প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আসামের শিলচরে ২৩,৫৫০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন

প্রকাশিত: 14 MAR 2026 1:28PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ১৪ মার্চ, ২০২৬

 

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ আসামের শিলচরে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেছেন। সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন যে, সংস্কৃতি ও প্রাণচঞ্চলতায় সমৃদ্ধ বরাক উপত্যকা সফর করা তাঁর কাছে সর্বদা এক অত্যন্ত বিশেষ অভিজ্ঞতা। প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন যে, শিলচর হলো এই উপত্যকার প্রবেশদ্বার; যেখানে ইতিহাস ও ভাষা একাকার হয়ে একটি অনন্য আঞ্চলিক পরিচিতি গড়ে তুলেছে। শ্রী মোদী উল্লেখ করেন যে, এই অঞ্চলের মূল শক্তি নিহিত রয়েছে এর বৈচিত্র্যের মধ্যে—যেখানে বাঙালি, অসমীয়া এবং বিভিন্ন জনজাতির ঐতিহ্য পারস্পরিক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে পাশাপাশি বিকশিত হচ্ছে। শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “বরাক উপত্যকার বৈচিত্র্যই হলো এর সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ, যা এখানকার নাগরিকদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ জাগিয়ে তোলে।”

প্রধানমন্ত্রী পর্যবেক্ষণ করেন যে, এই অঞ্চলের উর্বর সমভূমি এবং চা-বাগানগুলো দীর্ঘকাল ধরে এখানকার স্থানীয় অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক পথগুলোর মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন যে, আজ হাজার হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধনের ফলে সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি ‘লজিস্টিক হাব’ বা পণ্য পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে বরাক উপত্যকার গুরুত্ব ও সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। শ্রী মোদী উল্লেখ  করেন যে, রেল, সড়ক এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে গৃহীত এই উদ্যোগগুলো স্থানীয় যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যেই প্রণীত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান যে, এই অঞ্চলটিকে এখন এমনভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে এটি কেবল রাজ্যের অভ্যন্তরীণ অংশের সঙ্গেই নয়, বরং প্রতিবেশী পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য অংশের সঙ্গেও সংযোগ স্থাপন করতে পারে। শ্রী মোদী মন্তব্য করেন, “বরাক উপত্যকা অচিরেই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি অন্যতম প্রধান লজিস্টিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হতে চলেছে।”

প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন যে, বর্তমান সরকার এই অঞ্চলটিকে ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ বা ‘পূর্বমুখী নীতি’-র কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী উল্লেখ করেন যে, বর্তমান প্রশাসন এই অঞ্চলের হারানো শিল্প-গৌরব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী পর্যবেক্ষণ করেন যে, ২৪,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পরিকল্পিত ‘শিলং-শিলচর হাই-স্পিড করিডর’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে আজ এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করা হলো। তিনি জানান যে, ‘অ্যাক্সেস-কন্ট্রোলড’ বা নিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথ বিশিষ্ট এই করিডরটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে এই ধরণের প্রথম প্রকল্প এবং এর মাধ্যমে এখানকার মানুষের কয়েক দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটল। শ্রী মোদী উল্লেখ করেন যে, এই করিডরটি শিলচরকে মিজোরাম, মণিপুর ও ত্রিপুরার সঙ্গে সংযুক্ত করবে এবং পরিশেষে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিশাল বাজারগুলোর সঙ্গেও যুক্ত করবে। প্রধানমন্ত্রী জানান যে, এই সংযোগ ব্যবস্থা স্থানীয় শিল্প, কৃষি এবং পর্যটন ক্ষেত্রের উন্নয়নে এক বিশাল গতি সঞ্চার করবে। শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “বরাক উপত্যকা এক অত্যন্ত উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সঙ্গে সংযুক্ত হতে চলেছে।” প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, শিলচরের নতুন ফ্লাইওভারটি যানজট থেকে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় স্বস্তি প্রদান করবে—যা দীর্ঘকাল ধরে শহরের বাসিন্দাদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই পরিকাঠামোটি শিলচর মেডিকেল কলেজ, এনআইটি এবং আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এক বিশাল আশীর্বাদস্বরূপ, যা তাঁদের মূল্যবান সময় সাশ্রয় করবে। আসামের রেল নেটওয়ার্কের ২,৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি অংশের বিদ্যুতায়ন দ্রুততর যাতায়াত নিশ্চিত করবে—এই বিষয়টি উল্লেখ করে শ্রী মোদী মন্তব্য করেন, “উচ্চ-গতিসম্পন্ন ও পরিচ্ছন্ন রেল পরিবহন ব্যবস্থা বরাক উপত্যকার নির্মল পরিবেশের জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে সুফল বয়ে আনবে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, উপত্যকার চা বাগানের শ্রমিক এবং কৃষকরা আসামের উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন। তিনি জানান যে, এখন পর্যন্ত ‘পিএম-কিষাণ সম্মান নিধি’-র আওতায় আসামের কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০,০০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ সরাসরি হস্তান্তর করা হয়েছে। শ্রী মোদী আরও উল্লেখ করেন যে, ঠিক গতকালই বরাক উপত্যকার হাজার হাজার কৃষকও তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ সহায়তা পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, এই সহায়তা কৃষকদের কৃষিকাজ সংক্রান্ত তাঁদের ছোট অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনগুলো মেটাতে সাহায্য করছে। শ্রী মোদী উল্লেখ করেন যে, পাথারকান্দিতে এই অঞ্চলের প্রথম কৃষি মহাবিদ্যালয় স্থাপনের ফলে বরাক উপত্যকা কৃষি গবেষণার একটি অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, এই প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় যুবকদের সফল কৃষি-ভিত্তিক স্টার্টআপ বা উদ্যোগ শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে। শ্রী মোদী বলেন, "বরাক উপত্যকা এখন কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার জন্য সুপরিচিত হবে।"

