প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

গুজরাটের ভাব-থারাডে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সূচনায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বঙ্গানুবাদ

প্রকাশিত: 31 MAR 2026 8:27PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ৩১ মার্চ, ২০২৬ 

 

ভারত মাতার জয়!
ভারত মাতার জয়!
ভারত মাতার জয়!

অনুষ্ঠানে উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রী শ্রী ভূপেন্দ্র ভাই, গুজরাট বিধানসভার অধ্যক্ষ শঙ্কর ভাই, উপ-মুখ্যমন্ত্রী ভাই হর্ষ সাংভি, গুজরাট সরকারের মন্ত্রীগণ, বিধায়কবৃন্দ এবং বানাসকাঁথা, ভাব, থারাড ও উত্তর গুজরাটের আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা।
আজ আমার মায়েরা এখানে এত বিপুল সংখ্যায় সমবেত হয়েছেন। আমার মা ও বোনেদের আমার প্রণাম।
মাত্র কয়েক দিন আগেই পবিত্র নবরাত্রি উৎসব সমাপ্ত হয়েছে। মা অম্বাজির কৃপায় আজ আমি তাঁর চরণে উপস্থিত হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেছি। তাঁরই কৃপায় আজ আমি আপনাদের সকলের এবং আমার নিজের পরিবারের সদস্যদের দর্শন লাভের সৌভাগ্য অর্জন করেছি। আমি মা অম্বাজির চরণে প্রণাম জানাই। আমাদের বরাহ-রূপী প্রভু শ্রী ধরণীধরজি — 'মুখড়া কৃষ্ণ'—তাঁর চরণেও আজ আমি আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম নিবেদন করছি। এটি একটি আনন্দদায়ক ঘটনাও বটে যে, আজ আমরা ভগবান মহাবীর জয়ন্তীও উদযাপন করছি। আমাদের এই অঞ্চলটি বহু জৈন তীর্থক্ষেত্রের পুণ্যভূমি। আমি ভগবান মহাবীরকে প্রণাম জানাই এবং পবিত্র মহাবীর জন্ম কল্যাণক দিবস তথা মহাবীর জয়ন্তী উপলক্ষে আপনাদের সকলকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।
বন্ধুগণ,
আজ আমার মন আরও একটি কারণে অত্যন্ত আনন্দিত। আমি যখন এখানে এলাম, তখন এই প্রথমবার আমার বিমানটি সরাসরি দীসা বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করল। দীসার এই বিমানঘাঁটিটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে মাত্র ১৩০ কিলোমিটার দূরে। আপনাদের সকলের সহজেই অনুমেয় দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে এটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
বন্ধুগণ,
দীসা বিমানবন্দরের এই প্রকল্পের ভাবনাটি কিন্তু আজই প্রথম অঙ্কুরিত হয়নি। আমি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, সেই সময় থেকেই আমরা এই প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করেছিলাম; আমার কৃষক ভাই ও বোনেরা সানন্দে তাঁদের জমি দান করেছিলেন। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এবং ভারতের পশ্চিম সীমান্তের সুরক্ষার প্রয়োজনে দীসা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান; তাই এখানে একটি বিমানঘাঁটি থাকা একান্ত অপরিহার্য। কিন্তু জানি না সেই সময়ে দিল্লিতে যাঁরা শাসন ক্ষমতায় ছিলেন—জানি না গুজরাটের প্রতি তাঁদের মনে কী এমন বিদ্বেষ ছিল যে  জাতীয় নিরাপত্তার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটি বছরের পর বছর ধরে কেবল নথিপত্রের স্তূপেই চাপা পড়ে ছিল। যখন আপনারা আমাকে দিল্লিতে পাঠিয়েছিলেন, তখন আমি সেই ফাইলগুলি পুনরায় হাতে তুলে নিয়েছিলাম; আর আজ তারই সুফল হিসেবে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি এখন আমাদের ‘দীসা’-র অংশ হয়ে উঠেছে। এটি কেবল একটি বিমানঘাঁটিই নয়,এর সুবাদে এখানে ব্যাপক কর্মতৎপরতা শুরু হতে চলেছে এবং বিপুল সংখ্যক সেনা সদস্য এখানে অবস্থান করবেন। এই অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে এটি এক বিশাল অবদান রাখতে চলেছে। তবে এই কাজে যে বিলম্বটুকু হয়েছে, তার মূলে ছিল সেই সময়ে দিল্লিতে ক্ষমতাসীন কংগ্রেস সরকার, তাদেরই দৃষ্টিভঙ্গি ও মনোভাবের কারণে এই দেরী হয়েছিল; আর জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি এমন উদাসীনতাকে দেশবাসী কখনোই ক্ষমা করবে না। এটি আমাদেরই সরকার, যারা ‘দীসা বিমানবন্দর’-এর নির্মাণকাজকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সম্পন্ন করেছে; আর আজ এই বিমানবন্দরটি যেমন এই অঞ্চলের উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়েছে, তেমনি এটি দেশের জন্য একটি অত্যন্ত শক্তিশালী কৌশলগত সম্পদও বটে। এই বিমানবন্দরটির জন্য এবং এই অঞ্চলের জন্য আমি আপনাদের সকলকে আবারও আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।
বন্ধুরা,

