ধ কাঠামো প্রদান করে, যা প্রাকৃতিক গ্যাস পরিকাঠামোর দ্রুত উন্নয়নে সাহায্য করবে। এটি পিএনজি নেটওয়ার্কের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে এবং ভারতের গ্যাস-ভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
 * পিএনজিআরবি (PNGRB) 'ন্যাশনাল পিএনজি ড্রাইভ ২.০' ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বাড়িয়েছে।
 * রাজ্যগুলোকে নিজস্ব সিবিজি (CBG) উন্নয়ন নীতিমালা তৈরি করতে সহায়তা করার জন্য সরকার একটি মডেল ড্রাফট তৈরি করেছে। যারা এটি গ্রহণ করবে, তাদের বাণিজ্যিক এলপিজি বরাদ্দে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
 * মার্চ ২০২৬ থেকে ৪.২৪ লক্ষেরও বেশি পিএনজি সংযোগে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এছাড়া ৪.৬৬ লক্ষেরও বেশি গ্রাহক নতুন সংযোগের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন।
 * ১১.০৪.২৬ পর্যন্ত ৩০,০০০-এর বেশি পিএনজি গ্রাহক MYPNGD.in ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাদের এলপিজি সংযোগ সমর্পণ করেছেন।

*অপরিশোধিত তেলের অবস্থা এবং শোধনাগার কার্যক্রম*

 * সমস্ত শোধনাগার পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেলের মজুত নিয়ে উচ্চ ক্ষমতায় কাজ করছে এবং পেট্রোল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখা হয়েছে।
 * অভ্যন্তরীণ ব্যবহার মেটাতে শোধনাগার থেকে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে।
 * সরকার রিফাইনারিগুলোকে ঔষধ, খাদ্য বিতরণ এবং রাসায়নিক ক্ষেত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর জন্য ন্যূনতম নির্দিষ্ট পরিমাণ C3 ও C4 স্ট্রিম সরবরাহ করার অনুমতি দিয়েছে। এই কোম্পানিগুলোর জন্য দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

*খুচরা জ্বালানির ওপর প্রাপ্যতা এবং মূল্য ব্যবস্থা*

 * সারা দেশে রিটেইল আউটলেটগুলো স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।
 * মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে; তবে গ্রাহকদের সুরক্ষায় ভারত সরকার পেট্রোল ও ডিজেলে লিটার প্রতি ১০ টাকা অন্তঃশুল্ক কমিয়েছে।
 * ১১.০৪.২০২৬ তারিখের গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভারত সরকার ডিজেলের ওপর লিটার প্রতি ৫৫.৫০ টাকা এবং এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)-এর ওপর ৪২ টাকা রপ্তানি শুল্ক বৃদ্ধি করেছে যাতে অভ্যন্তরীণ বাজারে এই পণ্যগুলোর প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা যায়।
 * পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরো দামে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।

*কেরোসিনের প্রাপ্যতা এবং বিতরণ ব্যবস্থা*

 * নিয়মিত বরাদ্দের অতিরিক্ত ৪৮,০০০ কিলো লিটার কেরোসিন রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকে প্রদান করা হয়েছে।
 * ১৮টি রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল কেরোসিন (SKO) বরাদ্দের আদেশ জারি করেছে, তবে হিমাচল প্রদেশ এবং লাদাখ কোনো প্রয়োজনের কথা জানায়নি।

*সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং শিপিং অপারেশন*

বন্দর, জাহাজ চলাচল এবং জলপথ মন্ত্রক এই অঞ্চলে কর্মরত ভারতীয় জাহাজ এবং নাবিকদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মন্ত্রক জানিয়েছে যে:

 * ওই অঞ্চলে থাকা সমস্ত ভারতীয় নাবিক নিরাপদ আছেন এবং গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
 * শিপিং কন্ট্রোল রুম ২৪x৭ চালু রয়েছে। সক্রিয় হওয়ার পর থেকে এটি ৬,০৫৩টি কল এবং ১২,৭৮৭টির বেশি ইমেল পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৮০টি কল এবং ১১২টি ইমেল পাওয়া গেছে।
 * ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিং (DG Shipping)-এর মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ২,০৮৪ জনের বেশি ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে স্বদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৫ জন রয়েছেন।
 * ভারতজুড়ে বন্দর কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
 * নাবিকদের কল্যাণ এবং নিরবচ্ছিন্ন সামুদ্রিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে মন্ত্রক, বিদেশ মন্ত্রক এবং ভারতীয় মিশনগুলোর সাথে সমন্বয় চালিয়ে যাচ্ছে।

*অঞ্চলে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা*

সমগ্র অঞ্চলে ভারতীয় মিশন এবং পোস্টগুলো ভারতীয় সম্প্রদায়ের সাথে যোগাযোগ রাখছে এবং তাদের নিরাপত্তা ও মঙ্গলের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করছে। বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী:

 * সরকার উপসাগরীয় এবং পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
 * তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বয়ের জন্য বিদেশ মন্ত্রক নিয়মিতভাবে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর সাথে যোগাযোগ রাখছে।
 * অঞ্চলের ভারতীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও কল্যাণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
 * ভারতীয় মিশনগুলো হেল্পলাইন চালু করেছে এবং ভারতীয় নাগরিকদের সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছে।
 * আকাশপথ খোলা থাকা দেশগুলো থেকে বিমান চলাচল অব্যাহত রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৮,৯৭,০০০ যাত্রী ওই অঞ্চল থেকে ভারতে ফিরে এসেছেন।
 * সংযুক্ত আরব আমিরশাহি-তে সীমিত ফ্লাইট চলছে; আজ প্রায় ৯৫টি ফ্লাইট প্রত্যাশিত।
 * সৌদি আরব এবং ওমান থেকেও ভারতের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট চালু আছে।
 * কাতারের আকাশপথ আংশিকভাবে খোলা থাকায় কাতার এয়ারওয়েজ আজ ভারতে প্রায় ৮-১০টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
 * কুয়েতের আকাশপথ বন্ধ রয়েছে। সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দরের মাধ্যমে কুয়েত থেকে ভারতীয়দের যাতায়াত সহজতর করা হচ্ছে।
 * বাহরিন-এর আকাশপথ খোলা হয়েছে। গালফ এয়ার শীঘ্রই সীমিত ফ্লাইট শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
 * ইরানের আকাশপথ বন্ধ রয়েছে। আমরা আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মাধ্যমে ইরান থেকে ভারতীয় নাগরিকদের যাতায়াতে সহায়তা করছি।
 * ইসরায়েলের আকাশপথ বন্ধ রয়েছে। জর্ডান এবং মিশরের মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিকদের যাতায়াতে সহায়তা করা হচ্ছে।
 * ইরাকের আকাশপথ সীমিত ফ্লাইটের জন্য খোলা হয়েছে। জর্ডন এবং সৌদি আরবের মাধ্যমে যাতায়াত সহজতর করা হচ্ছে।


SC/PK


(রিলিজ আইডি: 2251321) ভিজিটরের কাউন্টার : 22