প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
আসামের গুয়াহাটিতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধনের করে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বঙ্গানুবাদ
প্রকাশিত:
13 MAR 2026 8:00PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ১৩ মার্চ ২০২৬
গুয়াহাটির আমার প্রিয় নাগরিকদের জানাই আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা।
আসামের রাজ্যপাল শ্রী লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য জি, এই রাজ্যের জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আমার সহকর্মী শ্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল জি, উপস্থিত রাজ্য সরকারের সকল মন্ত্রী, জন-প্রতিনিধিগণ, সারা দেশ থেকে প্রযুক্তির মাধ্যমে এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত আমাদের সকল কৃষক বন্ধু, চা-বাগানে কর্মরত আমার ভাই ও বোনেরা—এবং আমি দেখছি যে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমাদের অনেক বরিষ্ঠ মুখ্যমন্ত্রীও আজ এই কর্মসূচিতে আমাদের সঙ্গে যুক্ত আছেন—সকলকে জানাই আমার সশ্রদ্ধ অভিবাদন।
ভাই ও বোনেরা,
নবরাত্রির প্রাক্কালে আজ, মা কামাখ্যার এই পুণ্যভূমিতে আপনাদের সান্নিধ্য লাভের সৌভাগ্য আমার হয়েছে। মা কামাখ্যার আশীর্বাদে, কিছুক্ষণ আগেই এখান থেকে ১৯,৫০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন সম্পন্ন হলো। শক্তি ক্ষেত্রে আসামকে আত্মনির্ভর করে তোলার প্রকল্প থেকে শুরু করে, আসামে আগত মানুষদের সুবিধার্থে গৃহীত বিভিন্ন কাজ—এমন বহু প্রকল্প আজ আসামকে উপহার দেওয়া হয়েছে। দেশের কৃষকদের এবং আসামের চা-বাগানে কর্মরত বন্ধুদের জন্যও আজ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। মাত্র কিছুক্ষণ আগেই, সারা দেশ জুড়ে ‘পিএম কিষাণ সম্মান নিধি’-র আওতায়, আমাদের কোটি কোটি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৮,০০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ সরাসরি জমা করা হয়েছে। এছাড়া, আজ আসামের চা-বাগানগুলির সঙ্গে যুক্ত বহু পরিবারকে জমির পাট্টাও প্রদান করা হয়েছে। আমি আসামের জনগণকে, এখানকার সকল পরিবারকে এবং সারা দেশের কৃষকদের জানাই অসংখ্য অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
সাথীরা,
আজ সারা দেশের কৃষক সাথীরা মা কামাখ্যার এই পুণ্যভূমিতে সমবেত হয়েছেন। অল্প কিছুক্ষণ আগেই, কোটি কোটি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ‘পিএম কিষাণ নিধি’-র অর্থ জমা হওয়ার বার্তা সবার মোবাইলে পৌঁছে গেছে। এই প্রকল্পটি সত্যিই এক অসাধারণ উদ্যোগ। মাত্র একটি ক্লিকের মাধ্যমেই কোটি কোটি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা জমা হয়ে যায়। এমনকি বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতেও এমন কিছু সম্ভব নয়। যখন বিদেশি অতিথিরা আমার সঙ্গে দেখা করেন এবং এই বিষয়ে নানা প্রশ্ন করেন—কীভাবে এসব সম্ভব হচ্ছে—তা জানার জন্য তাঁরা অত্যন্ত কৌতূহলী হয়ে ওঠেন। বিশ্বের বড় বড় দেশের শীর্ষনেতাদের কাছেও এটি এক বিশাল অলৌকিক ঘটনার মতোই মনে হয়; অথচ এঁরা তো আমারই সেই কৃষক ভাই-বোনেরা, যাঁদের অধিকাংশেরই ২০১৪ সালের আগে না ছিল কোনো মোবাইল ফোন, আর না ছিল ব্যাংকে কোনো অ্যাকাউন্ট। আজ সেই কোটি কোটি কৃষকের অ্যাকাউন্টে এ পর্যন্ত চার লক্ষ পঁচিশ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ জমা হয়েছে। এর মধ্যে আসামের প্রায় ১৯ লক্ষ কৃষকও রয়েছেন, যাঁরা এ পর্যন্ত প্রায় আট হাজার কোটি টাকা সহায়তা হিসেবে পেয়েছেন।
