শিল্পওবাণিজ্যমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

ভারত এবং নিউ জিল্যান্ড ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার সমাপ্তি ঘোষণা করলো

प्रविष्टि तिथि: 22 DEC 2025 11:39AM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫

 


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বে ভারত এবং নিউ জিল্যান্ডের মধ্যে সার্বিক, ভারসাম্যযুক্ত এবং ভবিষ্যৎদর্শী মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হলো, যা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের সংযোগের ক্ষেত্রে একটি প্রধান অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এই চুক্তিটি ভারতের দ্রুততম সম্পন্ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলির অন্যতম, যা জড়িয়ে আছে বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর জাতীয় লক্ষ্যের সঙ্গে। বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী শ্রী পীযূষ গোয়েল এবং নিউ জিল্যান্ডের বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ মন্ত্রী শ্রী টড ম্যাকলের মধ্যে বৈঠকে ২০২৫-এর ১৬ মার্চ, এই আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল। আলোচনা সম্পন্ন হওয়ার আগে লাগাতার গভীরভাবে আলোচনা হয় পাঁচটি আনুষ্ঠানিক বৈঠকে। তার মধ্যে অনেকগুলি ভার্চুয়াল বৈঠক ছিল। এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে উচ্চগুণমান সম্পন্ন অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব তৈরি হল, যা কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করবে, দক্ষতার আদানপ্রদানের সুযোগ করে দেবে, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের ভিত্তিতে বৃদ্ধিকে চালনা করবে, কৃষি উৎপাদনের জন্য উদ্ভাবনে উৎসাহ যোগাবে এবং এমএসএমই-র অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করবে, দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক দৃঢ়তাকে শক্তিশালী করতে।

সমাপ্তির পরে ভাষণে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী শ্রী পীযূষ গোয়েল বলেন, “আজ এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি মানুষের জন্য বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং সুযোগ সৃষ্টি সম্পর্কিত – আমাদের কৃষকদের জন্য, আমাদের উদ্যোগপতিদের জন্য, আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য, আমাদের মহিলাদের জন্য এবং আমাদের উদ্ভাবকদের জন্য। উৎপাদন ও কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করতে এই চুক্তি আধুনিক কৃষি সংক্রান্ত উৎপাদনশীলতাকে চালনা করবে। এটি ভারতীয় ব্যবসা জগতের কাছে একটি অঞ্চলের দরজা খুলে দেবে সুসংহত, নির্দিষ্ট রপ্তানির মাধ্যমে। আমাদের তরুণ সমাজ শেখার, কাজ করার এবং বিশ্ব মঞ্চে বেড়ে ওঠার সুযোগ বেছে নিতে পারবে।”

১০০ শতাংশ শুল্কমুক্ত হওয়ায় সকল ভারতীয় রপ্তানিকারকরা নিঃশুল্ক রপ্তানির সুযোগ পাবেন। বাজারের এই সুবিধা বৃদ্ধিতে ভারতের বস্ত্র শিল্প, পোশাক শিল্প, চর্মশিল্প, জুতো শিল্প, সামুদ্রিক পণ্য শিল্প, রত্ন এবং গহনা, হস্তশিল্প, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য এবং গাড়ির মতো শ্রমনিবিড় ক্ষেত্রগুলির প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, সরাসরি উপকৃত হবেন ভারতের শ্রমিক, শিল্পী, মহিলা, যুবা এবং এমএসএমই-গুলি। বিশ্ব মূল্যশৃঙ্খলের অত্যন্ত গভীরে তারা প্রবেশ করতে সক্ষম হবে।

আজ পর্যন্ত যতগুলি মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি হয়েছে, তার মধ্যে এটাই নিউ জিল্যান্ডের উচ্চমানের পরিষেবার সবচেয়ে বেশি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। ভারত অত্যন্ত উচ্চ মূল্যের বিস্তৃত ক্ষেত্র সম্পর্কে প্রতিশ্রুতি পেয়েছে, যার মধ্যে আছে তথ্য প্রযুক্তি, তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর পরিষেবা, পেশাদারি পরিষেবা, শিক্ষা, আর্থিক পরিষেবা, পর্যটক, নির্মাণ এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক পরিষেবা। ভারতের পরিষেবা সরবরাহকারী এবং উচ্চ দক্ষতা সম্পন্নদের কর্মসংস্থানের যথেষ্ট সুযোগ এখন থেকে পাওয়া যাবে।

বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল বলেন, “নব প্রজন্মের বাণিজ্যিক চুক্তি তৈরি হয়েছে শিল্প, কৃষি উৎপাদনশীলতা, বিনিয়োগ এবং পারস্পরিক মেধা বিনিময়কে কেন্দ্রে রেখে। ভারতের ক্ষমতা প্রসারিত হবে, রপ্তানিতে সাহায্য করবে, শ্রমনিবিড় বৃদ্ধিতে এবং শক্তি পরিষেবায়। নিউ জিল্যান্ডও ভারতের বৃহৎ এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির আরও সুযোগ নিতে পারবে। সাধারণ মানুষ, ছাত্র-ছাত্রী, পেশাদার এবং দক্ষ শ্রমিকদের বিনিময়ের সুযোগ এই শক্তি বৃদ্ধি করছে।”

ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত এবং সুবিধাদানকারী বিনিময় পরিকাঠামো ভারতকে দক্ষ এবং আধাদক্ষ প্রতিভার মুখ্য সরবরাহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, ভারতীয় পেশাদার, ছাত্র-ছাত্রী এবং যুবাদের সেদেশে প্রবেশ করা এবং থাকার সুযোগ করে দিচ্ছে। এতে পড়াশুনার সময়ে কাজের সুয়োগ পাওয়া যাবে, পড়াশুনার পর কাজের খোঁজ পাওয়া যাবে, নির্দিষ্ট ভিসা ব্যবস্থা থাকবে এবং একটি ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা কাঠামো থাকবে, এতে মানুষে মানুষে যোগাযোগ সুদৃঢ় হবে এবং ভারতীয় তরুণরা বিশ্ব মঞ্চে নিজেদের প্রকাশ করার সুযোগ পাবে।

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে দক্ষদের কর্মসংস্থানের পথ খুলে গেছে, নতুন টেম্পোরারি এমপ্লয়মেন্ট এন্ট্রি ভিসার মাধ্যমে ভারতীয় দক্ষ পেশাদারদের জন্য। যে কোনো সময়ে ৫ হাজার ভিসার কোটা থাকছে এবং ৩ বছর পর্যন্ত সেদেশে বসবাস করার সুযোগ থাকবে। আয়ুষ চিকিৎসক, যোগ প্রশিক্ষক, ভারতীয় রাঁধুনি এবং সঙ্গীত শিক্ষকদের মতো ভারতীয় পেশাদাররা যেমন এই সুযোগ পাবেন, তেমনই যেসব ক্ষেত্রে বেশি চাহিদা আছে যেমন তথ্য প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা এবং নির্মাণ সেখানেও সুযোগ মিলবে। ফলে, কর্মীবর্গের যাতায়াত এবং পরিষেবা বাণিজ্য আরও শক্তিশালী হবে।

কিউই ফল, আপেল এবং মধু সংক্রান্ত কৃষি-প্রযুক্তি নির্দিষ্ট কার্যকরী পরিকল্পনা স্থাপন, উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রযুক্তি, গবেষণায় সহযোগিতা, গুণমানের উন্নতিকরণ এবং মূল্যশৃঙ্খলের উন্নয়নে জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে ঘরোয়া সক্ষমতা শক্তিশালী হয় এবং ভারতীয় কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়। এই সহযোগিতার মধ্যে আছে উৎকর্ষ কেন্দ্র স্থাপন, উন্নত কৃষি উপকরণ, কৃষকদের সক্ষমতা বর্ধন এবং বাগিচা ব্যবস্থাপনার জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা, ফসল তোলার পরের ব্যবস্থা, সরবরাহশৃঙ্খলের কার্যকারিতা এবং খাদ্য সুরক্ষা। আপেল চাষীর এবং সুস্থায়ী মৌমাছি পালনের জন্য প্রকল্পগুলির উৎপাদন এবং গুণমানের মাত্রা বৃদ্ধি করবে।

দু’ দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করবে এই চুক্তি। আগামী ১৫ বছরে ভারতে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে সম্মত নিউ জিল্যান্ড। ফলে, ভারতের মেক ইন ইন্ডিয়া লক্ষ্যে উৎপাদন, পরিকাঠামো, পরিষেবা, উদ্ভাবন এবং কর্মসংস্থানে সাহায্য করবে। নিউ জিল্যান্ডে অবস্থানগত সুযোগ পাবে ভারতীয় সংস্থাগুলি এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের বাজারগুলির সুবিধা মিলবে।

