প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
স্টার্টআপ ইন্ডিয়ার এক দশক পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত ভাষণের বঙ্গানুবাদ
प्रविष्टि तिथि:
16 JAN 2026 4:11PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬
আমার মন্ত্রিসভার সহকর্মী শ্রী পীযূষ গোয়েল জি, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের বন্ধুরা, অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ, ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ!
আজ আমরা সবাই একটি অত্যন্ত বিশেষ উপলক্ষে এখানে সমবেত হয়েছি। জাতীয় স্টার্টআপ দিবস উদযাপনের এই উপলক্ষে, স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা এবং উদ্ভাবকদের এই সমাবেশের মাধ্যমে আমি আমার সামনে এক নতুন এবং উন্নয়নশীল ভারতের ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছি।
এইমাত্র আমার স্টার্টআপ জগতের কিছু মানুষের সঙ্গে সাক্ষাতের সৌভাগ্য হয়েছে, তাঁদের সাফল্য ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেখার এবং তাঁদের কয়েকজনের কথা শোনার সুযোগ হয়েছে। কৃষি, ফিনটেক, গতিশীলতা, স্বাস্থ্য এবং স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে কর্মরত স্টার্টআপগুলোর কাজ, তাঁদের ধারণাগুলো শুধু আমাকেই নয়, সবাইকে মুগ্ধ করেছে। তবে, যা আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে তা হলো আপনাদের আত্মবিশ্বাস এবং আপনাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা।
দশ বছর আগে বিজ্ঞান ভবনে ৫০০-৭০০ জন তরুণ-তরুণীকে সঙ্গে নিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। রিতেশ আজ এখানে বসে আছেন—তাঁর যাত্রাও তখন থেকেই শুরু হয়েছিল। সেই সময় আমি স্টার্টআপ জগতে সদ্য প্রবেশ করা তরুণ-তরুণীদের অভিজ্ঞতা শুনছিলাম। আমার মনে আছে, একজন তরুণী তাঁর কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে স্টার্টআপের জগতে এসেছিলেন। তিনি তাঁর মায়ের সঙ্গে দেখা করতে কলকাতায় গিয়েছিলেন এবং তাকে বলেছিলেন, “আমি চাকরি ছেড়ে দিয়েছি।”
তাঁর মা জিজ্ঞেস করলেন, “কেন?” সেদিন বিজ্ঞান ভবনে তিনি এই ঘটনাটি বর্ণনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আমি এখন শুধু একটি স্টার্টআপ করতে চাই।” আর তাঁর মা উত্তর দিয়েছিলেন, “তাহলে তো সর্বনাশ—তুমি কেন ধ্বংসের পথে যাচ্ছ?”
তখন আমাদের দেশে স্টার্টআপ সম্পর্কে এমনই মানসিকতা ছিল। আর আজ দেখুন, আমরা কতদূর এগিয়ে এসেছি—বিজ্ঞান ভবন থেকে ভারত মণ্ডপম পর্যন্ত, এখানে তিল ধারণের জায়গা নেই! এটা আমার সৌভাগ্য যে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে আমি দেশের তরুণদের সঙ্গে দু’বার দেখা করার সুযোগ পেয়েছি। ১২ই জানুয়ারি, জাতীয় যুব দিবসে, আমি সারা দেশের প্রায় ৩,০০০ তরুণ-তরুণীর কথা শুনেছি এবং তাদের সঙ্গে বসে আড়াই ঘণ্টা সময় কাটিয়েছি। আর আজ, আমি আপনাদের সকলের কথা শোনার এবং আমার দেশের যুবশক্তির এই শক্তি প্রত্যক্ষ করার সৌভাগ্য লাভ করেছি।
বন্ধুগণ,
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভারতের যুবসমাজের মনোযোগ আজ দেশ ও মানবতার বাস্তব সমস্যাগুলি সমাধানের দিকে নিবদ্ধ। আমাদের তরুণ উদ্ভাবকরা, যারা নতুন স্বপ্ন দেখার সাহস দেখিয়েছেন—আমি তাঁদের প্রত্যেককে আন্তরিকভাবে প্রশংসা করি।
