প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘‘মন কি বাত’’ (১২০ তম পর্ব) অনুষ্ঠানের বাংলা অনুবাদ
Posted On:
30 MAR 2025 11:41AM by PIB Kolkata
আমার প্রিয় দেশবাসী, নমস্কার। আজ অত্যন্ত পবিত্র দিনে আপনাদের সঙ্গে মন কি বাত করার সুযোগ পেলাম। আজ চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের প্রতিপদ তিথি। আজ থেকে চৈত্র নবরাত্রির সূচনা হচ্ছে। আজ থেকে ভারতীয় নববর্ষেরও সূচনা। এবার বিক্রম সম্বৎ ২০৮২ শুরু হচ্ছে। এই সময় আমার সামনে আপনাদের পাঠানো অনেক চিঠি রাখা আছে। কোনোটি বিহার থেকে, কোনোটি বাংলা থেকে, কোনোটি তামিলনাড়ু থেকে কোনোটি বা গুজরাত থেকে। এই চিঠিগুলিতে মানুষ তাদের মনের কথা অত্যন্ত উপভোগ্য ভাবে লিখে পাঠিয়েছেন। বেশ কিছু চিঠিতে শুভেচ্ছা, অভিনন্দন বার্তাও রয়েছে। আজ আমার ইচ্ছে করছে কিছু শুভেচ্ছা বার্তা আপনাদের শোনাতে।
প্রথমে কন্নড় ভাষায় -
সকলকে উগাদি উৎসবের শুভ কামনা
পরের বার্তা তেলুগু ভাষায়-
সবাইকে উগাদি উৎসবের শুভ কামনা
আরো একটি চিঠি, এটি কোংকনি ভাষায়
সংসার পরওয়ার শুভেচ্ছা
পরের বার্তা আপনাদের শোনাবো মারাঠি ভাষায়
গুড়ি পরওয়া উপলক্ষ্যে আন্তরিক শুভকামনা
আমাদের এক বন্ধু মালয়ালম ভাষায় লিখেছেন,
সকলকে বিষু পরবের শুভকামনা
আরো একটি বার্তা তামিল ভাষায়
সকলকে নববর্ষ অর্থাৎ পুথান্ডুর শুভেচ্ছা।
বন্ধুরা, আপনারা এটা তো নিশ্চয়ই বুঝেছেন যে, এগুলি আলাদা আলাদা ভাষায় পাঠানো বার্তা। কিন্তু আপনারা কি এর কারণ জানেন? এটাই তো সেই বিশেষ ব্যাপার, যা আজ আমি আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নেব।
আমাদের দেশের আলাদা আলাদা রাজ্যগুলিতে আজ এবং আগামী কিছু দিনের মধ্যে নববর্ষ শুরু হচ্ছে, আর এই সব বার্তা নববর্ষ এবং বিভিন্ন উৎসবের শুভেচ্ছা বার্তা। তাই আলাদা আলাদা ভাষায় মানুষ আমাকে শুভকামনা পাঠিয়েছেন।
বন্ধুরা আজ কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় উগাদি উৎসব খুব ধুমধাম করে উদযাপিত হচ্ছে। আজই মহারাষ্ট্রে গুড়ি পরওয়া উদযাপিত হচ্ছে। বৈচিত্র্যে ভরা আমাদের দেশে পৃথক পৃথক রাজ্যে আগামী কিছুদিনের মধ্যে বিভিন্ন উৎসব উদযাপিত হবে, যেমন অসমে রঙালি বিহু, পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ, কাশ্মীরে নবরেহ।
এই ভাবেই ১৩ থেকে ১৫ই এপ্রিলের মধ্যে দেশের ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় উৎসবের ঘটা করে উদযাপন দেখা যাবে। এই নিয়েও উৎসবের একটা পরিবেশ তৈরি হয়েছে, আর ঈদের পরব তো আসছেই। মানে এই পুরো মাসটাই উৎসবের, পরবের। এই উৎসব উপলক্ষে আমি দেশের মানুষকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। আমাদের এই উৎসবের উদযাপন যতই দেশের ভিন্ন ভিন্ন অংশে হোক না কেন, ভারতে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য কীভাবে মিশে আছে তা কিন্তু এর মধ্যে দিয়েই ফুটে ওঠে। এই ঐক্যের ভাবনাকেই আমাদের প্রতি মুহূর্তে আরো মজবুত করে এগিয়ে যেতে হবে।