বনসকাঁঠার এই ভাও-থারাড অঞ্চলটির সাথে আমার কতটা গভীর টান ও সম্পর্ক রয়েছে, তা আপনারা সকলেই জানেন। এখানকার এমন কোনো গ্রাম নেই, যার সাথে আমার কোনো স্মৃতি জড়িয়ে নেই। আজ যখন আমি এখানে এলাম, তখন অনেক প্রবীণ মানুষের মুখ দেখার সৌভাগ্য হলো আমার। আর রোড-শো বা শোভাযাত্রাটি এতটাই জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজিত হয়েছিল যে, তা আমার জন্য বিশেষ সুফল বয়ে এনেছে। আমি দূর থেকেই হোক না কেন,অসংখ্য প্রবীণ মানুষের সাথে দেখা করার সুযোগ পেলাম। আপনারা জানেন, যখন আমি সাংগঠনিক কাজে যুক্ত ছিলাম, তখন এই অঞ্চলে আমি প্রচুর সফর করেছি। আমি স্কুটারে চড়ে ঘুরে বেড়াতাম। তখন আপনাদের সকলের সাথে দেখা করার সুযোগ পেতাম; আর যখনই আমি আমার ‘উত্তর গুজরাটে’ আসতাম, এখানকার মা-বোনেরা পরম যত্নে খুব সুস্বাদু রুটি বানিয়ে আমাকে খাওয়াতেন—বাজরার রুটি, ঘি, গুড়, রসুনের চাটনি আর টাটকা মাখন। আপনাদের সেই স্নেহ, আপনাদের সেই অকৃত্রিম ভালোবাসা—আমি জীবনে কখনোই ভুলতে পারব না। আপনারা আমাকে যতটা স্নেহ দিয়েছেন, আমাকে যেন নিজেদের পরিবারেরই এক সন্তানের মতো করে বড় করে তুলেছেন,আর ঠিক সেই কারণেই, আমি পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকি না কেন, উন্নয়নের কাজের মাধ্যমেই আপনাদের সেই স্নেহের ঋণ সুদে-আসলে শোধ করার চেষ্টা করে যাই। এখানে সংগঠনের অনেক প্রবীণ কর্মী উপস্থিত আছেন, যাঁদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দিন-রাত কাজ করার সুযোগ আমি পেয়েছিলাম। সেই প্রবীণদের অনেকেই আজ আর আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁদের সান্নিধ্যে থেকে আমি অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। সেই সব সহকর্মীদের পাশাপাশি, আজ আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে বিজেপি কর্মীদের এক সম্পূর্ণ নতুন প্রজন্ম। আর যখন এমন একটি সফল প্রজন্মকে সামনে দেখা যায়, তখন মনে হয়,জীবনের সার্থকতা বুঝি এখানেই; মনে এক গভীর তৃপ্তির অনুভূতি জাগে। আমি দেখছি,আজ আমাদের তরুণ কর্মীরাও ঠিক সেই একই দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে সংগঠনের কাজগুলোকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। আজকের এই কর্মসূচি, এই বিশাল সমাবেশ, এর সুশৃঙ্খল আয়োজন এবং এখানে আপনাদের এত বিপুল সংখ্যক উপস্থিতি—এসবই হলো এর অকাট্য প্রমাণ। আমি এই সভার দুই প্রান্তে তাকিয়ে মনে হলো অন্তত একবার দূর থেকে আপনাদের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে অভিবাদন জানাই—কিন্তু আমার দৃষ্টিসীমা যেখানে গিয়ে শেষ হয়েছে, তারও অনেক দূরে পর্যন্ত মানুষ বসে আছেন; আর বাইরেও দাঁড়িয়ে আছেন আরও অসংখ্য মানুষ। বনসকাঁঠার পাশাপাশি, পাটন ও মেহসানা-সহ আরও বেশ কয়েকটি জেলার মানুষের সাথে দেখা করার সুযোগ আমি পেয়েছি; আর এই বিপুল উপস্থিতির জন্য আমি আপনাদের সকলকে জানাই আমার আন্তরিক অভিনন্দন। বিশেষ করে, আমার মা ও বোনেদের আমি আবারও একবার সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাই।
বন্ধুরা,
আজ থেকে ঠিক ২৫ বছর আগে—আপনারাই আমার কাঁধে বনসকাঁঠা এবং এই সমগ্র অঞ্চলের উন্নয়নের গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। যতদিন আমি গুজরাটে ছিলাম, আমি এই কাজটি 'মিশন মোডে' করেছি এবং গুজরাটকে যতটা সম্ভব এগিয়ে নিয়ে গেছি। দশকের পর দশক ধরে আপনারা যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিলেন,এই অঞ্চলের প্রতি যে অবহেলা চলছিল,সেই সমস্ত সংকট ও অসুবিধা আজ দূর হয়েছে। উন্নয়নের প্রত্যাশাগুলো একে একে পূরণ হতে শুরু করেছে। আমি গর্বিত যে, এখানে উন্নয়নের যে ধারাটি শুরু করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল, তা আজও নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত রয়েছে। আর ২০১৪ সাল থেকে, এর সাথে 'ডাবল ইঞ্জিন সরকারের' শক্তিও যুক্ত হয়েছে। আজও এখানে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের সূচনা হচ্ছে। এই প্রকল্পগুলোর হাত ধরে সমগ্র এলাকার চিত্রটাই বদলে যাবে। শক্তি, সড়ক, রেল এবং আবাসন খাতের সাথে সম্পর্কিত এই প্রকল্পগুলো এখানকার জনজীবনে এক নতুন গতি সঞ্চার করবে। এই সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজের জন্য আমি ভাও-থারাড, বনসকাঁঠা এবং সমগ্র গুজরাটবাসীকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।
বন্ধুরা,
সড়ক পরিকাঠামো সংক্রান্ত যেসব প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর আজ স্থাপন করা হলো, সেগুলো সমগ্র উত্তর গুজরাটের উন্নয়নে গতি আনবে। এখানে কর্মসংস্থান ও অগ্রগতির নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। ইডার থেকে ভাদালি বাইপাস পর্যন্ত ৪-লেনের মহাসড়ক নির্মাণ এবং ধোলাভিরা থেকে সান্তালপুর পর্যন্ত মহাসড়কটির মানোন্নয়নের কাজ—গ্রামগুলোকে বাজারের সাথে, কৃষকদের নতুন সুযোগের সাথে এবং যুবসমাজকে কর্মসংস্থানের সাথে যুক্ত করবে। আহমেদাবাদ-ধোলেরা এক্সপ্রেসওয়ে—এই সমগ্র করিডোরটি আজ এই অঞ্চলের মানুষের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হলো। যখন এমন বিশাল মাপের যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, তখন তার হাত ধরে নতুন নতুন শিল্প-কারখানা এবং বিনিয়োগও চলে আসে। পাশাপাশি, এই অঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থারও প্রভূত উন্নতি ঘটানো হয়েছে। হিম্মতনগর থেকে খেদব্রহ্মা পর্যন্ত 'গেজ রূপান্তরের'  কাজটি উত্তর গুজরাটের আমাদের জনজাতি-অধ্যুষিত এলাকাকে জাতীয় ব্রড-গেজ রেল নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করেছে। আজ থেকেই খেদব্রহ্মা, হিম্মতনগর এবং আসারওয়াকে সংযুক্তকারী একটি নতুন ট্রেন পরিষেবাও চালু হয়েছে।
ভাই ও বোনেরা,
উন্নত সড়ক ও মহাসড়ক এবং রেল যোগাযোগ সংক্রান্ত এই সমস্ত প্রকল্প—গুজরাটের সর্বাঙ্গীন উন্নয়নের পরিকল্পনারই অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই পরিকল্পনাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে আমাদের সমগ্র মনোযোগ এখানকার শক্তির চাহিদার দিকেও নিবদ্ধ রয়েছে। কারণ, নতুন শিল্প, নতুন বিনিয়োগ এবং নতুন সুযোগের সৃষ্টি তখনই সম্ভব হয়, যখন সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত থাকে। আর ঠিক সেই কারণেই, আজ 'খবদা নবায়নযোগ্য শক্তি উদ্যান'  এর সাথে সম্পর্কিত বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রকল্পগুলো এতখানি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখান থেকে সাড়ে চার গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। এই বিদ্যুৎ নতুন কারখানাগুলোর জন্যও সহায়ক হবে, আপনাদের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে এবং কৃষকের ফসলের মাঠেও সুফল বয়ে আনবে।
বন্ধুগণ,
আজ সৌরবিদ্যুৎ ক্ষেত্রে গুজরাটের বিজয়পতাকা পূর্ণ মহিমায় উড্ডীন। নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে গুজরাট আজ এতটা এগিয়ে থাকার মূল কারণ হলো—গুজরাট সেই সময়েই এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল, যখন ভারতে এই ক্ষেত্রের প্রতি খুব একটা মনোযোগ ছিল না। ২০১০ সালে—অর্থাৎ আজ থেকে ১৫-১৬ বছর আগে—মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন আমি চারাঙ্কার রতনপুরের অদূরে দেশের প্রথম সৌর পার্কের নির্মাণকাজ শুরু করিয়েছিলাম। যেসব শিশুর বয়স এখন ১৫-১৬ বছর, তারা তখন হয়তো জন্মও নেয়নি। এটি নিজেই একটি বহু-প্রযুক্তিভিত্তিক পার্ক, যা...
বন্ধুরা,

