প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
প্রয়াগরাজে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও সূচনা উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বঙ্গানুবাদ
प्रविष्टि तिथि:
13 DEC 2024 5:17PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪
উত্তরপ্রদেশের মাননীয় রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, উপ মুখ্যমন্ত্রীদ্বয় কেশবপ্রসাদ মৌর্য এবং ব্রজেশ পাঠক, উত্তরপ্রদেশের সম্মানীয় মন্ত্রিগণ, সাংসদ এবং বিধায়কগণ, প্রয়াগরাজের মেয়র এবং জেলা পঞ্চায়েত সভাপতি, অন্য বিশিষ্ট অতিথিবর্গ, আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা
প্রয়াগরাজের এই পবিত্র সঙ্গমভূমিকে আমি প্রণাম জানাই। মহাকুম্ভে আগত সমস্ত সাধুসন্তকে আমার শ্রদ্ধা। সেইসঙ্গে মহাকুম্ভকে সফল করতে যেসমস্ত কর্মী নিরলস কাজ করেছেন তাদেরকে আমি সাধুবাদ জানাই। মোট ৪৫ দিন ধরে মহাকুম্ভের আয়োজন, লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগম সেইসঙ্গে নতুন শহর গড়ে তোলার অনন্য উদ্যোগ প্রয়াগের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সংযোজন ঘটিয়েছে। মহাকুম্ভের এই ঐক্যের ভাবধারা বিশ্বজুড়ে ধ্বনিত হবে। এর পবিত্র অনুষ্ঠানের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি।
বন্ধুগণ,
ভারতে নানা পবিত্র স্থান রয়েছে। গঙ্গা, যমুনা, সরস্বতী ও কাবেরির মতো অসংখ্য নদী পরিবেষ্টিত এই ভূমি প্রয়াগ কেবলমাত্র তিনটি পবিত্র নদীর সঙ্গম নয়, আধ্যাত্মিক গুরুত্বের এক অনন্য ক্ষেত্র। প্রয়াগ সফরকে আমি এক শীর্বাদ বলে গণ্য করি। বারংবার এই পবিত্র ভূমিতে ফিরে আসি। বিগত প্রয়াগে সঙ্গমে স্নান করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল, আজ কুম্ভের সূচনা পূর্বে মা গঙ্গার আশীর্বাদ ধন্য হওয়ার আরও একবার সুযোগ আমার হয়েছে। সঙ্গমঘাটে পবিত্র স্নান সেরে হনুমানজির দর্শন এবং অক্ষয় বটবৃক্ষের আশীর্বাদ ধন্য হয়েছি আমি। আজ কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের এখানে উদ্বোধন হয়েছে। রূপান্তরমূলক এই উন্নয়নকাণ্ডে আমি সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
বন্ধুগণ,
মহাকুম্ভ দেশের সাংস্কৃতিক এবং আধ্যাত্মিক যাত্রাপথের এক পবিত্র সাক্ষ্যস্বরূপ। হাজার হাজার বছর ধরে এই পরস্পরা চলে আসছে। এবারের এই মহাকুম্ভে কোটি কোটি পূণ্যার্থীর সমাগম হবে। বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা বিভিন্ন ভাষাভাষি মানুষের কাছে সঙ্গম এক অনন্য ক্ষেত্র। সঙ্গমে পবিত্র স্নানের মধ্যে দিয়ে এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারতের ভাবদারা পরিলক্ষিত হয়।
বন্ধুগণ,
মহাকুম্ভে ঐতিহ্যের এক অনন্য দিক হল দেশকে তা পথ দেখায়। বিভিন্ন সাধুসন্তরা এই সমাবেশে দেশের উন্নয়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ দিশা দেখান। আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা শুরু পূর্বে কুম্ভের মতো অনুষ্ঠান সামাজিক রূপান্তরের পথ গড়ে দিয়েছিল, আজও সেই অনন্য ধারা এবং তার প্রসঙ্গিকতা বজায় রয়েছে।
বন্ধুগণ,
আজ কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার উভয়ই ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল। ডাবল ইঞ্জিন সরকার কুম্ভের পূণ্যার্থীদের নিরবচ্ছিন্ন সুবিধা প্রদানে কোটি কোটি টাকা খরচ করেছে, উভয় সরকারের সম্বন্বিত উদ্যোগ দেশ এবং দেশের বাইরেও প্রশংসিত হচ্ছে। দেশজুড়ে বিভিন্ন পর্যটন বৃত্তের উন্নয়ন কর্ম চলেছে। রামায়ণ সার্কিট, শ্রীকৃষ্ণ সার্কিট, বুদ্ধ সার্কিট, তীর্থঙ্কর সার্কিট উল্লেখযোগ্য। অতীতে এই দিকটি সম্পূর্ণ উপেক্ষিত ছিল। স্বদেশ দর্শন যোজনা এবং প্রসাদ প্রকল্পের মধ্যে দিয়ে আমরা ধর্মক্ষেত্রের বিভিন্ন সুযোগ সম্প্রসারণ ঘটাচ্ছি। অযোধ্যায় মহান রামমন্দির নির্মাণ করেছি আমরা এবং সমগ্র শহরকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। সেরকমভাবেই বিশ্বনাথ ধাম, মহাকাল মহালোক বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি লাভ করেছে।