বন্ধুরা, যখন পরীক্ষা আসে, তখন যুব বন্ধুদের সঙ্গে আমি 'পরীক্ষা পে চর্চা' অনুষ্ঠান করে থাকি। এখন পরীক্ষা হয়ে গেছে। অনেক স্কুলে তো আবার class শুরু করার প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে। এর পর গরমের ছুটি পড়ার সময় আসতে চলেছে। বছরের এই সময়টার জন্য বাচ্চারা অনেক অপেক্ষা করে থাকে। আমার তো নিজের ছোটবেলার দিনগুলো মনে পড়ে যাচ্ছে, যখন আমি এবং আমার বন্ধু সারাদিন কিছু না কিছু দুষ্টুমি করেই থাকতাম, কিন্তু তার সঙ্গে constructive কিছু করতাম এবং শিখতাম। গ্রীষ্মে দিন বড় হয়, তাই এ সময় বাচ্চারা অনেক কিছু করতে পারে। তাই এটা নতুন কোনো hobby শুরুর পাশাপাশি নিজের প্রতিভাকেও আরো বিকশিত করার সময়। এখন অল্প বয়সীদের জন্য এমন platform-এর কোন অভাব নেই যেখানে তারা অনেক কিছু শিখতে পারে। যেমন কোন কোন সংস্থা Technology camp চালাচ্ছে, তো সেখানে বাচ্চারা সেখানে App বানানোর পাশাপাশি open source software-এর ব্যাপারেও জানতে পারে। যদি কোথাও পরিবেশের কথা হয়, Theater-এর কথা হয় বা Leadership-এর কথা হয়, এমন আরো অনেক বিষয় আছে যেগুলোর course হয়, সেগুলোর সঙ্গে যুক্ত হওয়া যেতে পারে। এমন অনেক স্কুল আছে যারা Speech বা Drama শেখায়, এগুলো অল্প বয়সীদের জন্য ভীষণ উপকারী।
এসব ছাড়াও আপনাদের কাছে এই ছুটিতে বিভিন্ন জায়গায় চলতে থাকা ভলান্টিয়ার এক্টিভিটিস, সেবা কাজে যুক্ত হওয়ারও সুযোগ আছে। এরকম কার্যক্রমের ব্যাপারে আমার একটু বিশেষ আগ্রহ আছে। যদি কোনো সংগঠন, কোনো স্কুল বা সামাজিক সংস্থা, নয়তো কোনো সায়েন্স সেন্টার এরকম সামার এক্টিভিটিস করায়, তাহলে তা যেন #MyHolidays- এর সঙ্গে অবশ্যই Share করে। যাতে গোটা দেশের শিশু ও তাদের মা-বাবারা এই ব্যাপারে সহজেই জানতে পারে।
আমার যুবা বন্ধুরা, আমি আজ আপনাদের সঙ্গে MY-Bharat এর সেই বিশেষ ক্যালেন্ডারের কথাও আলোচনা করতে চাই, যা এই সামার ভ্যাকেশনের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই ক্যালেন্ডারের একটি কপি এখন আমার সামনে রাখা আছে। আমি এই ক্যালেন্ডারের কিছু অভিনব প্রচেষ্টার কথা ভাগ করে নিতে চাই। যেরকম MY-Bharat- এর স্টাডি ট্যুরে আপনারা এটা জানতে পারবেন যে আমাদের 'জন ঔষধী কেন্দ্র' কিভাবে কাজ করে। আপনারা vibrant village অভিযানের অংশ হয়ে সীমান্তবর্তী গ্রামের এক অভিনব অভিজ্ঞতা পেতে