বন্ধুগণ,
আজ আমরা স্টার্টআপ ইন্ডিয়ার দশ বছর পূর্তির মাইলফলক উদযাপন করছি। এই দশ বছরের যাত্রা কেবল একটি সরকারি প্রকল্পের সাফল্যের গল্প নয়। এটি আপনাদের মতো হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ যুবক -যুবতির স্বপ্নের যাত্রার সাফল্যের গল্প। এটি অগণিত কল্পনার বাস্তবে পরিণত হওয়ার গল্প। দশ বছর আগের পরিস্থিতিটা একবার স্মরণ করুন—ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা এবং উদ্ভাবনের জন্য খুব কম সুযোগ ছিল। আমরা সেই পরিস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলাম, আমরা স্টার্টআপ ইন্ডিয়া কর্মসূচি চালু করেছিলাম। আমরা আমাদের যুবকদের একটি খোলা আকাশ দিয়েছিলাম, এবং আজ তার ফলাফল আমাদের সামনে। মাত্র দশ বছরে, স্টার্টআপ ইন্ডিয়া মিশন একটি বিপ্লবে পরিণত হয়েছে। ভারত আজ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম। দশ বছর আগে দেশে ৫০০টিরও কম স্টার্টআপ ছিল; আজ এই সংখ্যা ২ লক্ষেরও বেশি হয়েছে। ২০১৪ সালে ভারতে মাত্র চারটি ইউনিকর্ন ছিল; আজ ভারতে প্রায় ১২৫টি সক্রিয় ইউনিকর্ন রয়েছে। বিশ্ববাসী আমাদের এই সাফল্যের গল্পটি বিস্ময়ের সঙ্গে দেখছে। আগামী দিনে যখন ভারতের স্টার্টআপদের যাত্রা নিয়ে আলোচনা হবে, তখন এই হলে বসে থাকা অনেক তরুণ-তরুণী নিজেরাই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবেন।
বন্ধুগণ,
আমি এটা দেখে আরও বেশি আনন্দিত যে 'স্টার্টআপ ইন্ডিয়া'-র গতি ক্রমাগত বাড়ছে। আজকের স্টার্টআপগুলো ইউনিকর্ন হচ্ছে, ইউনিকর্নগুলো তাদের আইপিও চালু করছে এবং আরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে। শুধু গত বছর, ২০২৫ সালে, প্রায় ৪৪,০০০ নতুন স্টার্টআপ নিবন্ধিত হয়েছে। 'স্টার্টআপ ইন্ডিয়া' শুরু হওয়ার পর থেকে এটি যেকোনও একটি বছরে সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন। এই পরিসংখ্যানগুলো প্রমাণ করে যে আমাদের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম কীভাবে উদ্ভাবন এবং প্রবৃদ্ধিকে চালিত করছে।
বন্ধুগণ,
আমি আনন্দিত যে 'স্টার্টআপ ইন্ডিয়া' দেশে একটি নতুন সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে। আগে নতুন ব্যবসা এবং উদ্যোগগুলো বেশিরভাগই বড় শিল্পপতি পরিবারের সন্তানেরা শুরু করত, কারণ কেবল তাদেরই অর্থায়ন এবং সহায়তার সহজলভ্যতা ছিল। মধ্যবিত্ত এবং দরিদ্র পরিবারের বেশিরভাগ ছেলেমেয়ে শুধু চাকরির স্বপ্নই দেখতে পারত। কিন্তু 'স্টার্টআপ ইন্ডিয়া' কর্মসূচি এই মানসিকতা বদলে দিয়েছে। এখন টায়ার-২ এবং টায়ার-৩ শহর থেকে, এমনকি গ্রাম থেকেও তরুণরা তাদের নিজস্ব স্টার্টআপ খুলছে। আর এই তরুণরাই তৃণমূল পর্যায়ের সবচেয়ে জরুরি সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য চেষ্টা করছে। সমাজ ও দেশের জন্য কিছু করার এই স্পৃহা আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বন্ধুগণ,
এই পরিবর্তনে দেশের কন্যারা একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে। আজ স্বীকৃত স্টার্টআপগুলোর ৪৫ শতাংশেরও বেশিতে অন্তত একজন নারী পরিচালক বা অংশীদার রয়েছেন। নারীদের দ্বারা পরিচালিত স্টার্টআপের অর্থায়নের ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইকোসিস্টেমে পরিণত হয়েছে।স্টার্টআপের এই অন্তর্ভুক্তিমূলক গতি ভারতের সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করছে।