সাথীরা,
আমার মনে আছে, যখন ‘পিএম কিষাণ সম্মান নিধি’ প্রকল্পটির সূচনা হয়েছিল, তখন গুজব ছড়ানো এবং মিথ্যা বলায় সিদ্ধহস্ত কংগ্রেসের লোকেরা বলত যে, মোদী আজ এই প্রকল্পের টাকা দিলেও নির্বাচনের পর তা নাকি ফেরত দিতে হবে; মিথ্যা বলায় তারা এতটাই পারদর্শী। কিন্তু আজ এই ‘সম্মান নিধি’ প্রকল্পটি দেশের ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য সামাজিক সুরক্ষার একটি অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
সাথীরা,
বিজেপি-এনডিএ সরকারের কাছে কৃষকদের স্বার্থের চেয়ে বড় আর কিছুই নেই। কৃষকদের টাকা দেওয়ার প্রসঙ্গ এলেই কংগ্রেসের সদস্যদের যেন দম আটকে আসত। আমি আপনাদের আরেকটি উদাহরণ দিচ্ছি। ২০১৪ সালের আগে, কেন্দ্রে টানা ১০ বছর কংগ্রেসের সরকার ক্ষমতায় ছিল। কংগ্রেস সরকারের সেই ১০ বছরে কৃষকরা ‘এমএসপি’ (এম এস পি) বা ন্যূনতম সহায়ক মূল্য হিসেবে পেয়েছিলেন ৬.৫ লক্ষ কোটি টাকা—১০ বছরে মাত্র ৬.৫ লক্ষ কোটি টাকা। অথচ আমাদের সরকারের এই ১০ বছরে, কৃষকরা ‘এমএসপি’ হিসেবে পেয়েছেন ২০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি।
সাথীরা,
গত ১১ বছরে, বিজেপি-এনডিএ সরকার দেশের কৃষকদের চারপাশে একটি শক্তিশালী সুরক্ষাবলয় গড়ে তুলেছে। তা এমএসপি (এম এস পি)-ই হোক, সস্তা ঋণ হোক, শস্য বীমা হোক কিংবা 'পিএম কিষাণ সম্মান নিধি'—এই প্রকল্পগুলো কৃষকদের জন্য এক বিশাল অবলম্বন হয়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক সংকটের প্রভাব আমাদের কৃষি ও চাষবাসের ওপর যেন না পড়ে আমরা এ বিষয়েও সজাগ দৃষ্টি রেখেছি। আমরা দেখেছি করোনা মহামারী এবং তার পরবর্তী যুদ্ধগুলোর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল। এমনকি বিদেশি বাজার থেকে সার সংগ্রহ করাও অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার এই সংকট মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়ার যে বস্তাটি ৩ হাজার টাকায় পাওয়া যায়, আমাদের সরকার সেই একই বস্তা দেশের কৃষকদের হাতে তুলে দিয়েছে মাত্র ৩০০ টাকায়। এর বোঝা আমার কৃষকদের ওপর না চাপে সেজন্য সরকার এই বাবদ নিজের রাজকোষ থেকে ১২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অর্থ ব্যয় করেছে। সরকার এই বিশাল বোঝা নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছে।
সাথীরা,
গত এক দশকে, বিজেপি-এনডিএ সরকার আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের লক্ষ্যে আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করেছে। বহিরাগত সংকট থেকে কৃষিকে সুরক্ষিত রাখতে আমরা আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার বিষয়টিকে উৎসাহিত করেছি। স্বাধীন ভারতে আমরা বারবারই দেখেছি যে, বিশ্বের অন্য কোনো প্রান্তে যখন যুদ্ধ বেধে যায় কিংবা পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় (সরবরাহ শৃঙ্খল) কোনো বিঘ্ন ঘটে, তখন তার মাশুল দিতে হয় আমাদের কৃষকদেরই। কখনো সারের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে, আবার কখনো বা ডিজেল ও জ্বালানির দাম হু হু করে বেড়ে যায়। এর মূল কারণ হলো—গত কয়েক দশক ধরে কংগ্রেস দল দেশকে অন্য দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল করে রেখেছিল। আর ঠিক এই কারণেই কৃষিকাজের খরচও ক্রমাগত বৃদ্ধি পেত।