পারেন। এর সঙ্গে ওখানে কালচার আর স্পোর্টস এক্টিভিটিসেও অংশগ্রহণ করতে পারেন। সেরকমই আম্বেদকর জয়ন্তীতে পদযাত্রায় শামিল হয়ে আপনি সংবিধানের গুরুত্ব নিয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে পারেন। শিশু এবং তাদের বাবা-মায়েদের কাছে আমার বিশেষ অনুরোধ যে তারা তাদের ছুটির অভিজ্ঞতাগুলি যেন #HolidayMemories-এর সঙ্গে অবশ্যই ভাগ করে নেন। আমি আপনাদের অভিজ্ঞতাগুলো আসন্ন মন কি বাত-এ সংযোজন করার চেষ্টা করবো।
আমার প্রিয় দেশবাসী, গরমকাল পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই শহরে শহরে, গ্রামে গ্রামে জল সংরক্ষণের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। অনেক রাজ্যে ওয়াটার হার্ভেস্টিং এবং জল সংরক্ষণের সঙ্গে যুক্ত কাজগুলি নতুন উদ্যমে শুরু হয়েছে। জলশক্তি মন্ত্রক এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এই লক্ষ্যে কাজ করছে। দেশে হাজার হাজার কৃত্রিম জলাশয়, check dam, borewell recharge, community soak pit-এর নির্মাণ হচ্ছে। প্রত্যেক বছরের মত এই বছরেও 'catch the rain' অভিযানের জন্য তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। এই অভিযান শুধু সরকারের নয় বরং সমাজের, জনতা জনার্দানের। জল সংরক্ষণের সঙ্গে বেশি বেশি মানুষকে যুক্ত করার জন্য জল সঞ্চয় জন-ভাগিদারি অভিযানও চালানো হচ্ছে। প্রচেষ্টা এটাই যে, আমাদের যা প্রাকৃতিক সম্পদ আছে, তা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাঁচিযে রাখতে হবে।
বন্ধুরা, বৃষ্টির জলকে সংরক্ষিত করে আমরা অনেকটাই জল নষ্ট হওয়ার থেকে বাঁচাতে পারি। বিগত কিছু বছরে এই অভিযানে দেশের বিভিন্ন স্থানে জল সংরক্ষণের কিছু অভূতপূর্ব কাজ হয়েছে। আমি আপনাদের সামনে একটি আকর্ষণীয় চিত্র তুলে ধরছি। বিগত ৭-৮ বছরে নতুন তৈরি হওয়া tank, পুকুর এবং অন্যান্য ওয়াটার রিচার্জ স্ট্রাকচারের মাধ্যমে ১১ বিলিয়ন কিউবিক মিটারেরও বেশি জল সংরক্ষণ করা হয়েছে। এবার আপনি ভাববেন যে ১১ বিলিয়ন কিউবিক মিটার জল মানে ঠিক কতটা জল?
বন্ধুরা, ভাখরা নাঙ্গাল বাঁধে যে জল জমা হয়, তার ছবি আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন। এই জল গোবিন্দ সাগর ঝিলের নির্মাণ করেছে। এই ঝিলের দৈর্ঘ্য ৯০ কিলোমিটারেরও বেশি। এই ঝিলেও ৯-১০ বিলিয়ন কিউবিক মিটারের বেশি জল সংরক্ষণ করা যায় না। মাত্র ৯-১০ বিলিয়ন কিউবিক মিটার আর সেখানে দেশবাসীরা তাদের ছোট ছোট প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অংশে ১১ বিলিয়ন কিউবিক মিটার জল সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে ফেলেছে, অসাধারণ প্রয়াস নয় কি!
