অর্থমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav g20-india-2023

২০২৩-২৪ অর্থ বছরে আর্থিক ঘাটতি ৫.৯ শতাংশের মতো হওয়ার সম্ভাবনা


রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২.৯ শতাংশের মতো

২০২২-২৩ অর্থ বছরের প্রথম আট মাসে প্রত্যক্ষ কর (সংগ্রহ) বৃদ্ধি পেয়েছে ২৩.৫ শতাংশ হারে

ঐ একই সময়কালে পরোক্ষ কর বেড়েছে ৮.৬ শতাংশ হারে

রাজ্যগুলিকে উন্নয়ন ও পরিকাঠামো খাতে সাহায্য করার জন্য ৫০ বছরের জন্য সুদমুক্ত ঋণ সহায়তা

Posted On: 01 FEB 2023 12:59PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

 

আর্থিক তথা অর্থনৈতিক সংহতিসাধনের পথ অনুসরণ করে কেন্দ্রীয় সরকার আগামী ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের মধ্যে আর্থিক ঘাটতিকে ৪.৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছে। আজ সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশকালে একথা জানান অর্থমন্ত্রী শ্রীমতী নির্মলা সীতারমন। তিনি বলেন, ২০২৩-২৪-এর বাজেট অনুমানের ভিত্তিতে দেশের আর্থিক ঘাটতি জিডিপি-র ৫.৯ শতাংশের মতো হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ডেট সিকিউরিটি থেকে বাজারে ঋণের মাত্রা ১১.৮ লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়াবে বলেও অনুমান করা হচ্ছে। তবে, ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্প এবং অন্যান্য সূত্রগুলি থেকে লগ্নি খাতে প্রয়োজনীয় বাকি অর্থ পাওয়া যাবে বলেও মনে করা হচ্ছে। বাজারে মোট ঋণের পরিমাণ ১৫.৪ লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে।

২০২৩-২৪ অর্থ বছরের বাজেট প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বলেছেন যে ঋণ বাদে অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে আয়ের মাত্রা ২৭.২ লক্ষ কোটি টাকার মতো হবে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, মোট ব্যয়ের মাত্রা ধরা হয়েছে ৪৫ লক্ষ কোটি টাকা। কর সংগ্রহ বাবদ ২৩.৩ লক্ষ কোটি টাকার মতো আয় হবে বলেও অনুমান করা হচ্ছে।

২০২৩-২৪ অর্থ বছরের সংশোধিত বাজেট হিসাব অনুযায়ী, ঋণ ছাড়াও অন্যান্য খাত থেকে ২৪.৩ লক্ষ কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে কর সংগ্রহ বাবদ ২০.৯ লক্ষ কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনাও বেশ উজ্জ্বল বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজস্ব ঘাটতি

অর্থমন্ত্রী আজ তাঁর বাজেট ভাষণে আরও বলেছেন যে ২০২২-২৩ অর্থ বছরে রাজস্ব ঘাটতির হার যেখানে ছিল ৪.১ শতাংশের মতো, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরটিতে তা ২.৯ শতাংশের মতো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত তিনি উল্লেখ করেন যে বিশ্বব্যাপী এক আর্থিক মন্দা ও অনিশ্চয়তার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে, আর্থিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতাও দেখা গেছে। সুতরাং, এই ধরনের পরিস্থিতির ওপর যে কোনও দেশের অর্থনৈতিক নীতি রচয়িতাদের কোনরকম নিয়ন্ত্রণ থাকা যথেষ্ট কঠিন ও অসম্ভব একটি বিষয়তবে, নতুনভাবে উন্নয়ন প্রচেষ্টা এবং নাগরিক কল্যাণ খাতে ব্যয় বৃদ্ধির অঙ্গীকার ও সেইসঙ্গে আশানুরূপ কর আদায় ইত্যাদির মতো প্রচেষ্টা ২০২২-২৩ অর্থ বছরটিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক দ্রুত উন্নয়নে বিশেষভাবে সাহায্য করেছে। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ভৌগোলিক তথা রাজনৈতিক সংঘাত খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টিকে যথেষ্ট চিন্তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাঁদের সাহায্য করতে আরও বেশি মাত্রায় খাদ্যে ভর্তুকির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এজন্য সারের ওপরও ভর্তুকি সহায়তা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। বৃহদায়তন অর্থনীতির পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল রাখতে এই মুহূর্তে প্রয়োজন বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণের।

০২৫-২৬ অর্থ বছরের মধ্যে আর্থিক ঘাটতিকে জিডিপি-র ৪.৫ শতাংশেরও নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে আর্থিক সংহতি রক্ষার পথ অনুসরণ করার সঙ্কল্প গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে ব্যাপক ও নিরন্তর করে তুলতে এবং সাধারণের জীবন ও জীবিকাকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার তার কর্মপ্রচেষ্টাকে অব্যাহত রাখার কথা ঘোষণা করেছে।