বন্ধুগণ,
আজ জাতি স্টার্টআপ বিপ্লবের মধ্যেই তার ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছে। আমি যদি আপনাদের জিজ্ঞাসা করি যে স্টার্টআপগুলো এত গুরুত্বপূর্ণ কেন, সম্ভবত আপনাদের সবার উত্তর ভিন্ন হবে। কেউ বলবেন ভারত বিশ্বের সবচেয়ে তরুণ দেশ, এবং তাই স্টার্টআপের জন্য সুযোগ রয়েছে। অন্যরা বলবেন ভারত দ্রুততম উন্নয়ণশীল প্রধান অর্থনীতি, এবং তাই স্টার্টআপের জন্য নতুন সুযোগ বিদ্যমান। কেউ বলবেন ভারত বিশ্বমানের পরিকাঠামো তৈরি করছে, নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে, এবং তাই স্টার্টআপ ব্যবস্থা এগিয়ে যাচ্ছে। এই সমস্ত উত্তর, এই সমস্ত তথ্য সঠিক। কিন্তু যা আমার হৃদয়কে স্পর্শ করে তা হলো স্টার্টআপ গড়ার স্পৃহা। আমার দেশের তরুণরা আজ নিজেদের জীবন শুধুই আরাম -আয়েসে কাটাতে প্রস্তুত নয়। তাঁরা পুরোনো পথে চলতে রাজি নন। তারা নিজেদের জন্য নতুন পথ তৈরি করতে চায়, কারণ তাঁরা নতুন গন্তব্য, নতুন মাইলফলক খুঁজছেন।
বন্ধুগণ,
আর নতুন গন্তব্যে পৌঁছানো যায় কীভাবে? তার জন্য আমাদের কঠোর পরিশ্রমের সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। এজন্যই বলা হয়: উদ্যমেন হি সিধ্যন্তি,,… কার্যানি ন মনোরথৈঃ। কাজ সম্পন্ন হয় উদ্যোগের মাধ্যমে, শুধু ইচ্ছাপূরণের মাধ্যমে নয়। আর শিল্পোদ্যোগের প্রথম শর্ত হলো সাহস। আপনারা আজ যেখানে পৌঁছেছেন, সেখানে পৌঁছানোর জন্য আপনাদের অপরিমেয় সাহস দেখাতে হয়েছে, অনেক ঝুঁকি নিতে হয়েছে। আগে দেশে ঝুঁকি নেওয়াকে নিরুৎসাহিত করা হতো, কিন্তু আজ ঝুঁকি নেওয়া মূলধারার অংশ হয়ে উঠেছে। যারা মাসিক বেতনের বাইরে কিছু ভাবেন, তারা শুধু স্বীকৃতই নন, সম্মানিতও হন। যে ধারণাগুলো একসময় প্রান্তিক বলে বিবেচিত হতো, সেগুলো এখন ফ্যাশনে পরিণত হচ্ছে।
বন্ধুগণ,
আমি সবসময় ঝুঁকি নেওয়ার উপর বিশেষ জোর দিয়েছি, কারণ এটি দীর্ঘকাল ধরে আমার নিজের অভ্যাস। যে কাজগুলো কেউ করতে রাজি হয় না, যে কাজগুলো সরকারগুলো দশক ধরে নির্বাচন বা ক্ষমতা হারানোর ভয়ে এড়িয়ে গেছে—সেই কাজগুলোকেই, যেগুলোকে মানুষ ‘রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ বলত, আমি সবসময় নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেছি। ঠিক আপনাদের মতোই, আমিও বিশ্বাস করি যে জাতির জন্য যা প্রয়োজন, তা কাউকে না কাউকে করতেই হবে এবং কাউকে না কাউকে ঝুঁকি নিতেই হবে। যদি ক্ষতি হয়, তবে তা আমার হবে; কিন্তু যদি লাভ হয়, তবে আমার দেশের লক্ষ লক্ষ পরিবার উপকৃত হবে।
বন্ধুগণ,
গত দশ বছরে, দেশ এমন একটি বাস্তুতন্ত্র তৈরি করেছে যা উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে। আমরা স্কুলগুলোতে ‘অটল টিঙ্কারিং ল্যাব’ স্থাপন করেছি যাতে শিশুরা উদ্ভাবনের মানসিকতা গড়ে তুলতে পারে। আমরা হ্যাকাথন শুরু করেছি যাতে আমাদের যুবকরা জাতির সমস্যাগুলোর সমাধান দিতে পারে। আমরা ইনকিউবেশন সেন্টার তৈরি করেছি যাতে সম্পদের অভাবে কোনো ধারণা নষ্ট না হয়ে যায়।
বন্ধুগণ,