বন্ধুরা, এই দিকে কর্ণাটক রাজ্যের গডক জেলার মানুষও একটি নিদর্শন সৃষ্টি করেছে। কিছু বছর আগে এই জেলার দুটি গ্রামের ঝিলগুলি পুরোপুরি শুকিয়ে গিয়েছিল। এমন একটা সময়ও এসেছিল যখন ওখানকার পশুদের পান করার পর্যাপ্ত জলও আর ছিল না। ধীরে-ধীরে ঝিলগুলি ঝোপ ঝাড় ও ঘাসে ভরে গিয়েছিল। কিন্তু গ্রামের কিছু মানুষ ঝিলগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করার সিদ্ধান্ত নিলেন এবং একত্রে কাজ শুরু করলেন। আর বলে না, ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয়? গ্রামের মানুষের প্রচেষ্টা দেখে চারপাশের সামাজিক সংস্থাগুলিও তাঁদের সঙ্গে কাজ শুরু করলেন। সবাই মিলে ঝিলের সমস্ত আবর্জনা ও কাদা সাফ করতে শুরু করলেন এবং কিছুদিন পর ঝিলগুলি পুরো পরিষ্কার হয়ে গেল। এবার মানুষজন বর্ষার অপেক্ষা করতে থাকলেন। সত্যি, এটি ‘catch the rain’ অভিযানের একটি দারুণ উদাহরণ। বন্ধুরা, আপনারাও নিজেদের আঞ্চলিক স্তরে এই ধরণের প্রয়াসগুলির সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। এই জন আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আপনারা এখন থেকেই অবশ্যই পরিকল্পনা করুন এবং আপনাদের আরও একটি কথা মনে রাখতে হবে – সম্ভব হলে গ্রীষ্ম কালে আপনাদের বাড়ির সামনে মাটির পাত্রে ঠাণ্ডা জল অবশ্যই রাখবেন। বাড়ির ছাদে বা বারান্দাতেও পাখিদের জন্য জল রাখবেন। দেখবেন এই পুণ্য কর্ম করে আপনাদের কত ভাল লাগবে!
বন্ধুরা, মন কি বাতে এখন কথা হবে সাহসিকতার দৃষ্টান্তের! প্রতিকূলতা সত্বেও নিজের লক্ষ্যে পৌঁছানোর তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রদর্শনের। কিছুদিন আগে অনুষ্ঠিত Khelo India Para Games -এ আবার ক্রীড়াবিদরা নিজেদের পরিশ্রম ও প্রতিভার বিচ্ছুরণে সবাইকে অবাক করে দিলেন। এবার আগের থেকে বেশি খেলোয়াড় এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করলেন। এর থেকে বোঝা যায় para sports কত popular হচ্ছে। আমি Khelo India Para Games -এ অংশগ্রহণ করা সমস্ত ক্রীড়াবিদদের তাঁদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছি। হরিয়ানা, তামিলনাড়ু ও ইউপির খেলোয়াড়দের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করার জন্য শুভকামনা জানাচ্ছি। এই প্রতিযোগিতায় আমাদের দিব্যাঙ্গ ক্রীড়াবিদরা ১৮টি জাতীয় record-ও সৃষ্টি করেন। যার মধ্যে ১২টি তো আমাদের মহিলা খেলোয়াড়রা করেছেন। এবারের Khelo India Para Games-এ স্বর্ণপদক বিজেতা arm wrestler জাবি ম্যাথু আমাকে চিঠি লিখেছেন। আমি ওঁর চিঠির কিছু অংশ পড়ে শোনাতে চাই। তিনি লিখেছেন, পদক জয় এক বিশেষ অনুভূতি, কিন্তু আমাদের লড়াই শুধু পোডিয়ামে দাঁড়ানো পর্যন্তই সীমাবদ্ধ নয়। আমরা প্রতিদিন একপ্রকার সংগ্রাম করি। জীবন বিভিন্নভাবে আমাদের পরীক্ষা নেয়, খুব কম মানুষই আমাদের লড়াই বুঝতে পারে। এরপরেও আমরা সাহসের সঙ্গে এগিয়ে চলি। আমরা নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করার লক্ষ্যে এগোতে থাকি। আমরা এই বিশ্বাস রাখি যে আমরা কারোর থেকে কম নই।" বাহ! জাবি ম্যাথু, আপনি অসাধারণ লিখেছেন, চমৎকার লিখেছেন। এই চিঠির জন্য আমি আপনাকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমি জাবি ম্যাথু এবং আমাদের সকল দিব্যাঙ্গ বন্ধুদের বলতে চাই যে, আপনাদের এই প্রচেষ্টা আমাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।