সাথীরা,
কৃষকদের চাষের কাজ যাতে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, তারা যেন সেচের নতুন নতুন পদ্ধতির সুফল পায় এবং তাদের উৎপাদিত ফসলেরও যাতে সার্বিক উন্নতি ঘটে—এই লক্ষ্য নিয়েই আমাদের সরকার 'প্রতি ফোঁটায় অধিক ফসল' (পার ড্রপ মোর ক্রপ) নীতি প্রণয়ন করেছে। এই নীতির আওতায় সরকার কৃষকদের কাছে 'ড্রিপ' ও 'স্প্রিংকলার'-এর মতো আধুনিক অণু-সেচ (মাইক্রো-ইরিগেশন) প্রযুক্তি পৌঁছে দিয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন সেচ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটেছে, তেমনই অন্যদিকে কৃষিকাজের খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে সরকার আপনাদের কৃষিজমিগুলোকে সৌর-চালিত পাম্পের (সোলার পাম্পস) সঙ্গে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে; আর আমাদের মূল প্রচেষ্টা হলো—ডিজেলের পেছনে আপনাদের যে খরচ হয়, তা যেন যথাসম্ভব কমিয়ে আনা যায়। কেন্দ্রীয় সরকার যে 'কুসুম প্রকল্প' (কুসুম স্কিম) চালু করেছে, তার মূল উদ্দেশ্যই হলো এই লক্ষ্যটি পূরণ করা। বর্তমানে অনেক কৃষক কেবল সৌর পাম্প স্থাপন করে সেচের কাজ করছেন তা নয়, বরং তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে অর্থ উপার্জন করতেও সক্ষম হচ্ছেন। আর ঠিক এই কারণেই আমি বলি—আমাদের ‘অন্নদাতা’ যেন ‘শক্তিদাতা’ হয়ে ওঠেন।
সাথীরা,
সারের ওপর এবং কীটনাশকের ওপর কৃষকদের নির্ভরতা যেন হ্রাস পায় আমরা সেই লক্ষ্যে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কংগ্রেসের ভ্রান্ত নীতির কারণে দেশের পাঁচটি বৃহৎ সার কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমরা সেই সার কারখানাগুলোকে পুনরায় চালু করেছি। এর পাশাপাশি, কৃষকদের ‘ন্যানো ইউরিয়া’-র সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যেও বহুবিধ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের কৃষকরা এর সুফল ভোগ করছেন। বর্তমানে বিজেপি-এনডিএ সরকার দেশের কৃষকদের প্রাকৃতিক কৃষিকাজে উৎসাহিত করছে। কৃষকরা যখন অত্যন্ত ব্যাপক পরিসরে প্রাকৃতিক কৃষিপদ্ধতি গ্রহণ করবেন, তখন একদিকে যেমন মাটির সুরক্ষা নিশ্চিত হবে, তেমনই আমাদের ‘অন্নদাতারা’ও বৈশ্বিক সংকট থেকে সুরক্ষিত থাকবেন।
সাথীরা,
আমরা দেশকে আত্মনির্ভর করে তোলার কাজে ব্রতী। একদিকে বিজেপি-এনডিএ সরকার কৃষকদের কল্যাণে কাজ করে চলেছ ,অন্যদিকে কংগ্রেস আজ আবারও প্রমাণ করে দিয়েছে যে, কোনো পরিস্থিতিতেই তারা দেশের প্রতি সৎ নয়। এমনকি যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সংকটের এই সময়েও, কংগ্রেস কেবল গুজব ছড়ানো এবং অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। আমি কংগ্রেসের বন্ধুদের উদ্দেশে বলতে চাই—একটি কাজ করুন; ১৫ই আগস্ট লালকেল্লা থেকে পণ্ডিত নেহরুজি যেসব ভাষণ দিয়েছিলেন, সেগুলো একবার শুনে দেখুন; শুনলে আপনারা অবাক হয়ে যাবেন। একবার ১৫ই আগস্ট লালকেল্লা থেকে পণ্ডিতজি বলেছিলেন যে, উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে যুদ্ধ চলছে, আর সেই কারণেই ভারতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে। এখন ভাবুন—উত্তর কোরিয়া আর দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান কোথায়, আর নেহরুজি কিনা কথা বলছিলেন এখানকার মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি নিয়ে! আর আজ কংগ্রেসের লোকেরা দেশকে বিভ্রান্ত করতে ব্যস্ত। বিশ্বব্যাপী সংকটের প্রভাব আসলে কতটা সুদূরপ্রসারী, তা আজ সারা বিশ্বই প্রত্যক্ষ করছে।