ইউএসএফডিএ, ইএমএ, ইউকে এনএইচআরএ এবং অন্য তুলনীয় নিয়ন্ত্রকদের অনুমোদন সহ তুলনীয় নিয়ন্ত্রকদের কাছ থেকে জিএমপি এবং জিসিপি নিরীক্ষণ প্রতিবেদন স্বীকৃতিযোগ্য হওয়ার সুবিধা পাওয়া যাবে। এই সুবিধা পাওয়ার মাধ্যমে ওষুধ এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত সরঞ্জাম উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এতে একই জিনিস বার বার নিরীক্ষণ করতে হবে না, নিয়ম মানার ক্ষেত্রে ব্যয় কমবে, দ্রুত মিলবে পণ্যের অনুমোদন। ফলে নিউ জিল্যান্ডে ভারতের ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে।

জিআইএ-র জন্য প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। যার ফলে, তাদের আইনও সংশোধন করা হবে। ভারতের ওয়াইন, স্পিরিট এবং ‘অন্যান্য পণ্য’ নথিভুক্ত করার সুবিধা হবে। এই ধরনের সুবিধা পেয়ে থাকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সেটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সম্পূর্ণ হবে।

আয়ুষ, সংস্কৃতি, মৎস্য চাষ, দৃশ্য শ্রাব্য পর্যটন, বন, বাগিচা শিল্প এবং চিরাচরিত জ্ঞান ব্যবস্থা নিয়েও সহযোগিতায় রাজি হয়েছে দুই দেশ। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ভারতের আয়ুষ ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পৌঁছে দেবে, উৎসাহ দেবে চিকিৎসা সংক্রান্ত ভ্রমণে এবং ভারতকে আন্তর্জাতিক সুস্থতা কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরবে।

শুল্ক উদারীকরণ ছাড়াও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে এমনই সংস্থান রাখা হয়েছে, যাতে উন্নত নিয়ন্ত্রণমূলক সহযোগিতা, স্বচ্ছতা এবং সুষ্ঠু সীমাশুল্ক, স্যানিটারি এবং ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) ব্যবস্থা ও ব্যবসায় প্রযুক্তিগত প্রতিবন্ধকতার মোকাবিলা করা যায়। আমদানির জন্য সমস্তরকম ব্যবস্থাগত সুবিধা এবং দ্রুততার সঙ্গে কাজ সম্পন্ন করার ব্যবস্থা আমাদের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানির জন্য একটি সুযোগ যার অর্থ শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে কার্যকরী এবং অর্থপূর্ণভাবে বাজারের সুবিধা তৈরি করা।

ভারত-নিউ জিল্যান্ড অর্থনৈতিক যোগাযোগ থেকে দেখা গেছে এটি বৃদ্ধি পাচ্ছে স্বাভাবিক গতিতে। ২০২৪-এ দ্বিপাক্ষিক পণ্য ব্যবসা পৌঁছেছে ১.৩ বিলিয়ন ডলারে। পাশাপাশি পণ্য এবং পরিষেবার ক্ষেত্রে ২০২৪-এ মোট বাণিজ্য হয়েছে প্রায় ২.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে শুধু পরিষেবা ক্ষেত্রেই বাণিজ্য পৌঁছেছে ১.২৪ বিলিয়ন ডলারে, ভ্রমণ, তথ্য প্রযুক্তি এবং বাণিজ্য পরিষেবা সহ অন্যান্য পরিষেবায়। এই সম্পর্কের সমস্ত সম্ভাবনার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে একটি স্থায়ী এবং অনুমানযোগ্য কাঠামো দিচ্ছে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি।

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বে এবছর তৃতীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হিসেবে সম্পন্ন হওয়া ভারত-নিউ জিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নব প্রজন্মের বাণিজ্য অংশীদারিত্বের প্রতিফলন। বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর অধীনে বিশ্বস্তরে প্রতিযোগিতা সক্ষম, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং দৃঢ় অর্থনীতি হয়ে উঠতে ভারতের যাত্রা পথে এটি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।


SC/AP/SKD


(रिलीज़ आईडी: 2207982) आगंतुक पटल : 24
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , Urdu , Marathi , हिन्दी , Punjabi , Gujarati , Tamil , Malayalam