বিদ্যুৎমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

শক্তি সাশ্রয় ও সস্তায় এলইডি বাতি বিতরণের মধ্য দিয়ে উজালা কর্মসূচির ৭ বছর পূর্ণ

কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে ৩৬ কোটি ৭৮ লক্ষ এলইডি বাতি বিতরণ

Posted On: 05 JAN 2022 11:20AM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ৫ জানুয়ারি, ২০২২
 
কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রকের ‘ফ্ল্যাগশিপ’ ‘উজালা’ কর্মসূচিতে সাফল্যের সঙ্গে এলইডি বাতি বিতরণ ও বিক্রি করার সাত বছর পূর্ণ হয়েছে। সস্তায় এলইডি বাতি বিতরণ ও বিক্রি করে ‘সকলের জন্য উন্নত জ্যোতি’ বা আরও স্পষ্ট আলো, যা ‘উজালা’ নামে পরিচিত – এই কর্মসূচির সূচনা হয় ২০১৫-র ৫ জানুয়ারি। অল্প সময়ের মধ্যেই এই কর্মসূচিটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভর্তুকিবিহীন গৃহ আলোকিতকরণের কর্মসূচি হয়ে উঠেছে। এই কর্মসূচি চালু হওয়ার ফলে বিদ্যুৎ খাতে খরচ যেমন কমেছে, তেমনই অস্পষ্ট বা অল্প আলোর সমস্যাও দূর হয়েছে। মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী আজ পর্যন্ত সারা দেশে ৩৬ কোটি ৭৮ লক্ষের বেশি এলইডি বাতি বিতরণ করা হয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনে পরিবর্তন নিয়ে আসা এই কর্মসূচির সাফল্য বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে অভিনব রণকৌশল গ্রহণের মধ্যে নিহিত রয়েছে। 
 
২০১৪-তে কর্মসূচির সূচনা হওয়ার সময় প্রতিটি এলইডি বাতির দাম ছিল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। এখন তা কমে ৭০ থেকে ৮০ টাকা হয়েছে। সারা দেশে এই কর্মসূচি একদিকে যেমন সহজেই বিদ্যুৎ সংযোগের সুবিধা করে দিয়েছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ খরচ খাতে সঞ্চয় ব্যাপক বাড়িয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আজ পর্যন্ত বার্ষিক প্রায় ৪৭,৭৭৮ মিলিয়ন কিলোওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়েছে। এমনকি, বিদ্যুতের ব্যাপক চাহিদার সময় ৯,৬৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে। সর্বোপরি, কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমণের পরিমাণ ৩,৮৬ কোটি টন কমানো সম্ভব হয়েছে। সমস্ত রাজ্যে ‘উজালা’ কর্মসূচি রূপায়িত হয়েছে। এই কর্মসূচি রূপায়ণের ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহার খাতে পারিবারিক খরচের পরিমাণ লক্ষ্যণীয় হারে কমেছে। গ্রাহকরা একদিকে যেমন অর্থ সাশ্রয় করতে পেরেছেন, অন্যদিকে তাঁদের জীবনের মানোন্নয়ন হয়েছে। পক্ষান্তরে, ভারতের আর্থিক বৃদ্ধি ও সমৃদ্ধিতে এই কর্মসূচি অবদান রেখেছে।
 
কর্মসূচির আওতায় কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী ও পরিষেবা সংগ্রহে প্রতিযোগিতা বাড়াতে উৎসাহিত করেছে। সেইসঙ্গে, সমগ্র কর্মসূচি রূপায়ণে স্বচ্ছতা সুনিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ খাতে খরচ এবং সময় – উভয়ই সাশ্রয় হয়েছে। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ পরিচালনার কাজে পারদর্শীতা বেড়েছে। ‘উজালা’ কর্মসূচির ফলে প্রতিটি এলইডি বাতির দাম ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। দাম হ্রাস পাওয়ার ফলে এলইডি বাতি উৎপাদনকারী শিল্প সংস্থাগুলির মধ্যে প্রতিযোগিতা যেমন বেড়েছে, তেমনই সাধারণ মানুষের বিপুল অর্থ সাশ্রয় হয়েছে।
 
এই কর্মসূচি পরিবেশগত দিক থেকেও অত্যন্ত কার্যকর হয়ে উঠেছে। কর্মসূচি শুরু হওয়ার ফলে গ্রাহকের মধ্যে আর্থিক এবং পরিবেশগত বিষয়ে যেমন সচেতনতা বেড়েছে, তেমনই বিদ্যুৎ ব্যবহারে পারদর্শীতা বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে বৈদ্যুতিক বাতি শিল্পের মধ্যে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে দেশীয় এলইডি বাতি নির্মাতা সংস্থাগুলি আগে ১ লক্ষের তুলনায় এখন প্রতি মাসে ৪ কোটি এ ধরনের বাতি উৎপাদন করছে। কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর ২০১৪-তে প্রতিটি এলইডি বাতির দাম যেখানে ছিল ৩১০ টাকা, তা ২০১৭-তে ৯০ শতাংশ কমে দাঁড়ায় মাত্র ৩৮ টাকায়। এই কর্মসূচির সুদূরপ্রসারী প্রভাব দেশের অগ্রণী ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আইআইএম আমেদাবাদ এই কর্মসূচির সাফল্য ও প্রভাব মূল্যায়নে ইতিমধ্যেই সমীক্ষার কাজ শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল এই কর্মসূচিকে তাদের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তাভাবনা করছে।
 
‘উজালা’ কর্মসূচির এই সাফল্যের অংশীদার মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর গ্রাহকরা। প্রকৃতপক্ষে এঁদের সচেতনতা ও পারদর্শীতার কারণে ‘উজালা’ কর্মসূচিতে শক্তি সাশ্রয় থেকে খরচ কমানোর ক্ষেত্রে অনন্য কৃতিত্ব অর্জিত হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ইইএসএল, এলইডি বাতি বিতরণের জন্য স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির সাহায্য নিচ্ছে।
 
CG/BD/DM/


(Release ID: 1787670) Visitor Counter : 111