বন্ধুরা, দিল্লিতে আরেকটি সমারোহের আয়োজন মানুষকে খুব অনুপ্রানিত করেছে, শক্তি প্রদান করেছে। একটা উদ্ভাবনী ধারণাকে ভিত্তি করে প্রথমবার ফিট ইন্ডিয়া কার্নিভালের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্র থেকে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। এঁদের প্রত্যেকের একটাই লক্ষ্য ছিল ফিট থাকা এবং ফিটনেস বিষয়ে সচেতনতার প্রসার ঘটানো। এই আয়োজনে অংশগ্রহণকারী লোকেদের স্বাস্থ্যের সঙ্গে পুষ্টি সংক্রান্ত বিষয়েও অবগত করানো হয়েছে। আমার আবেদন যে, আপনারা আপনাদের নিজেদের অঞ্চলেও এই ধরনের কার্নিভালের আয়োজন করুন। এই পরিকল্পনায় MY-Bharat আপনার জন্য অত্যন্ত সাহায্যকারী হতে পারে।
বন্ধুরা, আমাদের স্বদেশি খেলাগুলো এখন পপুলার কালচারের মধ্যে মিলেমিশে যাচ্ছে। প্রখ্যাত র্যাপার হনুমান কাইন্ডকে তো আপনারা সকলেই জানেন। আজকাল ওর নতুন গান ‘রান ইট আপ’ যথেষ্ট ফেমাস হয়েছে। এতে কালারিপত্তু, গতকা এবং থাঙ্গতার মত ঐতিহ্যশালী মার্শাল আর্টসকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমি হনুমান কাইন্ডকে অভিনন্দন জানাচ্ছি যে তাঁর প্রচেষ্টার ফলে আমাদের ঐতিহ্যশালী মার্শাল আর্টসের সম্বন্ধে সারা বিশ্বের লোক জানতে পারেছে।
আমার প্রিয় দেশবাসী, প্রতি মাসে আমি MyGov এবং NaMo অ্যাপে আপনাদের প্রচুর বার্তা পাই। অনেক বার্তা আমার হৃদয় ছুঁয়ে যায় এবং কিছু বার্তা আমাকে গর্বিত করে। মাঝে মাঝে, এই বার্তাগুলি আমাদের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সম্পর্কে অনন্য তথ্য প্রদান করে। এবার এমনই একটি বার্তা আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং আমি এটি আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই। বারাণসীর অথর্ব কাপুর, মুম্বইয়ের আর্যস লিখা এবং অত্রেয় মান, আমার সাম্প্রতিক মরিশাস সফর সম্পর্কে তাদের অনুভূতি লিখে পাঠিয়েছেন। তারা লিখেছেন যে এই সফরে গীত গাওয়াইয়ের পারফরমেন্স তারা দারুণ উপভোগ করেছেন। পূর্ব উত্তরপ্রদেশ এবং বিহার থেকে পাওয়া অনেক চিঠিতে আমি একই রকম আবেগ দেখেছি। মরিশাসে গীত গাওয়াইয়ের অসাধারণ পারফরমেন্সের সময় আমি যা অনুভব করেছি, তা সত্যিই অসাধারণ ছিল। বন্ধুরা, যখন আমরা আমাদের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত থাকি, তখন যত বড় ঝড়ই আসুক না কেন, তা আমাদের উপড়ে ফেলতে পারে না। একবার ভাবুন, প্রায় ২০০ বছর আগে ভারত থেকে অনেক মানুষ, চুক্তিবদ্ধ শ্রমিক হিসেবে মরিশাসে যান। কেউ জানতেনই না যে এরপর কী হবে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে ওঠে। তারা মরিশাসে, নিজেদেরন উল্লেখয়োগ্য পরিচিতি তৈরি করেন। তারা তাদের ঐতিহ্য রক্ষা করেন এবং নিজেদের শিকড়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। কিন্তু মরিশাসই একমাত্র উদাহরণ নয়। গত বছর যখন আমি গায়ানা গিয়েছিলাম, তখন সেখানে চৌতালের পারফরমেন্স দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম। বন্ধুরা, এখন আমি আপনাদের একটি অডিও শোনাচ্ছি।