আজ আমি আপনাদের মাঝে এসেছি; তাই এখানকার দশকের পর দশক ধরে চলে আসা সেই পরিস্থিতির কথাও আজ মনে পড়ছে। সেই দিনগুলোর কথা কেউ ভুলতে পারবে না—যখনই উত্তর গুজরাটের নাম উচ্চারিত হতো, মানুষের মনে এক ভিন্ন চিত্র ভেসে উঠত। রুক্ষতা, দুর্ভিক্ষ, খরা আর জলের তীব্র অভাব—দশ বছরের মধ্যে সাতবারই এখানে দুর্ভিক্ষ দেখা দিত। এক কলসি জল ভরার জন্য মানুষকে ৩-৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হতো। সংগ্রামের এই জীবন, আর কংগ্রেস সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের প্রতি ক্রমাগত অবহেলা—সেই দিনগুলোর কথা আমাদের মধ্যে কে-ই বা ভুলতে পারে, যখন বহু কিলোমিটার দূর থেকে জল বয়ে আনতে হতো? ঘরের মা-বোনেরা ও মেয়েরা—তাদের দিনের অনেকটা সময়ই ব্যয় করতেন জলের সংস্থান করতে গিয়ে। জলের অভাবে কৃষকরাও তাদের কঠোর পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পেতেন না। গবাদি পশুপালকরাও তাদের পশুপাখির জন্য জল ও পশুখাদ্য নিয়ে সর্বদা দুশ্চিন্তায় থাকতেন। এই সমস্যা দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছিল। আগে এখানে গবাদি পশুর আশ্রয়কেন্দ্র বা 'ক্যাটল শেড' চালু রাখতে হতো। গ্রীষ্মকাল এলেই সেই আশ্রয়কেন্দ্রগুলো চালু করা হতো এবং সরকার সেখানে পশুখাদ্য বা ঘাস সরবরাহ করত। পানীয় জলের তীব্র সংকট লেগেই থাকত। দেখতে দেখতে দুই দশক পেরিয়ে গেছে; সেই সব পরিস্থিতির আজ অবসান ঘটেছে। এখন আর কোথাও সেই দৃশ্য চোখে পড়ে না, কারণ তার আর কোনো প্রয়োজনই নেই। এটি ছিল গুজরাটের মানুষের অদম্য স্পৃহা—যার জোরে আমরা সবাই মিলে আমাদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের সংকল্প গ্রহণ করেছিলাম। আমরা 'সুজলাম সুফলাম যোজনা'-র মাধ্যমে জলের সমস্যার সমাধান করেছি। নর্মদার জল আজ সুদূর প্রান্তেও পৌঁছে যাচ্ছে। সেচের জন্য এক নতুন ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়েছে।
বন্ধুরা,
আজ এখানকার কৃষক আর কেবল একটি ফসলের ওপর নির্ভরশীল নন। তিনি নিজের পরিকল্পনা ও প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষিকাজ করছেন। আলু উৎপাদনে আজ বনসকাঁঠা-র নাম যেভাবে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে, তা নিজেই একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।
একইভাবে, ভাই ও বোনেরা,
উন্নয়নের যে কাজগুলো আমরা আজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি, তার সুফল সমগ্র উত্তর গুজরাটের মানুষের কাছেই পৌঁছাবে। প্রতিটি জেলার জন্যই—ভাও-থরাদ, বনসকাঁঠা, পাটন এবং মেহসানা—নতুন নতুন সুযোগের দ্বার উন্মোচিত হবে এবং একটি উন্নত জীবনের পথ প্রশস্ত হবে।
বন্ধুরা,
গুজরাটের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এই যে, গত ২৫ বছর ধরে উন্নয়নের যে মহাযজ্ঞ এখানে চলছে, তা এক মুহূর্তের জন্যও স্তব্ধ হতে দেওয়া হয়নি। গুজরাট একের পর এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। এমনকি, নিজের গড়া রেকর্ডগুলোকেও সে নিজেই ভেঙে নতুন নজির স্থাপন করেছে। প্রথমে নতুন রেকর্ড গড়লাম, তারপর সেই রেকর্ড ভাঙলাম, এবং পুনরায় নতুন রেকর্ড স্থাপন করলাম। এইমাত্রই গুজরাটের পরিকাঠামো প্রকল্পগুলোর কথা উল্লেখ করা হলো; একইভাবে, আমরা সমগ্র গুজরাট জুড়ে উন্নত সড়কপথের মাধ্যমে গ্রাম থেকে গ্রামকে সংযুক্ত করেছি। আমরা উচ্চ-গতির মহাসড়ক নির্মাণ করেছি। 'বন্দে ভারত'-এর মতো উচ্চ-গতির ট্রেনের সুবিধাও এখন গুজরাটের মানুষ পাচ্ছেন।