সাথীরা,
বিজেপি-এনডিএ সরকার আমাদের শোধনাগারগুলোর উন্নয়ন এবং সেগুলোর পরিশোধন ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করেছে।বর্তমানে ভারত বিশ্বের এমন একটি দেশ, যা কেবল নিজেরই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের জ্বালানি চাহিদা মেটাতেও সক্ষম। গত কয়েক বছরে আসামে অবস্থিত আমাদের শোধনাগারগুলোরও সম্প্রসারণ ঘটানো হয়েছে। আসামসহ সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গ্যাস পাইপলাইন পরিকাঠামো উন্নয়নে নজিরবিহীন বিনিয়োগ করা হচ্ছে। নুমালিগড়-শিলিগুড়ি পাইপলাইনটির আধুনিকীকরণের কাজও ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া আসামের গোলাঘাটে বিশ্বের প্রথম ‘দ্বিতীয় প্রজন্মের বায়ো-ইথানল প্ল্যান্ট’-ও স্থাপন করা হয়েছে। এই সমস্ত প্রকল্পের সুবাদে সমগ্র অঞ্চলটিই ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে।
সাথীরা,
রেলপথের ক্ষেত্রে বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এবং যাতে বিদেশ থেকে আমাদের কম তেল আমদানি করতে হয় সেজন্য গত এক দশকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বিগত দশ বছরে দেশের প্রায় সমগ্র রেল নেটওয়ার্ককেই বর্তমানে বৈদ্যুতিক সংযোগের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। অচিরেই আমরা রেলপথের ১০০ শতাংশ ক্ষেত্রেই বৈদ্যুতিকরণের লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করতে চলেছি। এই বৈদ্যুতিকরণের ফলে দেশে প্রায় ১৭৫ কোটি লিটার ডিজেল সাশ্রয় হচ্ছে। আসামেও রেল নেটওয়ার্কের বৈদ্যুতিকরণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। আজও এখানে রেলওয়ের বিদ্যুতায়ন-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
সাথীরা,
দেশে নবীকরণযোগ্য শক্তি সংক্রান্ত সংকল্পগুলি পূরণে আসামও এক বড় ভূমিকা পালন করছে। আসাম সহ সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চল ‘লোয়ার কোপিলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প’ থেকে উপকৃত হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো—আসামে হাজার হাজার কোটি টাকার যে প্রকল্পগুলি শুরু হয়েছে, সেগুলি আসামের যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে এবং আসামের সমৃদ্ধি বৃদ্ধি করছে।
সাথীরা,
বিজেপি-এনডিএ-র ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের পরিচয় হলো সংবেদনশীলতা এবং সুশাসন। দেশের প্রতিটি অঞ্চল ও প্রতিটি শ্রেণীর উন্নয়নই আমাদের অগ্রাধিকার। ঠিক এই একই ভাবনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে, আজ আসামের চা-বাগানগুলিতে কর্মরত সাথীদের জন্য এক বৃহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যাঁদের কঠোর পরিশ্রমে আসামের বিশ্বজোড়া পরিচিতি সুদৃঢ় হয়েছে, যাঁদের উৎপাদিত চায়ের সুবাসে বিশ্বমঞ্চে ভারতের পরিচিতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেইসব সাথীদের আজ বিজেপি-এনডিএ সরকার সম্মান