বন্ধুগণ,
মহাকুম্ভের মতন স্বর্গীয় অুষ্ঠানে সার্বিক সাফল্যের পিছনে স্বচ্ছতার এক সার্বিক গুরুত্ব রয়েছে। এই মহাকুম্ভের প্রস্তুতিতে নমামী গঙ্গে কর্মসূচিকে জোরদার করা হয়েছে। প্রয়াগরাজ শহরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবার ১৫,০০০-র বেশি স্বচ্ছতা কর্মী কুম্ভের সার্বিক স্বচ্ছতার কাজে নিযুক্ত রয়েছেন। তাদের এই একনিষ্ঠ কাজের জন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করছি।
বন্ধুগণ,
কুম্ভের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উপেক্ষিত থেকে যায় সেটি হল এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। প্রায় দেড় মাস ধরে লক্ষ লক্ষ মানুষ এখানে ভিড় জমান। তার সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য বিরাট শ্রমশক্তির প্রয়োজন। প্রায় ৬,০০০ মাঝি হাজার হাজার দোকানদার এই কাজে যুক্ত। এর অর্থ হল, কর্মসংস্থানের নানাবিধ ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে, সরবরাহশৃঙ্খল গড়ে ওঠছে। ব্যবসায়ীরাও প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র বাইরের শহর থেকে আনাচ্ছেন, ফলে প্রয়াগরাজ কুম্ভের প্রভাব অন্য জেলাগুলিতেও পরিলক্ষিত হচ্ছে। এছাড়াও লক্ষ লক্ষ পূণ্যার্থী ট্রেনে, বাসে, উড়ানপথে এখানে এসে মিলিত হচ্ছে, যা অর্থনীতিকেও পুনরুজ্জীবিত করছে।
বন্ধুগণ,
মহাকুম্ভ ২০২৫ এমন এক পর্বে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যেখন প্রযুক্তি কয়েক ধাপ এগিয়ে চলেছে। স্মার্ট ফোন ব্যবহারের সংখ্যা বহুগুম বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৩ সালে ডেটার ব্যবহার এখনকার মতো সাশ্রয়ী ছিল না, মোবাইল ফোনগুলিও এখন অনেক অ্যাপ বান্ধব হয়ে ওঠেছে। আগে আমি কুম্ভ সহায়ক চ্যাটবটের সূচনা করেছিলাম যা কৃত্রিম মেধাক্ষেত্রের এক প্রথম ধাপ বলা যেতে পারে। এই চ্যাটবট প্রযুক্তি এই কুম্ভে ব্যবহার করা হবে-১১টি ভাষায় এবং যোগাযোগ বান্ধবভাবে। এই সমস্ত উদ্যোগ যুবশক্তিকে উদ্দীপ্ত করছে। মহাকুম্ভকে ঘিরে আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হল, তা মহাকুম্ভের ঐক্যকে তুলে ধরবে। এই সমস্ত আলোকচিত্র সামাজিক মাধ্যমে ভাগ করে নেওয়াও সম্ভব। এর পাশাপাশি, আধ্যাত্মবাদ, প্রকৃতির ভিত্তিতে কোনও প্রতিযোগিতারও আপনারা আয়োজন করতে পারে যা মহাকুম্ভের অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করে তুলবে।
বন্ধুগণ,
উন্নত দেশ হয়ে ওঠার পথে ভারত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। মহাকুম্ভ থেকে আধ্যাত্মিক শক্তি আমাদের সংকল্প পূরণে শক্তি জোগাবে। এই মহাকুম্ভ এক ঐতিহাসিক অনন্য নজির হয়ে থাক। মা গঙ্গা, যমুনা এবং সরস্বতীর সঙ্গম মানবতার কল্যাণ করুক এটাই আমার সমবেত প্রার্থনা। পবিত্র প্রয়াগরাজ শহর (সঙ্গম নগরীতে) সকল পূণ্যার্থীকে আমি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আপনাদের সকলকে আমি আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাই। এখন আপনারা সকলে আমার সঙ্গে বলুন - ভারত মাতা কি জয়!
ভারত মাতা কি জয়!
ভারত মাতা কি জয়!
ভারত মাতা কি জয়!
ভারত মাতা কি জয়!
ভারত মাতা কি জয়!
অনেক অনেক ধন্যবাদ।।
SSS/ AB /AG
(रिलीज़ आईडी: 2177559)
आगंतुक पटल : 18
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें:
Odia
,
English
,
Urdu
,
Marathi
,
हिन्दी
,
Manipuri
,
Assamese
,
Punjabi
,
Gujarati
,
Tamil
,
Telugu
,
Kannada
,
Malayalam