শ্রী মোদী বলেন যে, বর্তমান সরকার উন্নয়নের দৌড়ে যারা পিছিয়ে পড়েছেন, তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি বা মন্ত্র অনুসরণ করে চলে। প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন যে, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোকে একসময় 'শেষ' গ্রাম হিসেবে গণ্য করা হতো, কিন্তু তাঁর সরকার এখন সেগুলোকে দেশের 'প্রথম' গ্রাম হিসেবে বিবেচনা করে। তিনি উল্লেখ করেন যে, কাছাড় জেলা থেকে সম্প্রসারিত 'ভাইব্রেন্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম' ইতিমধ্যেই সীমান্ত এলাকার বসতিগুলোতে দৃশ্যমান উন্নতি ঘটাতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, এই এলাকাগুলোর প্রতি অতীতে যে অবহেলা করা হতো, এখন তার পরিবর্তে সক্রিয় উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ এবং কৌশলগত গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "আমরা সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোকে দেশের প্রথম গ্রাম হিসেবেই গণ্য করি।"

প্রধানমন্ত্রী অভিমত প্রকাশ করেন যে, হাজার হাজার চা বাগান-শ্রমিক পরিবারকে জমির অধিকার প্রদান করে আসাম সরকার একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছে। দুই শতাব্দী ধরে যাঁরা নিরলস সেবা দিয়ে গেছেন, সেই প্রজন্মের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের লক্ষ্যে জমির এই স্বত্ব প্রদানকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে শ্রী মোদী বলেন যে, এই আইনি নিরাপত্তা তাঁদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, "জমির এই অধিকার প্রাপ্তির ফলে এখন এই পরিবারগুলো স্থায়ী বাসস্থান, বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের মতো কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পগুলোর সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।"

প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, সরকার বিশেষ করে চা বাগানের যুবকদের জন্য স্কুল, শিক্ষাবৃত্তি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপরও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী মন্তব্য করেন যে, এই প্রচেষ্টাগুলো অতীতে অবহেলিত থেকে যাওয়া শ্রমিক পরিবারের সন্তানদের জন্য একটি সোনালী ভবিষ্যতের দ্বার উন্মোচন করছে। তিনি বলেন যে, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা—এই তিনটি বিষয়ই বর্তমান সরকারের আঞ্চলিক উন্নয়ন কৌশলের মূল স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, আসাম দ্রুত একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে; যেখানে এখন এইমস এবং ক্যান্সার হাসপাতালগুলো মিলে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। শ্রী মোদী মন্তব্য করেন, "চা বাগানের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক সোনালী ভবিষ্যতের দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে।"

প্রধানমন্ত্রী পর্যবেক্ষণ করেন যে, আসামের তরুণদের সামনে এখন সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সুযোগের এক বিশাল দিগন্ত উন্মুক্ত হলেও, শান্তি ও অগ্রগতির এই বর্তমান যুগটি অর্জিত হয়েছে অগণিত মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে; তাই পশ্চাৎমুখী শক্তিগুলোর হাত থেকে একে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, রাজ্যের অগ্রযাত্রাকে আবারও সেই অশান্ত ও সংকটময় অতীতের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে যারা, সেরকম  যেকোনো শক্তিকে উপযুক্ত জবাব দিতে হবে। শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "আসাম এখন ভারতের সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। এখানে এখন পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় পরিবেশ এবং মেধা গড়ে উঠছে।"

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বিশ্বব্যাপী সংকট ও যুদ্ধের এই সময়েও বর্তমান সরকার ভারতীয় নাগরিকদের ওপর এর প্রভাব যথাসম্ভব কমিয়ে আনতে পূর্ণ শক্তিতে কাজ করে যাচ্ছে। শ্রী মোদী মন্তব্য করেন যে, এই অঞ্চলের অগ্রগতির পথে যাত্রা এখন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে—যা এখানকার সমৃদ্ধ ভাষা ও সংস্কৃতির দ্বারা আরও শক্তিশালী হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন যে, আজ যেসব উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হলো, তা এই উপত্যকার জন্য এক নতুন যুগের সূচনামাত্র। প্রধানমন্ত্রী অভিমত প্রকাশ করেন যে, জনগণের সম্মিলিত সংকল্পই সমগ্র রাজ্যের জন্য একটি উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে। শ্রী মোদী উপসংহারে বলেন, "সেই দিন আর খুব বেশি দূরে নয়, যখন বরাক উপত্যকা উন্নয়নের এক নতুন কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করবে।"

 

SC/SB/DM


(রিলিজ আইডি: 2240214) ভিজিটরের কাউন্টার : 3