Audio clip Fiji
আপনারা নিশ্চয়ই ভাবছেন যে, এটা আমাদের দেশেরই কোন এক অঞ্চলের, কিন্তু আপনারা জেনে অবাক হবেন যে এটা ফিজির সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি ফিজির অত্যন্ত জনপ্রিয় "ফাগোয়া চৌতাল"। এই গান এমনই যা সকলকে উৎসাহে ভরিয়ে দেয়। আমি আপনাদের আরেকটি অডিও শোনাচ্ছি।
Audio Suriname
এই অডিও সুরিনামের চৌতালের। টিভিতে এই অনুষ্ঠানটি যারা দেখেছেন তারা সুরিনামের রাষ্ট্রপতি এবং আমার বন্ধু চান সন্তোখিজিকে এটি উপভোগ করতে দেখেছেন। ত্রিনিদাদ এবং টোবাগোতেও এরকম মজলিশ এবং গান খুবই জনপ্রিয়। এই সমস্ত দেশে, মানুষ বেশি করে রামায়ণ পড়েন। এখানে ফাগোয়া খুবই জনপ্রিয় এবং সমস্ত ভারতীয় উৎসব অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে উদযাপিত হয়। তাদের বেশিরভাগ গান ভোজপুরি, অবধি অথবা মিশ্র ভাষায়। কখনও কখনও ব্রজ এবং মৈথিলীও ব্যবহৃত হয়। এই দেশগুলিতে যারা আমাদের ঐতিহ্য রক্ষা করে চলেছেন, তারা সকলেই প্রশংসার পাত্র।
বন্ধুরা, বিশ্বে এমন অনেক সংগঠন রয়েছে যারা বছরের পর বছর ধরে ভারতীয় সংস্কৃতিকে সংরক্ষণের কাজ করে চলেছেন। এরকম একটি সংগঠন হল সিঙ্গাপুর ইন্ডিয়ান ফাইন আর্টস সোসাইটি। ভারতীয় নৃত্য, সঙ্গীত এবং সংস্কৃতি সংরক্ষণে নিয়োজিত এই সংগঠনটি তাদের গৌরবময় ৭৫ বছর পূর্ণ করেছে। এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রপতি মাননীয় শ্রী থারমান শানমুগরত্নমজি ছিলেন গেস্ট অফ অনার এবং তিনি এই সংস্থার প্রচেষ্টার ভুয়সী প্রশংসা করেন। এই দলটিকে আমি অনেক অনেক শুভকামনা জানাই।
বন্ধুরা, “মন কি বাতে” আমরা দেশবাসীর উপলব্ধির সঙ্গে অনেকসময় সামাজিক বিষয় নিয়েও কথা বলি। বহু ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ নিয়েও কথা হয়েছে। এই বার মন কি বাতে এমন একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়ে কথা বলব, যা সরাসরি আমাদের সঙ্গে জড়িত। এই চ্যালেঞ্জটি হল “textile waste” নিয়ে। এই বার আপনি হয়তো ভাববেন, এই textile waste নতুন কি এমন ঝঞ্ঝাট এল! আসলে এই textile waste সমগ্র বিশ্বের একটি নতুন চিন্তার বিষয় হয়ে উঠেছে। আজকাল সারা বিশ্বেই পুরনো জামাকাপড় দ্রুত বদলে নতুন কাপড় কেনার চল হয়েছে। আপনি কি ভেবেছেন কোনদিন যে পুরনো কাপড় পরা আপনি ছেড়ে দিলেন, সেটার কি হল তারপরে? সেগুলোই textile waste-এ পরিণত হয়ে যায়। এই বিষয়ে অনেক Global research হচ্ছে। একটি research এ জানা গেছে যে, মাত্র এক শতাংশেরও কম textile waste-কে recycle করা হয়। এক শতাংশেরও কম! ভারত সারা বিশ্বে তৃতীয় এমন দেশ, যেখানে সব থেকে বেশি textile waste তৈরি হয়। অর্থাৎ, চ্যালেঞ্জ আমাদের সামনেও বৃহৎ আকারে রয়েছে। কিন্ত আমি খুশি যে আমাদের দেশ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্যে প্রশংসনীয় প্রয়াস করা হচ্ছে। অনেক ভারতীয় start ups, textile recovery facilities নিয়ে কাজ করতে শুরু করে দিয়েছে। বহু এমন সংগঠন আছে, যাঁরা জঞ্জাল সংগ্রহকারী ভাই বোনদের সশক্তিকরণের কাজ করে চলেছে। বহু যুব সাথী sustainable fashion নিয়ে কাজ করছে। ওরা পুরনো কাপড়, জুতো recycle করে যাঁদের