ও সহায়তা উভয়ই প্রদান করছে। কংগ্রেস সরকারগুলি এই সাথীদের খোঁজখবরটুকুও নিত না; এমনকি তাঁদের কাছে জমির কোনো আইনি নথিপত্রও ছিল না। আমি হিমন্ত জি এবং তাঁর সমগ্র দলকে অভিনন্দন জানাব; চা-বাগানের সঙ্গে যুক্ত এই পরিবারগুলির জন্য আপনারা এক অত্যন্ত মহৎ কাজ করেছেন। বর্তমানে আসাম সরকার এই ঐতিহাসিক অবিচারের অবসান ঘটানোর কাজে ব্রতী হয়েছে। এখন এই পরিবারগুলি তাঁদের নিজস্ব জমির অধিকার পেয়েছে এবং তাঁদের জন্য স্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা হওয়ার পথও সুগম হয়েছে। এর ফলে, চা-বাগানগুলিতে বসবাসকারী বোনেরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন। আমি চাইব যে, এখন চা-বাগানে কর্মরত পরিবারগুলির সন্তানরাও যেন মন দিয়ে পড়াশোনা করে এবং জীবনে এগিয়ে যায়। আর বিজেপি সরকার এই লক্ষ্যে সমস্ত প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেছে। ঠিক এই কারণেই চা-বাগানের প্রতিটি শ্রমিক আজ সমস্বরে বলছেন—‘আবারও বিজেপি সরকার!’ আমার কাছে, চা-বাগানের এই শ্রমিকদের সম্মান জানানোর মানে হলো—আমি নিজেই আমার একটি ঋণ পরিশোধ করছি; কারণ আপনারা যখন বাগানে কঠোর পরিশ্রম করতেন, তখন সেই চায়ের পাতা সুদূর গুজরাটে অবস্থিত আমার গ্রামেও পৌঁছে যেত, আর সেই চা বিক্রি করেই আমি আজ এখানে এসে পৌঁছেছি। এখন আপনারাই বলুন—চা-বাগানের এই মানুষদের আশীর্বাদ যদি আমার ওপর না থাকত, তবে কি আমি আজ এখানে পৌঁছাতে পারতাম? চা-বাগানের এই মানুষদের উৎপাদিত চা আমার কাছে পৌঁছেছিল, আর আজ আমি আপনাদের মাঝে এসে উপস্থিত হয়েছি। আর দেখুন মা কামাখ্যার কী অসীম কৃপা—আজ মা কামাখ্যা দেবী আমাকে চা-বাগানের আমার ভাইদের সেই ঋণ পরিশোধ করার সুযোগ করে দিয়েছেন।
সাথীরা,
আজ থেকে বিখ্যাত নিমাতি ঘাট এবং বিশ্বনাথ ঘাটে আধুনিক ক্রুজ টার্মিনাল নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে। এটি কেবল একটি পরিকাঠামো প্রকল্প নয়; এটি এমন একটি উদ্যোগ যা আসামের পর্যটন এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে এক নতুন দিশা প্রদান করবে। বিজেপি সরকার পর্যটনকে কেবল দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেনি, বরং এটিকে কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের এক বিশাল সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করেছে। ঠিক এই একই ভাবনা থেকে, ব্রহ্মপুত্র নদেও জল-পর্যটনের সম্ভাবনাকে প্রসারিত করা হচ্ছে। এই ক্রুজ টার্মিনাল নির্মাণের ফলে ব্রহ্মপুত্রে ক্রুজ পরিচালনার কাজ আরও গতি পাবে এবং দেশ-বিদেশের পর্যটকদের পক্ষে আসামে পৌঁছানো আরও সহজ হয়ে উঠবে। ক্রুজ পর্যটন যখন বৃদ্ধি পাবে, তখন স্থানীয় যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। কারুশিল্পী ও হস্তশিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষেরা এক নতুন বাজারের সন্ধান পাবেন। ছোট দোকানদার, মাঝি এবং হোটেল ও পরিবহন ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের আয়ও বৃদ্ধি পাবে। অর্থাৎ, আসামের পর্যটন এখন আর কেবল ঘুরে বেড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন স্থানীয় উন্নয়ন ও জনকল্যাণের এক নতুন চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে।
সাথীরা,