ভাই ও বোনেরা,
২০০৫ সালে, গুজরাটের প্রতিটি প্রান্তে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আমি 'নগর উন্নয়ন বর্ষ' কর্মসূচির সূচনা করেছিলাম। সেই সময় এর বাজেট ছিল প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা। কিন্তু, উন্নয়নের চাকা এত দ্রুত গতিতে ঘুরতে শুরু করল যে, আজ সেই বাজেট বেড়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই লক্ষ্যেই, ৯টি নতুন পৌরনিগমের  জন্য প্রায় ২,৩০০ কোটি টাকার ৩০০টিরও বেশি প্রস্তাব অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ৭২টি পৌরসভাকে উন্নীত করা হয়েছে। গুজরাট সরকার এই বছর যে বাজেট পেশ করেছে, তার পরিমাণও ৪ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি। এই অর্থ গ্রামের পর গ্রাম, ছোট শহর এবং বড় নগরগুলোর রূপান্তরের কাজে ব্যয় করা হবে। প্রতিটি গ্রামে এখন উন্নততর সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলা হচ্ছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে ঘরে ঘরে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
ভাই ও বোনেরা,
পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে সংসদ—সর্বত্র আপনাদের আস্থা ও বিশ্বাস যতদিন অটুট থাকবে, ততদিন উন্নয়নের এই 'সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস' ঠিক এই গতিতেই ছুটে চলবে।
বন্ধুরা,
ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি বা বৈশিষ্ট্য হলো, যত কঠিন সময়ই হোক না কেন, সংকটের মুহূর্তে আমাদের এই দেশ সর্বদা ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়ায়। আপনারা গত কিছুদিন ধরেই লক্ষ্য করছেন যে, বিশ্বের বহু দেশ বর্তমান যুদ্ধ, অশান্তি এবং অস্থিতিশীলতার আবর্তে রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় যে পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে, তার প্রভাব সমগ্র বিশ্বের ওপর পড়েছে। বিশ্বজুড়েই জ্বালানি চাহিদা মেটানো, বিশেষ করে ডিজেল, পেট্রোল এবং গ্যাসের জোগান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তীব্র সংকট ও জটিলতা দেখা দিয়েছে। এমন এক চরম সংকটের মধ্যেও ভারত পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এর নেপথ্যে রয়েছে দেশের সফল পররাষ্ট্রনীতি এবং দেশবাসীর অটুট ঐক্য।
কিন্তু ভাই ও বোনেরা,
কী দুর্ভাগ্য দেখুন! এমন এক বৈশ্বিক সংকটের কালেও আমাদের দেশের কিছু রাজনৈতিক দল নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি বা 'রাজনৈতিক রুটি সেঁকা' থেকে বিরত থাকছে না! আর এই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের পুরোভাগে বা নেতৃত্বে যদি কেউ থেকে থাকে, তবে তা হলো—কংগ্রেস দল! আজ যখন দেশের প্রয়োজন ঐক্য ও সংহতির, তখন কংগ্রেস নেতারা ব্যস্ত  দেশকে বিভক্ত করার অপচেষ্টায়। আজ যখন দেশের প্রয়োজন পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস, তখন কংগ্রেস ব্যস্ত রয়েছে ভয়ভীতি ছড়ানো এবং গুজব রটানোর কাজে। আজ যখন দেশের প্রয়োজন সংযমের তখন কংগ্রেস জনগণকে উস্কানি দিতে ব্যস্ত। রাজনৈতিক শকুনদের মতো কংগ্রেস সেই সুযোগের অপেক্ষায় ওঁত পেতে আছে—কখন দেশের সংকট ঘনীভূত হবে, আর সেই অজুহাতে তারা রাজনৈতিক ফায়দা লুটবে!