প্রয়োজন, তাঁদের কাছে পৌঁছে দেয়। Textile waste থেকে সাজানো জিনিস, handbag, stationery আর খেলনার মতো অনেক ধরনের বস্তু তৈরি করা হচ্ছে। বহু সংস্থা আজকাল “circular fashion brand”-কে popular করার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। নতুন নতুন rental platform খোলা হচ্ছে, যেখানে designer জামা ভাড়ায় পাওয়া যায়। কিছু সংস্থা পুরনো কাপড়গুলিকে আবার ব্যবহারযোগ্য করে তুলে দরিদ্রদের কাছে পৌঁছে দেয়।
বন্ধুরা, textile waste নিয়ে মোকাবিলা করার জন্য কিছু শহর নতুন পরিচয় তৈরি করছে। হরিয়ানার পানিপথ textile recycling করার global hub-এ পরিণত হয়েছে। বেঙ্গালুরু ও innovative tech solutions নিয়ে এক নতুন দিশা দেখাচ্ছে। এখানে অর্ধেকের বেশি textile waste জমা করা হয়, যা আমাদের অন্যান্য শহরের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই ভাবেই তামিলনাড়ুর tirupur waste water treatment এবং renewable energy-এর মাধ্যমে textile waste management নিয়ে কাজ করে চলেছে।
আমার প্রিয় দেশবাসী আজকাল fitness-এর সঙ্গে সঙ্গে count-এর মস্ত বড় একটি ভূমিকা রয়েছে। একদিনে কত steps চলবে সেটার count, একদিনে কত callories খাবে সেটার count, কত callories burn হয়েছে সেটার count, এত ধরণের কাউন্ট এর মাঝে একটা নতুন countdown শুরু হতে চলেছে। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের countdown। যোগ দিবস শুরু হতে ১০০ দিনের থেকেও কম সময় বাকি রয়েছে। যদি এখনও আপনি নিজের জীবনে যোগকে অন্তর্ভুক্ত না করে থাকেন, তাহলে এখনও সময় আছে করে নিন, দেরি হয়নি। আজ থেকে দশ বছর আগে, ২১শে জুন, ২০১৫-তে প্রথম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন করা শুরু হয়। এখন তো এই দিনটি একটি বৃহৎ উৎসবের আকার ধারণ করেছে। মানবতার প্রতি ভারতের এটি একটি দুর্মূল্য উপহার, যা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য অনেক কাজে লাগবে। ২০২৫ সালে যোগা দিবসের থিম হলো, yoga for one earth one health। অর্থাৎ, যোগের মধ্যে দিয়ে সমগ্র বিশ্বের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার কামনা করি।
বন্ধুরা, আমাদের সবার জন্য খুব গর্বের বিষয় যে সমগ্র বিশ্বে আমাদের যোগ এবং চিরন্তন চিকিৎসা পদ্ধতি কৌতুহল উদ্রেক করছে। বহু সংখ্যক যুবা যোগ ও আয়ুর্বেদকে সুস্বাস্থ্যের এক দারুন মাধ্যম রূপে গ্রহণ করছেন। যেমন ধরুন দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলি। সেখানে আয়ুর্বেদ দ্রুত গতিতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। গত বছর ব্রাজিল সফরের সময় চিলির রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল। আয়ুর্বেদের এই জনপ্রিয়তা সম্পর্কে আমরা দীর্ঘ আলোচনা করেছিলাম। আমি Somos India নামের একটি টিম সম্পর্কে জানতে পারি। স্প্যানিশ ভাষায় যার অর্থ - "We are India"। গত এক দশক ধরে এই টিম যোগ ও আয়ুর্বেদের প্রচারে যুক্ত। তাদের নজর চিকিৎসার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষামূলক কর্মসূচির প্রতিও রয়েছে। তাঁরা আয়ুর্বেদ ও যোগ সম্পর্কিত তথ্য স্প্যানিশ ভাষায় তর্জমাও করাচ্ছেন। শুধু গত বছরের কথাই যদি বলি, ওদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও পাঠ্যক্রমে প্রায় নয় হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন। আমি এই টিমের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে তাদের প্রচেষ্টার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা জানাচ্ছি।
