প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
যৌথ বিবৃতি: সংযুক্ত আরব আমিশাহীর রাষ্ট্রপতি শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের ভারত সফর
প্রকাশিত:
19 JAN 2026 8:10PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর রাষ্ট্রপতি শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান আজ ভারত সফরে আসেন। গত ১০ বছরের মধ্যে এটি তাঁর পঞ্চম ভারত সফর, রাষ্ট্রপতি হিসেবে তৃতীয়।
প্রধানমন্ত্রী মোদী ও রাষ্ট্রপতি নাহিয়ান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন পর্যালোচনা করেন। গত এক দশকে ভারত - সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর সার্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব ক্রমশই নিবিড় হয়ে উঠছে বলে মত প্রকাশ করেন তাঁরা।
গত দু’বছরে আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং দুবাইয়ের যুবরাজ, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শেখ হামদান বিন মহম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুমের ভারত সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতাকে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে সঞ্চারিত করেছে বলে মন্তব্য করেন দুই নেতা।
তাঁরা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আয়োজিত বিনিয়োগ সম্পর্কিত উচ্চস্তরীয় টাস্কফোর্সের বৈঠক এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে আয়োজিত ষোড়শ ভারত – সংযুক্ত আরব আমিরশাহী যৌথ কমিশনের বৈঠক ও পঞ্চম কৌশলগত বার্তালাপের ফলাফলকে স্বাগত জানান।
২০২২ সালে সার্বিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে দু’দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে যে ব্যাপক বৃদ্ধি এসেছে, তাতে সন্তোষ প্রকাশ করেন তাঁরা। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বেড়ে ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ২০৩২ সালের মধ্যে এই পরিমাণকে দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছেন দুই নেতা।
এক্ষেত্রে দু’দেশের অণু, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ অর্থাৎ এমএসএমই-কে সংযুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন তাঁরা। এমএসএমই পণ্যগুলি যাতে মধ্যপ্রাচ্য, পশ্চিম এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরেশিয়ার বাজারে পৌঁছতে পারে, সেজন্য ‘ভারত মার্ট’, ‘ভার্চ্যুয়াল ট্রেড করিডর’ এবং ‘ভারত – আফ্রিকা সেতু’র মতো প্রধান উদ্যোগগুলি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান দুই নেতা।
২০২৪ সালে যে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তার সুবাদে দুই দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের মসৃণ প্রভাবে দুই নেতা সন্তোষ প্রকাশ করেন। গুজরাটের ঢোলেরায় একটি বিশেষ বিনিয়োগ অঞ্চল গড়ে তুলতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর সম্ভাব্য অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনাকে তাঁরা স্বাগত জানান। প্রস্তাবিত এই অংশীদারিত্বে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পাইলট প্রশিক্ষণ স্কুল, একটি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতি কেন্দ্র, একটি গ্রিনফিল্ড বন্দর, একটি স্মার্ট টাউনশিপ, রেল সংযোগ, বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর মতো বেশ কিছু প্রধান কৌশলগত পরিকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম এনআইআইএফ পরিকাঠামো তহবিলের সাফল্য তুলে ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ২০২৬ সালের নির্ধারিত দ্বিতীয় পরিকাঠামো তহবিলে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী সম্পদ তহবিলগুলিকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান। গিফট সিটি’তে ডিপি ওয়ার্ল্ড এবং ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাঙ্কের শাখা স্থাপনকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই নেতা। এরফলে, এটি একটি শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেছেন। ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাঙ্কের শাখা ভারতীয় কর্পোরেট ও বিনিয়োগকারীদের জিসিসি এবং এমইএনএ বাজারের বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ শাখা হিসেবে কাজ করবে বলে তাঁদের অভিমত।
দুই নেতা খাদ্য নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী সহযোগিতা বৃদ্ধির দৃঢ় অঙ্গীকার প্রকাশ করেছেন। সুস্থিত সরবরাহ-শৃঙ্খল এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিস্থাপকতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব স্বীকার করেছেন তাঁরা। দুই দেশের জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সুস্থিত কৃষিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, উদ্ভাবন ও জ্ঞান বিনিময়ের গুরুত্বের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
দুই নেতা মহাকাশ ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করতে সহমত হয়েছেন। মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগে এই ক্ষেত্রের বাণিজ্যিকীকরণকে উৎসাহ দিতে একটি যৌথ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন তাঁরা। এর লক্ষ্য হ’ল – সার্বিক পরিকাঠামো ও শক্তিশালী শিল্প ভিত্তি সহ এক সুসমন্বিত মহাকাশ পরিমণ্ডল তৈরি করা। এখানে ভারত – সংযুক্ত আরব আমিরশাহী যৌথ মিশনগুলি চালানো হবে, বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক পরিষেবার সম্প্রসারণ ঘটানো হবে, উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ ও স্টার্টআপ উদ্যোগের সুযোগ তৈরি হবে এবং সুস্থিত ব্যবসায়িক মডেলের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ জোরদার হবে।