ভাই ও বোনেরা,
আজ বিশ্বের ছোট দেশ থেকে শুরু করে শক্তিধর দেশ সব জায়গাতেই ডিজেল ও পেট্রোলের দাম কোথাও ১০ শতাংশ, কোথাও ২০ শতাংশ, আবার কোথাও ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু, ভারত সরকার দেশের সাধারণ মানুষের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়তে দিচ্ছে না। কংগ্রেস বিষয়টি সহ্য করতে পারছে না। আর ঠিক এই কারণেই তারা ক্রমাগত গুজব ছড়াচ্ছে—যাতে দেশে একটি ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়; মানুষ পেট্রোল পাম্প ও গ্যাস সংস্থাগুলির সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হয় এবং সর্বত্র বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে! এ নিয়ে অপপ্রচার চালানোই হলো তাদের মূল উদ্দেশ্য!
বন্ধুরা,
ক্ষমতা থেকে দূরে সরে গেলেই কংগ্রেস দল হিতাহিতজ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ে। আপনারা সম্প্রতি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত 'গ্লোবাল এআই সামিট'-এও এর নজির দেখেছেন। সেই সম্মেলনে সারা বিশ্ব থেকে অতিথিরা এসেছিলেন,  দিল্লির এই এআই সামিট বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত; অথচ প্রতিবাদের নামে কংগ্রেসের লোকেরা কীভাবে নিজেদের জামাকাপড় পর্যন্ত ছিঁড়ে ফেলেছিল—তা আপনারা দেখেছেন। তাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল বিশ্বের দরবারে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা! এমনকি বর্তমান পরিস্থিতিতেও কংগ্রেস সেইসব বিদেশি শক্তির সুরে কথা বলছে, যারা ভারতকে দুচোখে দেখতে পারে না। কংগ্রেসের এই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আমাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।
বন্ধুরা,
ভারত যেকোনো কঠিন পরিস্থিতির দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলায় সক্ষম।করোনা অতিমারীর সময়েও আমরা তা প্রমাণ করে দেখিয়েছি। একইভাবে, বর্তমান সময়েও আমাদের সবার ঐক্যবদ্ধ থাকার সময়।আজ যখন সমগ্র বিশ্ব কেবল নিজেদের সুরক্ষায় ব্যস্ত, তখন ভারত কেবল অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাই বজায় রাখাই নয়, বরং প্রতিদিন উন্নয়নের পথেও এগিয়ে চলেছে-এই বিষয়ে আমাদের সকলের গর্ববোধ করা উচিত। আজ গুজরাটে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন—এরই এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। এই উন্নয়নমূলক কাজের জন্য আমি আবারও আপনাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। পাশাপাশি, দেশের সাধারণ মানুষ তাদের সংযম, সহযোগিতা এবং শৃঙ্খলার যে পরিচয় দিয়েছেন—তার জন্য আমি তাঁদের জানাই অশেষ ধন্যবাদ।
আপনাদের সবার সঙ্গে সাক্ষাতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আপনাদের আশীর্বাদেই আমি সামনে  এগিয়ে চলছি। আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

(প্রধানমন্ত্রীর মূল ভাষণটি দেওয়া হয়েছিল হিন্দিতে)

 


SC/AB/SB


(রিলিজ আইডি: 2247721) ভিজিটরের কাউন্টার : 12
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , हिन्दी , Manipuri , Assamese , Punjabi , Gujarati , Kannada , Malayalam