পেট্রোলিয়ামওপ্রাকৃতিকগ্যাসমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

পশ্চিম এশিয়ায় উদ্ভুত পরিস্থিতির বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রক সাংবাদিক সম্মেলন

প্রকাশিত: 13 MAR 2026 6:40PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ১৩ মার্চ ২০২৬

                       

কেন্দ্রীয় সরকার আজ পশ্চিম এশিয়ায় উদ্ভুত পরিস্থিতির বিষয়ে ন্যাশনাল মিডিয়া সেন্টারে জাতীয় স্তরের সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তৃতীয় আন্তঃমন্ত্রক সম্মেলন করেছে। ১১ মার্চ এবং ১২ মার্চ এ ধরনের সাংবাদিক সম্মেলনে পরিস্থিতির মোকাবিলায় বিভিন্ন মন্ত্রক কি কি পদক্ষেপ নিয়েছে সেই সম্পর্কে জানানো হয়েছে। আজকের সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক, বিদেশ মন্ত্রক, বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রক এবং তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রকের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা। সম্মেলনে জ্বালানি সরবরাহের প্রস্তুতি, সামুদ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচল, পশ্চিম এশিয়ার বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের কল্যাণে গৃহীত পদক্ষেপ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহের ক্ষেত্রে নজরদারি চালানোর মতো বিষয়গুলি স্থান পেয়েছে।  

জ্বালানি সরবরাহ ও জ্বালানির সহজলভ্যতা : 

পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের আধিকারিকরা জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানিয়েছেন। পেট্রোপণ্য এবং রান্নার গ্যাস সরবরাহ উদ্ভুত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যাতে বিঘ্নিত না হয়, তার জন্য গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের সম্পর্কেও বৈঠকে জানানো হয়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। 

পেট্রোলিয়াম শোধনের ক্ষমতার নিরিখে ভারত হল চতুর্থ বৃহত্তম রাষ্ট্র। প্রতি বছর ২৫৮ মিলিয়ন মেট্রিকটন পেট্রোপণ্য শোধন করার ক্ষমতা ভারতের রয়েছে। এই মুহূর্তে পেট্রোল ও ডিজেল উৎপাদনে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশের চাহিদা পূরণে এইগুলি আমদানি করার প্রয়োজন নেই। বর্তমানে প্রতিটি শোধনাগার যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে। কোথাও কোথাও ১০০%-এর বেশি তেল শোধন করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে প্রতিটি শোধনাগারে পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেল রয়েছে। বিভিন্ন রুট থেকে এখনও অশোধিত তেল আমদানি করা যাচ্ছে। 
 
সরকার ৯ মার্চ প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আদেশনামা জারি করেছে। এক্ষেত্রে যে প্রতিষ্ঠানগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, সেগুলিতে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ ১০০% হচ্ছে। তবে শিল্পসংস্থাগুলিকে ৮০% প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা প্রতিদিন ৩.৭৩ এমএমএসসিএম। ভারতে ১.৫ কোটি বাড়িতে পাইপ লাইনের সাহায্যে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হয়। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে গৃহস্থলি কাজে ব্যবহৃত রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের ওপর চাপ কমাতে পাইপ লাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ৬০ লক্ষ বাড়িতে পাইপ লাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস পৌঁছে দেওয়া  হয়। তবে এই মুহূর্তে এই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সরকার রান্নার গ্যাস নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়ায় বড় বড় শহরগুলিতে সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। যেসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহ করতে সমস্যা দেখা দিচ্ছে, সেখানে পাইপ লাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস সংগ্রহ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ইচ্ছুক গ্রাহকরা নিজ নিজ শহরে গ্যাস বন্টন সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।  

তেল বিপণন সংস্থাগুলি জানিয়েছে, তাদের ১ লক্ষ খুচরো আউটলেটে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত আছে। সম্প্রতি তামিলনাডু়তে একটি খুচরো আউটলেটের দোকানে সিল না থাকা অবস্থায় জ্বালানি বিক্রি হচ্ছিল। প্রশাসন ওই আউটলেটটিকে বন্ধ করে দিয়েছে। জনসাধারণকে জানানো হয়েছে, তাঁরা যাতে কোনও পাত্রে থাকা পেট্রোল বা ডিজেল না কেনেন। এইভাবে পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রি নিয়ম বর্হিভূত। খুচরো ব্যবসায়িদের যথাযথ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

দেশে ২৫,০০০ রান্নার গ্যাস সরবরাহকারী ডিস্ট্রিবিউটারদের কাছে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত আছে। অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে রান্নার গ্যাস বুক করছেন। প্রতিদিন ৫৫ লক্ষ ৭০ হাজার রান্নার গ্যাস বুক করা হয়। কিন্তু গতকাল এই সংখ্যা ৭৬ লক্ষে পৌঁছেছে। তেল বিপণন সংস্থাগুলি প্রতিদিন ৫০ লক্ষ গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করে। গ্রাহকদের আতঙ্কিত হয়ে রান্নার গ্যাস বুক করতে নিষেধ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত্ব তেল বিপণন সংস্থাগুলি বিভিন্ন কল সেন্টারে কথা বলার জন্য কর্মী সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে। বর্তমানে ৪০০ জন কর্মী ৬৫০টি টেলিফোন লাইনে অভিযোগ গ্রহণ করছে। রান্নার গ্যাসের কালোবাজারি ও মজুতদারি রুখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে তৃণমূল স্তরে নজরদারি চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তৃণমূল স্তরে এ ধরনের কোনও অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের সচিব এবং উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তরের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা বিভিন্ন রাজ্য ও 

কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খাদ্য সরবরাহ বিভাগের আধিকারিকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেছেন। রান্নার গ্যাসের মজুতদারদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসন ও রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। উত্তর প্রদেশ এবং রাজস্থানে পরিস্থিতির পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং জেলাশাসক ও পুলিশ  সুপারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ এবং বিহার সহ বিভিন্ন রাজ্য পরিস্থিতির মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম খুলেছে। উত্তর প্রদেশের ঝাঁসিতে ৫২৪টি চুরি যাওয়া গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও উত্তর প্রদেশের হাপুর-এ ৩২টি, কর্নাটকের একটি হোটেল থেকে ৪৬টি এবং মধ্যপ্রদেশের ছাতারপুর থেকে ৩৮টি সিলিন্ডার উদ্ধার হয়েছে। রান্নার গ্যাস সরবরাহে যাতে কোনও বিঘ্ন না ঘটে, সরকার সে বিষয়ে নজরদারি চালাচ্ছে। হসপিটাল, শিক্ষা কেন্দ্র সহ জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলিতে গ্যাস সরবরাহ নিয়মিতভাবেই করা হচ্ছে। তবে শোধনাগারে রান্নার গ্যাসের উৎপাদন হার ৩০% বেড়েছে। সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য অতিরিক্ত ৪৮,০০০ কিলোলিটার কেরোসিন তেল বরাদ্দ করেছে। রান্নার গ্যাসের ওপর চাপ কমাতে কয়লা মন্ত্রক কোল ইন্ডিয়া এবং সিঙ্গারেনি কয়লা খনি থেকে বাড়তি কয়লা জোগান দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। 

নাগরিকদের আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে গ্যাস বুক না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার বুক করতে আইভিআরএস-এর মাধ্যমে ফোন করা, এসএমএস ও হোয়াটসঅ্যাপ-এর মাধ্যমে বুকিং করার ব্যবস্থা অব্যাহত আছে। গ্রাহকরা আগে যেরকম বাড়িতে বসে সিলিন্ডার বুক করতেন, এখনও তা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। 

সমুদ্র পথে ব্যবসা-বাণিজ্যের সময় নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল

বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রক পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্র যাত্রার পরিস্থিতির বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য জানিয়েছে। পারস্য উপসাগরে ভারতের পতাকাবাহী ২৪টি জাহাজ চলাচল করছে। এই জাহাজগুলিতে ৬৬৮ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীতে দেশের পতাকাবাহী ৩টি জাহাজ রয়েছে। পারস্য উপসাগরে চলাচলকারী বিভিন্ন জাহাজে ২৩,০০০ ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। জাহাজ চলাচল দপ্তরের মহানির্দেশক ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রোল রুমে নজরদারি চালাচ্ছেন। মোট ২,৪২৫টি ফোনকল গ্রহণ এবং ২২৩ জন আটকে পড়া ভারতীয় নাবিকের নিরাপদে ফিরে আসা নিশ্চিত করেছে। বিভিন্ন বন্দরে মান্য পরিচালনগত পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ৩ জন ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন। একজন এখনও নিখোঁজ। ৪ জন আহত নাবিকের চিকিৎসার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মৃত নাবিকদের দেহ ফিরিয়ে আনার জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।  

এই অঞ্চলে ভারতীয় নাগরিকদের অবস্থা

বিদেশ মন্ত্রক পশ্চিম এশিয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং সেখানে বসবাসরত ভারতীয়দের সম্পর্কে জানিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারত আলোচনা চালাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী গতকাল ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান-এর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। শ্রী মোদী জানান, ইরান সহ ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে যেসব ভারতীয় রয়েছেন, তাঁদের কল্যাণ নিশ্চিত করাকেই তাঁর সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কেও তিনি উদ্বিগ্ন। বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শংকরও গতকাল ইরানের বিদেশ মন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি-র সঙ্গে কথা বলেছেন। বিদেশ মন্ত্রক ৪ মার্চ যে কন্ট্রোল রুম খুলেছে, সেখানে ৯০০রও বেশি ফোন কল এবং ২০০টি ই-মেল এসেছে। বিদেশ মন্ত্রক এই অঞ্চলে বসবাসরত ভারতীয়দের সব ধরনের সহায়তা করছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, ওমান এবং সৌদি আরবে বিমান চলাচল করছে।  বাহেরিন, কুয়েত এবং ইরাকে আটকে থাকা ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ।  

সাংবাদিক সম্মেলনে তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রকের আধিকারিকরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এলপিজি সিলিন্ডার বুক করার পরামর্শ দিয়েছেন। গ্রাহকদের যেকোনও ডিজিটাল কেলেঙ্কারির বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির দিকে নজরদারি চালাচ্ছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন মন্ত্রক ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহ, ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে সুরক্ষা বজায় থাকছে কি না সে বিষয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে। 

 

SC/CB/NS


(রিলিজ আইডি: 2240025) ভিজিটরের কাউন্টার : 4
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , Marathi , हिन्दी , Assamese , Gujarati , Odia , Telugu , Kannada , Malayalam