 

সংশোধিত বাজেট অনুমান (২০২২-২৩)

বাজেট অনুমান (২০২৩-২৪)

আর্থিক ঘাটতি

.%

.%

রাজস্ব ঘাটতি

.%

.%

র থেকে রাজস্ব অর্জন

২০২২-২৩-এর তুলনায় ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে মোট কর রাজস্বের পরিমাণ ১০.৪ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাওয়ার আশা রয়েছে। প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ উভয় ধরনের কর ব্যবস্থা থেকে বৃদ্ধির হার যথাক্রমে ১০.৫ এবং ১০.৪ শতাংশ হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

রাজস্ব খাতে আয় ও ব্যয়

২০২৩-২৪-এর বাজেট হিসাব অনুযায়ী রাজস্ব খাতে মোট আয় ও ব্যয়ের মাত্রা যথাক্রমে ২৬.৩২ লক্ষ কোটি এবং ৩৫.০২ লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ভিত্তিতে রাজস্ব খাতে আয় ও ব্যয়ের আনুপাতিক হার ২০২৩-২৪-এর বাজেট অনুমানে ৭৫.২ শতাংশে দাঁড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

র বাদে অন্যান্য খাতে রাজস্ব অর্জন

কর ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে আয় মোট রাজস্ব অর্জনের ১১.৫ শতাংশ স্থান অধিকার করবে বলে মনে করা হচ্ছে যার সার্বিক মাত্রা গিয়ে দাঁড়াতে পারে ৩.০২ লক্ষ কোটি টাকায়। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে এক্ষেত্রে আয়ের পরিমাণ ছিল ২.৬২ লক্ষ কোটি টাকা। সুতরাং বৃদ্ধির হার এক্ষেত্রে ১৫.২ শতাংশ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডেট সিকিউরিটি ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে মূলধনী আয়

ডেট সিকিউরিটি ছাড়া মূলধনী আয়ের মাত্রা ২০২৩-২৪-এর বাজেট হিসাব অনুযায়ী ৮৪ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে। এর মধ্যে ঋণ ও অগ্রিমের পরিশোধ থেকে ২৩ হাজার কোটি টাকা অর্জিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মূলধনী ব্যয় ও আর্থিক ঘাটতির অনুপাত

মূলধনী ব্যয়ের অনুপাত আর্থিক ঘাটতির নিরিখে ৫৬.০ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ২০২৩-২৪-এর বাজেট হিসাব অনুযায়ী। এর আগে এর মাত্রা ২০২১-২২ অর্থ বছরে ছিল ৩৭.৪ শতাংশ এবং ২০২২-২৩ অর্থ বছরে যা পরিলক্ষিত হয়েছিল ৪১.৫ শতাংশ।

রাজ্যগুলির আর্থিক ঘাটতি

অর্থমন্ত্রী বলেছেন যে আর্থিক ক্ষেত্রে রাজ্যগুলির ৩.৫ শতাংশ পর্যন্ত ঘাটতিকে স্বাভাবিক বলে মনে করা হবে। শক্তি তথা বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের সংস্কার প্রচেষ্টার জন্য ০.৫ শতাংশ ঘাটতি হওয়ার বিষয়টি অসম্ভব কিছু নয়। তবে রাজ্যগুলিকে ৫০ বছরের জন্য সুদমুক্ত ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে। এই ঋণ রাজ্যগুলিকে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের মধ্যেই মূলধনী ব্যয় খাতে বিনিয়োগ করতে হবে। বিষয়টি যদিও রাজ্যের এক্তিয়ারে, তবে ঋণ সহায়তার বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে রাজ্যগুলির ওপর শর্ত আরোপিত হতে পারে। এর ফলে, মূলধনী ব্যয়ের মাত্রা বৃদ্ধিতে রাজ্যগুলি আরও তৎপর হয়ে উঠতে পারবে। অনুমোদিত ঋণ সহায়তার একটি বিশেষ অংশ পুরনো সরকারি গাড়িগুলির যন্ত্রাংশ বিক্রির ব্যবস্থা, নগর পরিকল্পনা ও সংস্কার, শহরাঞ্চলের সরকারি সংস্থাগুলিকে মিউনিসিপ্যাল বন্ডের মাধ্যমে ঋণ সহায়তাযোগ্য করে তোলা, পুলিশকর্মীদের জন্য আবাসন নির্মাণ, ইউনিটি মল গড়ে তোলা, শিশু ও বয়স্কদের জন্য লাইব্রেরী সহ ডিজিটাল পরিকাঠামো গঠন এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্প রূপায়ণে মূলধনী ব্যয়ের ক্ষেত্রে রাজ্যগুলির দায় মেটাতে ব্যবহার করা যাবে।

 

PG/SKD/DM/



(Release ID: 1895459) Visitor Counter : 174