একসময় জটিল নিয়মকানুন, দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং পরিদর্শক রাজের ভয়ই উদ্ভাবনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল। একারণেই আমরা বিশ্বাস ও স্বচ্ছতার একটি পরিবেশ তৈরি করেছি। জন বিশ্বাস আইনের অধীনে ১৮০টিরও বেশি বিধানকে অপরাধের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আমরা আপনাদের সময় বাঁচিয়েছি, যাতে আপনারা উদ্ভাবনের উপর মনোযোগ দিতে পারেন এবং মামলা-মোকদ্দমায় তা নষ্ট না করেন। বিশেষ করে স্টার্টআপদের জন্য, আমরা অনেক আইনে স্ব-প্রত্যয়ন ব্যবস্থা চালু করেছি। আমরা একত্রীকরণ এবং ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়াকে সহজ করেছি।
বন্ধুগণ,
স্টার্টআপ ইন্ডিয়া শুধু একটি প্রকল্প নয়, এটি একটি "রঙধনু স্বপ্ন"। এটি বিভিন্ন খাতকে নতুন সুযোগের সাথে সংযুক্ত করার একটি মাধ্যম। প্রতিরক্ষা উৎপাদনের কথাই ধরুন—আগে কি স্টার্টআপরা প্রতিষ্ঠিত সংস্থাগুলোর সাথে প্রতিযোগিতা করার কথা কল্পনাও করতে পারত? আই ডেক্স-এর মাধ্যমে আমরা কৌশলগত খাতে স্টার্টআপদের জন্য সংগ্রহের নতুন পথ খুলে দিয়েছি। মহাকাশ ক্ষেত্র, যা আগে বেসরকারি অংশগ্রহণের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল, এখন তা উন্মুক্ত করা হয়েছে। আজ প্রায় ২০০টি স্টার্টআপ মহাকাশ ক্ষেত্রে কাজ করছে এবং তারা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি অর্জন করছে। একইভাবে, ড্রোন ক্ষেত্রের দিকে তাকান—একটি সহায়ক কাঠামোর অভাবে ভারত বছরের পর বছর ধরে পিছিয়ে ছিল। আমরা পুরোনো নিয়মগুলো সরিয়ে দিয়েছি এবং উদ্ভাবকদের উপর আস্থা রেখেছি।
বন্ধুগণ,
সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে, আমরা জিইএম অর্থাৎ, গভর্নমেন্ট ই-মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে বাজারে প্রবেশাধিকার প্রসারিত করেছি। আজ প্রায় ৩৫,০০০ স্টার্টআপ এবং ছোট ব্যবসা জিইএম-এ যুক্ত হয়েছে। তারা প্রায় ৫০,০০০ কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ৫ লক্ষ অর্ডার পেয়েছে। এক অর্থে, স্টার্টআপগুলি তাদের সাফল্যের মাধ্যমে প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য নতুন নতুন প্রবৃদ্ধির পথ খুলে দিচ্ছে।
বন্ধুগণ,
আমরা সবাই জানি যে পুঁজি ছাড়া সেরা ধারণাগুলোও বাজারে পৌঁছাতে পারে না। একারণেই আমরা উদ্ভাবকদের জন্য অর্থায়নের সুযোগ সুনিশ্চিত করার উপর মনোযোগ দিয়েছি। স্টার্টআপদের জন্য ‘ফান্ড অফ ফান্ডস’-এর মাধ্যমে ২৫,০০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে। ‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া সিড ফান্ড’, ‘ইন-স্পেস সিড ফান্ড’ এবং ‘নিধি সিড সাপোর্ট প্রোগ্রাম’ -এর মতো প্রকল্পগুলো স্টার্টআপগুলির প্রাথমিক তহবিল সরবরাহ করছে। ঋণের সুযোগ উন্নত করার জন্য, আমরা ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমও চালু করেছি, যাতে জামানতের অভাব সৃজনশীলতার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।
বন্ধুগণ ,
আজকের গবেষণাই আগামীকালের মেধা সম্পদে পরিণত হয়। এটিকে উৎসাহিত করার জন্য আমরা ১ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দের একটি গবেষণা, উন্নয়ন এবং উদ্ভাবন প্রকল্প চালু করেছি। উদীয়মান ক্ষেত্রগুলিতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকে সমর্থন করার জন্য আমরা একটি ‘ডিপ টেক ফান্ড অফ ফান্ডস’ও তৈরি করেছি।