আমার প্রিয় দেশবাসী, মন কি বাতে এবারে অন্য ধরনের প্রশ্ন! আপনারা কখনো ফুলের যাত্রা সম্পর্কে ভেবেছেন! গাছ গাছালি থেকে কিছু ফুলের যাত্রা মন্দির পর্য়ন্ত। কিছু ফুল বাড়িকে সুন্দর করে তোলে, আবার কিছু আতরে মিশে চারিদিকে সুবাস ছড়ায়। কিন্তু আজ আমি আপনাদের ফুলের আর এক যাত্রা সম্পর্কে জানাব। আপনারা মহুয়া ফুল সম্পর্কে অবশ্যই জানেন। আমাদের গ্রামে প্রধানত: আদিবাসী এলাকায় এর গুরুত্ব সম্পর্কে সবাই বেশ ওয়াকিবহাল। দেশের অনেক অংশেই মহুয়া ফুলের যাত্রা এক নতুন গতিপথ নিয়েছে। মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়ারা জেলায় মহুয়া ফুল দিয়ে কুকিস তৈরি করা হচ্ছে। রাজাখোহ গ্রামের চার বোনের তৈরি এই কুকিস খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই মহিলাদের উৎসাহ দেখে এক বড় কোম্পানি তাদের ফ্যাক্টরিতে কাজ করার ট্রেনিং দেয়। অনুপ্রাণিত হয়ে গ্রামের বহু মহিলা এদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এদের তৈরি করা মহুয়া কুকিসের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। তেলেঙ্গানার আদিলাবাদ জেলার দুই বোনও মহুয়া ফুল দিয়ে নিত্যনতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফুল দিয়ে নানান ধরনের খাবার তৈরি করছেন, যা সবার খুব পছন্দসই হয়ে উঠেছে। তাদের খাবারে আদিবাসী সংস্কৃতি মিষ্টত্ব রয়েছে।
বন্ধুরা, আমি আপনাদের আরো এক অত্যাশ্চর্য ফুলের বিষয়ে জানাতে চাই, যার নাম কৃষ্ণ কমল। আপনি কি গুজরাটের একতা নগরে Statue of Unity দেখতে গিয়েছেন? Statue of Unity -র আশেপাশে আপনি অনেক কৃষ্ণ কমল দেখতে পাবেন। এই ফুল পর্যটকদের মুগ্ধ করে। একতা নগরে কৃষ্ণ কমল আরোগ্য বন, একতা নার্সারি, বিশ্ব বন ও মিয়াওয়াকি জঙ্গলে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। এখানে সুপরিকল্পিত উপায়ে লক্ষাধিক কৃষ্ণ কমলের গাছ লাগানো হয়েছে। আপনিও আপনার চারিপাশে নজর রাখলে ফুলেদের আকর্ষণীয় যাত্রা দেখতে পাবেন। আপনার এলাকার ফুলেদের এইরকম অনন্য যাত্রা সম্পর্কে আমায় লিখে পাঠাবেন।
আমার প্রিয় বন্ধুরা, প্রতিবারের মতো আপনারা আমায় নিজেদের মতামত, অভিজ্ঞতা ও তথ্যাবলী Share করতে থাকবেন। হতে পারে আপনার আশেপাশে এমন কিছু ঘটছে যা আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ হলেও অন্যদের কাছে তা ভীষণ আকর্ষণীয় ও নতুন হতে পারে। পরের মাসে আমারা আবার মিলিত হব এবং দেশবাসীদের এমন কিছু কথা আলোচনা করব, যা আমাদের অনুপ্রাণিত করবে। আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ, নমস্কার।
(Release ID: 2116723)
Visitor Counter : 56
Read this release in:
Bengali-TR
,
Odia
,
Telugu
,
Assamese
,
English
,
Urdu
,
Marathi
,
Hindi
,
Manipuri
,
Punjabi
,
Gujarati
,
Tamil
,
Kannada
,
Malayalam