আজ আসাম আমাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্থাৎ ‘অষ্টলক্ষ্মী’র নতুন ভবিষ্যতের এক মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠছে। এখানকার অগ্রগতি সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এক নতুন গতি সঞ্চার করছে। গত এক দশকে বিজেপি-এনডিএ সরকার আসামে যে পরিবর্তন এনেছে, তার প্রভাব প্রতিবেশী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গেও দৃশ্যমান। সেখানেও মানুষ বিজেপি-এনডিএ-র মতো সুশাসনেরই প্রত্যাশা করছেন। তাই, আসামের প্রতিটি যুবক এবং প্রতিটি পরিবারের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই যে—একটি উন্নত আসাম গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের সকলকে একযোগে কাজ করে যেতে হবে। আসাম যেন সমগ্র দেশের কাছেএকটি আদর্শ রাজ্য হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখে কাজ করতে হবে। সেই একই উদ্দীপনা নিয়ে, যখন এই অনুষ্ঠানে আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীগণ যুক্ত রয়েছেন, তখন আমি তাঁদের কাছে একটি বিশেষ নিবেদন রাখতে চাই—এখানে যে ‘পিএম একতা মল’ (পি এম একতা মল-এর উদ্বোধন করা হলো, আপনারা এখানে আপনাদের নিজ নিজ রাজ্যের পণ্যসামগ্রী বিক্রয়ের জন্যও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। আপনারা এখানে কিছুটা জায়গা বরাদ্দ নিন। আসামের কোনো মানুষ যদি কেরালার কোনো পণ্য পেতে চান, তবে তা যেন সরাসরি এখান থেকেই সংগ্রহ করতে পারেন; মহারাষ্ট্রের কোনো সামগ্রীর প্রয়োজন হলে তা যেন এখান থেকেই পাওয়া যায়; গুজরাটের কোনো পণ্যের চাহিদা থাকলে তা যেন এখান থেকেই মেলে; কিংবা রাজস্থানের কোনো সামগ্রী চাইলে তা যেন এখান থেকেই পাওয়া সম্ভব হয় সেদিকে নজর দিন। অর্থাৎ, এই মলের মধ্যে দিয়ে যেন সমগ্র দেশের একতারই এক বিশেষ রূপ ফুটে ওঠে। ভারতের প্রতিটি রাজ্যের উপস্থিতি যেন এই মলে থাকে; আসামের প্রতিটি জেলার প্রতিনিধিত্ব যেন এই মলে নিশ্চিত হয়। ‘এক জেলা, এক পণ্য’ (ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট)—অর্থাৎ এক কথায় বলতে গেলে, কোনো ব্যক্তি যদি এই ‘একতা মল’-এ প্রবেশ করেন, তবে তিনি যেন সেখানেই সমগ্র ভারতকে খুঁজে পান। আর আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আসামের এই পুণ্যভূমি থেকেই সমগ্র দেশ এক নতুন দিশা বা মডেল খুঁজে পাবে এবং দেশের প্রতিটি রাজ্যেও এই ধরনের ‘একতা মল’ অত্যন্ত সফলভাবে গড়ে উঠবে। এই উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোর জন্য আমি আপনাদের সকলকে আবারও জানাই অসংখ্য শুভকামনা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যে সকল কৃষক-সাথী আমাদের সঙ্গে এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়েছেন, তাঁদের প্রতিও আমি আবারও আমার গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। পরিশেষে, মা কামাখ্যার চরণে আমার প্রার্থনা—আর ক’দিন পরেই যখন নবরাত্রি উৎসব শুরু হবে, তখন যেন মা কামাখ্যার অসীম কৃপা সমগ্র দেশবাসীর ওপর বর্ষিত হয়। আমরা যেন সকল সংকট ও বাধা অতিক্রম করে এক নতুন বিশ্বাস ও নতুন শক্তিতে বলীয়ান হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি। আপনাদের সকলের জন্য রইল আমার অনেক শুভকামনা।
ভারত মাতা কি জয়!
ভারত মাতা কি জয়!
ভারত মাতা কি জয়!
বন্দে মাতরম
বন্দে মাতরম
বন্দে মাতরম
বন্দে মাতরম
বন্দে মাতরম
SC/PM/NS…
(রিলিজ আইডি: 2240130)
ভিজিটরের কাউন্টার : 8