দুই নেতা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও নিবিড় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদীয়মান প্রযুক্তিগুলির উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ভারতে একটি সুপার কম্প্যুটিং ক্লাস্টার প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ডেটা সেন্টার স্থাপনের ক্ষেত্রে সহযোগিতার পন্থাপদ্ধতি অনুসন্ধান করতে তাঁরা সম্মত হয়েছেন। পারস্পরিক স্বীকৃত সার্বভৌমত্বের আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং ভারতের মধ্যে ‘ডিজিটাল দূতাবাস’ স্থাপনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতে যে এআই ইমপ্যাক্ট সামিট – এর আয়োজন করা হবে, রাষ্ট্রপতি নাহিয়ান তার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক জ্বালানী অংশীদারিত্ব নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ভারতের জ্বালানী নিরাপত্তায় সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর অবদান স্বীকার করেছেন। হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (এইচপিসিএল) এবং এডিএনওসি গ্যাস – এর মধ্যে ২০২৮ সাল থেকে প্রতি বছর ০.৫ মিলিয়ন টন তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ নিয়ে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তাকে স্বাগত জানিয়েছেন তাঁরা। দুই নেতা ভারতের শান্তি আইনকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, অসামরিক পরমাণু সহযোগিতার ক্ষেত্রে এই আইন নতুন সুযোগ তৈরি করবে। উভয় পক্ষ বৃহৎ পারমাণবিক চুল্লি এবং ক্ষুদ্র মডিউলার চুল্লির উন্নয়ন ও স্থাপন সহ উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে সম্মত হয়েছে। এর পাশাপাশি, উন্নত চুল্লি ব্যবস্থা, পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং পারমাণবিক নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতায় সহমত হয়েছে দুই দেশ।
দুই নেতা আর্থিক ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা গভীরতর হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দক্ষ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী আন্তঃসীমান্ত পেমেন্ট সম্ভব করতে জাতীয় পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মগুলির আন্তঃসংযোগের লক্ষ্যে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তাঁরা।
দুই দেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য’কে স্বীকৃতি দিয়ে লোথালে জাতীয় সামুদ্রিক ঐতিহ্য কমপ্লেক্সে শিল্পকর্ম পাঠানোর যে সিদ্ধান্ত সংযুক্ত আরব আমিরশাহী নিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শ্রী মোদী তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। দুই নেতা ভারত - সংযুক্ত আরব আমিরশাহী বন্ধুত্বের স্থায়ী প্রতীক হিসেবে আবুধাবিতে ‘হাউস অফ ইন্ডিয়া’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সাংস্কৃতিক সংযোগকে আরও নিবিড় করে তুলতে দুই দেশের যুবসমাজের আদান-প্রদান ও নাগরিক সংযোগকে উৎসাহ দিতে সহমত হয়েছেন তাঁরা।
ভারত – সংযুক্ত আরব আমিরশাহী অংশীদারিত্বের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে শিক্ষাকে চিহ্নিত করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী’তে আইআইটি দিল্লি ও আইআইএম আহমেদাবাদের শাখা স্থাপনকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই নেতা। দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে সংযোগ স্থাপন এবং পড়ুয়া বিনিময়ের পরিধি আরও প্রসারিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। এর মধ্যে স্কুল-কলেজে উদ্ভাবন ও টিঙ্কারিং ল্যাবের সম্প্রসারণে সহযোগিতাও রয়েছে। ভারতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির দেওয়া ডিগ্রি যাতে সহজে যাচাই করা যায়, সেজন্য সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে ভারতের ডিজিলকার’কে সংযুক্ত করার বোঝাপড়াকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই নেতা।
তাঁরা একে-অপরের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখন্ডতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং কৌশলগত স্বায়ত্ত্ব শাসনের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতাকে সার্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের এক প্রধান ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করে তাঁরা দু’দেশের সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধান ও কমান্ডারদের একে-অপরের দেশে যাওয়া ও যৌথ সামরিক মহড়ার আয়োজনকে স্বাগত জানিয়েছেন। কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ‘লেটার অফ ইনটেন্ট স্বাক্ষর’কে স্বাগত জানিয়েছেন তাঁরা।
দুই নেতা সীমান্ত পারের সন্ত্রাস সহ সবধরনের সন্ত্রাসবাদের দ্ব্যর্থহীন নিন্দা করে বলেছেন, যারা সন্ত্রাস চালায়, এর ছক কষে, এতে সহযোগিতা করে এবং আর্থিক মদত যোগায়, তাদের আশ্রয় দেওয়া কোনও দেশেরই উচিত নয়। সন্ত্রাসবাদীদের অর্থের যোগান বন্ধ করতে তাঁরা ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্সের কাঠামোর মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে সহমত হয়েছেন।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দিল্লিতে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারত – মধ্যপ্রাচ্য – ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডরের যে সূচনা হয়েছিল, দুই নেতা তা স্মরণ করেন।
দুই নেতা পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সুস্থিতি রক্ষায় আগ্রহ প্রকাশ করেন তাঁরা। বিভিন্ন বহুপাক্ষিক মঞ্চে দুই দেশের মধ্যে চমৎকার সহযোগিতা ও পারস্পরিক সমর্থনের উল্লেখের পাশাপাশি ২০২৬ সালে ব্রিকস্ - এ ভারতের সভাপতিত্বের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে এর সাফল্য কামনা করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। ২০২৬ সালের শেষের দিকে রাষ্ট্রসংঘের জল সংক্রান্ত সম্মেলনের সহ-আয়োজক দেশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রতি সমর্থন জানায় ভারত।
দুই দেশ মেরু বিজ্ঞানে সহযোগিতা তুলে ধরে যৌথ অভিযান ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার ইতিবাচক ফলাফলের উল্লেখ করে। বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ, সুসমন্বিত গবেষণা পরিকল্পনা এবং জাতীয় মেরু গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করার মাধ্যমে এই অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে তারা সহমত হয়।
ভারতে ঊষ্ণ অভ্যর্থনা ও চমৎকার আতিথেয়তার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর রাষ্ট্রপতি শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ধন্যবাদ জানান।
SC/SD/SB
(রিলিজ আইডি: 2216395)
ভিজিটরের কাউন্টার : 34
এই রিলিজটি পড়তে পারেন:
English
,
Urdu
,
Marathi
,
हिन्दी
,
Manipuri
,
Assamese
,
Punjabi
,
Gujarati
,
Odia
,
Telugu
,
Kannada
,
Malayalam