বন্ধুগণ,
এখন আমাদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। আমাদের নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করতে হবে। আজ এমন অনেক ক্ষেত্র উঠে আসছে যা আগামী দিনে দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ( এ আই) আমাদের সামনে একটি স্পষ্ট উদাহরণ। যে জাতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিপ্লবে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে যাবে, তারাই সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে। ভারতের জন্য এই কাজটি আমাদের স্টার্টআপদেরই এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আর আপনারা সবাই জানেন, ফেব্রুয়ারিতে বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন—এআই ইমপ্যাক্ট সামিট—এখানেই আয়োজিত হচ্ছে। এটি আপনাদের সকলের জন্য একটি দারুণ সুযোগ। আমি এই ক্ষেত্রে উচ্চ কম্পিউটিং খরচের মতো চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে অবগত আছি। ইন্ডিয়া এআই মিশনের মাধ্যমে আমরা এর সমাধান দিচ্ছি। আমরা ৩৮,০০০-এরও বেশি জিপিইউ যুক্ত করেছি। আমাদের প্রচেষ্টা হলো বড় প্রযুক্তিগুলো ছোট স্টার্টআপদের কাছেও সহজে উপলব্ধ করা। আমরা এটাও নিশ্চিত করছি যে দেশীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভারতীয় প্রতিভা দ্বারা, ভারতীয় সার্ভারে তৈরি হবে। সেমিকন্ডাক্টর, ডেটা সেন্টার, গ্রিন হাইড্রোজেন এবং আরও অনেক ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বন্ধুগণ,
আমরা যখন এগিয়ে যাচ্ছি, তখন আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা কেবল অংশীদারিত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। আমাদের আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের লক্ষ্য রাখতে হবে। নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করুন, সমস্যার সমাধান করুন। বিগত দশকগুলোতে আমরা ডিজিটাল স্টার্টআপ এবং পরিষেবা খাতে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছি। এখন সময় এসেছে আমাদের স্টার্টআপদের উৎপাদন র উপর আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার। আমাদের নতুন পণ্য তৈরি করতে হবে। আমাদের বিশ্বের সেরা মানের পণ্য উৎপাদন করতে হবে। অনন্য ধারণা নিয়ে কাজ করে আমাদের প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব দিতে হবে। ভবিষ্যৎ এরই। আমি আপনাদের আশ্বাস দিচ্ছি, সরকার প্রতিটি প্রচেষ্টায় আপনাদের পাশে আছে। আপনাদের সামর্থ্যের উপর আমার গভীর আস্থা আছে। আপনাদের সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং উদ্ভাবনের মাধ্যমেই ভারতের ভবিষ্যৎ নির্মিত হচ্ছে। গত দশ বছর জাতির সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত যে আগামী দশ বছরে ভারত নতুন স্টার্টআপ প্রবণতা এবং প্রযুক্তিতে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে।
আবারও, আমি আপনাদের সকলকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আপনাদের অনেক ধন্যবাদ।
SC/SB/NS
(रिलीज़ आईडी: 2215541)
आगंतुक पटल : 4